জাতীয়
১০০ দিনে সরকারের ছয় অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ১০০ দিনের ‘স্বল্পমেয়াদি’ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নতুন সরকার। এ অনুযায়ী রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাকিগুলো হলো—অর্থনীতি পুনর্গঠন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান এবং ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের প্রধান কাজ হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দেশে একটি সুশাসন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর সরকার। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আইনানুসারে কাজ করা এবং সরকারের ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার এমন সময় দায়িত্ব নিল, যখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সীমাহীন দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত অর্থনীতিতে বিরাট ক্ষত রয়ে গেছে। ফলে দুর্বল শাসন কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার তাদের লক্ষ্য পূরণে কতটুকু সক্ষম হবে, সেটি দেখার বিষয়।
এদিকে সরকার গঠনের পর গতকাল বুধবার প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও যে যার দপ্তরে যান এদিন। এরপর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার একপর্যায়ে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোসহ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানান, মূলত ছয় মাসের ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ প্রণয়ন করা হবে। তবে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে কী কী কাজ করা হবে, তারও একটি রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, প্রথম একশ দিন মূলত ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়। এই সময়ে বড় কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্পের চেয়ে নীতিনির্ধারণী সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে।
গতকাল রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন সরকার কীভাবে তার প্রথম ১০০ দিনে পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা চলছে। কেননা, দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি, শিক্ষার উন্নয়ন এবং সুশাসনের রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারের জন্য অন্যতম প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বেশকিছু বিষয়ের কথা আগেই জানিয়েছেন। ‘ন্যায্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নই নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক লক্ষ্য। প্রায় চার বছর আগে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন তারেক রহমান। সেটিই পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ইশতেহারে বিস্তৃত আকারে সন্নিবেশ করা হয়। যার মূলমন্ত্র হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ভোটকেন্দ্রিক এমন প্রতিশ্রুতির আলোকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সংবিধাননির্ভর শাসন, গণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি এবং জনস্বার্থমুখী অর্থনীতি গড়া প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা পরিব্যাপ্তির প্রতিও নিবিড় মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। মূলত, শিক্ষা ও দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের প্রাধান্য বিএনপির ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সব পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষি কার্ড প্রদানের পাশাপাশি তরুণদের জন্য চাকরি-সংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপির স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সুশাসন ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার; সংবিধান সংস্কার কমিশন; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা; দুর্নীতি বন্ধ ও মানবাধিকার রক্ষা; প্রধানমন্ত্রী পদে সময়সীমা কার্যকর; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা; সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন সচল করা; নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং এর মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান; খেলাপি ঋণ আদায়ে টাস্কফোর্স গঠন এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন কমিশন; শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে বেকার ভাতা প্রদানের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা।
আরও রয়েছে তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত করা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন। প্রবাসীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু এবং বিদেশে কেউ মারা গেলে মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার প্রক্রিয়া সহজ করা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়াও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মধ্যে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের ডিজিটাল সরঞ্জামের আওতায় আনাসহ সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে ‘হেলথ কার্ড’ চালু করা হবে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সেল গঠন।
গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, মোটামুটি প্রথম দিনে কেবিনেট মিটিং করতে হয়। আমরা কেবিনেটের সবাই বসেছিলাম, ওখানে উপদেষ্টারাও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, অনুশাসনও দিয়েছেন। সাধারণত এটা হয় যে প্রথম ১০০ দিনে কী কী প্রায়োরিটি আছে, তা নির্ধারণ করা। তবে আমরা ১৮০ দিনের প্রায়োরিটি নির্ধারণ করেছি। সেটা আরও পরে আপনারা জানতে পারবেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গতকাল কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা নতুন সরকার হিসেবে মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। আমাদের কার্যক্রম দ্রুত এগোবে বলে বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার হিসেবে আমাদের প্রথম কাজ হলো রোজার মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে মানুষের ভোগান্তি না হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে আপাতত মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। দুর্নীতিকে সহ্য করা হবে না। ইনশাআল্লাহ আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা সফল হবো।’
বিশ্লেষক অভিমত, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে ব্যবধান ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান, সেটি একটি বাস্তব সত্য। বিএনপির আগামী ১০০ দিনের যে কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর কিছু অংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও সবকিছুই এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো মূলত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভরশীল। এই মুহূর্তে প্রশাসনে সততা ও দক্ষতা আনতে পারলে এবং বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি বসাতে পারলে ১০০ দিনের মধ্যে এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। একটি নতুন ভাতাভোগী তালিকা প্রণয়ন বা কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন, যা মাত্র সাড়ে তিন মাসে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। তবে সরকারের আন্তরিকতা, সুশীল সমাজ ও প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে এই সময়ের মধ্যে কিছু মাইলফলক স্থাপন করা সম্ভব। যেমন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জরুরিভিত্তিতে কিছু আইনি সংস্কারের উদ্যোগ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণী এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং সৎ অভিপ্রায়, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম কালবেলাকে বলেন, নতুন সরকার ১০০ দিনের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি এবং সরাসরি উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেখাতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শাসনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, নীতি সমন্বয় এবং জনমত গ্রহণযোগ্যতায় প্রথম পর্যায়ের সফলতা-পরবর্তী রূপান্তরকে সুসংহত করে। এ সময়ে শিক্ষা-দক্ষতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার রূপরেখা এবং ইশতেহারকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা দরকার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের প্রথম একশ দিনই হতে পারে সূর্যের হাসির মতো উজ্জ্বল। সুনির্দিষ্ট দক্ষতা, শিক্ষা ও সুশাসন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার প্রতিফলনে জাতীয় অগ্রগতির নতুন পথ প্রশস্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান সময়কে সংবেদনশীলতা, জবাবদিহি ও দূরদর্শিতার মাপকাঠিতে সফল করতেই হবে। রাষ্ট্রের সব স্তরে সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্বশীলতা হবে প্রাথমিক প্রতিশ্রুতির সফলতা। যার বাস্তবায়নই হবে নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ সময়ের দিকদর্শন।
এমএন
জাতীয়
সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসংক্রান্ত অধ্যাদেশটি এখন স্থায়ী আইনে পরিণত হলো।
রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানশিয়াল করপোরেশন ও স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বিলটি সংসদে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় স্পিকার সরাসরি বিলের দফাগুলো ভোটে দেন এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
নতুন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার এবং ক্যাডারবহির্ভূত সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ ও পাবলিক নন-ফাইন্যানশিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একই বয়সসীমা কার্যকর হবে।
তবে যেসব চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আগে থেকেই ৩২ বছরের বেশি ছিল (যেমন ৩৩, ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর), সেগুলোও এখন এই আইনের অধীনে ৩২ বছরে নেমে আসবে।
বিলটি উত্থাপনের সময় সম্পূরক কার্যসূচি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। এই বিষয়গুলো জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
তাই প্রতিটি অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
জাতীয়
কাগজে থাকলেও বাস্তবে নেই, স্টেডিয়াম উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে কুমিল্লা দক্ষিণ মিনি স্টেডিয়ামের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী। জালিয়াতির মাধ্যমে স্টেডিয়ামের জমি রেকর্ড, অর্থ লুটপাট এবং ফাইল চুরির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি এটি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আনীত নোটিশে এসব কথা বলেন তিনি।
মনিরুল হক বলেন, ২০০৪ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা সৃষ্টির পর সেখানে একটি মিনি স্টেডিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর প্রশাসনিকভাবে এর নামকরণ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হলেও বর্তমানে এর কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেও কুমিল্লা জেলায় এই নামে কোনো স্টেডিয়াম খুঁজে পাইনি। অথচ সরকারি নথিতে বলা হচ্ছে স্টেডিয়াম সেখানে আছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, স্টেডিয়ামের জন্য কেনা জমি রেকর্ডে ইচ্ছামাফিক গাফলতি করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ক্রীড়া সামগ্রী আত্মসাৎ এবং বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কুমিল্লা দক্ষিণ উপজেলার নামে কেনা জমি ও বরাদ্দকৃত সম্পত্তির মূল ফাইলটিও দপ্তর থেকে উধাও করে দেয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে মনিরুল হক বলেন, বিষয়টি এখন আমার ইজ্জতের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এই এলাকার প্রতিনিধি এবং ক্রীড়া অনুরাগী হিসেবে মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে পারছি না।
প্রধানমন্ত্রী সংসদে আছেন, আমি উনার কাছে অনুরোধ করছি, এই স্টেডিয়ামটি কোথায় তা খুঁজে বের করে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
জাতীয়
স্পিকারের মাইক কাজ না করায় ৪০ মিনিট মুলতবি সংসদ অধিবেশন
সাউন্ড সিস্টেমের বিভ্রাটের কারণে সংসদের অধিবেশন ৪০ মিনিট মুলতবি করা হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ মুলতবি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
স্পিকার বলেন, ‘আবারও স্পিকারের মাইক কাজ করছে না।
এই কারণে ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো। প্রথম ২০ মিনিট নামাজের জন্য এবং পরবর্তী ২০ মিনিট মাইকের জন্য মুলতবি।’
তিনি বলেন, ‘সদস্যবৃন্দ স্পিকারের মাইক কাজ করছে না, আপনাদেরও মাইক কাজ করছে না। এ কারণে ৪০ মিনিট বিরতি দেওয়া হলো।
নামাজের টাইম হয়েছে, ২০ মিনিট বিরতি দিই। সদস্যবৃন্দ আজানের ২০ মিনিট বাকি এবং এই মাইক রিপেয়ার করার জন্য আরো ২০ মিনিট, মোট ৪০ মিনিট সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো।’
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও ছালেহ শিবলী
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী)। রোববার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬ এর রুল ২৮(৪) অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক তথ্য প্রেস, মিডিয়া অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার ও প্রদানের ক্ষেত্রে মাহদী আমিন ও আবু -আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মাহদী আমিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি নির্বাচনের সময় গুলশানে দলের নির্বাচনী কার্যালয়ে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
এ ছাড়া শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, যুব ও নারী ক্ষমতায়ন এবং ৩১ দফার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে দেশে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, কর্মশালা, সমাবেশ ও নীতি প্রণয়নে অবদান রেখেছেন মাহদী আমিন। ২০১৪ সালে তিনি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হন। ২০২৪ সালে মাহদী আমিন বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে বহুমুখী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী কর্মজীবনে বার্তা সংস্থা ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, বাংলাবাজার পত্রিকা, চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালীনও তাঁর প্রেস সচিব ছিলেন ছালেহ শিবলী। চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে কলকাতা উপ-হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জাতীয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে মন্ত্রীর বেইলি রোডের সরকারি বাংলোতে তাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ সংস্কার, স্বাধীন পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ইউএনডিপি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। এছাড়া, আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলের নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা পুলিশ সংস্কারে কাজ করছি। তবে তা রাতারাতি নয়, আমরা ধারাবাহিক বা পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। পুলিশের পুনর্গঠন, সংস্কার, সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে পারে।
পুলিশ সংস্কারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে ইউএনডিপির অবদান অনস্বীকার্য। গত ১৫-১৭ বছর যাবৎ সংস্থাটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে কাজ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কমিশনের অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়নেও ইউএনডিপি যাবতীয় সহযোগিতা করেছে এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের সঙ্গে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ সম্পর্কে আবাসিক প্রতিনিধির এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটিও পরবর্তী সময়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, অধ্যাদেশটির দু-একটি সংজ্ঞা এমনভাবে দেওয়া হয়েছে, যাতে গুমের প্রকৃত নির্দেশদাতা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। মন্ত্রী এ সময় তার গুমকালীন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) তদন্তের ক্ষমতা প্রদান প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, কেবল তদন্তকারী কর্মকর্তাই তদন্ত করতে পারেন এবং এপিবিএন কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয়। তবে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, বাংলাদেশে ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালি দয়ারাত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ আনোয়ারুল হক এবং ইউএনডিপি-বাংলাদেশের রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক অ্যাডভাইজর রোমানা স্কওয়েইগার উপস্থিত ছিলেন।



