জাতীয়
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন?
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার আকার ‘ছোট হবে’ জানালেও শেষপর্যন্ত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করেছে বিএনপি। নতুন এই সরকারে যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪১ জনই প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এমন দায়িত্ব পেলেন। এমনকি তারেক রহমান নিজেও প্রথমবার মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।
অতীতে মন্ত্রণালয় চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, দলটির এমন নয়জন নেতাকে এবার পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালেও মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় নেতাদের ছবি ও নামসহ দপ্তরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও নতুন মন্ত্রীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়টির ওয়েবসাইটে মন্ত্রী হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে আইনমন্ত্রী, খন্দকার আব্দুল মোকতাদিরকে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।
অতীতে দলের একাধিক নেতাকে মি. রহমানের সমালোচনা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেলেও শেষমেশ তাকেই টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি।
ফলে এটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।
এর বাইরে, বিএনপি’র প্রয়াত নেতাদের অনেকের ছেলে-মেয়েও নতুন মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন।
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে বঙ্গভবনে না করে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয় বণ্টন করা হয়।
চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।
সিনিয়র নেতারা কে কোন মন্ত্রণালয়ে?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নতুন মন্ত্রিপরিষদে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী এবং দু’জন টেকনোক্রেট মন্ত্রী রয়েছেন।
বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এর আগে, ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের সময় মি. আলমগীর কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অতীতে তিনি বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অতীতে খালেদা জিয়ার সরকারে বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন। এবার তার কাঁধে পড়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বিএনপি নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের বাণিজ্য এবং পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির সিনিয়র নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে। অতীতে তিনি একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।
২০০১ সালে বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পদে ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি এবার একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সেইসঙ্গে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়এর দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।
কুমিল্লা থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বিএনপি’র সবশেষ সরকারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনিও এ দফায় পূর্ণমন্ত্রী হয়ে পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। অতীতে তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলু তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিএনপি’র ২০০১ সালের সরকারেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন।
আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের হাতে থাকছে জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
নতুন মন্ত্রীদের কে কোন মন্ত্রণালয়ে?
আরও ১৬ জনকে প্রথমবার মন্ত্রী করেছেন তারেক রহমান। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন পেয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
ঢাকা-১০ আসন থেকে বিজয়ী শেখ রবিউল আলমকে একইসঙ্গে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তার নাম নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে দেওয়া হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ২০২৪ সালের আটই অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর তিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথমবার মন্ত্রী হয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুকে দেওয়া হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
লক্ষ্মীপুর থেকে বিজয়ী বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
এর বাইরে, আরিফুল হক চৌধুরিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; খন্দকার আব্দুল মোকতাদিরকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাকারিয়া তাহেরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং ফকির মাহবুব আনামকে ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের মধ্যে বিএনপি নেতা আমিন উর রশিদ একইসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন।
আর সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমানকে দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এছাড়া নতুন মন্ত্রিপরিষদের পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় থাকা একমাত্র নারী আফরোজা খানম রিতা পেয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রীরা কে কোথায়?
নতুন সরকারে যে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে, তাদের সবাই এবারই প্রথম মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন এবারের মন্ত্রিপরিষদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
এছাড়া ভোটে না জিতলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ফুটবলার মো. আমিনুল হক টেকনোক্র্যাট হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
অন্য আলোচিতদের মধ্যে ববি হাজ্জাজকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জোনায়েদ সাকিকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং নুরুল হক নুরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
যশোর সদর আসন থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। খুলনা বিভাগীয় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মি. অমিত বিএনপির প্রয়াত সিনিয়র নেতা তরিকুল ইসলাম ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমের ছেলে।
নারীদের মধ্যে ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং নাটোর-১ আসন থেকে বিজয়ী ফারজানা শারমিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
তাদের মধ্যে মিজ ওবায়েদকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মিজ শারমিনকে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
এর বাইরে, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে খাদ্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কায়সার কামালকে ভূমি মন্ত্রণালয়, ফরহাদ হোসেন আজাদকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হাবিবুর রশিদকে সড়ক পরিবহন, সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়; মো. রাজীব আহসানকে নৌ মন্ত্রণালয়, মো. আব্দুল বারীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মীর শাহে আলমকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
এছাড়া মো. শরিফুল আলমকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এম এ মুহিতকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এম ইকবাল হোসেইনকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ইয়াসের খান চৌধুরীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং শেখ ফরিদুল ইসলামকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
হামের চিকিৎসায় বিএমইউতে ৮ শয্যার ওয়ার্ড চালু
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিএমইউ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএমইউয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান জানিয়েছেন, সি ব্লকের দ্বিতীয় তলায় হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আট শয্যার একটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডটির পরিসরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হাম শনাক্তে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার চালু করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার হাম ওয়ার্ডটি পরিদর্শন করেন পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান ও উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ আবু নাছেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে চারজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে এবং ২ নম্বর বহির্বিভাগে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এফ ব্লকের দ্বিতীয় তলায় একটি সম্প্রসারিত আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জাতীয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে আইনে পরিণত হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ শনিবার (০৪ মার্চ) সকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ১৪ জেলার পরিষদে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এ কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশসমূহ সংসদে আইনে পরিণত হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংসদের মাধ্যমে বাতিল করা হবে।
এ ছাড়া আরো কিছু অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকারের পাশাপাশি জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছে এবং জাতীয় নির্বাচনে যাদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পেলেও সব বিষয়ে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
অর্থনীতি
শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত রয়েছেন বলে সরকারি জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে জ্বালানির চলমান সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে একটি কাঠামোগত সংলাপের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে প্লাটফর্মটি।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এই পরিষদে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল ও ভোগ্যপণ্য খাতের ৯ জন উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে থাকছেন। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিয়েও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন।
জাতীয়
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।
অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ফলে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। আর শাস্তির বিধানসহ এটি আইনে পরিণত হলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে আরও বেগ পেতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর তা কার্যকারিতা হারাবে।
গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশে এখনই উত্থাপন নয় এবং চারটি রহিত করে হেফাজতের সুপারিশ রয়েছে প্রতিবেদনে।
যে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এর অন্যতম হলো- ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’।
এই অধ্যাদেশ বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।
এনসিপি নেতারা গত বছরের ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।
১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে।
একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না দলটি।
আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অধ্যাদেশে বলা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে। ফলে এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শাস্তির বিধান ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে সংসদের বিশেষ কমিটি। সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাজার বিধান নেই অধ্যাদেশে। সাজার বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।’
তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য আইনের ১৬ ধারায় যেসব সাজার বিধান রয়েছে, সেগুলোই প্রযোজ্য হবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য।
আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে মন্তব্য করতে চায় না বলে জানিয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান। তবে তিনি এ বিষয়ে গনমাধ্যমকে বলেছেন, যা করার জনগণই করবে। দল নিষিদ্ধ হওয়া ও কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আওয়ামী লীগের জন্য নতুন নয়। অতীতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলা করেছে আওয়ামী লীগ।
অধ্যাদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগ আদালতে যাবে কিনা- এমন প্রশ্নে আবদুর রহমান বলেন, যেখানে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে তাই নেওয়া হবে। যেখানে প্রতিবাদ করার দরকার হবে, সেখানে প্রতিবাদ করা হবে।
জাতীয়
দোকানপাট বন্ধ ও খোলার সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে, যার প্রভাবে বাংলাদেশে দোকানপাট ও শপিংমলগুলোর কার্যক্রমে নতুন সময়সূচির ঘোষণা এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সব দোকানপাট এবং শপিংমল সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান জানান, সরকারের নতুন সময়সূচি ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। এছাড়াও তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ১১টায় দোকান খোলার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন।
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। যেখানে বলা হয় প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী এবং আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।
এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
এদিকে, এই প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, তবে দ্রুতই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সমিতির নেতারা।



