কর্পোরেট সংবাদ
সরকার গঠন করায় বিএনপিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে ডিসিসিআই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একইসঙ্গে বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করতে নবনির্বাচিত সরকারকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাশিত প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে বলে মনে করে ডিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, নতুন সরকার যোগ্য নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনটি বলেছে, বিদ্যমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা— বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্কারোপ নীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের প্রভাবে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিনিয়োগ ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। একইসঙ্গে রফতানিমুখী খাতেও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে না।
ডিসিসিআই বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তার জন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শিল্প-কারখানা পরিচালনায় নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার কার্যক্রমে অচলাবস্থা, শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, ঋণপ্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তার অভাব— এসব কারণে বেসরকারি খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে দেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ডিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমেই বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব।
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল রাখতে শিল্প ও বাণিজ্যখাতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নগদে নিযুক্ত প্রশাসকের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি
দেশের অন্যতম সেরা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত মো. মোতাছিম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ নিয়মিত পদ নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে এ পদে পদোন্নতি প্রদান করে দাপ্তরিক নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মোতাছিম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নগদের প্রশাসক পদে নিয়োগ পান।
মো. মোতাছিম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৯৯৯ সালে সহকারি পরিচালক পদে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট, ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট, ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন ও পেমেন্ট সিস্টেমস্ ডিপার্টমেন্টে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম দেশীয় কার্ড স্কিম টাকাপে, এনপিএসবি মাইগ্রেশন, ক্যাশলেস বাংলাদেশ কার্যক্রম, বাংলা কিউআর প্রবর্তনসহ পেমেন্ট সিস্টেম আধুনিকায়নে তিনি নেতৃত্ব প্রদান করেন।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে গঠিত সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিজনেস প্রসেস রিইন্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য আধুনিকরণ কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
নগদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে বহু ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত এক বছরে সেবার ক্ষেত্রে নগদ-এর কলেবর ও গুণগতমান বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও অভ‚ তপূর্ব সাফল্য পেয়েছে নগদ। মাত্র এক বছরের মধ্যে নগদ-এর লেনদেনকে প্রায় দ্বিগুণ করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনেও বড় অর্জন এসেছে এই সময়ে।
শিক্ষা জীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাংক রেগুলেশন, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বিষয়ে অসংখ্য আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্পোরেট সংবাদ
তিন মাসে রেকর্ড ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন করেছেন নগদের গ্রাহকেরা
ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদ তাদের লেনদেনে নতুন রেকর্ড করেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি লেনদেন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। এক প্রান্তিকে লেনদেনে এটি নগদের নতুন রেকর্ড। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজ্ঞপ্তিতে নগদ জানিয়েছে, এ রেকর্ডের পাশাপাশি নগদ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে গ্রাহকের সম্পৃক্ততা ও লেনদেনের সংখ্যায়ও নতুন রেকর্ড গড়েছে। এ তিন মাসের মধ্যে নগদ গত জানুয়ারি মাসে ৪০ হাজার ৩০১ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। মার্চে এ লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের কারণে বেশ কিছুদিন নগদসহ অন্যান্য মুঠোফোন আর্থিক সেবা প্রদানকারী অপারেটরগুলোর লেনদেনের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। ফলে ওই মাসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা।
নগদ জানিয়েছে, এর আগে ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। যদিও পরের প্রান্তিকে তা কমে হয়েছিল ৯১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয়েছিল ৯২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। আর ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে নগদ প্রথমবারের মতো এক প্রান্তিকে ১ লাখ কোটি টাকা লেনদেনের মাইলফলক অর্জন করে। সে প্রান্তিকে নগদের লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগদের ওপর সাধারণ গ্রাহকদের আস্থাবৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে। এ প্রবৃদ্ধি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ধারাকে প্রতিফলিত করছে।
লেনদেনের এ নতুন রেকর্ডসহ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আরও কিছু মাইলফলক অর্জন করেছে নগদ। সর্বশেষ এই প্রান্তিকে নগদে যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ব্যাংক অ্যাড মানি, পেমেন্ট ও প্রবাসী আয় এসেছে। এর বাইরে এ সময়ে নগদের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সরকারি ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে।
নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, নগদের এমন প্রবৃদ্ধি ও লেনদেন ইতিবাচক। এ ছাড়া লেনদেনে খরচ কম হওয়ায় দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষের কাছে নগদ জনপ্রিয়। নগদে এক হাজার টাকায় ক্যাশ আউট চার্জ অন্য অপারেটরের চেয়ে সাড়ে ছয় টাকা কম, যা দেশের বিদ্যমান মোবাইল আর্থিক সেবাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম।
মো. মোতাছিম বিল্লাহ আরও বলেন, নগদে সেন্ড মানি সেবা ফ্রি। পাশাপাশি প্রবাসী আয় গ্রহণে খরচ কম হওয়ায় নগদের প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে প্রতি মাসে বা প্রতি প্রান্তিকে নগদ নিজের করা রেকর্ডগুলো ভাঙতে পারছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি লেনদেন করতে সক্ষম হব বলে আমি বিশ্বাস করি।’
কর্পোরেট সংবাদ
রূপালী ব্যাংকের রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এর আওতাধীন শাখাসমূহের ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিভাগীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।
সভায় তিনি ২০২৫ সালের ব্যত্যয়সমূহ চিহ্নিত করে দ্রুত সেগুলো উত্তরণের মাধ্যমে সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে ‘ঋণ বিতরণ বর্ষ ২০২৬’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক মো. নিজাম উদ্দিন ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের আদায় বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুল ইসলাম।
এছাড়াও বিভাগাধীন ০৫টি জোনাল অফিসের উপমহাস্থাপক ও জোনাল ম্যানেজার মো. গোলাম নবী , প্রকাশ কুমার সাহা, দেবব্রত সাহা, মো. মাহাবুর রহমান, মোঃ কামরুজ্জামান, ফাইজা আকতার, সহকারী মহাব্যবস্থাপকবৃন্দ এবং কর্পোরেট ও শাখাসমূহের নির্বাহী/শাখা প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ, শ্রেণিকৃত ঋণ হ্রাস এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক অগ্রগতির বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কর্পোরেট সংবাদ
সিটি ব্যাংক ও ইউএনডিপির সমঝোতা, গ্রিন বন্ড ও জলবায়ু অর্থায়নে নতুন উদ্যোগ
সিটি ব্যাংক পিএলসি এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি) একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর লক্ষ্য বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বিশেষভাবে দেশের উদীয়মান গ্রিন ও থিমভিত্তিক বন্ড বাজারের উন্নয়নে কৌশলগত গুরুত্ব প্রদান।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকায় সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার।
এই সমঝোতার মাধ্যমে সিটি ব্যাংক দেশে গ্রিন বন্ড ইস্যুতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চায়। এই চুক্তির আওতায় ইউএনডিপি সিটি ব্যাংককে গ্রিন বন্ড ইস্যুর জন্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।
সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, “সিটি ব্যাংক বর্তমানে একটি গ্রিন বন্ড ইস্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইউএনডিপির সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব টেকসই অর্থায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দেশের গ্রিন বন্ড বাজারের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।”
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “বাংলাদেশের জন্য নতুন জলবায়ু অর্থায়নের উৎস উন্মোচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যৌথ উদ্যোগ বৈশ্বিক টেকসই অর্থায়নের সঙ্গে দেশের প্রয়োজনের সংযোগ তৈরি করবে।”
এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে থিমভিত্তিক বন্ড ইস্যুর মানদণ্ড স্থাপন করবে এবং টেকসই অর্থায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে সিটি ব্যাংক পিএলসি টেকসই অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং দেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই উদ্যোগ ব্যাংকের পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন চর্চা শক্তিশালী করার পাশাপাশি একটি টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
এনআরবিসি ব্যাংকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
এনআরবিসি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পূর্ণ করে ১৪ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন জোরদার করার প্রত্যয় পূনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষদেরকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে অন্তর্ভূক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবা বাড়ানো হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাংকের অগ্রযাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া।
‘আস্থার আলো দেশজুড়ে’ স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জোন, শাখা ও উপশাখার কর্মকর্তারা অনলাইন প্লাটফর্ম জুমে অংশ নেন।
চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ২০১৩ সালে (২ এপ্রিল) যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে সুশাসন নিশ্চিত করা, সেবার পরিধি বাড়ানো এবং ব্যাংকের সুনাম আরও বৃদ্ধি করা।
তিনি আরও বলেন, ঋণ কার্যক্রম ও খেলাপি ঋণের আদায় বৃদ্ধি করে মুনাফা বাড়িয়ে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রখাতে ঋণ বিতরণ বাড়িয়ে এনআরবিসি ব্যাংককে গণমানুষের ব্যাংকে পরিণত করা। এইখাতে বিতরণকৃত ঋণের পরিমান ৪০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর সেবার প্রচলন ও প্রসার ঘটানো হবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, ১৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে ব্যাংককে একটি শক্তিশালী ও কমপ্লায়েন্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ১৩ বছরে ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা এবং ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা।
বর্তমানে এনআরবিসি ব্যাংকটির দেশব্যাপী প্রায় ৫ শতাধিক শাখা-উপশাখা এবং ৬ শতাধিক এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ রয়েছে। গ্রাহকসংখ্যা ২১ লাখের বেশি। ক্ষুদ্রঋণ ও ন্যানো ঋণসহ বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে ব্যাংকটি সাধারণ মানুষের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠছে।
এমএন



