জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর প্রথমদিন কখন কোথায় কী কর্মসূচি
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে মন্ত্রিসভার শপথের পর আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথম সচিবালয়ে অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যালয় প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দ্বিতীয়তলায় ২০১ নম্বর কক্ষটি প্রস্তুত করা হয়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য। আর ২০০ নম্বর কক্ষটি সভাকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত প্রসাধন সামগ্রীর বর্ণনা অনুযায়ী প্রসাধনীরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কর্মদিবসে ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তারেক রহমান। এরপর সেখান থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তিনি অফিস করবেন।
দুপুর ১টায় সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভা শেষে সচিবালয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক করবেন।
বৈঠক শেষে বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এজন্য সচিবালয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের গেজেটের পরই তুমুল ব্যস্ততা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। নতুন ভবনের ছয়টি লিফটের সবকটিই ছিল ব্যস্ত। কর্মকর্তারা এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে উঠছেন, নামছেন। সবার হাতেই ফাইল। রেওয়াজ ভেঙে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হয়েছে মন্ত্রিসভার শপথ। আর সেই শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এমএন
জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজ আজ থেকে বন্ধ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজটি আর সক্রিয় থাকবে না। আজ বুধবার পেজটি থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ওই পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘গত ১৮ মাস সময় কালজুড়ে সকলের সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা, সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরো মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে।
পোস্টের নিচে লেখা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন করে বিএনপি। এদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে ড. ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হয়।
পরে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নামে ভেরিফায়েড পেজটি চালু হয়। যা পরিচালনা করতেন তার প্রেস উইং। এই পেজ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও তথ্য জানানো হতো।
এমএন
জাতীয়
আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আজ বিকেল ৩টায় তাঁর সভাপতিত্বে নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া আজ দুপুরে সচিবালয়ে অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখান থেকে ফিরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। সভা শেষে সচিবালয়ে দুপুরের খাবারের পর ৩টায় মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠক করবেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান এবং ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।
এমএন
জাতীয়
ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এবার তিন মহানগরীর ভোটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকার দুই সিটি (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে। বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসেবে এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে আলোকে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।
এমএন
জাতীয়
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন?
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভার আকার ‘ছোট হবে’ জানালেও শেষপর্যন্ত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ ঘোষণা করেছে বিএনপি। নতুন এই সরকারে যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪১ জনই প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এমন দায়িত্ব পেলেন। এমনকি তারেক রহমান নিজেও প্রথমবার মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।
অতীতে মন্ত্রণালয় চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, দলটির এমন নয়জন নেতাকে এবার পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালেও মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় নেতাদের ছবি ও নামসহ দপ্তরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও নতুন মন্ত্রীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়টির ওয়েবসাইটে মন্ত্রী হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে আইনমন্ত্রী, খন্দকার আব্দুল মোকতাদিরকে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।
অতীতে দলের একাধিক নেতাকে মি. রহমানের সমালোচনা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেলেও শেষমেশ তাকেই টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি।
ফলে এটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।
এর বাইরে, বিএনপি’র প্রয়াত নেতাদের অনেকের ছেলে-মেয়েও নতুন মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন।
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে বঙ্গভবনে না করে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয় বণ্টন করা হয়।
চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।
সিনিয়র নেতারা কে কোন মন্ত্রণালয়ে?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নতুন মন্ত্রিপরিষদে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী এবং দু’জন টেকনোক্রেট মন্ত্রী রয়েছেন।
বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এর আগে, ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের সময় মি. আলমগীর কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অতীতে তিনি বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অতীতে খালেদা জিয়ার সরকারে বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন। এবার তার কাঁধে পড়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বিএনপি নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের বাণিজ্য এবং পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির সিনিয়র নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে। অতীতে তিনি একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।
২০০১ সালে বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পদে ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি এবার একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। সেইসঙ্গে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়এর দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।
কুমিল্লা থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বিএনপি’র সবশেষ সরকারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনিও এ দফায় পূর্ণমন্ত্রী হয়ে পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। অতীতে তিনি এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলু তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিএনপি’র ২০০১ সালের সরকারেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন।
আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের হাতে থাকছে জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
নতুন মন্ত্রীদের কে কোন মন্ত্রণালয়ে?
আরও ১৬ জনকে প্রথমবার মন্ত্রী করেছেন তারেক রহমান। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন পেয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
ঢাকা-১০ আসন থেকে বিজয়ী শেখ রবিউল আলমকে একইসঙ্গে দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু; রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তার নাম নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে দেওয়া হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ২০২৪ সালের আটই অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর তিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথমবার মন্ত্রী হয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুকে দেওয়া হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
লক্ষ্মীপুর থেকে বিজয়ী বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
এর বাইরে, আরিফুল হক চৌধুরিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; খন্দকার আব্দুল মোকতাদিরকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জাকারিয়া তাহেরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং ফকির মাহবুব আনামকে ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের মধ্যে বিএনপি নেতা আমিন উর রশিদ একইসঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন।
আর সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমানকে দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এছাড়া নতুন মন্ত্রিপরিষদের পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় থাকা একমাত্র নারী আফরোজা খানম রিতা পেয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রীরা কে কোথায়?
নতুন সরকারে যে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে, তাদের সবাই এবারই প্রথম মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন এবারের মন্ত্রিপরিষদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
এছাড়া ভোটে না জিতলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ফুটবলার মো. আমিনুল হক টেকনোক্র্যাট হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
অন্য আলোচিতদের মধ্যে ববি হাজ্জাজকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জোনায়েদ সাকিকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং নুরুল হক নুরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
যশোর সদর আসন থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। খুলনা বিভাগীয় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মি. অমিত বিএনপির প্রয়াত সিনিয়র নেতা তরিকুল ইসলাম ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমের ছেলে।
নারীদের মধ্যে ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং নাটোর-১ আসন থেকে বিজয়ী ফারজানা শারমিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
তাদের মধ্যে মিজ ওবায়েদকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মিজ শারমিনকে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
এর বাইরে, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে খাদ্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কায়সার কামালকে ভূমি মন্ত্রণালয়, ফরহাদ হোসেন আজাদকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হাবিবুর রশিদকে সড়ক পরিবহন, সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়; মো. রাজীব আহসানকে নৌ মন্ত্রণালয়, মো. আব্দুল বারীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মীর শাহে আলমকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
এছাড়া মো. শরিফুল আলমকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এম এ মুহিতকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এম ইকবাল হোসেইনকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ইয়াসের খান চৌধুরীকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং শেখ ফরিদুল ইসলামকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে, কিভাবে হতে পারে
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকায় তিনি পদত্যাগ বা অভিশংসিত না হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্ভব নয়। পদ শূন্য হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু করার পর এই সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি কে হবেন বা কবে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো: সাহাবুদ্দিন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। তবে তার কাছেই নতুন নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ করেছেন।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব আসেন। তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। ফলে ওই পদে থাকা অবস্থায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনগত সুযোগ নেই।
যে কারণে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন কিংবা অভিশংসন না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কেউ শপথ নিতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন সংবিধান বিশ্লেষকরা।
আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, এ নিয়ে সংবিধানেই বলা আছে যে রাষ্ট্রপতির পদ কিভাবে শূন্য হবে। পদ শূন্য হওয়ার পরই এই নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে নতুন সংসদ।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খুবই সীমিত। যে কারণে রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বেশ কিছু প্রস্তাবনাও আনা হয়েছে। সেসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বেশ কিছুটা বাড়বে।
তিন কারণে শূন্য হয় রাষ্ট্রপতি পদ
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সর্বোচ্চ দু’বার দায়িত্ব পালন করতে পারেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেয়া মো: সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ এ গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শপথও যেমন পড়িয়েছেন মো: সাহাবুদ্দিন, তেমনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শপথ পাঠ করিয়েছেন তিনি।
যদিও ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে জোরাল আন্দোলন করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে অপসারণ কিংবা তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি।
তবে গত ডিসেম্বর মাসে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি ‘অপমাণিত বোধ’ করছেন।
সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই, আমি সরে যেতে আগ্রহী। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
বিশ্লেষকদের অনেকে ধারণা করছেন, মো: সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেয়া বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসবে। নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে নানা আলোচনাও চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এরপরই নতুন সংসদে নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগপত্র জমা দেন তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রপতি আগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে না বলেই বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
নতুন সরকার ও সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রপতির পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন যেভাবে
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার পদে প্রবেশের তারিখ থেকে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ব্যক্তি দু’বারের বেশি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।
সংবিধান বিশ্লেষক জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক কারণ কিংবা গুরুত্বর কোন অসদাচরণজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে।’
মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ কিংবা অভিসংশনজনিত কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে এই নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে নির্বাচন কমিশন।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের ভোটেই নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে কারো বয়স ৩৫ বছরের কম ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলে কেউ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।
একসময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিক সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিধান ছিল। তবে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরে সেই পদ্ধতি বাতিল হয়।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এখন দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে।
নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ‘নির্বাচনী কর্মকর্তা’ হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হলে স্পিকারের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে পদ শূন্য হইলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আইনজীবী ও সংবিধান বিশ্লেষক কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘এক্ষেত্রে দু’জন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হবে। একজন থাকবেন প্রস্তাবক আরেকজন সমর্থক।’
রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে বিধান অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।
তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সময়ে যদি অধিবেশন না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সাথে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভোটগ্রহণের কমপক্ষে সাতদিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবে।
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতখানি তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।
এক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তাই অনেকেই পদটিকে ‘আলঙ্কারিক’ হিসেবেও আখ্যা দেন। তবে রাজনৈতিক সঙ্কট কিংবা নির্বাচনের সময়ে রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি পদের গুরুত্ব বাড়ে। কারণ সংসদ ভেঙে দেয়া হলে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসাবে বহাল থাকেন।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দু’টি ক্ষমতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। এ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতির কারো পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন নেই- এটা আইনে বলা আছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিগত সময়ে এই বিষয়গুলোর খুব একটা চর্চা দেখা যায়নি বলেই মনে করেন রাজনৈতিক ও সংবিধান বিশ্লেষকরা।
রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশনের ধারাবাহিক আলোচনার পর জুলাই সনদ প্রস্তুত হয়েছে। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ জয়ের ফলে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নের পথ খুলেছে, তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব হলো প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতিকে কাজ করতে হয়। তবে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে কারো পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে পারবেন।
আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো কিংবা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির যে বিষয়গুলো জুলাই সনদে রয়েছে এটার জন্য আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।’
তার মতে, সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো সময় সাপেক্ষ বিষয়। তার আগ পর্যন্ত ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি নিশ্চিত হবে না।
সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে শুরু হবে সেটি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। সেই অধিবেশন শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এমএন



