জাতীয়
শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: আইন উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় হবে। আর বিকেল চারটায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অংশ নিতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এর আগে আজ সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টাদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আজকে তাঁদের বিদায়ী বৈঠক ছিল। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নিজেদের কাজকর্ম ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। এ ছাড়া শপথ অনুষ্ঠান সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হচ্ছে। খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে, বেলা সাড়ে ১১টা বা দুপুর ১২টার দিকে সেখানে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে।
বিকেল চারটায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে বলেন আইন উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি যতুটুকু জানেন, এটি রাষ্ট্রপতি পড়াবেন।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে ইচ্ছা প্রকাশ করা হয় বলে জানান আইন উপদেষ্টা।
প্রথা অনুযায়ী যাঁদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা, সেটাই করা হবে উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেখছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, এ সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। শুধু আজকে শুনেছেন, এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বলা হয়েছে। কোনো প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে তিনি জানেন না।
এমএন
জাতীয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে আইনে পরিণত হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ শনিবার (০৪ মার্চ) সকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ১৪ জেলার পরিষদে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এ কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশসমূহ সংসদে আইনে পরিণত হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংসদের মাধ্যমে বাতিল করা হবে।
এ ছাড়া আরো কিছু অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকারের পাশাপাশি জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছে এবং জাতীয় নির্বাচনে যাদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পেলেও সব বিষয়ে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
অর্থনীতি
শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত রয়েছেন বলে সরকারি জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে জ্বালানির চলমান সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে একটি কাঠামোগত সংলাপের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে প্লাটফর্মটি।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এই পরিষদে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল ও ভোগ্যপণ্য খাতের ৯ জন উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে থাকছেন। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিয়েও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন।
জাতীয়
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।
অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ফলে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। আর শাস্তির বিধানসহ এটি আইনে পরিণত হলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে আরও বেগ পেতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর তা কার্যকারিতা হারাবে।
গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশে এখনই উত্থাপন নয় এবং চারটি রহিত করে হেফাজতের সুপারিশ রয়েছে প্রতিবেদনে।
যে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এর অন্যতম হলো- ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’।
এই অধ্যাদেশ বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।
এনসিপি নেতারা গত বছরের ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।
১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে।
একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না দলটি।
আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অধ্যাদেশে বলা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে। ফলে এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শাস্তির বিধান ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে সংসদের বিশেষ কমিটি। সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাজার বিধান নেই অধ্যাদেশে। সাজার বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।’
তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য আইনের ১৬ ধারায় যেসব সাজার বিধান রয়েছে, সেগুলোই প্রযোজ্য হবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য।
আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে মন্তব্য করতে চায় না বলে জানিয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান। তবে তিনি এ বিষয়ে গনমাধ্যমকে বলেছেন, যা করার জনগণই করবে। দল নিষিদ্ধ হওয়া ও কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আওয়ামী লীগের জন্য নতুন নয়। অতীতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলা করেছে আওয়ামী লীগ।
অধ্যাদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগ আদালতে যাবে কিনা- এমন প্রশ্নে আবদুর রহমান বলেন, যেখানে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে তাই নেওয়া হবে। যেখানে প্রতিবাদ করার দরকার হবে, সেখানে প্রতিবাদ করা হবে।
জাতীয়
দোকানপাট বন্ধ ও খোলার সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে, যার প্রভাবে বাংলাদেশে দোকানপাট ও শপিংমলগুলোর কার্যক্রমে নতুন সময়সূচির ঘোষণা এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সব দোকানপাট এবং শপিংমল সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান জানান, সরকারের নতুন সময়সূচি ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। এছাড়াও তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ১১টায় দোকান খোলার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন।
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। যেখানে বলা হয় প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী এবং আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।
এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
এদিকে, এই প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, তবে দ্রুতই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সমিতির নেতারা।
জাতীয়
কাল থেকে জরুরি টিকা শুরু হচ্ছে, তালিকায় কোন কোন উপজেলা
প্রাথমিকভাবে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। এসব উপজেলায় হামের উচ্চ সংক্রমণ হার দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবার ওপরে বরগুনা সদর উপজেলা। আগামীকাল রোববার এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে এই উপজেলাগুলোর তালিকা পাওয়া গেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব উপজেলার ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখ ৩ হাজার ২৬৭টি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল রাতে টিকাবিষয়ক কারিগরি কমিটি নাইট্যাগের সভা হওয়ার কথা ছিল। আজও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সভা হওয়ার কথা আছে। এই দুই সভায় আরও দু–একটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ আসতে পারে।
৩০ উপজেলা হচ্ছে বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাট; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।
সংক্রমণের হার কোথায় কেমন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয় গত বৃহস্পতিবার দেওয়া তথ্যে জানিয়েছে, দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষে হামের সংক্রমণ ১৬ দশমিক ৮। এই সংক্রমণকে অনেক বেশি বলে সংস্থাটি মনে করছে।
সংক্রমণ হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে দক্ষিণের জেলা বরগুনায়। এখানে এ বছর ২৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ২৯৫। এ জেলায় ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৩৬ হাজার ৮৮টি। তাদের প্রত্যেককে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
উচ্চ সংক্রমণ হারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে পাবনা সদর উপজেলা। এখানে ৩২ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, সংক্রমণ হার ১৮০। এই জেলায় ছয় মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৭২ হাজার ৮২৫টি। তৃতীয় স্থানে চাঁদপুর সদর উপজেলা। এখানে এ পর্যন্ত ২৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, সংক্রমণ হার ১৪৪। এ জেলায় ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৫৭ হাজার ৩২৮টি।
সংক্রমণ হার বেশি, এমন একটি জেলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি টিকাদান কর্মসূচির জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাঁর উপজেলায় জনবলসংকট রয়েছে। মাঠপর্যায়ে টিকা দেন সাধারণত স্বাস্থ্য সহকারী। কিন্তু এ জেলায় ৩০ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্য সহকারীর পদ শূন্য। জরুরি টিকাদান কর্মসূচি সফল করার জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ।
সর্বশেষ পরিস্থিতি
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে গতকাল ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক ৯৪৭ জন রোগী সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শিশুর হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক ৫ হাজার ৭৯২ জনের হামের পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে ৭৭১ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে।
সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৯৪ জনের সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনের হামে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি বলে জানিয়েছে।



