জাতীয়
তারেক রহমান ১০ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসছেন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়ে দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে ২০৯টি আসনেই জয়ী হয়েছে বিএনপি।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির মাঝেই আলোচনায় উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে থাকা বিশাল চ্যালেঞ্জগুলো।
বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব এখন তারেক রহমান কাঁধে, এখন এক বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার পর্বতসম প্রত্যাশার মুখোমুখি। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের পথচলা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জয় কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং একগুচ্ছ কঠিন সমস্যা সমাধানের অগ্নিপরীক্ষা।
তাদের মতে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বড় ধরনের ১০টি চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে হচ্ছে তাকে। বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে মানুষের পর্বতসম প্রত্যাশা এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে ঘিরে। এই প্রত্যাশা আর স্বপ্নের সারথি হয়ে সক্ষমতা প্রমাণের সবচেয়ে বড় এবং কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দলটির নতুন নেতৃত্ব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে বড় ধরনের যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে—গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণ করা; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা; ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠন করা; রাষ্ট্রের সব পর্যায় থেকে দুর্নীতি দূর করা; উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান থেকে দেশের সুরক্ষা প্রদান; কার্যকর নিরপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম আমলাতন্ত্র গঠন; রাষ্ট্রের সামষ্টিক অর্থনীতিকে টেনে তোলা; মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা; কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরির মাধ্যমে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা আনা।
এসবের পাশাপাশি রয়েছে বেশকিছু কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তিকে একত্রিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। তবেই গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণের পথ সুগম হবে। দেশে বইতে শুরু করবে স্থিতিশীলতার সুবাতাস।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা। বিগত সময়ে বাংলাদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে, যারা পরবর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পদে পদে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোকে সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির মোকাবিলা করতে হবে। নয়তো জনপ্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কের নামে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের এমন অনুরোধ রক্ষা করা যাবে না, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয় বা জনস্বার্থবিরোধী হয়।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিএনপিকে মোকাবিলা করতে হবে, সেটি হলো জুলাই সনদ। যেখানে এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যার সঙ্গে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একমত হতে পারেনি, সেই বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আগামী সংসদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে দেশের প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণের অভিযোগ ওঠে। এতে প্রশাসন, বিশেষ করে জনপ্রশাসনে বিভিন্ন শাখায় স্বাভাবিক কার্যক্রম নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দলীয় পরিচয়ে পরিচিত কর্মকর্তাদের প্রভাবে চাকরি, নিয়োগ, পদোন্নতি নানাভাবে প্রভাবিত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া প্রশাসনে জেঁকে বসে একটি সুবিধাবাদী গ্রুপ, যারা রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের চেয়ে নিজেদের উন্নয়নে বেশি সময় ব্যয় করে। এতে প্রশাসন পরিণত হয় দুর্নীতির আঁতুরঘরে, স্থবির হয়ে পড়ে উন্নয়মূলক কার্যক্রম। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসন ঢেলে সাজাতে এবং নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে এ সময়ে প্রশাসন হয়ে পড়েছে গতিহীন, কর্মস্পৃহাহীন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর এ প্রশাসন দিয়ে আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। তাই প্রশাসন ঢেলে সাজাতে না পারলে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা নির্বিঘ্ন হবে না।
সাবেক জনপ্রশাসন সচিব ও রাজনীতি বিশ্লেষক এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আমলাতন্ত্রকে ঢেলে সাজানো। অধ্যাপক ইউনূসের সরকার এ কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতে না পারায় অনেক ভালো কাজের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তবে কাজটি তাদের জন্য খুব সহজও ছিল না। নির্বাচিত সরকারের জন্য কাজটি কঠিন হবে না। রাষ্ট্র হলো একটি ‘ঘর’। সরকার হলো ওই ঘরের ‘ছাউনি’। আমলাতন্ত্র হলো ‘খুঁটি’। খুঁটি নড়বড়ে হলে বসবাস নিরাপত্তাহীন ও নিরানন্দ হয়। এমন অবস্থায় ভালো থাকা বা ভালো কাজ করা সম্ভব হয় না। তাই নতুন সরকার প্রধানকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র মাঝামাঝি মানের। এটা সিঙ্গাপুর, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো চৌকস নয়। তাই এখান থেকে তুলনামূলকভাবে সেরাদের খুঁজে বের করে কাজে লাগাতে হবে। দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য না দিয়ে পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে আমলাতন্ত্রে একটি সুবিধাবাদী গ্রুপ রয়েছে, যারা সবসময় নতুন সরকারের কাছে ভিড়ে যায় এবং সরকারকে বিভ্রান্ত করে। এই সুবিধাবাদীদের খপ্পরে পড়লে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, সরকারকে বিপদে পড়তে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি অনেকটা গতিহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আমদানি, রপ্তানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনেকটাই সংকুচিত হয়ে আসে। এই সময়ে যদিও রেমিট্যান্স অর্থনীতির চাকা কিছু সচল রেখেছে, কিন্তু স্বাভাবিক গতি ফেরাতে পারেনি। তা ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, মবতন্ত্র ইত্যাদি কারণে ছোট- বড় অসংখ্য কারখানা বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়ে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। তাই নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি পুনরুদ্ধার একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের নাজুক অবস্থা এবং গত ১৫ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে নতুন সরকারকে। এ ছাড়া ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাটাও নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, নতুন সরকারকে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হবে। কারণ দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। এটা আগামী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের আয়ের গতি মন্থর। অন্তর্বর্তী সরকার বারবার সময় বাড়িয়েও আয়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করছে, এমন পরিস্থিতিতে যদি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারে, তাহলে টাকা ছাপতে হবে। এটি মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দেবে। এক্ষেত্রে করহার তিন শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে একাধিক স্লাবে ভাগ করলে মানুষ কর প্রদানে আগ্রহী হবে। বর্তমান স্লাবের উচ্চ স্তরে ২৫ শতাংশ হারে কর প্রদান অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনাও একটি চ্যালেঞ্জ, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে হলে বাজার ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং রিজার্ভ বাড়াতে এ মুহূর্তে রেমিট্যান্সের ওপর জোর দিতে হবে। এসব অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ, অভিজ্ঞদের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে হবে।
বাংলাদেশে সংবিধান অনুসারে, দেশের কূটনৈতিক নীতি হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে, বিশেষ করে ভিসা জটিলতা দেখা দেয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা জটিলতা দেখা গেছে। এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অনেক দেশ ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করা আসন্ন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশিষ্ট কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীরের মতে, আগামীতে যারা সরকার গঠন করবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের বৈশ্বিক যোগাযোগ সমুন্নত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে পেশাগত কূটনীতি ও আধুনিক কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসাগত জটিলতা রয়েছে। মূলত কোনো দেশের মানুষ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, অবৈধ কাগজপত্র সরবরাহ করে অন্য দেশে গমন করে, অথবা রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়, তাহলে এমন ভিসা জটিলতা দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। যারা এসব কাজে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে ফের যেন তা না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মূলত তরুণরা এসব পথ অবলম্বন করে বিদেশ পাড়ি জমাতে চায়, তাই তাদের বিদেশ যাত্রায় নিরুৎসাহিত করতে দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সেজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আইনের শাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকারকে মনে রাখতে হবে, পৃথিবী আর আগের মতো নেই। বাংলাদেশ বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এবং ভারত ও চীনের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দুই পৃথক পরিস্থিতির মধ্যে অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সব মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। কূটনৈতিক নীতি নির্ধারণ উন্নয়নে এমনভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে, যেন বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এই দেশগুলো পারস্পরিক কোনো দ্বন্দ্বে জড়িয়ে না পড়ে।
তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ যতটা বড়, তার চেয়ে বড় সম্ভাবনাও অপেক্ষা করছে। ২৫ ডিসেম্বর নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উষ্ণ সংবর্ধনা নিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন তারেক রহমান। লাখ লাখ মানুষের সমাগমে তার এই রাজসিক প্রত্যাবর্তন রাজনীতির জন্য নতুন বার্তাবহ ঘটনা। যার অর্থ মানুষের সমর্থন এবং ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে দলটি ঘিরে, দলের নেতা তারেক রহমানকে ঘিরে, যার প্রমাণ মিলেছে নির্বাচনে দলটির বড় জয়েও। এখন মানুষের সেই সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি তাদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
এমএন
জাতীয়
হামের চিকিৎসায় বিএমইউতে ৮ শয্যার ওয়ার্ড চালু
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিএমইউ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএমইউয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান জানিয়েছেন, সি ব্লকের দ্বিতীয় তলায় হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আট শয্যার একটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডটির পরিসরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হাম শনাক্তে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার চালু করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার হাম ওয়ার্ডটি পরিদর্শন করেন পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান ও উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ আবু নাছেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে চারজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে এবং ২ নম্বর বহির্বিভাগে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এফ ব্লকের দ্বিতীয় তলায় একটি সম্প্রসারিত আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জাতীয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে আইনে পরিণত হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ শনিবার (০৪ মার্চ) সকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ১৪ জেলার পরিষদে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এ কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশসমূহ সংসদে আইনে পরিণত হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংসদের মাধ্যমে বাতিল করা হবে।
এ ছাড়া আরো কিছু অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকারের পাশাপাশি জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছে এবং জাতীয় নির্বাচনে যাদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পেলেও সব বিষয়ে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
অর্থনীতি
শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত রয়েছেন বলে সরকারি জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে জ্বালানির চলমান সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে একটি কাঠামোগত সংলাপের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে প্লাটফর্মটি।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এই পরিষদে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল ও ভোগ্যপণ্য খাতের ৯ জন উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে থাকছেন। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিয়েও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন।
জাতীয়
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।
অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ফলে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। আর শাস্তির বিধানসহ এটি আইনে পরিণত হলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে আরও বেগ পেতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর তা কার্যকারিতা হারাবে।
গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশে এখনই উত্থাপন নয় এবং চারটি রহিত করে হেফাজতের সুপারিশ রয়েছে প্রতিবেদনে।
যে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এর অন্যতম হলো- ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’।
এই অধ্যাদেশ বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।
এনসিপি নেতারা গত বছরের ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।
১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে।
একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না দলটি।
আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অধ্যাদেশে বলা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে। ফলে এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শাস্তির বিধান ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে সংসদের বিশেষ কমিটি। সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাজার বিধান নেই অধ্যাদেশে। সাজার বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।’
তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য আইনের ১৬ ধারায় যেসব সাজার বিধান রয়েছে, সেগুলোই প্রযোজ্য হবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য।
আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে মন্তব্য করতে চায় না বলে জানিয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান। তবে তিনি এ বিষয়ে গনমাধ্যমকে বলেছেন, যা করার জনগণই করবে। দল নিষিদ্ধ হওয়া ও কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আওয়ামী লীগের জন্য নতুন নয়। অতীতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলা করেছে আওয়ামী লীগ।
অধ্যাদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগ আদালতে যাবে কিনা- এমন প্রশ্নে আবদুর রহমান বলেন, যেখানে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে তাই নেওয়া হবে। যেখানে প্রতিবাদ করার দরকার হবে, সেখানে প্রতিবাদ করা হবে।
জাতীয়
দোকানপাট বন্ধ ও খোলার সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে, যার প্রভাবে বাংলাদেশে দোকানপাট ও শপিংমলগুলোর কার্যক্রমে নতুন সময়সূচির ঘোষণা এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সব দোকানপাট এবং শপিংমল সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান জানান, সরকারের নতুন সময়সূচি ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। এছাড়াও তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ১১টায় দোকান খোলার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন।
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। যেখানে বলা হয় প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী এবং আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।
এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দোকানপাট ও শপিংমল সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
এদিকে, এই প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, তবে দ্রুতই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সমিতির নেতারা।



