আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর দিল ইতালির নতুন নাগরিকত্ব আইন
ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য সুখবর এনেছে দেশটির সরকার। বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে ইতালি সরকার, যার সুফল পেতে পারেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। নতুন বছরের শুরু থেকেই এই পরিবর্তনের বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাজেটে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আইনের আওতায় নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে ব্যাপক ডিজিটাল সুবিধা, যা দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভোগান্তি কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সব তথ্য জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগে যেখানে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ফাইল ঘুরতে ঘুরতে কয়েক বছর লেগে যেত, সেখানে এখন নিষ্পত্তির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এছাড়া ইতালিতে টানা দীর্ঘ সময় বৈধভাবে বসবাসকারী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষমান ১০ বছরের তথ্য যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও ফাইল আটকে থাকার সম্ভাবনা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্যও নতুন আইনে বড় সুযোগ রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেট আইনের আওতায় বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব ঘোষণা দেওয়ার সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ ধরনের ঘোষণার ক্ষেত্রে ২৫০ ইউরো ফি সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হয়েছে।
ইতালি সরকারের ‘ইতালিয়া ডিজিটাল ২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় আগামী জুন মাসের মধ্যে পুরো নাগরিকত্ব সিস্টেমটি সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তখন আবেদনকারীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে স্পিড বা সিআইই (SPID/CIE) এর মাধ্যমে আবেদনের প্রতিটি ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এর আগে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল সুবিধা চালু ছিল।
স্থানীয় অভিবাসীরা বলছেন, এই পরিবর্তন প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা নতুন করে ইতালিতে আসতে চান বা সিজনাল ভিসায় এসে বৈধভাবে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতালি সরকার এখন দক্ষ ও বৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দিয়ে দেশটির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। নতুন আইন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
এবার লোহিত সাগর অবরোধ করার হুঁশিয়ারি ইরানের
মার্কিন নৌ অবরোধ (হরমুজ প্রণালীতে) অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।
তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি তার অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘একটি ভূমিকা’ হিসেবে গণ্য হবে।”
আলী আবদোল্লাহি আরও বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনো ধরনের রফতানি বা আমদানি চলতে দেবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনীর ‘আরও হাজারো’ সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।
জানা গেছে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানেন এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই খবর প্রকাশ করেছে। তবে খবরটি প্রকাশ করে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এখনো স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র দু’টি নতুন শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা দুই দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে। তার দাবি, ওয়াশিংটনকে ‘সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিরাই’ ডেকেছেন এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান।
নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ ও অবাধে’ পুনরায় খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘পারস্পরিকতার অবস্থানে’ অটল রয়েছে। অর্থাৎ, ইরান যদি হরমুজ দিয়ে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তবে তাদের নিজেদের জাহাজ এবং ট্যাংকারগুলোকেও এর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেয়া হবে না।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কাছ থেকে পূর্ণ কর্তৃত্ব পেতে হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইসলামাবাদে হওয়া যেকোনো সমঝোতায় সরকারের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্মতি থাকুক।
যুক্তরাষ্ট্রও বলছে, তারা আলোচনায় ফিরবে কেবল তখনই, যখন ইরানের প্রতিনিধিদল চুক্তি সম্পন্ন করার ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ নিয়ে আসবে।
প্রথম শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ নিরসনের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল এই সপ্তাহের শেষের দিকে পাকিস্তানে ফিরতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই এসব ঘটনা ঘটল।
ইরানি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা।
আলোচনায় যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলগুলোকে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ইসলামাবাদে ফিরে আসার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটন ও তেহরানে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় দেশ এই সপ্তাহের শেষের দিকেই ফিরতে পারে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার চার দিন পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা।
আন্তর্জাতিক
শক্তিশালী ৩ দেশ সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করে বিশ্বে দারুণ অবস্থান গড়ে নিয়েছে পাকিস্তান। প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হলেও চলছে দ্বিতীয় দফা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। এতে পাকিস্তানের কদর আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহবাজ শরিফ আজ বুধবার জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে সৌদি আরবের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কাতার যাবেন তিনি। কাতারে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, তুরস্কে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন শাহবাজ শরিফ। পাশপাশি পঞ্চম আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এদিকে ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বদলে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করতে চায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আর বাড়ানো হবে না। বরং বড় ধরনের একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু সীমিত চুক্তি নয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়েও বিস্তৃত সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস অনেক বেশি, তাই চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র : বিবিসি ও আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে : মাসুদ পেজেশকিয়ান
ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ এ ধরনের পদক্ষেপ কখনো মেনে নেবে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) তেহরানে জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, তেহরান যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা নয়, বরং সব সময়ই গঠনমূলক আলোচনার পক্ষে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালার আওতায় বেসামরিক নাগরিক, শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং স্কুল ও হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে?
ইরানের প্রেসিডেন্ট এমন একটি সময় এসব কথা বলেছেন যার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই; বরং সংকট সমাধানে জরুরি হলো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা।
ইরানের সঙ্গে ইরানকে ইরানকে ইরানকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটা যেকোনো দিকেই যেতে পারে, তবে আমি মনে করি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির চাইতে চুক্তিই শ্রেয়। কারণ, সেক্ষেত্রে তারা তাদের দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে। তাদের এখন সত্যিই একটি ভিন্ন শাসনব্যবস্থা আছে। যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা উগ্রপন্থিদের নির্মূল করেছি। উগ্রপন্থিরা চলে গেছে, তারা আর আমাদের সাথে নেই।
যদিও তেহরান এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র : বিবিসি ও আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রায় বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে। ফলে দেশটির সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে যাওয়া-আসা করা প্রায় সব জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সেন্টকমের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই অবরোধ দেশটির ওপর বড় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রতিদিন প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের বন্দর লক্ষ্যবস্তু করা হলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
তবে সবকিছু পুরোপুরি থেমে যায়নি। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রিচ স্টারি’ নামের একটি ট্যাংকার অবরোধের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
আন্তর্জাতিক
চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলার বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান গোপনে একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু বানানোর এক নতুন সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি।
প্রতিবেদনটিতে ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথির বরাতে বলা হয়েছে, টিইই-০১বি নামের এই স্যাটেলাইট চীনা কোম্পানি আর্থ আই তৈরি ও উৎক্ষেপণ করেছিল।
চীন স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানোর পর ২০২৪ সালের শেষের দিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পত্রিকাটি আরও বলেছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা এই স্যাটেলাইটকে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মার্চে ওইসব স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে এবং পরে এ স্যাটেলাইট থেকেই ছবি তোলা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বেইজিংভিত্তিক কোম্পানি এমপোস্যাটের গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। এর মাধ্যমে তারা এশিয়া ও লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্যাটেলাইটের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে।
তবে রয়টার্স এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। হোয়াইট হাউস, সিআইএ, পেন্টাগন কিংবা চীনের কোনো দপ্তরই এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও কোনো মন্তব্য করেনি।
এমপোস্যাটের সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কিছু বলেনি। তবে এ খবর ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিলে চীনের বড় সমস্যা হবে। এদিকে, চীনা দূতাবাস একে বানোয়াট অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তথ্য বলছে, ১৩-১৫ মার্চ ওই স্যাটেলাইট সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির ছবি তুলেছিল এবং ১৪ মার্চ ট্রাম্প সেখানে মার্কিন বিমান আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। এছাড়াও জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপরও ঠিক হামলার সময়েই নজরদারি চালিয়েছিল এই স্যাটেলাইট।
সূত্র : রয়টার্স



