রাজনীতি
কৌশলের নামে ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির ‘আপসহীন ভূমিকার’ কারণে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে এই দলকে দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন-অপহরণ-মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও রাজপথ ছাড়েনি।
“একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে, আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।”
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে; সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আগামী দিনের গণতান্ত্রিক যে রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা; আমরা দেখছি সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক অনেক দায় এবং দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না।
“সকল শহীদদের আত্মত্যাগকে জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না।
“কিন্তু তার পরও বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে যে, আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশনের রিসেন্টলি কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তার পরেও রাজনৈতিক একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই“
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’। অনুষ্ঠানে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
‘কেউ কেউ গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে’
দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয়—প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।
“আমি অনুরোধ করব, বাংলাদেশের দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন; সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন- তারা যাতে সফল না হয়।”
অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া, করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহীদ—সেই শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে।
“৭১ সালে যারা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত ১৬ বছরে যারা গুম-শহীদ হয়েছেন, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, ২৪ সালের ৫ অআস্টের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, যে হাজারো মানুষ যারা বিভিন্নভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচারকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।”
তারেক বলেন, “আপনারা যারা আজকে সামনে বসে আছেন, এখানে উপস্থিত হয়েছেন শত কষ্ট বুকে নিয়ে, এই মানুষগুলো যাতে ন্যায়বিচার পেতে পারে, দেশের আইন অনুযায়ী যাতে ন্যায়বিচার পেতে পারে—তার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে, সেই ন্যায় বিচারটা নিশ্চিত করার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
“যেই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে, যেই সরকার মানুষের যারা নির্যাতিত হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করবে।”
‘সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা জানা নেই’
যুক্তরাজ্যে দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার পরপরই মা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হারান তিনি।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রসঙ্গে তারেক বলেন, “বহু বছর দেশ, স্বজন, মানুষ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে আমাকে বাধ্য হয়ে। দূর থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, আমার নেতাকর্মী যারা আছেন, নেতাকর্মীর বাইরেও এই স্বজনহারা মানুষ সারা দেশে যারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন, দলীয় অবস্থান থেকে আমরা চেষ্টা করেছি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে সরব উপস্থিতি রাখতে, প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলতে।
“ঠিক একইভাবে আমরা সেই সময় যতটুকু আমাদের সাধ্য ও সামর্থ্য ছিল তা দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের এই স্বজনহারা মানুষগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। আমরা কতটুকু পেরেছি, কতটুকু পারিনি, সেটির জবাব ভিন্ন।
“তবে এতটুকু আপনাদের সামনে বলতে পারি, আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। হয়তো সীমাবদ্ধতা ছিল, সীমাবদ্ধতা আছে—এখনও প্রতিটি মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর। কিন্তু তার পরেও আমরা আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি এবং ইনশাল্লাহ এই চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবেও ভবিষ্যতে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা করা হয়েছে। হাজারের মতো নেতাকর্মীকে হতে হয়েছে গুমের শিকার, যার কিছু অংশের পরিবার আজকে এখানে হাজির আছে। সারাদেশে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় শুধুমাত্র বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লক্ষের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যার বোঝা প্রায় ৬০ লক্ষের মতো নেতাকর্মীকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে।
“এর ভেতরে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী বছরের পর বছর, মাসের পর মাস, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, দিনের পর দিন ঘরবাড়ি ছাড়া থাকতে হয়েছে, স্বজনহারা থাকতে হয়েছে, স্বজন থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এসব সকল মামলাই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তারেক রহমান বলেন, “গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন বা রাতের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যেসব মানুষরা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব বোনেরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন; তাদের সত্যিকারে যদি বলতে হয় আসলে আপনাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা বোধহয় আমাদের কাছে নেই।
“এক দুঃসহ সময় আমরা অতিক্রম করেছি। এই দুঃসময়ে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আজকে কয়েকজন সন্তান তার কষ্টের কথাটি উল্লেখ করে গেছেন। যে সন্তান একদিনের জন্যেও তার পিতাকে বা পিতার মুখকে দেখার সুযোগ পান নাই তেমন সন্তান আজ আমাদের ভেতরেই আছে, উপস্থিত।
“হয়তোবা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন, যে সন্তান তার পিতাকে না দেখার কষ্টের কথা এখানে বলে গিয়েছে। আমরা জানি না, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন—সেই সন্তান তার পিতাকে আবার কোন দিন দেখবে কি না। অনেক সন্তান এখনও অপেক্ষায় আছেন।”
রাজনীতি
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে ১১ দল’
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ।
তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত নেতা বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’
ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী দলগুলো। এ বিষয়ে শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’
রাজনীতি
জুলাই গণহত্যার দায় রাষ্ট্রপতি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না: ড. হেলাল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড হেলাল উদ্দিন বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকারের পরিচালিত গণহত্যায় নিরব সমর্থন দিয়েছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন চুপ্পু। তিনি বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার ওপর র্নিবিচারে গুলি চালিয়ে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতাকে শহীদ করার পরও রাষ্ট্রপতি নিরব ভূমিকা পালন করেছে। তিনি গণহত্যা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তিনি আওয়ামী লীগের গণহত্যাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। জুলাই গণহত্যার দায় রাষ্ট্রপতি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার পেশাজীবি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল চাকুরীতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ছাত্রদের এক শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন। ঐ আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ছাত্রদের আহত-নিহত করে। ফলে ছাত্রদের রক্তে রাজপথে রঞ্জিত হয়ে পড়ে। ছাত্রদের রক্তে ফুঁসে উঠে পুরো দেশবাসী। ছাত্রদেরর আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয় দেশের কৃষক, শ্রমিক, ঠেলা-ভ্যান ও রিকশা চালকসহ সকল পেশাজীবির মানুষ। ঐ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন চুপ্পু স্বপদে বহাল থাকে। নির্বাচিত সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করার ক্ষমতা থাকলেও সরকারি দলের স্বদিচ্ছা না থাকায় রাষ্ট্রপতি বহাল তবিয়তে রয়েছে। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার পেশাজীবি বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এবং পল্টন থানার পেশাজীবি বিভাগের পল্টন মোড় ওয়ার্ড সভাপতি আরিফুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম, পল্টন থান সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম, সাবেক কমিশনার খন্দকার আব্দুর রব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পল্টন থানার পেশাজীবি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিজয়নগর সাংগঠনিক ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়েজিত রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, রমজানের শিক্ষা হচ্ছে কথা ও কাজে মিল থাকা। মুখে যা বলবে বাস্তবে তা পরিণত করা। কিন্তু সরকার মুখে যেই কথা বলেছে বাস্তবে তার বিপরীত কাজ করছে। সরকার নির্বাচনের আগে দেশবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এখন গণভোট জয়যুক্ত হওয়রা পর সরকার গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে নারাজ। কারণ সরকারের উদ্দেশ্য খারাপ। এই সরকারও আওয়ামী লীগের মতোই দেশের জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চায়। যারা জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চাইবে তারাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেবে না। গণভোটে জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজনীতি
আপাতত সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না মির্জা আব্বাসকে
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে দেশের বাইরে নেওয়ার মতো না থাকায় চিকিৎসকরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মির্জা আব্বাস বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, আপাতত মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না। তার পরিবার দেশের চিকিৎসার ওপর আস্থা রেখেছে। তবে পরবর্তীতে মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি জানান, শুক্রবার মির্জা আব্বাসের চিকিৎসা ইস্যুতে একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে। সেখানে উনার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চিকিৎসকরা মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের জন্য শুক্রবার ৩টা ১০ মিনিটে উনাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।
এর আগে জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এভারকেয়ারে গিয়ে মির্জা আব্বাসের খোঁজখবর নেন। এ সময় মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
এমএন
রাজনীতি
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে দেখতে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সুজন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মির্জা আব্বাসের মিডিয়া টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন, বুধবার ইফতারে পানি খাওয়ার সময়ই হঠাৎ করে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর কাছে তার শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মহান রবের নিকট মির্জা আব্বাসের আশু আরোগ্য কামনা করেন। জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানার সভাপতি ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
এ ছাড়া মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এমএন
রাজনীতি
প্রথম দিন ওয়াকআউট না করলেও পারত বিরোধী দল : স্পিকার
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার হলেও, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই এমন পদক্ষেপ না নিলেও পারত বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
স্পিকার বলেন, সংসদের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে তিনি ইতোমধ্যে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, সংসদে সব সদস্য সমানভাবে কথা বলার ও মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন। আমরা চাই সংসদ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গণতান্ত্রিক হোক।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ পেয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্য সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্পিকার আরও বলেন, দেশের স্বার্থে আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো স্বৈরাচারী বা মাফিয়াচক্র আবারও পুনর্বাসিত হতে না পারে। তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।
এদিকে গণপূর্ত বিভাগের সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের আগমন উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ এলাকায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে বেলা ১১টার পর থেকে আবার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
এমএন




