জাতীয়
২৫ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ না হলে মিলবে না নতুন অনুমোদন
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ওষুধের নতুন মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট বার্ষিক বিক্রির অন্তত ২৫ শতাংশ আর্থিক মূল্যের সমপরিমাণ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বাজারে সরবরাহ ও বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নতুন কোনো ওষুধের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নীতিমালাটি অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি সরকার জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ তালিকা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। নতুন করে ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত হওয়ায় তালিকায় মোট অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি। সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হবে এবং জাতীয় ঔষধ মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা–২০২৫ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শিল্পমালিকদের আপত্তি
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করলেও ওষুধ শিল্পের মালিকরা ২৫ শতাংশ উৎপাদন বাধ্যবাধকতাকে ‘বাস্তবতা-বিবর্জিত’ ও ‘বাজারবিরোধী’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ বা মূল্য নির্ধারণ কাঠামো তৈরির সময় শিল্পের অংশীজনদের সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনা হয়নি।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, দেশে কোনো কোম্পানিই শতভাগ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করে না। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ৫–১০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করে না, আর অনেক নতুন কোম্পানি একেবারেই করে না। তাঁর ভাষায়, “দাম সংশোধন ছাড়া যদি ২৫ শতাংশ উৎপাদনে বাধ্য করা হয়, তাহলে লোকসান গুনে উৎপাদন করতে হবে, নইলে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত তিন দশকে মাত্র দু’বার মূল্য সংশোধন হওয়ায় অনেক ওষুধ উৎপাদন করলেই বড় অঙ্কের লোকসান হয়। এর ফলে স্যালাইনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উৎপাদন ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
রেনাটা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এস কায়সার কবিরও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাজারের চাহিদা বিবেচনা না করে উৎপাদনের নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হলে তা কার্যকর হবে না। “চাহিদা না থাকলে অতিরিক্ত ওষুধ উৎপাদন করে গুদামে রাখা কোনো কোম্পানির পক্ষেই সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
বিএপিআই সভাপতি আবদুল মুক্তাদির অভিযোগ করেন, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শিল্পের স্টেকহোল্ডারদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর মতে, নীতিমালার ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে শিল্প এখনো স্পষ্ট ধারণা পায়নি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত
ফার্মাসিস্ট ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক পরামর্শক মো. আবু জাফর সাদেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেন, অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণ গুণগত মান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, একতরফা সিদ্ধান্তের বদলে সরকার ও শিল্পের মধ্যে সহযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি রোগীদের জন্য বেশি লাভজনক হবে।
সরকারের অবস্থান
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দিয়েই প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ রোগের চিকিৎসা সম্ভব। এসব ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনলে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা আরও সহজ হবে। তিনি এই উদ্যোগকে ‘যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার দাবি, গত ১৪ মাস ধরে একটি টাস্কফোর্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
নতুন মূল্য নির্ধারণ কাঠামো
নতুন নীতিমালায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ক্ষেত্রে ‘কস্ট-প্লাস বেঞ্চমার্কিং’ পদ্ধতিতে ভ্যাট বাদে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হবে। কাঁচামাল, প্রাইমারি প্যাকেজিং ব্যয় ও নির্ধারিত মার্কআপ যোগ করে এই দাম ঠিক করবে সরকার মনোনীত কমিটি বা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)।
অন্যদিকে, অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা ওষুধের দাম নির্ধারণে রেফারেন্স প্রাইসিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। নির্দিষ্ট সংখ্যক কোম্পানি উৎপাদন করলে বাজারমূল্যের মধ্যম মান বা আন্তর্জাতিক দামের ভিত্তিতে দাম ঠিক হবে, যা নির্ধারিত বেঞ্চমার্কের ১৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে।
বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
টাস্কফোর্সের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, দীর্ঘদিন দাম সমন্বয় না হওয়ায় উৎপাদনকারীরা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ থেকে সরে গিয়েছিল। নতুন নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ওষুধের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং দাম কমবে। তাঁর মতে, “নিয়ন্ত্রিত মুনাফার মাধ্যমে শিল্প ও জনস্বাস্থ্য—উভয়ই উপকৃত হবে।”
তবে শিল্পমালিকদের আশঙ্কা, বাজার বাস্তবতা বিবেচনা না করলে এই নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এখন গেজেট প্রকাশের পর বাস্তবে নীতিমালাটি কীভাবে কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
জাতীয়
সিলেট সিটির সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
শিল্প ও বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ঘোষণা দিয়েছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আওতাধীন সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করার হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য আধুনিক বিনোদন পার্ক স্থাপন, সুপেয় পানির সমস্যা সমাধান এবং সিলেট থেকে মাদক ও জুয়া চিরতরে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে সিলেট নগরীর শারদা স্মৃতি ভবনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিসিকের উদ্যোগে মহানগরের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের উন্নয়নে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির কারণে যাতে ইমামদের চাকরি না হয় কিংবা চাকরি হারাতে না হয়, সে জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি তারা যাতে চার-ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন, সেভাবে সম্মানী নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’
সব উন্নয়ন কাজের স্থানীয় তদারকি কমিটিতে ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং জনগণের আস্থা বাড়ে।
সিসিকের বর্তমান প্রশাসকের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একজনকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছি, যার ওপর দেশের প্রধানমন্ত্রী আস্থাশীল। তার নেতৃত্বে আগামীতে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যে সম্মানী পান তা অপ্রতুল। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিসিকের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সামান্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
নগর উন্নয়নে ইমামদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আগে সিলেট সিটি করপোরেশনে ছিল ২৭টি ওয়ার্ড, এখন হয়েছে ৪২টি। এত বড় নগরের সব সমস্যা একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, যদি না নগরবাসী সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। ইমামগণ যদি জুমার খুতবায় নগরবাসীকে সচেতন করেন, তবে আমাদের কাজ অনেক সহজ হবে।’
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার পরই সিলেটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি গ্রিন ও ক্লিন সিলেট গড়তে আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করছেন। আশা করি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সিলেট গড়ে তুলতে পারব।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
অনুষ্ঠানে সিলেট নগরের ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম ও ১ হাজার ২০১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী বিতরণ করা হয়।
এমএন
জাতীয়
শেকড় ভুলে গেলে ৫ আগস্ট বার বার ফিরে আসবে: ফরজানা শারমিন
যারা শেকড় ভুলে যায় তাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে বার বার ৫ আগস্ট ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন পুতুল।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনার হেমায়েতপুরের মণ্ডলপাড়ার পদ্মকোল খনন উদ্বোধন অষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফরজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘যারা বলেন আমরা কেনো মাঠে ঘাটে গিয়ে খাল খনন কেন করতেছি? তাদের বলতে চাই- আমাদের শেকড় ভুল গেলে চলবে না। আমরা যারা শেকড় ভুলে যাই, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে ওই ৫ আগস্ট বার বার ফিরে আসে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য আমাদের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। চেয়েছি বলেই আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি বড় প্রকল্প সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই হাতে নিতে পেরেছি। আমরা চেয়েছি বলেই প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করতে পেরেছি।
দেশব্যাপী নদী নালা খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে মণ্ডলপাড়া থেকে নাজিরপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন করা হবে। এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে এই খালের পানি ব্যবহার, প্রাকৃতিকভাবে মৎস্য উৎপাদনসহ নানা কারণে এই খালটি খনন করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে: তারেক রহমান
কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি এমন কাজগুলো করে, যে কাজ করলে দেশের মানুষের উপকার হয় ও ভালো থাকে। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। খাল খননের পর দুপাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর মৌজার সাহাপাড়ায় ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন শেষে স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে দেশের ৫৩টি জেলায় একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, খাল খননের মাধ্যমে পানি সমস্যার সমাধান করা হবে। বর্ষার পানিকে কৃষকের কাজে ব্যবহার করতে হবে, এ জন্য বর্ষার পানি ধরে রাখতে হবে। আল্লাহ ধান, চালসহ মৌলিক খাবার আমাদের দেশে উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৩৭ হাজার মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। মায়েদের যেমন ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি, কৃষকদেরও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আমরা কৃষকদের ভালো রাখতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানার মালিকদের সঙ্গে বসে কৃষিনির্ভর আর কী কী শিল্প গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করব।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কর্মসূচিস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সাহাপাড়ায় নিজে কোদাল হাতে খাল খননে নামেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এতে পানির সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন তারা।
এমএন
জাতীয়
র্যাব, এসবি ও সিআইডির প্রধান পদে পরিবর্তন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান পদে পরিবর্তন এনেছে সরকার।
সোমবার (১৬ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ এর উপসচিব তৌছিফ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে পরিবর্তনের এ আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) সরদার নুরুল আমিনকে বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
একইসঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে সিআইডি প্রধান করা হয়েছে।
এছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি (সিআইডি) মো. ছিবগাত উল্লাহকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি পদমর্যাদা) মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার এবং এসবির ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কর্মসূচিস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সাহাপাড়ায় নিজে কোদাল হাতে খাল খননে নামেন প্রধানমন্ত্রী। খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এতে পানির সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে খাল খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। পরে তিনি দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তাঁর নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে ১৯৭৭ সালে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বর্ষকালের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা লক্ষ্য ছিল। সে সময় সারা দেশে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করেন তিনি।
এমএন




