অর্থনীতি
৪৩ পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়লো
সরকার ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস, অর্থাৎ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়েই রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য প্রণোদনা কার্যকর ছিল। তবে রপ্তানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার এর মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।
গত অর্থবছরের মতোই এবারও প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খাতভেদে রপ্তানিকারকরা সর্বনিম্ন ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন। মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাত এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নগদ সহায়তা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিযুক্ত বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউরো অঞ্চলে রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার সঙ্গে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনাও বহাল থাকবে।
প্রজ্ঞাপন দেখতে ক্লিক করুন।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে ফের কমলো স্বর্ণ-রুপার দাম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বর্ণের দাম অনেকটা নিচে নেমে আসে। ট্রাম্পের এই বার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। তবে ক্ষীণ হয়েছে সুদের হার কমার সম্ভাবনা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬২২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে ৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছিল। এর মাধ্যমে স্বর্ণের টানা চার দিনের দরবৃদ্ধির প্রবণতা থমকে গেল। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার ৩ দশমিক৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমেছে।
গত ১৯ মার্চের পর স্বর্ণের বাজার যখন চাঙা হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এক বিশেষ ভাষণে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসী হামলা চালিয়ে যাবে এবং দেশটি তাদের ‘প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জনের পথে রয়েছে। এই বক্তব্যে যুদ্ধ থামার আশা করা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোড্ডা বলেন, ট্রাম্পের ভাষণের পর সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম এবং ডলারের মান বেড়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে।
এছাড়া, স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রুপার দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম এক দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
তবে বিশ্ববাজারে দাম কমায় ভারতের বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এর বিপরীতে চীনের ক্রেতারা দাম আরও কমার অপেক্ষায় থাকায় সেখানে কেনাবেচায় কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
এমএন
অর্থনীতি
এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল ৩৮৭ টাকা
ভোক্তাপর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এলপি গ্যাসের দাম। এপ্রিল মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ৬১.৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি)। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে মার্চ মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়। পাশাপাশি ৩ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের দাম ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
অর্থনীতি
এপ্রিলে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না: জ্বালানি বিভাগ
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে দেশে কোনো সংকট হবে না জ্বালানি তেলের। এপ্রিল মাস জ্বালানি নিয়ে নিরাপদে আছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইরান যে ৬টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ছেড়েছে তারমধ্যে একটি অপরিশোধিত তেলের জাহাজ রয়েছে। জাহাজটি দেশে আসলে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কোনো সংকট থাকবে না।
মজুতের প্রবণতা পরিহার করলে জ্বালানির কোনো সংকট থাকবে না বলেও জানান মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের এই সময়ে এসে জ্বালানি সাশ্রয় করে জাতিকে রক্ষা করা উচিত। এই সরকার জনগণের সরকার। তাই জনগণের কথা চিন্তা করেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি।
গত ৩ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ১ এপ্রিল উদ্ধার করা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৩৭ লিটার তেল।
অর্থনীতি
এনবিআরের ডিজিটাল অডিটে ৬০০ প্রতিষ্ঠান, ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন
ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্বয়ংক্রিয় এই পদ্ধতিতে প্রথম দফায় অডিটের আওতায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ৬০০টি প্রতিষ্ঠান এসেছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৪০৫টি, সেবাপ্রদানকারী ৯৮টি, খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা ৬৫টি এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ক্যাটাগরিতে ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সদস্য পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা বলেন, এখন থেকে আর কোনো কর্মকর্তা চাইলেই নিজের ইচ্ছামতো কোনো প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য পছন্দ করতে পারবেন না। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রথম দফায় অডিটের জন্য দেশের ৬০০টি বড় প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করেছে এনবিআর। এর মাধ্যমে অডিটের নামে ব্যবসায়ী বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের হয়রানি বন্ধে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে।
অন্যদিকে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এ বিষয়ে বলেন, করদাতা এবং সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অডিট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতেই এই ডিজিটাল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অডিটযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে এখন থেকে কোনো ম্যানুয়াল বা মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
যেভাবে কাজ করে ‘ডিজিটাল জাল’
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সাধারণত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি), পস মেশিন বা সফটওয়্যার থেকে বিক্রির তথ্য সরাসরি এনবিআর সার্ভারে যায়। ভ্যাট রিটার্নের অনলাইনে জমা দেওয়ার তথ্য এবং আমদানির তথ্যও এ্যাসাইকুডা সিস্টেম থেকে যুক্ত হয়। অর্থাৎ সব তথ্য ডিজিটালভাবে এক জায়গায় জমা হয়; যেখানে বিক্রয়, ক্রয়, ইনপুট ভ্যাট ও আউটপুট ভ্যাটের সব তথ্য একসাথে মিলানো হয়। কোনো গরমিল থাকলে সিস্টেম তা ধরে ফেলে। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ করদাতা চিহ্নিত করা হয়। যেমন: হঠাৎ কম বিক্রি দেখানো, অস্বাভাবিক ইনপুট ভ্যাট ক্লেইম বা পূর্বের তুলনায় বড় পার্থক্য। যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের অডিটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এনবিআর বলছে, ই-ভ্যাট সিস্টেমে একটি বিশেষ ‘অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল’ যুক্ত করা হয়েছে। এই সিস্টেমে ২০টি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির সূচক সেট করে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে কি না বা তাদের তথ্যে গরমিল আছে কি না, তা এই ২০টি সূচকের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হবে। সিস্টেমটি নিজেই অডিটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করবে। এতে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।
এনবিআর মনে করে, স্বচ্ছ এই ব্যবস্থার ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। অডিট কার্যক্রম শেষে যদি দেখা যায় কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করেছে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে ঝুঁকির সূচকগুলো আরও শক্তিশালী করা হবে। মূলত কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ করার অংশ হিসেবেই এই ‘ট্রেড ফেসিলিটেশন’ বা ব্যবসা সহজীকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
এনবিআর আশা করছে, এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়রানি কমবে, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করাও সহজ হবে।
ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, করদাতা বান্ধব এবং ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে এই অটোমেশন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এনবিআর।
অর্থনীতি
দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তির খবর, আসছে বড় চালান
দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে বিরাজমান অস্থিরতা ও মজুত সংকটের শঙ্কা কাটাতে বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিচ্ছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। চলতি মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, নতুন উৎস থেকে তেল আমদানি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, শুক্রবারেই (৩ এপ্রিল) ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার শিডিউল চূড়ান্ত হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ডিজেলের যে মজুত রয়েছে, তার সঙ্গে নতুন আমদানিকৃত তেল যুক্ত হলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এপ্রিলে ডিজেলের মোট চাহিদার বিপরীতে বিপিসি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি কোম্পানি থেকে বড় অংকের তেল আমদানির নিশ্চয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমেও ডিজেল আসার প্রক্রিয়া সচল রয়েছে।
শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও এই মুহূর্তে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বেসরকারি শোধনাগার এবং আমদানিকৃত অকটেন দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘাটতি মেটাতে কিছু পরিমাণ অকটেন পেট্রোলে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সফল কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোর বাংলাদেশে আসার পথ সুগম হয়েছে।
এছাড়া এমটি নরডিক পলুকস নামক জাহাজে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল ছাড়িয়ে আনতেও বিশেষ আলোচনা চলছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল কেনা হয়েছে, যা আগামী মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে নিজস্ব মজুত দিয়ে উৎপাদন চালু রাখলেও নতুন আসা অপরিশোধিত তেল থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েল পাওয়া যাবে। জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণ করতে সরকার এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না থেকে নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এমনকি রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় দেশটি থেকে বড় অংকের ডিজেল আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ এবং দ্রুত আমদানির ফলে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা দূর হচ্ছে এবং তিন মাসের অগ্রিম মজুত তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।
জানা গেছে, চাহিদা অনুসারে আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল আগে থেকেই কেনা আছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সময়মতো জাহাজ আসতে না পারায় কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত মাসে ৬টি ডিজেলের জাহাজ আসতে না পারায় দেড় লাখ টন ডিজেলের মজুত কমেছে। এর মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্কের কারণে বাড়তি জ্বালানি কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গত বছরের মার্চের তুলনায় এবার মার্চে ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ কিছুটা কমানো হলেও অকটেনের সরবরাহ হয়েছে আগের চেয়ে বেশি।
জ্বালানি বিভাগ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এলএলসি থেকে ২ লাখ টন ডিজেল, পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে ১ লাখ টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন নামের কোম্পানি থেকে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ‘আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের’ কাছ থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এগুলো সবই নতুন উৎস। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তাদের কাছ থেকে তেল কেনা হচ্ছে। তবে তারা এখনো তেল সরবরাহের সময়সূচি নিশ্চিত করেনি। দ্রুত সরবরাহে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
বিপিসি বলছে, এপ্রিলে পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। এ মাসে অকটেনের চাহিদা ৩৭ হাজার টন। এর মধ্যে দেশের বেসরকারি শোধনাগার থেকে ৩০ হাজার টন অকটেন আসার কথা। এ ছাড়া ৫০ হাজার টন আমদানি হচ্ছে এ মাসেই। ৬ এপ্রিল ২৫ হাজার টন নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ আসার কথা।
এপ্রিলে পেট্রোলের চাহিদা ৪৪ হাজার টন। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে ৩৫ হাজার টন আসার কথা রয়েছে। বাকি ঘাটতি মেটাতে কিছু অকটেন পেট্রোলে রূপান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝেও মার্চ মাসে এলপিজি, এলএনজি, ক্রুড অয়েল, ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির জন্য অন্তত ৩৯টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। অধিকাংশ জ্বালানি বিকল্প দেশ থেকে কেনা হয়েছে।



