আন্তর্জাতিক
এবার পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এবার শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব। তবে সৌদি আরব পকিস্তানকে যে ঋণ দিয়েছে তার আওতায় এ চুক্তি হতে পারে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে সৌদি আরব এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করতে আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর দেশ দুটির মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও সৌদির এই ঘনিষ্ঠতা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য এই চুক্তির মোট অর্থমূল্য চার বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যেখানে ঋণের সমন্বয় ছাড়াও অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে। যেখানে তেল সমৃদ্ধ দেশটি বিভিন্ন সময়ে ইসলামাবাদের আর্থিক সংকট কাটাতে বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও জ্বালানি সহায়তা প্রদান করেছে। বিনিময়ে পাকিস্তানের সুদক্ষ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সৌদি আরবের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান তাদের সামরিক সরঞ্জামের রপ্তানি বাড়াতে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেই লিবিয়ার খলিফা হাফতারের বাহিনীর কাছে চার বিলিয়ন ডলার মূল্যের জেএফ-সেভেনটিন যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন করেছে দেশটি।
গত মে মাসে ভারতের সাথে আকাশপথের সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ে এই বিমানের কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই আরব দেশগুলোর মধ্যে এই যুদ্ধবিমানের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রক্সি গোষ্ঠী এসটিসির অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে পাকিস্তানের এই চীনা প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ আমেরিকার সর্বাধুনিক এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি অংশ মনে করছে যে সৌদি আরব যদি চীনের সহযোগিতায় নির্মিত পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এফ-থার্টিফাইভ বিক্রির প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান: ব্লুমবার্গ
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৩০ কোটি ডলারের একটি রাডার ব্যবস্থা ইরান ধ্বংস করেছে, যা ভবিষ্যতে হামলা প্রতিহত করার আঞ্চলিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ব্লুমবার্গ জানায়, সিএনএনের বিশ্লেষিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে যুদ্ধের শুরুর দিকেই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত আরটিএক্স করপোরেশনের এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার ও ব্যাটারিসহ সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা পরে এই সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ব্লুমবার্গ আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বজুড়ে মোট আটটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামও অন্তর্ভুক্ত।
কেন্দ্র ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতে, প্রতিটি ব্যাটারির মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলার রাডারের জন্য ব্যয় হয়।
আন্তর্জাতিক
ইরানকে যে সতর্কবার্তা দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ ইরানকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনার মধ্যে শনিবার (৭ মার্চ) তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এর আগে তারা এমন এক বিমানঘাঁটির দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে একটি বড় তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টাও প্রতিহত করা হয়েছে।
এই সপ্তাহে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের রাস তানুরা তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ড্রোন হামলা হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান বিচক্ষণতা দেখাবে এবং ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকবে।
এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, শায়বাহ অয়েল ফিল্ডে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এম্পটি কোয়ার্টার মরুভূমি এলাকায় ছয়টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
এআইয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে ৪০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে সফটব্যাংক
চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলার (৪০ বিলিয়ন) ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে জাপানি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেপি মরগানসহ চারটি প্রধান ব্যাংকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। মূলত এআই খাতে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতেই এ বড় অংকের ঋণ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন সফটব্যাংকের প্রধান মাসায়োশি সন। বর্তমানে ওপেনএআইয়ে সফটব্যাংকের প্রায় ১১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। নতুন এ বিনিয়োগের ফলে প্রযুক্তি বিশ্বে জাপানি এ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলে ইরানের নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইসরায়েলে ইরান থেকে নতুন দফায় বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে তারা চিহ্নিত করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোর হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সুরক্ষিত এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।’
সূত্র: আল–জাজিরা
আন্তর্জাতিক
আজ রাতে ইরানে সবচেয়ে বড় বোমাবর্ষণ হবে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী
আজ রাতে ইরানে সবচেয়ে বড় বোমা হামলা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোতে সবচেয়ে বেশি হামলা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করে দিচ্ছি।’
হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণের দিকে ইঙ্গিত করে, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগও তোলেন বেসেন্ট।
এদিকে, ইরানের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ত বিমানবন্দর মেহরাবাদে বড় ধরনের হামলা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে জ্বলন্ত বিমান ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। শুক্রবার তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে বিমানবন্দরে একাধিক বিমান অবস্থান করতে দেখা যায়।
সূত্র: আল জাজিরা




