জাতীয়
৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য কোথা থেকে এলো, পুলিশ-মিডিয়া কেউ জানে না!
গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরে যৌথ অভিযানে তাহরিমা জান্নাত সুরভী নামে এক তরুণীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার পর ৫ জানুয়ারি আদালত তাকে জামিন দিলে তিনি মুক্ত হোন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকায় সুরভীকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে অনেকে চেনেন।
গবেষণামূলক অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সুরভীকে গ্রেফতারের খবরটি দেশের শীর্ষ স্থানীয় মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয় এবং বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম ওইদিন জানায় যে, সুরভীর একটি চাঁদাবাজ চক্র আছে এবং “চক্রটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে”।
পরবর্তী সময়ে যখন সুরভীকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সেটির এজাহার সামনে আসে তখন দেখা যায়, তাতে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ সুরভী বা তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নেই।
এজাহারে কী বলা হয়েছে, তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করা হয় গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় গত ২৬ নভেম্বর দায়ের করা একটি মামলায়। মামলাটি করেছেন সুরভীর পরিচিত সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়, যিনি ঢাকার একটি সংবাদমাধ্যমে মোজো রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
নাইমুর রহমান দুর্জয়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন “সংবাদ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা বলে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাইমুর রহমান দুর্জয়কে গাজীপুরের চান্দরা চৌরাস্তা এলাকায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করে আটকে রাখা হয় এবং তার মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”
এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, মৃত্যুর হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪৪,৭০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া তাকে জোরপূর্বক ইয়াবা ব্যবসার স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নাইমুর রহমান দুর্জয় বলেছেন, তিনি ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ করেননি; সুরভীর বিরুদ্ধে তার সকল অভিযোগ তার মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।
পুলিশও ৫০ কোটির তথ্যের সূত্র জানে না
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, তারা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেননি। নাইমুর রহমান দুর্জয় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ৪৪,৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির কথা বলা আছে। কিন্তু এই টাকা তারা আদায় করতে পারেনি।
“৫০ কোটি টাকার তথ্য মিডিয়া কোথা থেকে পেল তা আমরা জানি না। পুলিশ এ ধরনের কোনো তথ্য দেয়নি। আমরা তাকে শুধু দুর্জয়ের করা মামলায় গ্রেফতার করেছি”, বলেছে ওসি নাসির উদ্দিন।
সুরভীর বিরুদ্ধে অন্য কোন মামলায় ৫০ কোটি টাকা চাাঁবাজির অভিযোগ আছে কিনা– প্রশ্ন করা হলে ওসি জানান, অন্য কোন মামলার তথ্য তার কাছে নেই।
৫০ কোটি টাকার খবরটি যেভাবে এসেছে: একটি টাইমলাইন
দ্য ডিসেন্ট অনুসন্ধান করে দেখার চেষ্টা করেছে কীভাবে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেশের শীর্ষ স্থানীয় বহু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলো। এজন্য প্রথমে অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্য ডিসেন্ট আলোচ্য সংবাদটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার একটি টাইমলাইন তৈরি করেছে। পরবর্তীতে বেশ কিছু সংবাদামাধ্যম তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ঘোষণা ছাড়া সংশোধন এবং সরিয়ে ফেলায় কিছু প্রতিবেদন এই টাইমলাইন থেকে বাদ পড়েও থাকতে পারে।
সুরভীকে গ্রেফতার করা হয় ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে। অনলাইনে খুঁজে গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রথম সংবাদটি পাওয়া গেছে বাংলাদেশ বুলেটিন নামের একটি ওয়েবসাইটে। ওই রাতে ভোর ৩টা ৫৪ মিনিটে (২৫ ডিসেম্বর) “আলোচিত সেই জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা গ্রেফতার” শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বাংলাদেশ বুলেটিন। রিপোর্টার হিসেবে ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’ লেখা রয়েছে।
প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়েছে, “ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে তাহরিমাকে গ্রেফতার করা হয়।”
এরপর আরও লেখা হয়েছে, “সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছে জুলাই আন্দোলনের মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এই চক্রের মূল নেতৃত্বে ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ভাইরাল জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।”
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই প্রতিবেদনে সুরভীকে গ্রেফতারের তথ্য এবং একাধিক ছবি ব্যবহার করা হলেও এসব তথ্যের কোন সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
পুরো প্রতিবেদনে ‘সূত্র’ বলতে তিনবার নামহীন সুত্রের কথা লেখা হয়েছে। সেগুলো হলো: “তদন্তে আরও জানা গেছে”, “অভিযোগ সূত্রে জানা যায়” এবং “অভিযোগ রয়েছে”।
যেসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে থেকে সুরভী এবং তার চক্র ‘টাকা হাতিয়েছেন’ তাদেরও কোন নাম পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়নি।
এরপর এই খবরের দ্বিতীয় প্রকাশকারী হিসেবে পাওয়া গেছে বাংলাদেশ টাইমস নামে একটি অনলাইন পোর্টালকে। তারা ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে ‘মোজো ডেস্ক’ উল্লেখ করে হুবহু শিরোনামসহ বাংলাদেশ বুলেটিন এর রিপোর্টটি প্রকাশ করে।
একই প্রতিবেদনের তৃতীয় প্রকাশকারী হিসেবে পাওয়া গেছে অনলাইন পোর্টাল বার্তা বাজার’কে। এই পোর্টালটি সকাল ৭টায় “৫০ কোটি টাকার মামলাবাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেফতার আলোচিত জুলাইযোদ্ধা সুরভী” শিরোনামে ‘ডেস্ক রিপোর্ট’ উল্লেখ করে হবহু ওই রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে।
এর প্রায় দেড় ঘন্টা পরে, সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘অনলাইন ডেস্ক’ “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামে বাংলাদেশ বুলেটিনের ওই প্রতিবেদনটি প্রায় হুবহু প্রকাশ করা হয়। তবে কয়েক জায়গায় বাক্য কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্য ডিসেন্ট এর সার্চে প্রাপ্ত তথ্য মতে, কালের কণ্ঠ এই প্রতিবেদনের চতুর্থতম প্রকাশকারী।
এই চারটি সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের এই প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট।
প্রথম প্রকাশকারী ৪ সংবাদমাধ্যমের রহস্যজনক সূত্র
বাংলাদেশ বুলেটিন এর ম্যানেজিং এডিটর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বুধবার দুপুর একটায় ফোনে কথা বলেন দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিনিধি। তখন জনাব সাখাওয়াত জানান, এই রিপোর্ট সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
“আমাদের এখানে চারটি মিডিয়া আছে। আমি চারটিরই দায়িত্বে আছি। আমরা রিপোর্টারের ওপর নির্ভর করি। তারা যা পাঠায় সেটাই প্রকাশ করি। আমি রিপোর্টারের সঙ্গে কথা বলব, পরে আপনাকে জানাতে পারব”, বলেন সাখাওয়াত।
কখন জানাবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “রাত আটটার পরে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রিপোর্টারের সঙ্গে ফোনে কথা বলি না। অফিসে আসলে কথা বলব।”
এরপর বুধবার সন্ধ্যায় আবার ফোন করে সাখাওয়াত হোসেনের কাছে তাদের এই প্রতিবেদনের রিপোর্টার ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’র নাম ও যোগাযোগ নম্বর চাওয়া হয়। তখন তিনি জানান, তাদের কোন টঙ্গী প্রতিনিধি নেই।
তাহলে ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’র নামে খবরটি প্রকাশ করা হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, ‘এটা ডেস্ক থেকে কেউ করেছে।’
এরপর তিনি আরও জানান, প্রকৃতপক্ষে খবরটি তারা দৈনিক কালের কণ্ঠ থেকে কপি করেছেন।
যদিও ওয়েবসাইটে প্রদত্ত সময় অনুযায়ী, বাংলাদেশ বুলেটিনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে রাত ৩টা ৫৪ মিনিটে আর কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন তার প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে জনাব সাখাওয়াত কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করা এ সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ডে স্ক্রিনশট এবং সেটি যে মোবাইলে নেয়া হয়েছে সেটির মেটাডাটার স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন।
দ্য ডিসেন্ট কালের কণ্ঠের ওই ফটোকার্ডটি তাদের ফেসবুক পেইজে খুঁজে পেয়েছে যেটি পোস্ট করা হয়েছে ২৫ ডিসেম্বর ভোর রাত ২টা ১০ মিনিটে। তবে ফটোকার্ডে যে শিরোনাম রয়েছে তাতে সুরভীর গ্রেফতারের তথ্য থাকলেও ‘৫০ কোটি টাকার’ কথা নেই। এবং কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডে ‘বিস্তারিত লিংকে’ লেখা থাকলেও কমেন্ট সেকশনে ওয়েবসাইটের কোন লিংক পাওয়া যায়নি। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও ফটোকার্ডে উল্লিখিত শিরোনামের কোন প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি। হতে পারে, এরকম শিরোনামের প্রতিবেদন করে পরে ডিলিট করা হয়েছে। ডিলিট করা হয়ে থাকলে তাতে ‘৫০ কোটি টাকার’ প্রসঙ্গ ছিল কিনা তা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কালের কন্ঠের প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশ বুলেটিন কপি করেছে কিনা তাও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
কালের কণ্ঠের অনলাইনে দায়িত্বরত একাধিকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, ওই রাতের শিফটে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি এখন আর পত্রিকাটিতে চারকিরত নেই। ফলে, তারা এই শিরোনামের কোন প্রতিবেদন কেন এখন নেই তার ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
অনলাইনে থাকা প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বুলেটিন-ই প্রথম ৫০ কোটি প্রসঙ্গ নিয়ে রিপোর্ট করে বলে পাওয়া যাচ্ছে। এবং কালের কণ্ঠ পরবর্তীতে তাদের প্রতিবেদনটিই যে, কপি করে নতুন করে প্রকাশ করেছে সেটিও প্রমাণিত।
৫০ কোটি চাঁদাবাজির খবরটি বাংলাদেশ টাইমস কোথা থেকে পেয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির মোজো এডিটর সাব্বির আহমেদ বলেন “আমার এই নিউজ সম্পর্কে জানা নেই। আপনি যদি আমার কাছে নিউজের লিঙ্ক দিতে পারেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।”
পরবর্তীতে নিউজের লিংক পাঠানোর তিনি জানান, তারা তথ্যটি বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকা থেকে নিয়েছেন। যদিও বাংলাদেশ টাইমস এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বুলেটিন এর ক্রেডিট দেয়া ছিল না।
বার্তা বাজার খবরটি কোথায় পেয়েছে প্রশ্ন করলে পোর্টালটি সম্পাদক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমরা নিউজটি বাংলাদেশ টাইমস থেকে কপি করেছি। এই ধরনের নিউজগুলো যখন আমরা অন্যদের থেকে সংগ্রহ করি, তখন ডেস্ক রিপোর্ট হিসেবে উল্লেখ করি।”
৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য যুক্ত যে প্রতিবেদনটি কালের কণ্ঠ ২৫ তারিখ সকাল ৮টা ২৮মিনিটে প্রকাশ করেছে সেটির সূত্র কী জানতে চাইলে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, “আমি এই রিপোর্ট সম্পর্কে কিছু জানি না। খোঁজ নিতে হবে, তারপর আপনাকে জানাতে পারব।”
এর কিছুক্ষণ পর কালের কণ্ঠের অনলাইনে কর্মরত একজন প্রতিবেদকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তারা প্রতিবেদনটি বার্তা বাজার থেকে সংগ্রহ করেছেন।
তবে অন্য একটি অনলাইন পোর্টাল থেকে খবর নিয়ে কোন প্রকার যাচাই এবং ক্রেডিট উল্লেখ করা ছাড়াই তা প্রকাশের বিষয়ে জানতে হায়দার আলীর সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ করলে তিনি সাড়া দেননি।
অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে প্রকাশ করেছে এই খবর
কালের কণ্ঠের পরে ৯টা ১০ মিনিটে ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ এর বরাতে “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামে খবরটি প্রকাশ করে বাংলা ভিশন। ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ এর বরাত দেয়া হলেও প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ বুলেটিন এর প্রতিবেদনের হুবহু কপি-পেস্ট; শুধু কয়েকটি বাক্য আগ-পিছ করা হয়েছে।
এরপর ৯টা ৩৫ মিনিটে ‘গাজীপুর প্রতিনিধি’ এর বরাতে খবরটি প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন। “জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামের ভেতরে ৫০ কোটি চাঁদাবাজির তথ্য বাংলাদেশ বুলেটিনে যেভাবে ছিল সেভাবেই হাজির করা হয়েছে। বাকি প্যারাগুলোও একই রকম। শুধু এখানে একটি সূত্র যুক্ত করা হয়েছে, “টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান” বলে।
বাংলা ট্রিবিউনের গাজীপুর প্রতিনিধি রায়হানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৫০ কোটির তথ্যটি তাকে জানানি টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান। অন্য কোন সাংবাদিকের কাছ থেকে জেনে তিনি ওসির বরাতে এটি লিখেছিলেন। এখন আর ওই সাংবাদিকের নাম মনে নেই।
২৫ ডিসেম্বর ১০টা ৩ মিনিটে দৈনিক ইত্তেফাক ‘ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট’ এর বরাতে খবরটি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেপ্তার”।
১০টা ৫৩ মিনিটে দৈনিক যুগান্তর ‘যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর’ এর বরাতে শিরোনাম করে “কথিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা গ্রেফতার, ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি”।
১০টা ৫৩ মিনিটে দেশ রূপান্তরও ডেস্ক এর বরাতে শিরোনাম করেছে, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ, আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেপ্তার”।
১০টা ৫৪ মিনিটে আরটিভি অনলাইনে ‘আরটিভি নিউজ’ এর বরাতে “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভীর বিরুদ্ধে, আরও যা জানা গেল” শিরোনামে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিকাল ৩টা ৬ মিনিটে ‘টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি’ উল্লেখ করে দৈনিক সমকাল তাদের ওয়েবসাইটে ও পরে মাল্টিমিডিয়া স্টোরি প্রকাশ করে। শিরোনাম ছিল, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ কথিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা গ্রেপ্তার।”
যেহেতু ‘টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি’ দেয়া আছে, তাই সমকালের টঙ্গী প্রতিনিধি মুসার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, এই তথ্য তাকে কেউ বলেনি। মুসা বলেন, “খালি আমি নই তো। আরও অনেক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।”
এছাড়া চ্যানেল আই অনলাইন, ডিবিসি নিউজ, কালবেলা, জাগো নিউজ সহ আরও বেশ কিছু গণমাধ্যম এই নিউজ প্রকাশ করে। সবার এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্যারাগুলো প্রায় হুবহু মিলে যায়। সূত্রগুলোও সব জায়গায়ই নাম পরিচয়হীন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সমকালের অনলাইন সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।”
এরপর কল করা হলে তিনি জানান, রিপোর্টটি প্রতিনিধির তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই সংশোধন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও বাংলাভিশনের হেড অফ নিউজ আব্দুল হাই সিদ্দিক বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। অনলাইন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।”
দ্য ডিসেন্ট বাংলাভিশনের অনলাইনে দায়িত্বে থাকা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
যুগান্তরের অনলাইন শিফট ইনচার্জ আতাউর রহমান বলেছেন, খবরটি আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর তাতে গরমিল আছে বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সংশোধনী দেব।
ইত্তেফাকের অনলাইন সম্পাদক সহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।
দ্য ডিসেন্ট এই প্রতিবেদক কর্তৃক যোগাযোগের পর বাংলাদেশ বুলেটিন, সমকালসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংশোধনী নোটিশও দিয়েছেন।
জাতীয়
আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান ও আইন অনুযায়ীই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হতে হবে সংবিধান ও আইন—কোনো আবেগ বা খেয়ালি সিদ্ধান্ত নয় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এমনই এক নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র কোনো আবেগীয় তাড়নায় পরিচালিত হয় না; বরং এটি চলে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কিছু দাবি এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতার বিভিন্ন বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে ‘আরোপিত আদেশের’ কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা একটি সাংবিধানিক কাঠামোতে কাজ করছি। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার নেই। যারা একে আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে চাইছেন, তারা কি আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ, নাকি জেনেবুঝেই সংবিধান লঙ্ঘনের উসকানি দিচ্ছেন?’
তিনি আরও যোগ করেন, জনরায়ের প্রতি সরকারের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু সেই রায়কে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অবশ্যই সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। কোনো ‘অবৈধ আদেশের’ মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে আঘাত হানা সম্ভব নয়।
অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের সময় বিরোধী দলের অনুপস্থিতিকে তিনি দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলীয় বন্ধুরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চাননি, তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন।
এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে, কিন্তু সংসদীয় শিষ্টাচারের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা ভাবার বিষয়। মজার ব্যাপার হলো, তারা ভাষণ শুনতে চাননি ঠিকই, কিন্তু আবার সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।’
সরকার পক্ষ এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একে এপ্রিশিয়েট করি। যদি ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়, তবে সংখ্যানুপাতে আমরা পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করব যাতে দেশবাসী সত্য জানতে পারে।’
বর্তমান অধিবেশনের ব্যস্ততা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা টেকনিক্যালি চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান অধিবেশনে আমাদের ওপর ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির একটি বিশাল আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কাজ হাতে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিল উত্থাপন করা এই মুহূর্তে কঠিন। তবে আমরা আলোচনার পথ বন্ধ করছি না।’
তিনি প্রস্তাব করেন যে, আগামী বাজেট অধিবেশনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বিল উত্থাপন করা হবে যা আইনিভাবে হবে ত্রুটিমুক্ত।
জুলাই জাতীয় সনদকে একটি ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি দায়বদ্ধ। তবে এই দায়বদ্ধতা পালন করতে হবে সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রেখে।
তিনি একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন: “কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা কি সংবিধানের ওপরে স্থান পেতে পারে?” তার মতে, যেকোনো বড় পরিবর্তন হতে হবে সংসদের মাধ্যমে এবং আইনি বিধিবিধান মেনে। তিনি বিরোধী দলকে আহ্বান জানান, যেন তারা রাজপথের আবেগ নিয়ে সংসদে এসে সংবিধান বহির্ভূত দাবি না তোলেন। বরং কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দীর্ঘ বক্তব্যে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, সরকার সংস্কারের পক্ষে থাকলেও তা কোনোভাবেই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে করতে রাজি নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘ইমোশন’ বা আবেগ সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদের এই আহ্বান মূলত বিরোধী দলের প্রতি একটি বার্তা যেখানে তিনি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এবং সংসদীয় আইন অনুসরণ করে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এমএন
জাতীয়
সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জামায়াত আমিরের ক্ষোভ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি জানান, ১০ নম্বর অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিবেশন ডাকার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি সংবিধান সংস্কারের আইনি বাধ্যবাধকতা ও বর্তমান স্থবিরতা তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১০ নম্বর অর্ডারে পরিষ্কার বলা হয়েছে- সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করতে হবে। আজ সেই ৩০তম দিন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করেন। আমরা ধরে নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই হয়ত রাষ্ট্রপতি এটি আহ্বান করবেন, কিন্তু সময় পার হয়ে যাচ্ছে।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই। বিধি অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পর আমরা বিরোধীদলীয় ৭৭ জন সদস্য নির্ধারিত তফসিলে স্বাক্ষরও করেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপরই পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে তো শুরু হতে হবে, তারপর সমাপ্তির প্রশ্ন। আমরা পৃথক ব্যালটে সংস্কারের জন্য ভোট নিয়েছি। এখন এই পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান করা আইনি বাধ্যবাধকতা।
এমএন
জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শেষে স্পিকার এ মুলতবি ঘোষণা করেন।
স্পিকার বলেন, সংসদর বৈঠক আগামী ২৯ মার্চ (রোববার) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলো। আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ। সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক জানান স্পিকার।
জানা গেছে, এই প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং তার ওপর প্রায় ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশগুলো নিয়েও আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
এমএন
জাতীয়
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ‘এক ছাতা’ নীতি, বড় সংস্কারের পথে সরকার
দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। এখন থেকে বিভিন্ন খাতের সুবিধাভোগীদের একটি সমন্বিত পদ্ধতির আওতায় বা ‘এক ছাতার নিচে’ নিয়ে আসা হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন অনুপস্থিত থাকায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামক একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ক্রমান্বয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সব সুবিধাভোগীকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিবারের আওতাভুক্ত করা। এতে একজন ব্যক্তি বা পরিবার কয়টি খাত থেকে সুবিধা পাচ্ছে, তা সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং ডুপ্লিকেট সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।’
ভাতা বিতরণে মাঠপর্যায়ের নানা অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফারজানা শারমীন বলেন, “ভাতা সরবরাহের সময় অনেকের কাছে টাকা দাবি করার মতো খবর আমরা পাচ্ছি। এটি স্পষ্টতই একটি দুর্নীতি। বর্তমান সরকার বিতরণ কার্যক্রমকে শতভাগ স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষ যেন তাদের প্রাপ্য অধিকারটুকু কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই পায়, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বিগত শাসন আমলের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সরকারি সুবিধার তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমাদের হাতে থাকা বিদ্যমান তালিকাটি বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। নীতিমালা সংশোধন করে কেবল প্রকৃত যোগ্য ও অভাবী মানুষদেরই এই নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হবে।’
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন স্বীকার করেন যে, অতীতে তালিকা প্রণয়নে চরম স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। অযোগ্যদের বাদ দিয়ে যারা প্রকৃতপক্ষেই ভাতার দাবিদার, তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
সংসদের দ্বিতীয় দিনের এই আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কার যে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে বর্তমান সরকার। ‘এক ছাতা’ নীতি এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমএন
জাতীয়
নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপ নেবে সরকার: জুবাইদা রহমান
দেশের নারীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পত্নী ডাক্তার জুবাইদা রহমান।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “যে জাতির নারীরা এগিয়ে যায়, সেই জাতি এগিয়ে যায়। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর অধিকার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপও নেবে সরকার।”
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে যেখানে নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠবে ভবিষ্যত বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি নারী বিষয়ক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আনসার-ভিডিপিতে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এছাড়া নারীদের প্রথম কোটা দিয়েছিলেন ২০ শতাংশ। এর ফলেই বর্তমানে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ৬২ শতাংশ নারী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অবৈতনিক পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিকার সবার। গণতন্ত্রের লেবাসেও স্বৈরাচার হয়। যা আমরা বিগত সরকারের আমলে দেখেছি। আমরা এতদিন অধিকার হারা হয়েছিলাম। তাই এখনও কথা বলতে হয় নারী অধিকার নিয়ে।’
নরসিংদীর ধর্ষণের মতো ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি অন্যান্য দেশের দিকে তাকাই, সভ্য সমাজের কালো দিকটা আমরা দেখি না। গণমাধ্যমের কারণে সেগুলো আমাদের সামনে আসে। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে নারীর অধিকার নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে হবে না।’
এমএন




