রাজনীতি
১৬ লাখ টাকা আয় কীভাবে হলো, ব্যাখ্যা করলেন নাহিদ
নির্বাচনি হলফনামায় নিজের বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ টাকা দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। হলফনামার এ তথ্য সামনে আসার পর থেকেই তার এই আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে ওই পোস্টে ‘অপপ্রচারের’ জবাবও দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুকের ওই এডমিন পোস্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনি হলফনামায় নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক প্রয়াস।
এতে বলা হয়, প্রথমত, বাৎসরিক আয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হলফনামায় যে ১৬ লক্ষ টাকার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ করে অর্জিত অর্থ নয়; এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থবছরের বড় একটি সময় (সাত মাস) নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই দায়িত্বের বিপরীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন–ভাতা পেয়েছেন।
বাস্তবতা হলো, এই ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ টাকাই উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট (পরামর্শক) হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে।
মোট সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩২ লক্ষ টাকা। মোট সম্পদ কোনো এক বছরের আয় নয়, এটি একজন মানুষের পুরো জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি।
নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে এই সম্পদ তার প্রায় ২৭ বছরের জীবনের জমাকৃত সঞ্চয়। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের বিপরীতে প্রাপ্ত বেতন থেকে সেভিংস, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকারের মূল্য, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যের সমষ্টি। পাশাপাশি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত ইনকামও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট সম্পদ যেটা একেবারেই সত্য ও একুরেট সেই তথ্যই দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘিরে যে অপপ্রচার চলছে, সেটিও তথ্যের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।
উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের ব্যাংক একাউন্টে যে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, সেটি ছিল উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন মোট আয়ের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থ—তার মোট সম্পদের প্রতিফলন নয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মাত্র দুটি—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। এর বাইরে তার আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। একই সঙ্গে এটিও পরিষ্কার যে উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় যেমন তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না, পদত্যাগের পরেও তা হয়নি—এই তথ্য হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
পেশা সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা হিসেবে কনসালট্যান্সি উল্লেখ আছে, যা একটি স্বীকৃত ও বৈধ পেশা। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেন—যে প্রতিষ্ঠানের নাম ইলেকশন কমিশনে দাখিল করা নথিতেই উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং নাহিদ ইসলামের যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন—এতে অস্বাভাবিক বা গোপন কিছু নেই।
নাহিসের ওই ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনি হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন আয়, পদত্যাগের পর পেশাগত আয় এবং জীবনের সামগ্রিক সম্পদ—সবকিছু আলাদা করে, স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করেছেন। অথচ এই স্পষ্ট ও পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বাস্তবে, সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা এই কথাই প্রমাণ করে যে নাহিদ ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন—আর সেটিই এই অপপ্রচারের মূল অস্বস্তির জায়গা। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। অথচ যেসব রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর দেশে-বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন, যাদের হলফনামার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না—তাদের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা থাকলে প্রশ্ন ওঠে না।
এমকে
রাজনীতি
সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে নতুন দল
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভস ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, সাবেক এনসিপি নেত্রী তাজনুভা জাবীনসহ ১৭ জন রয়েছেন। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) আংশিক এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে আরও রয়েছেন, আহমদ ইবনে আরিফ (অনি), ইমন সৈয়দ, ইমরান আহমেদ, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর চৌধুরী, ডা. তাজনুভা জাবীন, দুর্জয় দাশ গুপ্ত, ফরহাদুল আলম সবুজ, মাহফুজ আলম, মায়িদা তানহা বিদুষী, মুতাসিম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান, মো. রায়হানুর রহমান (রাবি), মোহাম্মাদ এরফানুল হক, সাজ্জাদ হোসেন শহীদুল্লাহ, শেখ ফরিদ, হাসান আলী।
এরআগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে অলটারনেটিভস।অলটারনেটিভস’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কমিটির সদস্যরা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সংলাপের মাধ্যমে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতাকে এক করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেবেন।
রাজনীতি
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী রিজওয়ানা হাসান: গোলাম পরওয়ার
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে জামায়াতকে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা (মেজরিটি) পেতে দেওয়া হয়নি। এটাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াত ইসলাম। মেইনস্ট্রিম বলতে পার্লামেন্টে মেজরিটি পেতে দেন নাই। এটাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। আপনার কথাই তো প্রমাণ করে আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেননি। আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃশ্যত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। দুঃখ ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে তখন- যখন ভোটগণনা, ফলাফলের প্রক্রিয়া পুরোটাই ছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভরা। দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। ১১টা পর্যন্ত জামায়াতের বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেখানে রাত দশটার দিকে নির্বাচন সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরই অল্প অল্প ভোটে জামাতের পরাজয়ের খবর আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে আমির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্নে বলেছেন, অতীতে দেখা যায় যারা কারচুপি করে, তারা বলে আমি কলা খাইনি, ঠিক তেমনি তাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে যাবে। রাজসাক্ষী পেয়ে গেছি আমরা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসনকে বলছি, আপনি ব্যাখা দেয়ার চেষ্টা করেছেন মিডিয়ায়। বলেছেন- উগ্রবাদী এবং তাদের মেইনস্ট্রিমে আসতে দেই নাই। বিরোধী দলে কোনো উগ্রবাদী নেই। সংসদে কোনো উগ্রবাদী নেই। ইসলাম কোনো চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয় না। আপনারা নারীবাদী হয়ে যা বলেন তার চেয়ে হাজারগুণ মর্যাদা নারীকে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আনন্দবাজারের সঙ্গে আবার বললেন- মবের স্বীকার হলে জামায়াত-শিবিরকেই দায়ী থাকতে হবে, এগুলো উসকানি। জামায়াত ইসলামী মবের রাজনীতি করে না। আপনার কথাই তো প্রমাণ আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেননি। আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘লন্ডন কন্সপেরেসির হোতা ড. খলিলুর রহমান। নির্দলীয় সরকারের প্রথা থাকে যে ইমিডিয়েট সরকারে তারা যোগদান করে না, কেউ করেনি। বিএনপিই আপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছে। শুধু ইচ্ছা করেই এই সরকারে যোগ দেন নাই। ডিপ স্টেটে যারা রয়েছেন তারাই আপনাকে পিক করেছে। আপনার সার্ভিসে তারা এত খুশি যে আগের সব দোষ ভুলে গেছে। আপনাদের সহযোগীদের নাম প্রকাশ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই সময় আপনি এমন কিছু করেছেন যার জন্য মন্ত্রিত্বের পুরস্কার পেয়েছেন। উভয় পক্ষের প্রেম এমনি এমনি হয়নাই। গুড় খাইলে গুণ গাইতে হয়।’
বাম সেজে দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যারা চক্রান্ত করেন তারাই মেইনস্ট্রিম কী জবাব দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ১৭০টিরও বেশি আসন আমরা পাব। কিন্তু পরিকল্পনা করে ১০০ এর নিচে নামানো হলো। ফলাফলপত্রে টেম্পারিং করা হয়েছে, কাটাছেড়া করা হয়েছে। অনেক এজেন্টের কাছ থেকে ফল গণনার আগেই ফলাফলপত্রে সই নেয়া হয়েছে।’
সংঘাত সহিংসতা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চান না জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সাবেক উপদেষ্টার কথা প্রমাণ করে তিনি একটা মন্দ কাজে জড়িত ছিলেন। আমাদের সব কর্মসূচি প্রকাশ্যে হয়, সমাজের অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনেক অপকর্ম করে তা ইসলামপন্থিদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। আমরা তার প্রতিবাদ জানাই।’
রিজওয়ানার উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘আমরা আপনার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে জুডিসিয়াল তদন্ত চেয়েছি। আপনি বলে ফেললেল মবের স্বীকার হলে জামায়াত- শিবিরকে দায়ী হতে হবে। এত উত্তেজিত হলে চলবে কীভাবে?
দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রগকাটার গুজব উড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার শুরু থেকেই গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে পারতো। সিটি করপোরেশনে দলীয় লোক বসানো, সংসদ অধিবেশনের আগের রদবদল কর্তৃত্ববাদী মনোভাবেরই প্রকাশ হয়।’
জুলাই সনদকে বিএনপি এড়িয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জনগণের ওপর জুলাই সনদকে ফায়ারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এমএন
রাজনীতি
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে কোনো ছিন্নমূল নাগরিক থাকবে না: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে হলে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। একটি প্রকৃত ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের কোনো নাগরিককে আর ছিন্নমূল বা সুবিধাবঞ্চিত অবস্থায় থাকতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর রমনা পার্কে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত অসহায়-সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, মানুষের তৈরি মতবাদে সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় না। যার কারণে স্বাধীনতা পরবর্তী বিগত ৫৫ বছরেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় হয়নি। বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জনগণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা ইতোমধ্যে মিডিয়ার সামনে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তারা জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি। কারণ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী চলবে না। আর দুর্নীতি-চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে গেলে কথিত সুশীলরা ভাগ-বাটোয়ারা পাবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল এবং বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের দুর্নীতি-চাঁদাবাজি আর লুটপাটের কারণে সমাজের রন্ধে রন্ধে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে হলে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের মানুষকে অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে চূড়ান্ত সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বর্তমান বাংলাদেশে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে চলতে পারে না। বাংলাদেশকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খান, মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও শাহবাগ পশ্চিম থানা আমীর এডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
রাজনীতি
মার্কিন সহকারী মন্ত্রী সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি
ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি প্রায় ৫০ মিনিট স্থায়ী হয় এবং বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শেষ হয়।
বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে অংশ নেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, সংসদ সদস্য ডা: মাহবুবুর রহমান, সংসদ সদস্য নায়েবা ইউসুফ, ঢাকা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।
এদিকে আজ সকাল ৯টায় রাজধানীর গুলশানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতের ৫ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ও সমসাময়িক রাজনৈতিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এমএন
রাজনীতি
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের বৈঠক
সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯টায় ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতে ইসলামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম।
এর আগে দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা পল কাপুর দিনভর কয়েক দফা বৈঠক করেন। শুরুতেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং দুপুরে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। বিকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার মাহফিলেও যোগ দেওয়ার কথা আছে তার।
এমএন




