ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জকসুর ভোট গণনা স্থগিত
কারিগরি ত্রুটির কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ভোট গণনার স্থান কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জকসুর নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান এ তথ্য জানান।
আনিসুর রহমান বলেন, আমরা টেকনিক্যাল কারণে ভোট গণনা বন্ধ রেখেছি। আপনারা জানেন, প্রথম থেকেই আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি। ভোটের গণনায় হান্ড্রেড পার্সেন্ট স্বচ্ছতা এবং এটা নিশ্চিত করার জন্য আমরা দুটি মেশিন এখানে নিয়ে এসেছি। দুটি কোম্পানির।
তিনি বলেন, টেকনিক্যাল কারণে আমাদের এ ভোট গণনা আমরা এখন বন্ধ করেছি। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের যারা ভিপি ক্যান্ডিডেট আছেন এবং জিএস ক্যান্ডিডেট আছেন, উভয় প্যানেল এবং স্বতন্ত্র ভিপি ও জিএস ক্যান্ডিডেট, আপনাদের সঙ্গে আমরা বসব। আপনারা দয়া করে আমাদের সঙ্গে একটু শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে বসবেন। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।
পরে তিনি প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জায়গাটিকে সংশোধন করে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমের কথা বলেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার শহীদুল ইসলাম রাত নয়টার দিকে জানান, দুটি মেশিনে দুই রকম ফলাফল দিচ্ছে। দুটি মেশিনে যেন অভিন্ন রেজাল্ট আসে, সে চেষ্টা করা হচ্ছে।
আজ সকাল নয়টায় শুরু হয়ে বেলা তিনটা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এসব ভোটারও ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
সব কেন্দ্রের ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স আনা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে লড়ছেন ৮ জন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত : ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে এবং পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে সরকার এই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে চায়।
তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে, যার মধ্যে বৃত্তির অর্থের পরিমাণ এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীরা যাতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে তা নিশ্চিত করা। আমরা দেখেছি স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আমি নিজে আজকে দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশের খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া সব রিপোর্টই ইতিবাচক বলে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, যদিও কিছু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভবিষ্যতে উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে যেগুলো রয়েছে সেগুলোও চালু থাকবে। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদেরও কিছু চাহিদা রয়েছে যা সরকার আগামীতে আলোচনার মাধ্যমে পূরণের চেষ্টা করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে, যার মধ্যে বৃত্তির অর্থের পরিমাণ এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হতে পারে যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আরও বেশি উৎসাহিত হন।
শিক্ষার হার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষার হারকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯৬ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৩ দিনের ছুটি
টানা ৩ দিনের ছুটিতে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামীকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে যা চলবে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পর্যন্ত। বাৎসরিক ছুটির তালিকা পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।
ছুটির তালিকা অনুযায়ী, রবিবার (১২ এপ্রিল) বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদিনের ছুটি রয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে একদিনের ছুটি থাকছে।
এ ছাড়া মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে একদিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এতে টানা ৩ দিন বন্ধ থাকছে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এর আগে শুক্র ও শনিবার (১০-১১ এপ্রিল) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি থাকছে।
সবমিলিয়ে সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৫ দিনের ছুটিতে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
এইচএসসির শিক্ষার্থীরা পাবেন প্রধানমন্ত্রী ট্রাস্টের বৃত্তি, আবেদন যেভাবে
এইচএসসি-কারিগরি ও আলিমের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ আর্থিক সহায়তা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) স্মৃতি কর্মকার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এসব তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ৩০ এপ্রিল রাত ১১.৫৯ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
এতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট কর্তৃক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অধীন দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ-মাধ্যমিক ও সমমান শ্রেণিতে (একাদশ ও আলিম ১ম বর্ষে) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা সহায়তা পাবেন।
আবেদনের লিংক -এ গিয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে (একাদশ ও আলিম ১ম বর্ষে) ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে। ১২ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে ৩০ এপ্রিল রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত অনলাইনে এ আবেদন করা যাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা প্রদান নির্দেশিকা-২০২৬ অনুযায়ী শর্ত পালন করতে হবে।
যেসব শর্তে দেয়া হবে শিক্ষা সহায়তা
মেধাবী হিসেবে শিক্ষার্থীর পূর্বের শ্রেণিতে শতকরা ন্যূনতম ৬০ নম্বরপ্রাপ্ত অথবা জিপিএ ৫.০০-এর ক্ষেত্রে ৩.৫০ প্রাপ্তির কপি আপলোড করতে হবে; এতিম শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী/অভিভাবক, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থী/অভিভাবক, অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, হতদরিদ্র শিক্ষার্থী (অভিভাবক নিম্ন আয়ের শ্রমিক) এবং ‘জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫’ অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর সন্তান ভর্তি সহায়তার আবেদনের ক্ষেত্রে এর সমর্থনে প্রমাণকের কপি আবশ্যিকভাবে আপলোড করতে হবে।
পিতা/মাতা/অভিভাবকের বাৎসরিক আয় তিনলাখ টাকা বা তার কম হতে হবে; শিক্ষার্থী হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মর্মে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান/পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত সনদের কপি আপলোড করতে হবে।
ট্রাস্ট কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়ন, শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন কপি, পিতা ও মাতার এনআইডি কপি, শিক্ষার্থীর ১ কপি ছবি এবং শিক্ষার্থী অথবা পিতা বা মাতার অনলাইন ব্যাংক একাউন্টের তথ্যের স্পষ্ট কপি আবশ্যিকভাবে আপলোড করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় আবেদনের হার্ড কপি ট্রাস্টে প্রেরণের প্রয়োজন নেই। ভর্তি সহায়তা সংক্রান্ত হেল্পলাইন: ০২-৫৫০০০৪২৮, ০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬ ও ০১৭৭৮৯৬৪১৫৬ (অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো)।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ বিল পাস
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৬’ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। সংসদে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা বিল পাসে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে বিল পাস সংক্রান্ত প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এরপর জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি সংসদ সদস্যদের ভোটের জন্য দেন। এসময় সংসদ সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ বলে বিলের পক্ষে সম্মতি দেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। পরে সরকার এই সাত কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের ঘোষণা দেয় এবং অধ্যাদেশ জারি করে। আজ সেই অধ্যাদেশ সংসদে পাস হলো।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া
উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালয়েশিয়ান সমাজে তাদের একীভূতকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশ দুটি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশটির উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মশক্তির গতিশীলতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এর আগে বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং হাই কমিশনার। একইদিন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা।
শুক্রবার মালয়শিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই উভয়পক্ষ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং নতুন নীতিমালার অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততাকে আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানব সম্পদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির অগ্রাধিকারের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বহুমুখী ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়া থেকে বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।
মাহদী আমিন এমন সুসংগঠিত বৃত্তি ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষকেই সমর্থন করে না, বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক একীকরণও নিশ্চিত করে। তিনি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং সহায়তা পরিষেবা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয় সমাজে উন্নতি লাভ করতে পারে।
উপদেষ্টা মাহদি আমিন পুনরায় নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের উপর গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব জোরদার করা, একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা এবং মালয়েশিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় যৌথ শিক্ষা প্রকল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
মালয়েশিয়ার মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদির এই প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বরাদ্দ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করার বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ার পক্ষ তাদের বৈচিত্র্যময় উচ্চশিক্ষা পরিমণ্ডল সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন শাখায় বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেটওয়ার্কও অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ করা হয় যে, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক—১১,০০০-এরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের অনেকেই বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। উভয়পক্ষই একাডেমিক বিনিময় ও আর্থ-সামাজিক সংযোগে এই শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক অবদান এবং বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে তারা যে ভূমিকা রাখে করে, তা স্বীকার করেছে।
উভয়পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম, দূরশিক্ষণ এবং সহজ শিক্ষা পদ্ধতির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা উভয় দেশের শ্রম বাজারের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের সঙ্গে একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হন।
আলোচনায় স্নাতকদের গতিশীলতা এবং দক্ষতা উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের জন্য পেশাগত অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। মন্ত্রী জাম্ব্রি প্রস্তাবটি স্বীকার করেন এবং মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সহায়ক কাঠামো খুঁজে বের করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
কাঠামোগত বৃত্তি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষার্থী সহায়তা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাগত, সামাজিক ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বৈঠক শেষ হয়। যা একটি টেকসই অর্থনৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্বে অবদান রাখবে।
গত বুধবার মালয়েশিয়ায় সফরে যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখপাত্র তিনি।



