রাজনীতি
নির্বাচনের পরিবেশ আশাব্যঞ্জক: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ বেশ আশাব্যাঞ্জক মনে হচ্ছে। কারণ যারা কিছুদিন আগেও বলতেন এটা না হলে নির্বাচন হতে দেব না, সে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা ইতোমধ্যেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে ও নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। সেই দলগুলো এখন নির্বাচন প্রক্রিয়াতে নেমে পড়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গুটিকয়েক মহল এখনো এর বিরুদ্ধে কাজ করার চেষ্টা করছে ও তারা কিছু আন্দোলন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমি মনে করি না যে, তারা তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সবাই নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু মহল এখনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও সেটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকে গত এক বছরে দেশে ভয়ঙ্কর একটা কালচারের শুরু হয়েছে। যেটা হচ্ছে মব ভায়োলেন্স। মবোক্রেসি যেটা গণতন্ত্রকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখান থেকে সচেতনভাবে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে ও এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেটা সম্ভব একমাত্র একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি আমরা চালু করতে পারি ও সুষ্ঠ নির্বাচন করতে পারি তাহলে।
পরে আবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হলেও এটি এখন কার্যত একটি কেয়ারটেকার সরকার থেকে পূর্ণাঙ্গ সরকারের রূপ নিয়েছে। এ সরকারের পেছনে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নেই, এমন কথা কেউ কেউ বললেও, তাদের যে সংস্কারমূলক উদ্যোগ ও সনদ বাস্তবায়নের কাজ তারা করেছে, সেজন্য অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।
দুয়েক দিনের মধ্যে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই পদটি শূন্য রয়েছে। তার শুন্যতা পূরণে তারেক রহমানকেই এই পদে বসানো হবে।
নির্বাচনের প্রচারণা শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো সিলেট থেকেই এবারও নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবে বিএনপি।
তিনি বলেন, এ নির্বাচন শুধু আমাদের কাছে নয় জাতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এই জাতি তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত হচ্ছে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নির্বাচিত পার্লামেন্ট গঠন করা ও সেই পার্লামেন্টের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন করা, যারা দেশের সত্যিকারার্থেই একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন তার পথে এগিয়ে চলছে। সবার সহযোগিতায় কমিশন নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। আগামীতে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ছিল খালেদা জিয়ার স্বপ্ন, সেটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও আমাদের নেতা তারেক রহমানের লন্ডনে বৈঠকের পর থেকেই বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার এখনও সেই পথেই হাঁটছে।
কিছু কিছু আসনে দুজন করে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মূলত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয়েছে। আমরা প্রায় ১০–১২টি আসনে এই ব্যবস্থা করেছি। কারণ কয়েকটি আসনে ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স বা মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে শঙ্কা ছিল। সেই কারণে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে।
তারেক রহমানের সিলেট সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণত বড় রাজনৈতিক দলগুলো সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে থাকে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানও সিলেট থেকেই প্রচারণা শুরু করবেন বলে আমরা আশা করছি।
চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীরা নিজেরা অত্যন্ত সচেতন ও সজাগ। তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই যতটা সম্ভব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার। আমরা নির্বাচনের দিনেই গণভোট চেয়েছি ও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর ওপরই গণভোট হবে। জনগণ সেখানে তাদের মতামত প্রকাশ করবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল ও খুলনা অঞ্চলে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এসব বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি এইটুকুই বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপির নেত্রী নয়, তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের নেত্রী। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি তার সমস্ত জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য যেন সংগ্রাম করা। সে সংগ্রাম তিনি করেছেন এবং সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। বেগম জিয়ার চলে যাওয়াটা হয়েছে একটা রাজকীয় চলে যাওয়া। এদেশের মানুষ যে তাকে কত ভালোবাসতো তার প্রমাণ আমরা দেখেছি। ৩০ তারিখে তার জানাজার মধ্য দিয়ে আমরা সেটা লক্ষ্য করেছি।
তিনি বলেন, আজকের এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। এই সময়টা আমাদের জাতির জীবনে একটা কান্তিকালের মত। আমরা যদি নির্বাচন করতে গণতন্ত্রে ফিরে যেতে না পারি জাতিগতভাবে আমরা ফেল করব। সুতরাং আমাদেরকে অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলতে হবে। আমাদের কোন প্রভোকেশনে পা দেওয়া উচিত হবে না। আমাদের এমন কোন কাজ এমন কোন রাজনৈতিক কাজ করা ঠিক হবে না যে সমস্ত কাজগুলো আমাদের এই উদ্দেশ্যকে ব্যহত করতে পারে।
এমকে
রাজনীতি
গণমাধ্যমের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে : বিরোধীদলীয় নেতা
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছে, গণমাধ্যমের ওপর ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
দলীয় কারণে কারো ওপর যেন জুলুম না হয় সেদিকে সরকারকে নজর রাখার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেমিশে দেশ চালাবে। সরকার বিরোধী দলের পরামর্শ না মানলে সংসদে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াত কোনোভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি মেনে নেবে না।
এমএন
রাজনীতি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে চৌগাছার বিভিন্ন সংগঠনের অভিনন্দন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় যশোর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে অভিনন্দন জানিয়েছে যশোরের পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠন।
এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পিতা মরহুম তরিকুল ইসলাম ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সফল মন্ত্রী। তার হাত ধরে গোটা যশোর জেলাতে বয়ে গেছে উন্নয়নের জোয়ার। তারই যোগ্য উত্তরসূরী আমাদের প্রিয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পিতার পথকে অনুসরণ করে যশোরকে সব দিক দিয়ে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলবেন এটিই হলো আজকে আমাদের প্রত্যাশা।
বিবৃতিদাতারা হলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য জনাব জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সহ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও এ্যাড. আলীবুদ্দিন খান, পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, সহ সভাপতি মোবারক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম ও প্রভাষক বিএম হাফিজুর রহমান, যুবদলের আহবায়ক এম এ মান্নান ধনী প্রমুখ।
অনুরুপ বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসক্লাব চৌগাছার আহবায়ক অধ্যক্ষ সিহাব উদ্দিন ও সদস্য সচিব মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জি. রাজু আহাম্মেদ, ইমাম হোসেন সাগর।
রিপোর্টার্স ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদ এম হাসান মাহমুদসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, চৌগাছা পুজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক বিএনপি নেতা গোবিন্দ কুমার রাহা ও সদস্য সচিব রনজিত কুমার।
এমএন
রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, মিলবে যেসব তথ্য
বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সরকারের সব ধরনের দাপ্তরিক আপডেট ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করা হয়। পেজটির নাম রাখা হয়েছে ‘PMO Bangladesh- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’।
এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য সরাসরি জানা যাবে। উদ্বোধনের দিনেই প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার অনুসারী যুক্ত হন, যা নাগরিকদের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এ পেজের অনুসারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮১ হাজারের বেশি।
পেজটির ভিজ্যুয়াল ডিজাইনেও রাখা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রোফাইল ফটোতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি। কভার ফটোতে জাতীয় পতাকা, সরকারি লোগো ও জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির দৃশ্য স্থান পেয়েছে। এটি সরকারের জনসম্পৃক্ততা ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার তথ্যও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশিত হতো। তবে এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরাসরি সরকারি সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়মিতভাবে শেয়ার করবে।
পেজ চালুর পর থেকেই বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির আপডেট প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পেজটিতে মন্তব্য, প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে মতামত জানাতে পারবেন নাগরিকরা।
এমএন
রাজনীতি
জামায়াত ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে: ড.হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পর ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে যারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহন করেনি তারা জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করছে। শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পল্টন থানা জামায়াতের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, রমজান হচ্ছে আত্মশুদ্ধির মাস। রমজানের শিক্ষা হচ্ছে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে যেই ভোট দিয়েছে গণনার সময় সেই ভোট কারচুপি করা হয়েছে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, যেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনা এদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে; সেই সংবিধানে দোহাই দিয়ে নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করলে পরিণতি হাসিনার মতোই হবে। এদেশের ছাত্র-জনতা জান দেবে তবুও জুলাই দেবে না। তরুণ প্রজন্ম তাদের সহযোদ্ধা ভাই-বোনের রক্তের সঙ্গে কাউকে বেঈমানী করতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের কারণে আজকের প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেয়েছেন, নিজের মাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হাসিনার সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। তিনি সংবিধানে দোহাই দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অথচ সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছেন। যেই সংবিধানের দোহাই তিনি দিচ্ছেন সেই সংবিধান মানলে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচনের সুযোগ নাই। ঐ সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হতো। তিনিও লন্ডনেই থাকতেন, দেশে আসার সুযোগ পেতেন না।
ড. হেলাল উদ্দিন বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজেদের ওয়াদা রক্ষা করতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। চুরি-ডাকাতি-ইঞ্জিনিয়ারিং যেভাবেই ক্ষমতা দখল করেছেন আমরা চাই ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে জনগণের জন্য কাজ করেন। কিন্তু দেশ ও জাতির জন্য কাজ না করলে জনগণ ৫ বছর সময় দেবে না।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় জন্য রাজনীতি করে না, গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রাম চলবেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক ও মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন সহ পল্টন থানার শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে, প্রধান অতিথি ড. হেলাল উদ্দিন সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন।
এমএন
রাজনীতি
মাহে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখতে জামায়াত আমিরের আহ্বান
দেশবাসীর প্রতি মাহে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মাহে রমজান রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত। এ মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে রয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর নামে একটি বরকতময় মহিমান্বিত রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। রমজান মাস তাকওয়া, সহনশীলতা চর্চা ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস।
জামায়াত আমির বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের জগদ্দল পাথরের ন্যায় চেপে বসা জুলুম-নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে জাতি গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
এ অবস্থায় দেশের নাগরিকরা মৌলিক মানবাধিকারসহ সব ন্যায়সংগত অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছেন। অপরদিকে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। শান্তি, স্বস্তি ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ন্যায়সংগত আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে নতুন সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসর অসাধু ব্যবসায়ীরা এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে। তারা যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ইফতার সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকারকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ যেন স্বস্তির সঙ্গে মাহে রমজানের সিয়াম পালন করতে পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকির মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, মাছ, গোশত, শাকসবজি, চিনি, খেজুর, ছোলা, মুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, দিনের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে দেশবাসীর প্রতি পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআনের শিক্ষার আলোকে সমাজ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মাহে রমজানকে আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে গ্রহণ করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।



