রাজনীতি
পদত্যাগ করলেন এনসিপির আরেক নেত্রী, জানালেন কারণ
এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সৈয়দা নীলিমা দোলা নামে এক নেত্রী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগপত্রও সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি। ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দলটিতে ছিলেন সৈয়দা নীলিমা দোলা।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য গঠনের মধ্য দিয়ে দলটির একাধিক নেত্রী পতত্যাগ করেন। এবার সেই মিছিলে যুক্ত হলেন ফরিদপুর জেলার মহিলা লীগের সভাপতির মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা।
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা লিখেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমি মনে করি, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। এতদিন আমি এনসিপির সঙ্গে ছিলাম কারণ আমি মনে করেছিলাম, দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। তবে সম্প্রতি দলটির নানা সিদ্ধান্তের পর আমার কাছে এটুকু স্পষ্ট, এই দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়ছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। জামায়াতের সাথে এনসিপির যে নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট তা কোনো কৌশলগত জোট নয়, যদি হতো তাহলে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ করতো না। দলের নেতাকর্মীদের চোখে ধূলো দিয়ে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেবার নাম করে তীব্র প্রতারণা করা হয়েছে।
‘‘পদত্যাগ করার পর সাধারণত দলে থেকে যাওয়াদের অনেকে এমনটা বলেন যে, ক্ষমতা ও গুরুত্ব দেওয়ার পরেও আমরা চলে গেলাম কেন? তাই দলের সকলের স্বার্থে জানিয়ে রাখি, আমাকে কেউ কোনো ক্ষমতা দেয়নি বরং আমার প্রগতিশীল মানসিকতা এবং নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পরিচয় এনসিপিকে শক্তি যুগিয়েছে এতোদিন। যারা পদত্যাগ করছেন তাদের বামপন্থী বলে ফ্রেমিং করাটাও একটা গেইম প্ল্যানেরই অংশ বলে আমি মনে করি। কেননা, এতে করে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি করা সহজ। বামপন্থীরা বেরিয়ে যাচ্ছে কেন এই পাল্টা প্রশ্ন আমি করতে চাই। তাহলে কী যারা রয়ে গেলো সকলেই ডানপন্থী? আপনারা না একটা সেন্ট্রিস্ট দল?’’
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা আরো লিখেছেন, ‘‘একটি বিষয় বলা দরকার, আমি এনসিপিতে আসার আগেও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্পেসে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ করেছি। এনসিপিতে আসার পরেও করেছি।
সুতরাং দলের সাথে আদর্শিক জায়গা ছাড়া আমার আদান-প্রদান খুবই সীমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, আমার মতো কর্মীকে ধরে রাখার সামর্থ্য এনসিপির এখন আর নেই। আমি এও মনে করি যে, জুলাইয়ের জনতার কাছে এনসিপির অনেক দায় রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর এনসিপির ওপর বাংলাদেশের মানুষ যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিল তা বিগত কয়েক মাসে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। আমি মনে করি আসন্ন কঠিন সময়ে জনতা এনসিপিকে এর সমুচিত জবাব দেবে। তবে একথাও সত্য, ইতিমধ্যে দল হিসেবে এনসিপি সেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া শুরু করেছে।’’
‘‘এনসিপির ভেতরে থেকেই আমি তীব্র লড়াই চালিয়ে গেছি। দলটা যেন সেন্ট্রিস্ট অবস্থানে থাকে সে জন্য নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া, হিন্দু, মাজারকেন্দ্রিক জনগণকে এক করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গত দেড় বছরজুড়ে অন্তবর্তী সরকারের আমলে প্রায় সব ঘরানার প্রান্তিক মানুষের ওপর চলা অনিয়ন্ত্রিত অনাচার ও নির্যাতন নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ব্যাপারে গণ অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলকে অন্তত পাঁচ দিন করে ভাবতে হয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মনমরা ও দায়সারা প্রতিবাদ আমার রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দেশের আপামর মানুষের জন্যেও তা হতাশার।’’
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা লিখেছেন, সবশেষে এই বলব যে, আমার বা আমার মত মানুষদের এনসিপি থেকে বিদায় এটাই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে এনসিপি ছাড়াও জুলাইয়ের আরও একটি পক্ষশক্তি আছে। এ মানুষেরা বাংলার জনতা ও জমিনকে চেনে বলেই আমি ধারণা পোষণ করি। এনসিপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলতে চাই, রাজনৈতিক প্রয়োজনে নেগোসিয়েশন বা দফারফা সবাই বা বেশিভাগ দল করলে করুক, এনসিপির জন্য তা নিতান্ত বেমানান। কারণ, এনসিপি হাজারো জুলাই শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে এসেছিল। আমি দলটির নেতাদের বলতে চাই, ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে পলিটিক্স খেলার জন্য শহীদেরা জান দেননি। আপনাদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি। তবে আপনারা এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে আওয়ামী বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে রয়েছেন। এজন্য আপনাদের লাল সালাম। পৃথিবীর যাবতীয় সমৃদ্ধি আপনাদের ঘিরে রাখুক।
এমকে
রাজনীতি
১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক মঙ্গলবার
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে আন্দোলন কর্মসূচি বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠক শেষে দুপুর ১২টায় একইস্থানে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২ এপ্রিল বৈঠক করেছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ওই বৈঠকের পর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল-
বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং অবিলন্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, দাবি আদায় না হলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযাযী গত শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা ও তা পালন করা হয়। পাশাপাশি গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং জনমত গঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এছাড়া আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সেদিন জানানো হয়। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনীতি
যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় আদায় করা হবে: শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করা হলেও যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন. সংসদে জনগণের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য আমরা লড়াই করে যাবো।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাগপার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের অহমিকায় বিএনপি ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে মন্তব্য করে আমির অভিযোগ করেন, শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়নি। অভ্যুত্থান পুরো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করেছে একটি পক্ষ।
হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। এই প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো।’
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট ও হাম সংক্রমণ ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলেই আমাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের নোটিশ আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হয় না। সরকার বলছে, জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু আমি নিজের গাড়ির জন্যই প্রয়োজন মাফিক তেল পাই না।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি যোগ দেন কবি, সাহিত্যিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
চলমান নানা সংকট ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করেন অনুষ্ঠানে আসা বক্তারা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন তারা। সংসদে অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
রাজনীতি
রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে যা বললেন সাকিব আল হাসান
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও রাজনীতি থেকে বর্তমানে অনেকটাই দূরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। জীবনের এক ভিন্নধর্মী সময় পার করছেন তিনি। রাজনীতি বা খেলার মাঠ; কোথাও চিরচেনা ব্যস্ত সূচি না থাকলেও, এই বিরতিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি।
দেশের একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার বর্তমান জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সাকিব আল হাসান বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে যেকোনো মানুষই যখন তার দেশে যেতে পারে না, তখন সে অবশ্যই দেশকে মিস করবে। আমার ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম নেই; আমিও দেশটাকে ভীষণভাবে মিস করছি,। আশা করছি দ্রুতই দেশে ফিরতে পারব, সেটা হলে অবশ্যই ভালো লাগবে।
দেশে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু– এমন প্রশ্নের আশার বাণী শোনালেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী। আমি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদি দ্রুত সবকিছু সমাধান করতে পারি… নাহলে সময় লাগতে পারে। তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলতে। যত দ্রুত এগুলো সমাধান হবে, তত দ্রুত আমি ফিরতে পারব।’
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, ‘বর্তমানে আমি মূলত পরিবারকেই সময় দিচ্ছি। তাদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার একটা সুযোগ পাচ্ছি। সব মিলিয়ে বিষয়টিকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’
ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিদায় নেননি উল্লেখ করে সাকিব জানান, সুযোগ পেলে তিনি খেলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। একইসঙ্গে সাবেক এই সংসদ সদস্য তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘(এখন) যেহেতু দলের কার্যক্রম নেই, তাই ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। দলীয় কার্যক্রম শুরু হলে আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারি।’
রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
‘যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।
সাকিব আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না, পরিবর্তন হয়। আমি আশা করছি ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে চায়। আমি আশা করছি ভবিষতে ভালো কিছুই হবে।’
জুলাই আন্দোলনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়, প্রতিটা মৃত্যুই বেদনাদায়ক। প্রতিটি জীবনই অমূল্য। আমি আগেও এটা বহুবার বলেছি। আমি চাই প্রতিটা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়ে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু কাউকে যেন অন্যায়ভাবে ফাঁসানো না হয়।’
আশা প্রকাশ করে সাকিব বলেন, ‘যারা রাজনীতিবিদ আছে তাদের দায়িত্ব বাংলাদেশের মানুষকে একটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। কাউকে দূরে সরিয়ে রেখে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি না। আর গণতান্ত্রিক ধারাতেও এটা হয় না। আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে সব।’
এখন পরিবারকে সময় দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পাচ্ছি, বলতে পারেন সেটা ইতিবাচক এক দিক থেকে। যেহেতু আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নাই সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার। দলের যখন কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারব তখন হয়ত আবার চেষ্টা করব রাজনীতিটা করার।’
রাজনীতি
সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি বরং সংবিধানের পরিবর্তন চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, জামায়াত সংবিধানবিরোধী নয়। তবে যে বিষয়গুলো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেসব বিষয়ের পরিবর্তন চাই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেবো না, ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই আমরা। ক্ষমতার গরম দিয়ে কেউ যেন পার না পায়, সেই বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কথা বলার সময় এ কথা তুলে ধরেন তিনি।
জামায়াতের ওপর ১৭ বছর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সংসদের সবাই মজলুম। আগামীর বাংলাদেশ এমন চাই যে, আইন এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই আমরা। সংবিধানের যেসব সুযোগ ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল, সেগুলো ফেলে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ চাই।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ কলিজার অংশ। আমরা আদেশ, অভ্যুত্থান, সনদ বাস্তবায়ন মানি। আমাদের পক্ষ থেকে অমান্যের কিছু নেই। সবাই হ্যাঁ-এর পক্ষে কথা বলেছি। জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন—কোনোটাকেই আমরা অস্বীকার করতে পারি না।
এ ছাড়া, কোনো বিতর্কছাড়াই গণভোট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটামাত্র দল, যে দলের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ওখান থেকেই ফ্যাসিজমের জন্ম। ক্ষমতায় না এসেই তারা কি করবে ক্ষমতায় আসলে সেদিন অগ্রিম জাতিকে জানিয়ে দিয়েছিল। সারাদেশে দুই দিনে ৫৪ জন মানুষ শুধু জামায়াতে ইসলামী না বিএনপিরও সেই সময় নির্মমভাবে তাদেরকে খুন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যদি আমরা সবাই সবকিছু মানি তাহলে যে মানার ভিত্তিতে আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির দুটো নির্বাচন করলাম এর আগে তো আমরা কেউ বলি নাই যে আমরা সংসদ নির্বাচন মানি না অথবা আমরা গণভোট মানি না।
এ সময় মব কালচার সৃষ্টির দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, যেই দলটির ওপর ইতিহাসের সবচাইতে জঘন্য অত্যাচার করা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট আমলে মব করে রাস্তায় আদালত বসিয়ে যে দলের এক এক করে শীর্ষ ১১ জন নেতাকে ঠান্ডা মাথায় জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকারে পরিণত করা হয়েছে যে দলের হাজারো কর্মীকে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ে ঠেলে দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। একটা মাত্র দল যে দলের নিবন্ধন, প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করার জন্য ডাইভার্ট করার জন্য এই দলটাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই দলের ওপর এই ধরনের অপবাদ দেওয়া এই সংসদের জন্য একটা লজ্জার ব্যাপার।
সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বিরোধী দলের কেউ কখনো বলে নাই দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা এই সংবিধানের পরিবর্তন চেয়েছি। যাতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েম হয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত একটা দেশ, সমাজ, শাসন পাই সেজন্য। আমরা সংবিধানবিরোধী নই। সংবিধানের ওই জায়গাগুলো আমরা চাই না, যেই জায়গা গত ৫৪ বছরে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে দফায় দফায়। ওই জায়গাগুলার সংস্কার চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাচ্ছি আগামীর একটা বাংলাদেশ এমন হোক যেই বাংলাদেশে আর কোনো আইন এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই আমরা। এইজন্যই আমরা বলি, একটা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। নতুন বাংলাদেশের মানে এই না যে, এর ভৌগোলিক সীমারেখা বদলে যাবে, ফ্ল্যাগ বদলে যাবে, সবকিছু বদলে যাবে, নো। যে সমস্ত আইন সংবিধানের, যে সমস্ত সুযোগগুলো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল আমরা ওগুলা ফেলে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই একজন গ্রামের প্রান্তিক মানুষ যারা আছেন, গরীব-দুঃখী থেকে শুরু করে একেবারে রাষ্ট্রপতি ভবনে যিনি থাকবেন, তাদের কেউ কোনো বৈষম্যের শিকার হবে না। তারা সবাই সাম্যের ভিত্তিতে তাদের ন্যায্য পাওনাটা পাবেন। নাগরিক হিসেবে আবার কোনো পদ-পদবী দলীয় পরিচয় ক্ষমতার গরম কোনো কিছুর বলে কোনো অপরাধ করেও যেন কেউ পার না পায়, সেই বাংলাদেশটা আমরা চাই।
রাজনীতি
সরকার ও রাজনীতিকে সমান গুরুত্ব দেবে বিএনপি
সরকার ও রাজনীতিকে পৃথকভাবে সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একদিকে সরকার পরিচালনায় যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা সৃষ্টির প্রচেষ্টা থাকবে, তেমনি সারাদেশে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকেও মজবুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিগগিরই বিএনপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারক নেতারা।
গতকাল শনিবার দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ৪৭ দিনের কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যত দ্রুত কাউন্সিলের দিকে যাওয়া যায়, সেই বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব। কোরবানির ঈদের আগে সম্ভব নয়। কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে সিনিয়র নেতারা বলেন, সরকার গঠনের পর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। দলের দুটি কার্যালয় এখন অনেকটা নেতাকর্মীশূন্য। দলের প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কোনো কোনোটির মেয়াদ ১০ বছরের বেশি পার করেছে। সারাদেশে প্রায় প্রতিটি জেলা কমিটির মেয়াদ নেই। এ অবস্থায় শুধু সরকারের কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। যা দলের রাজনীতির জন্য কখনোই ভালো হবে না।
এ অবস্থায় সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। সেখানে আন্দোলন-সংগ্রামের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ছাড়াও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেন নেতারা।
সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন তথা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে দলের অবস্থান ও করণীয় নির্ধারণে নেতারা আলোচনা করেন নেতারা। এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মহিলা দলের ত্যাগী নেত্রী ও অপেক্ষাকৃত তরুণদের জায়গা দেওয়ার বিষয়ে একমত হন তারা। তাদের সঙ্গে কয়েকজন প্রবীণ নেত্রীও জায়গা পাবেন। বিএনপি জোটের ভাগে ৩৫টি আসন পড়বে। তবে শতাধিক নারীনেত্রী বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা। যাদের বেশির ভাগই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী। তাদের আমলনামা আর গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি বিগত দিনের আন্দোলনে সম্পৃক্ততার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে নেতারা কথা বলেন। এর বাইরে বিভিন্ন সেক্টরে পারদর্শী, উচ্চ শিক্ষিতদেরও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে নেতারা কথা বলেন।
বৈঠকে মনোনয়ন বাছাই ও চূড়ান্ত করতে একটি টিম গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে নতুন সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। মূলত রিভিউ হয়েছে। সরকারের এই অল্প সময়ের কর্মকাণ্ডকে ভালো হিসেবে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর যেসব ইস্যু এসেছে, তা নিয়েও বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। জ্বালানি তেল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু যে বিবৃতি দিয়েছেন, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জুলাই সনদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, বিএনপির অবস্থা পরিষ্কার, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। কিন্তু কিছু নোট অব ডিসেন্ট ছিল বিএনপির। তার অর্থ এটা না, এই নোট অব ডিসেন্টও বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়ালি), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান (ভার্চুয়ালি) ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।



