রাজনীতি
পদত্যাগ করলেন এনসিপির আরেক নেত্রী, জানালেন কারণ
এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সৈয়দা নীলিমা দোলা নামে এক নেত্রী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগপত্রও সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি। ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দলটিতে ছিলেন সৈয়দা নীলিমা দোলা।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য গঠনের মধ্য দিয়ে দলটির একাধিক নেত্রী পতত্যাগ করেন। এবার সেই মিছিলে যুক্ত হলেন ফরিদপুর জেলার মহিলা লীগের সভাপতির মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা।
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা লিখেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমি মনে করি, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। এতদিন আমি এনসিপির সঙ্গে ছিলাম কারণ আমি মনে করেছিলাম, দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। তবে সম্প্রতি দলটির নানা সিদ্ধান্তের পর আমার কাছে এটুকু স্পষ্ট, এই দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়ছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। জামায়াতের সাথে এনসিপির যে নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট তা কোনো কৌশলগত জোট নয়, যদি হতো তাহলে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ করতো না। দলের নেতাকর্মীদের চোখে ধূলো দিয়ে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেবার নাম করে তীব্র প্রতারণা করা হয়েছে।
‘‘পদত্যাগ করার পর সাধারণত দলে থেকে যাওয়াদের অনেকে এমনটা বলেন যে, ক্ষমতা ও গুরুত্ব দেওয়ার পরেও আমরা চলে গেলাম কেন? তাই দলের সকলের স্বার্থে জানিয়ে রাখি, আমাকে কেউ কোনো ক্ষমতা দেয়নি বরং আমার প্রগতিশীল মানসিকতা এবং নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পরিচয় এনসিপিকে শক্তি যুগিয়েছে এতোদিন। যারা পদত্যাগ করছেন তাদের বামপন্থী বলে ফ্রেমিং করাটাও একটা গেইম প্ল্যানেরই অংশ বলে আমি মনে করি। কেননা, এতে করে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি করা সহজ। বামপন্থীরা বেরিয়ে যাচ্ছে কেন এই পাল্টা প্রশ্ন আমি করতে চাই। তাহলে কী যারা রয়ে গেলো সকলেই ডানপন্থী? আপনারা না একটা সেন্ট্রিস্ট দল?’’
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা আরো লিখেছেন, ‘‘একটি বিষয় বলা দরকার, আমি এনসিপিতে আসার আগেও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্পেসে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ করেছি। এনসিপিতে আসার পরেও করেছি।
সুতরাং দলের সাথে আদর্শিক জায়গা ছাড়া আমার আদান-প্রদান খুবই সীমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, আমার মতো কর্মীকে ধরে রাখার সামর্থ্য এনসিপির এখন আর নেই। আমি এও মনে করি যে, জুলাইয়ের জনতার কাছে এনসিপির অনেক দায় রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর এনসিপির ওপর বাংলাদেশের মানুষ যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিল তা বিগত কয়েক মাসে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। আমি মনে করি আসন্ন কঠিন সময়ে জনতা এনসিপিকে এর সমুচিত জবাব দেবে। তবে একথাও সত্য, ইতিমধ্যে দল হিসেবে এনসিপি সেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া শুরু করেছে।’’
‘‘এনসিপির ভেতরে থেকেই আমি তীব্র লড়াই চালিয়ে গেছি। দলটা যেন সেন্ট্রিস্ট অবস্থানে থাকে সে জন্য নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া, হিন্দু, মাজারকেন্দ্রিক জনগণকে এক করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গত দেড় বছরজুড়ে অন্তবর্তী সরকারের আমলে প্রায় সব ঘরানার প্রান্তিক মানুষের ওপর চলা অনিয়ন্ত্রিত অনাচার ও নির্যাতন নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ব্যাপারে গণ অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলকে অন্তত পাঁচ দিন করে ভাবতে হয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মনমরা ও দায়সারা প্রতিবাদ আমার রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দেশের আপামর মানুষের জন্যেও তা হতাশার।’’
পদত্যাগপত্রে সৈয়দা নীলিমা দোলা লিখেছেন, সবশেষে এই বলব যে, আমার বা আমার মত মানুষদের এনসিপি থেকে বিদায় এটাই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে এনসিপি ছাড়াও জুলাইয়ের আরও একটি পক্ষশক্তি আছে। এ মানুষেরা বাংলার জনতা ও জমিনকে চেনে বলেই আমি ধারণা পোষণ করি। এনসিপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলতে চাই, রাজনৈতিক প্রয়োজনে নেগোসিয়েশন বা দফারফা সবাই বা বেশিভাগ দল করলে করুক, এনসিপির জন্য তা নিতান্ত বেমানান। কারণ, এনসিপি হাজারো জুলাই শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে এসেছিল। আমি দলটির নেতাদের বলতে চাই, ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে পলিটিক্স খেলার জন্য শহীদেরা জান দেননি। আপনাদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি। তবে আপনারা এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে আওয়ামী বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে রয়েছেন। এজন্য আপনাদের লাল সালাম। পৃথিবীর যাবতীয় সমৃদ্ধি আপনাদের ঘিরে রাখুক।
এমকে
রাজনীতি
গণমাধ্যমের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে : বিরোধীদলীয় নেতা
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছে, গণমাধ্যমের ওপর ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
দলীয় কারণে কারো ওপর যেন জুলুম না হয় সেদিকে সরকারকে নজর রাখার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেমিশে দেশ চালাবে। সরকার বিরোধী দলের পরামর্শ না মানলে সংসদে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াত কোনোভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি মেনে নেবে না।
এমএন
রাজনীতি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে চৌগাছার বিভিন্ন সংগঠনের অভিনন্দন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় যশোর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে অভিনন্দন জানিয়েছে যশোরের পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠন।
এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পিতা মরহুম তরিকুল ইসলাম ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সফল মন্ত্রী। তার হাত ধরে গোটা যশোর জেলাতে বয়ে গেছে উন্নয়নের জোয়ার। তারই যোগ্য উত্তরসূরী আমাদের প্রিয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পিতার পথকে অনুসরণ করে যশোরকে সব দিক দিয়ে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলবেন এটিই হলো আজকে আমাদের প্রত্যাশা।
বিবৃতিদাতারা হলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য জনাব জহুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সহ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও এ্যাড. আলীবুদ্দিন খান, পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ার, সহ সভাপতি মোবারক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম ও প্রভাষক বিএম হাফিজুর রহমান, যুবদলের আহবায়ক এম এ মান্নান ধনী প্রমুখ।
অনুরুপ বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসক্লাব চৌগাছার আহবায়ক অধ্যক্ষ সিহাব উদ্দিন ও সদস্য সচিব মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জি. রাজু আহাম্মেদ, ইমাম হোসেন সাগর।
রিপোর্টার্স ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদ এম হাসান মাহমুদসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, চৌগাছা পুজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক বিএনপি নেতা গোবিন্দ কুমার রাহা ও সদস্য সচিব রনজিত কুমার।
এমএন
রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, মিলবে যেসব তথ্য
বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সরকারের সব ধরনের দাপ্তরিক আপডেট ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করা হয়। পেজটির নাম রাখা হয়েছে ‘PMO Bangladesh- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’।
এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এবং প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য সরাসরি জানা যাবে। উদ্বোধনের দিনেই প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার অনুসারী যুক্ত হন, যা নাগরিকদের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে এ পেজের অনুসারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮১ হাজারের বেশি।
পেজটির ভিজ্যুয়াল ডিজাইনেও রাখা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রোফাইল ফটোতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি। কভার ফটোতে জাতীয় পতাকা, সরকারি লোগো ও জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির দৃশ্য স্থান পেয়েছে। এটি সরকারের জনসম্পৃক্ততা ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার তথ্যও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশিত হতো। তবে এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরাসরি সরকারি সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়মিতভাবে শেয়ার করবে।
পেজ চালুর পর থেকেই বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির আপডেট প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পেজটিতে মন্তব্য, প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে মতামত জানাতে পারবেন নাগরিকরা।
এমএন
রাজনীতি
জামায়াত ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে: ড.হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পর ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে যারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহন করেনি তারা জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করছে। শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পল্টন থানা জামায়াতের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, রমজান হচ্ছে আত্মশুদ্ধির মাস। রমজানের শিক্ষা হচ্ছে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে যেই ভোট দিয়েছে গণনার সময় সেই ভোট কারচুপি করা হয়েছে।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, যেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনা এদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে; সেই সংবিধানে দোহাই দিয়ে নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করলে পরিণতি হাসিনার মতোই হবে। এদেশের ছাত্র-জনতা জান দেবে তবুও জুলাই দেবে না। তরুণ প্রজন্ম তাদের সহযোদ্ধা ভাই-বোনের রক্তের সঙ্গে কাউকে বেঈমানী করতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের কারণে আজকের প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেয়েছেন, নিজের মাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হাসিনার সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। তিনি সংবিধানে দোহাই দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অথচ সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছেন। যেই সংবিধানের দোহাই তিনি দিচ্ছেন সেই সংবিধান মানলে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচনের সুযোগ নাই। ঐ সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হতো। তিনিও লন্ডনেই থাকতেন, দেশে আসার সুযোগ পেতেন না।
ড. হেলাল উদ্দিন বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজেদের ওয়াদা রক্ষা করতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। চুরি-ডাকাতি-ইঞ্জিনিয়ারিং যেভাবেই ক্ষমতা দখল করেছেন আমরা চাই ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে জনগণের জন্য কাজ করেন। কিন্তু দেশ ও জাতির জন্য কাজ না করলে জনগণ ৫ বছর সময় দেবে না।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় জন্য রাজনীতি করে না, গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রাম চলবেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক ও মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন সহ পল্টন থানার শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে, প্রধান অতিথি ড. হেলাল উদ্দিন সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন।
এমএন
রাজনীতি
মাহে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখতে জামায়াত আমিরের আহ্বান
দেশবাসীর প্রতি মাহে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মাহে রমজান রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত। এ মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে রয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর নামে একটি বরকতময় মহিমান্বিত রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। রমজান মাস তাকওয়া, সহনশীলতা চর্চা ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস।
জামায়াত আমির বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের জগদ্দল পাথরের ন্যায় চেপে বসা জুলুম-নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে জাতি গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
এ অবস্থায় দেশের নাগরিকরা মৌলিক মানবাধিকারসহ সব ন্যায়সংগত অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছেন। অপরদিকে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। শান্তি, স্বস্তি ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ন্যায়সংগত আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে নতুন সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসর অসাধু ব্যবসায়ীরা এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে। তারা যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ইফতার সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকারকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ যেন স্বস্তির সঙ্গে মাহে রমজানের সিয়াম পালন করতে পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকির মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, মাছ, গোশত, শাকসবজি, চিনি, খেজুর, ছোলা, মুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, দিনের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে দেশবাসীর প্রতি পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআনের শিক্ষার আলোকে সমাজ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মাহে রমজানকে আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে গ্রহণ করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।



