জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নমন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ বাংলাদেশে এসেছিলেন।
বৈঠকে, প্রধান উপদেষ্টা স্বল্প নোটিশে বাংলাদেশ সফরের জন্য মালদ্বীপের মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় ড. আলী হায়দার আহমেদ বলেন, মালদ্বীপের সমাজ ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অবদানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মালদ্বীপের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্নের সুযোগ প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মালদ্বীপ বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর সকল সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সার্ক এখনও সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক রয়েছে।
মালদ্বীপের মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি শুভকামনা জানান। এসময় ড. ইউনূস দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং মালদ্বীপের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
জাতীয়
কাল থেকে জরুরি টিকা শুরু হচ্ছে, তালিকায় কোন কোন উপজেলা
প্রাথমিকভাবে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। এসব উপজেলায় হামের উচ্চ সংক্রমণ হার দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবার ওপরে বরগুনা সদর উপজেলা। আগামীকাল রোববার এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে এই উপজেলাগুলোর তালিকা পাওয়া গেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব উপজেলার ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখ ৩ হাজার ২৬৭টি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল রাতে টিকাবিষয়ক কারিগরি কমিটি নাইট্যাগের সভা হওয়ার কথা ছিল। আজও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সভা হওয়ার কথা আছে। এই দুই সভায় আরও দু–একটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ আসতে পারে।
৩০ উপজেলা হচ্ছে বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাট; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।
সংক্রমণের হার কোথায় কেমন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয় গত বৃহস্পতিবার দেওয়া তথ্যে জানিয়েছে, দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষে হামের সংক্রমণ ১৬ দশমিক ৮। এই সংক্রমণকে অনেক বেশি বলে সংস্থাটি মনে করছে।
সংক্রমণ হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে দক্ষিণের জেলা বরগুনায়। এখানে এ বছর ২৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ২৯৫। এ জেলায় ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৩৬ হাজার ৮৮টি। তাদের প্রত্যেককে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
উচ্চ সংক্রমণ হারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে পাবনা সদর উপজেলা। এখানে ৩২ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, সংক্রমণ হার ১৮০। এই জেলায় ছয় মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৭২ হাজার ৮২৫টি। তৃতীয় স্থানে চাঁদপুর সদর উপজেলা। এখানে এ পর্যন্ত ২৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, সংক্রমণ হার ১৪৪। এ জেলায় ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৫৭ হাজার ৩২৮টি।
সংক্রমণ হার বেশি, এমন একটি জেলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি টিকাদান কর্মসূচির জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাঁর উপজেলায় জনবলসংকট রয়েছে। মাঠপর্যায়ে টিকা দেন সাধারণত স্বাস্থ্য সহকারী। কিন্তু এ জেলায় ৩০ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্য সহকারীর পদ শূন্য। জরুরি টিকাদান কর্মসূচি সফল করার জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ।
সর্বশেষ পরিস্থিতি
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে গতকাল ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক ৯৪৭ জন রোগী সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শিশুর হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক ৫ হাজার ৭৯২ জনের হামের পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে ৭৭১ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে।
সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৯৪ জনের সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনের হামে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি বলে জানিয়েছে।
খেলাধুলা
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত সকল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়ামোদী জনগণকে উজ্জীবিত করবে।
দেশপ্রেম আর টিম স্পিরিটে উজ্জীবিত আমাদের সাহসী তরুণরা প্রমাণ করেছে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিজয়ের রথ এভাবেই অব্যাহত থাকবে, ইন শা-আল্লাহ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ।
খেলায় নির্ধারিত সময়ের মতো টাইব্রেকারেও অনেক নাটকীয়তা হয়। টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক প্রথমে শট নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শট সেভ করেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।
বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল। এ সময় ভারতের গোলরক্ষক চোটের কারণে সময়ক্ষেপণ করেন। চিকিৎসা নেয়ার পর পোস্টে দাঁড়ালে স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লাগে। তখন চার শট শেষে স্কোরলাইন ৩-৩।
জাতীয়
ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ’র কঠোর নির্দেশনা
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সে উল্লেখিত শ্রেণি বা ক্যাটাগরির বাইরে ভিন্ন ধরনের মোটরযান চালনার বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ ধরনের আইন লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিআরটিএ সদর কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া, কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালাতে বা চালানোর অনুমতি দিতে পারবেন না।
একই আইনের ধারা ৪(২) অনুযায়ী, যে শ্রেণি বা ক্যাটাগরির মোটরযানের জন্য লাইসেন্স নেয়া হয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনো শ্রেণির যান চালানোও নিষিদ্ধ। এছাড়া ধারা ৫(১) অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি গণপরিবহন চালাতে বা চালানোর অনুমতি দিতে পারবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব বিধান লঙ্ঘন করলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড, বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
এছাড়া আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া বা ভুল ক্যাটাগরির যান চালালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এমনকি শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক চালক লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সের নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে যান চালাচ্ছেন। পাশাপাশি বেপরোয়া গতি, বিশৃঙ্খল চালনা এবং অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এতে প্রাণহানি ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের মতো ঘটনা ঘটছে।
এ অবস্থায় সকল চালককে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরির বাইরে কোনো যান না চালানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন মালিকদেরও চালকদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয়
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিস সময় নির্ধারণ, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সময় সীমিতকরণ, সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যমান সংঘাতে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব; পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহীত কর্মকৌশল (স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি) এবং অর্থায়ন কৌশল সংবলিত অর্থ বিভাগের প্রণীত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রণীত সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া, সারের উৎপাদন, মজুদ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব প্রকার আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
সচিব জানান, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণ হ্রাসকল্পে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকুল্যে ২০ শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনসমূহকে ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দকৃত জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম গ্রহণ করবেন।
তিনি আরো জানান, সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ ও ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করা বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া সভায় ‘The Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তা একে অপরকে প্রভাবিত করে এবং পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তোলে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালে সিলেট নগরের তোপখানাস্থ তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যদি আতঙ্কিত হই, আমার পাশে থাকা মানুষও আতঙ্কিত হবেন। এই আতঙ্ক আবার অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে এখনও এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার কারণে আতঙ্কিত হতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক। আপনি পাম্পে গেলে তেল পাচ্ছেন, সুইচ টিপলে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন- তাহলে সমস্যা কোথায়? এখন পর্যন্ত জ্বালানির কারণে কোনো কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।
সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং অতীতেও দ্রব্যমূল্যের চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে। জনগণের সহযোগিতাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ সম্পর্কেও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে কারণ এখানে দাম নির্ধারণের একটি ফর্মুলা আছে। সৌদির আরামকোর সিপি প্রাইসের সাথে একটি প্রিমিয়াম যোগ করে দেশে মার্কেটে দাম আসে। যেখানে উৎস দেশে দাম বেড়ে গেছে, তার প্রভাব এখানে পড়বেই। ক্রুড অয়েলের মূল্য কিছুদিন আগে ৫৫–৬০ ডলার ছিল। এখন তা ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই সরকারের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে দাম আগের মতোই রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত কষ্ট না পায়।
মন্ত্রী সবাইকে সতর্ক এবং সাশ্রয়ী থাকার আহ্বান জানান। যদি আমরা সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করি, আমদানি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে। তাই আসুন, আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকতা বজায় রাখি এবং সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করি।



