অর্থনীতি
কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম
দেশের বাজারে কয়েক মাস ধরে চিনির দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে সম্প্রতি খোলা ও মোড়কজাত—উভয় ধরনের চিনির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া সরবরাহ কম থাকায় নাজিরশাইল চালের দামও কেজিতে তিন–চার টাকা বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে চিনির দাম বাড়ছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও পণ্যটির দাম বাড়তি। বাজারে গত সপ্তাহ থেকে নতুন মোড়কে যেসব চিনি আসছে, সেগুলোর দামও বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৯০ টাকা ছিল। মোড়কজাত চিনির দামও ৯০–৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০০–১০৫ টাকা হয়েছে। তবে এখনো সব দোকানে নতুন দরের মোড়কজাত চিনি পৌঁছায়নি।
খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ২০২৫ সালের অধিকাংশ সময় দেশে চিনির দাম স্থিতিশীল ছিল। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বাজারে ঘাটতি ছিল না। তারপরও পাইকারিতে চিনির দাম বেড়েছে। পাইকারিতে ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ৩০০–৪০০ টাকা।
বাজারে নাজিরশাইল চালের দামও কিছুটা বাড়তি। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক মাস ভারত থেকে নাজিরশাইল চাল আমদানি হয়েছিল। তাতে সরবরাহে সংকট হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি নাজিরশাইল চাল আমদানি কমেছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে কেজিতে তিন–চার টাকা দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল ৭৫–৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোলাওয়ের চালের দামও কেজিতে প্রায় ১৫ টাকার মতো বেড়ে ১৩০–১৩৫ টাকা হয়েছে। তবে বাজারে মিনিকেটসহ অন্যান্য চাল আগের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চালের মধ্যে রশিদ ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি ৭২ টাকা, সাগর ও মঞ্জু ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের চাল ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোটা চালের কেজি ৫০–৫৫ টাকা।
ডিম–মুরগির দাম কম
বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম ১১০–১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে প্রতি ডজনের দাম ছিল ১২০ টাকা। আবার প্রতি কেজি ফার্মের মুরগি এখন ১৭০–১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ২৫০–২৭০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে ১০ টাকা বেশি ছিল।
বিক্রেতারা জানান, শীত মৌসুমে মুরগির রোগবালাই ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে ঝুঁকি ও বাড়তি খরচ এড়াতে অনেকে মুরগি দীর্ঘদিন খামারে না রেখে দ্রুত বিক্রি করে দেন। একই সঙ্গে শীতের সময় ভোক্তাদের মধ্যে ডিম ও মুরগির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। এসব কারণে বর্তমানে বাজারে ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা কম রয়েছে।
পেঁয়াজের দাম কমেছে
মৌসুমের নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে প্রায় এক মাস আগে। নতুন অবস্থায় ১ কেজি পেঁয়াজ ১৩০–১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেই দাম ধাপে ধাপে কমেছে। গতকাল এক কেজি দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০–৬৫ টাকায়। আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬৫–৭০ টাকায়।
বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ এখন পুরোদমে। এ কারণে সবজির দামও কম। গতকাল প্রতি কেজি আলু ২০–২৫ টাকা, টমেটো ৮০–১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, শিম ৪০–৬০ টাকা, বেগুন ৬০–৭০ টাকা, মুলা ২৫–৩০ টাকা, শালগম ৩০–৪০ টাকা এবং প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ টাকা, লাউ ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হয়। অর্থাৎ, বেশির ভাগ সবজির দামই ৫০–৬০ টাকার মধ্যে।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন, জানা গেল কারণ
বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং প্রধান বাজারগুলোতে ছুটির কারণে লেনদেন সীমিত থাকায় স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রবণতা দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক স্বর্ণের দাম আজ শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৭ দশমিক ৭ ডলারে নেমেছে। দিনের শুরুতে দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছিল। খরব রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টস ডে এবং চীনসহ এশিয়ার বেশ কিছু দেশে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ছিল। এর ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ও তারল্য বা লিকুইডিটি কম ছিল।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, ছুটির কারণে লেনদেন কম হওয়ায় সোনার দাম বর্তমানে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মান কিছুটা বাড়ায় অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য স্বর্ণের কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন অর্থনৈতিক উপাত্তে দেখা গেছে, জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্য বা ইনফ্লেশন প্রত্যাশার চেয়ে কম বাড়লেও কর্মসংস্থানের হার অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় আগামী ১৮ মার্চ ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। সাধারণত সুদের হার কমলে স্বর্ণের মতো অনুৎপাদনশীল সম্পদের দাম বাড়ে।
অর্থনীতি
নমুনা নোট নিয়ে বিভ্রান্তি, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং বাজারে সরবরাহকৃত নমুনা নোট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও ও ছবি প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে আসল নোটের ডিজাইন ও আকার অনুকরণ করে বড় আকারের ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব নমুনা নোট দিয়ে অবৈধ মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা বা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাজারে বা জনসমাগমস্থলে আসল টাকার আদলে তৈরি কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের প্রচারণা বা কার্যক্রম জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিধান অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আসল নোটসদৃশ কাগজ তৈরি, ব্যবহার বা প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভুয়া, বিভ্রান্তিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে আসল নোট চেনা, নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করা এবং নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এমএন
অর্থনীতি
রমজানে টিসিবির পণ্য: কার্ডধারী পাবেন কম দামে, ট্রাকসেলে কেন বেশি?
রমজান উপলক্ষে বিশেষ বিক্রি কার্যক্রম শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন আরও ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন। তবে কার্ডধারীদের তুলনায় ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে প্রতি প্যাকেজে ৬০ টাকা বেশি গুনতে হবে নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের।
নির্বাচনের পর রমজানের বেচাকেনায় ধীরে ধীরে সরগরম হচ্ছে রাজধানীর বাজার। এবার পণ্যমূল্য বাড়ার প্রবণতা না থাকায় কিছুটা স্বস্তির কথা বলছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
এর মধ্যেই রমজান উপলক্ষে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী ৭৫ লাখ সুবিধাভোগীর পাশাপাশি সারাদেশে সাড়ে ৪শ’ ট্রাকে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। সংস্থাটির উপ-পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে বিক্রি কার্যক্রম। প্রতিদিন প্রায় ৪৫০টি ট্রাকের প্রতিটিতে ৪০০ জন হিসেবে পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী ট্রাক সেলে ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা ও চিনি ৮০ টাকায় বিক্রি হবে। তবে নিয়মিত স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির দাম আগের মতোই বহাল থাকবে।
পণ্যের মূল্য তালিকা অনুযায়ী, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীরা দুই লিটার সয়াবিন তেল পাবেন ২০০ টাকায়। কিন্তু ট্রাক সেল থেকে কিনলে একই পরিমাণ তেলের জন্য গুনতে হবে ২৩০ টাকা। একইভাবে চিনি ও ডালে কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ট্রাক সেলে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, এসব পণ্য আলাদা শ্রেণির মানুষের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে না; একই শ্রেণির মানুষের জন্যই কর্মসূচি। সেখানে দুই রকম দাম নির্ধারণ বৈষম্য তৈরি করবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রতি ট্রাকে ৪০০ জন হিসেবে দৈনিক সাড়ে ৪শ’ ট্রাক থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ পণ্য কিনতে পারবেন। ২০ দিন ধরে চলা এই কার্যক্রমে মোট সুবিধা পাবেন ৩৬ লাখ জন। ডাল, চিনি ও তেলের বাড়তি মূল্যে প্রতি প্যাকেজে তাদের ৬০ টাকা বেশি দিতে হবে। এভাবে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের তুলনায় ট্রাক সেলে ভর্তুকি বাবদ ২০ দিনে সরকারের ব্যয় ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাড়তি ব্যয়ের এই বোঝা নিম্নবিত্তের ওপর চাপিয়ে দুই রকম দামে পণ্য বিক্রি করলে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ড. মাহফুজ কবিরের মতে, সরকার যে ভালো উদ্দেশ্যে ট্রাক সেল ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করেছে, দুই রকম দাম নির্ধারণ করলে তার বদনাম হতে পারে। তাই উভয় প্রক্রিয়ায় একই দাম নির্ধারণ করা উচিত।
এদিকে বছরব্যাপী ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি।
এমএন
অর্থনীতি
বিদেশ থেকে ফেরার সময় শুল্ক দিয়ে যেসব পণ্য আনা যাবে
বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় অনেকেই প্রিয়জনদের জন্য নানা উপহার নিয়ে আসেন। লাগেজের সীমাবদ্ধতার কারণে ছোটখাটো জিনিস আনলেও সরকার নির্ধারিত ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী শুল্ক–কর পরিশোধ করে বড় গৃহস্থালি পণ্যও আনা যায়। এ জন্য কোনো ঋণপত্র (এলসি) খোলার প্রয়োজন হয় না।
সরকার সময়ে সময়ে ব্যাগেজ রুলে পরিবর্তন আনে। বর্তমানে ১১ ধরনের পণ্য শুল্ক–কর দিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। নিচে সেগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হলো—
টেলিভিশন: ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত এলইডি, প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি টেলিভিশন বিনা শুল্কে আনা যাবে। তবে এর বেশি হলে কর দিতে হবে। ৩০-৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা, ৩৭-৪২ ইঞ্চি ২০ হাজার টাকা, ৪৩–৪৬ ইঞ্চি ৩০ হাজার টাকা, ৪৭–৫২ ইঞ্চি ৫০ হাজার টাকা, ৫৩–৬৫ ইঞ্চ ৭০ হাজার টাকা, ৬৫ ইঞ্চির বেশি হলে ৯০ হাজার টাকা কর দিতে হবে।
মিউজিক সিস্টেম: চারটির বেশি এবং সর্বোচ্চ আটটি স্পিকারসহ মিউজিক সিস্টেমসহ হোম থিয়েটার (সিডি,ভিসিডি,ডিভিডি,এলডি, এমডি, ব্লু রেডিস্ক সেট) আনা যাবে। এ জন্য আট হাজার টাকা শুল্ক–কর দিতে হবে।
রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজার : বিদেশ থেকে রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজারও আনতে পারবেন। এ জন্য শুল্ক–করের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা।
এয়ার কুলার ও এয়ার কন্ডিশনার : বিদেশ থেকে ব্র্যান্ডের এয়ারকুলার ও এয়ার কন্ডিশনার আনেন অনেকে। উইন্ডো টাইপের এসিতে ৭ হাজার টাকা শুল্ক–কর দিতে হবে। এ ছাড়া স্প্লিট টাইপের এসির (১৮০০০ বিটিইউ পর্যন্ত) জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং স্প্লিট টাইপের এসির (১৮০০০ বিটিইউয়ের বেশি) জন্য ২০ হাজার টাকা শুল্ক–কর বসবে।
ডিশ অ্যানটেনা : ডিশ অ্যানটেনা আনলে সাত হাজার টাকা শুল্ক বসবে।
স্বর্ণবার : বিদেশ থেকে ফেরার সময় বছরে একবার সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি করে সোনার বার আনতে পারবেন।
সোনার বার আনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) শুল্ক ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রৌপ্যবার : বিদেশ থেকে ফেরার সময় বছরে একবার সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের একটি করে রূপার বার আনতে পারবেন। রূপার বার আনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) শুল্ক ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসএলআর ক্যামেরা : এইডি ক্যামেরা, ডিভি ক্যামেরা, বেটা ক্যামেরা, ডিএসএলআর ক্যামেরা, মিররলেস, ইন্টারচেঞ্জেবল লেনস ইত্যাদি আনা যাবে। এ জন্য ১৫ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।
ঝাড়বাতি : ঝাড়বাতি আনলে আপনাকে প্রতি পয়েন্টের জন্য ৩০০ টাকা করে কর দিতে হবে।
ওয়াশিং মেশিন : বিদেশ থেকে ফিরে আসার জন্য গৃহস্থালির কাজের জন্য ডিশওয়াশার বা ওয়াশিং মেশিন বা ক্লথ ড্রায়ার আনা যাবে। এ জন্য কর বসবে ৩ হাজার টাকা।
এয়ারগান : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে এয়ারগান আনতে পারবেন যাত্রীরা। প্রতিটি এয়ারগানের জন্য ৫ হাজার টাকা শুল্ক বসবে।
ব্যাগেজ রুলের এই সুবিধা প্রবাসীদের জন্য বড় গৃহস্থালি পণ্য দেশে আনার ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে নির্ধারিত শুল্ক–কর পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেই এসব পণ্য আনতে হবে।
অর্থনীতি
রোজায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি
আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাক করে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি রমজান মাসে বিশেষ ট্রাকসেলের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
টিসিবি জানায়, রোজায় নিয়মিত পণ্য হিসেবে তেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে। তবে ট্রাকসেলের আওতায় পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে।
টিসিবি আরো জানায়, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্য নিয়েছে টিসিবি।
এমএন



