জাতীয়
অবশেষে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত বিমান পর্ষদের
ইউরোপ না আমেরিকা–কার কাছ থেকে উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, তা নিয়ে অনেক টানাহেঁচড়ার পর অবশেষে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান পরিচালনা পর্ষদ। গত মঙ্গলবার বিমান পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি বোয়িং কেনার ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্ত হয় বলে কোম্পানির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বৃহস্পতিবার জানান।
বিমানের জন্য ইউরোপীয় জায়ান্ট এয়ারবাস নাকি মার্কিন বোয়িং এর উড়োজাহাজ কেন হবে, তা নিয়ে গত দুই বছর ধরে রশি টানাটানি চলছিল।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাপে শেষ পর্যন্ত বিমানের অর্ডার যাচ্ছে বোয়িংয়ের ব্যাগে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।
এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী ও দুটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার বিষয় ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িংও তৎপর হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দুপক্ষেরই দেনদরবার চলে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর চেয়ারে বসেই যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেন, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের খড়গ থেকে বাঁচতে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
তাতে ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে বিমানের জন্য ১০টি বড় উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর ইউরোপও নড়েচড়ে বসে। এয়ারবাস বিক্রির জন্য তারাও চাপ দিতে থাকে সরকারের ওপর।
গত জুন মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্য সফরে গেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এয়ারবাসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাউটার ভ্যান ভার্স। এর পর থেকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রেখে চলেন।
গত নভেম্বরের শুরুতে ফ্রান্স দূতাবাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা একযোগে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, উড়োজাহাজ কেনার আলোচনায় যেন এয়ারবাসকে ‘যৌক্তিকভাবে’ বিবেচনা করা হয়।
তারা ইউরোপে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর বাংলাদেশি পণ্যের বাজার, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘ অংশীদারত্বের কথা মনে করিয়ে দেন বারবার।
সর্বশেষ গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত র্যুডিগার লোটৎস এক সভায় বলেন, এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার ‘প্রতিশ্রুতি’ থেকে বাংলাদেশ সরে এলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে ‘প্রভাব পড়বে’।
তিনি বলেন, ইউরোপের বাজারে শুল্কছাড়ের আলোচনার আবহও এয়ারবাস নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের কারণে বদলে যেতে পারে।
বিমানের সিদ্ধান্ত
এতসব টানাহেঁচড়ার মধ্যে অবশ্য বিমানের চাওয়া বা না চাওয়ার কোন আলোচনা ছিল না।
এয়ারলাইন্স ব্যবসায় উড়োজাহাজের প্রয়োজন হলে সেই চাহিদা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তরফ থেকে আসার নিয়ম রয়েছে। এখানে যার জন্য উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে, সেই বিমানকেই রাখা হয়েছিল অন্ধকারে।
তবে শেষ পর্যন্ত বিমানের পরিচালনা পর্ষদ বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত দিল।
বিমান থেকে জানানো হয়েছে, বোয়িং ও এয়ারবাস দুই পক্ষেরই প্রস্তাব বিমানের টেবিলে ছিল। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত ২৪ নভেম্বর বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বিক্রি, অন্যান্য শর্তাবলী ও সেগুলো ডেলিভারির বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠায়।
ওই প্রস্তাব অনুযায়ী বোয়িং থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার সিদ্ধান্ত দেয় বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি সুপরিসর বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ন্যারো বডির বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ।
এখন বিমানের পক্ষ থেকে দরকষাকষির জন্য একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটি প্রতিটি এয়ারক্রাফটের দাম ও অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয়ে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
এমকে
জাতীয়
নির্বাচিত ৭০ আসনের ২১.৪ শতাংশে জাল ভোটের তথ্য পেয়েছে টিআইবি
নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোটের তথ্য পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ সোমবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, টিআইবির মাঠ পর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট প্রদানের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তার অর্থ এই নয় যে ২১ শতাংশ আসনে বা জাতীয়ভাবে ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। সেটি কিন্তু কোনো অবস্থায় আমরা বলছি না। দয়া করে এইভাবে জিনিসটা ইন্টারপ্রেট করবেন না।’
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণ রয়েছে, সদস্যদের মোট দায় বা ঋণের পরিমান ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।
আরো বলা হয়, এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬০ শতাংশ, যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এয়োদশ সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে, যদিও নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ করে, প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের একাংশের মধ্যে সুস্থ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষণীয় ছিল। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকের ক্ষেত্রে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিতের মূল্যবোধের নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতার মনোভাবও পরিপন্থী আচরণ ক্রমাগত দৃশ্যমান হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি মান্য করার অঙ্গীকার করলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। প্রার্থীরা তাদের নির্ধারিত খরচের সীমা অতিক্রমের চর্চা অব্যাহত রেখেছে।
জাতীয়
নির্বাচিত ৭০ আসনের ২১.৪ শতাংশে জাল ভোটের তথ্য পেয়েছে টিআইবি
নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোটের তথ্য পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, টিআইবির মাঠ পর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট প্রদানের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তার অর্থ এই নয় যে ২১ শতাংশ আসনে বা জাতীয়ভাবে ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। সেটি কিন্তু কোনো অবস্থায় আমরা বলছি না। দয়া করে এইভাবে জিনিসটা ইন্টারপ্রেট করবেন না।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণ রয়েছে, সদস্যদের মোট দায় বা ঋণের পরিমান ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।
আরো বলা হয়, এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬০ শতাংশ, যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এয়োদশ সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে, যদিও নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ করে, প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের একাংশের মধ্যে সুস্থ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষণীয় ছিল। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকের ক্ষেত্রে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিতের মূল্যবোধের নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতার মনোভাবও পরিপন্থী আচরণ ক্রমাগত দৃশ্যমান হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি মান্য করার অঙ্গীকার করলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। প্রার্থীরা তাদের নির্ধারিত খরচের সীমা অতিক্রমের চর্চা অব্যাহত রেখেছে।
জাতীয়
বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ইসিকে চিঠি দিলেন তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়া সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসনটি শূন্য ঘোষণা করার কাজ করছে ইসি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বলেন, বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়া সংক্রান্ত চিঠি আমরা পেয়েছি। তবে এ সংক্রান্ত গেজেট এখনো হয়নি।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুটি আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি আসন রেখে বাকি আসন/আসনগুলো লিখিতভাবে ছেড়ে দিতে হবে।
আরপিও অনুযায়ী, ধারা ১৯(১)(খ) কোনো ব্যক্তি একই সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে প্রার্থী হতে এবং নির্বাচিত হতে পারবেন। ধারা ১৯(২) যদি কোনো ব্যক্তি একাধিক আসন থেকে নির্বাচিত হন, তবে তাকে গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে, তিনি কোন একটি আসন রাখতে চান।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না জানালে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং অবশিষ্ট আসন/আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করা হবে।
এমএন
জাতীয়
কমকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার বিদায়ী ভাষণ
অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) নতুন সরকারের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন।
ভাষণ শেষে তিনি কার্যালয়ে কর্মরত সবার সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) নতুন সরকারের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ।
গত বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়ে পরবর্তী সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট যায় ৭৭টি আসন।
এমএন
জাতীয়
মন্ত্রীপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার
বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার অ্যাম্বাসেডর এ বেরিস একিনজি। তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে এ উচ্চপদস্থ কূটনীতিককে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট, নির্ভরযোগ্য সূত্র।
সূত্র জানায়, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন এবং প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।
অ্যাম্বাসেডর এ বেরিস একিনজি ১৯৬৬ সালের ১৭ মে আঙ্কারায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৬-২০২১ সাল পর্যন্ত তুরস্কের হাভানা দূতাবাসে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ১৭ মে থেকে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার করা হয়। তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্র নীতিতে এনার্জি, পরিবেশ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সূত্রমতে, অ্যাম্বাসেডর বেরিস একিনজি বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে- বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (যেমন ড্রোন), অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক সাহায্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান বিএনপির বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এই সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ শপথ অনুষ্ঠান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেবেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশগুলো হলো চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমন্ত্রিত হলেও তিনি উপস্থিত থাকবেন না; তার পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রী প্রতিনিধিত্ব করবেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তশেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, পাকিস্তানের ফেডারেল মিনিস্টার আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. নলিন্দ জয়তিসাসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত হয়েছে।
বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে তুরস্কসহ ১৩টি দেশের নেতা বা প্রতিনিধিদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। এই বিজয়কে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি নেতাদের আমন্ত্রণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাজারখানেক অতিথি উপস্থিত থাকবেন। ঢাকায় অবস্থিত সকল মিশনের এম্বাসাডর ও তাদের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এমএন



