জাতীয়
অবশেষে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত বিমান পর্ষদের
ইউরোপ না আমেরিকা–কার কাছ থেকে উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, তা নিয়ে অনেক টানাহেঁচড়ার পর অবশেষে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান পরিচালনা পর্ষদ। গত মঙ্গলবার বিমান পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি বোয়িং কেনার ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্ত হয় বলে কোম্পানির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বৃহস্পতিবার জানান।
বিমানের জন্য ইউরোপীয় জায়ান্ট এয়ারবাস নাকি মার্কিন বোয়িং এর উড়োজাহাজ কেন হবে, তা নিয়ে গত দুই বছর ধরে রশি টানাটানি চলছিল।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাপে শেষ পর্যন্ত বিমানের অর্ডার যাচ্ছে বোয়িংয়ের ব্যাগে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।
এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী ও দুটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার বিষয় ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িংও তৎপর হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দুপক্ষেরই দেনদরবার চলে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর চেয়ারে বসেই যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেন, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের খড়গ থেকে বাঁচতে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
তাতে ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে বিমানের জন্য ১০টি বড় উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর ইউরোপও নড়েচড়ে বসে। এয়ারবাস বিক্রির জন্য তারাও চাপ দিতে থাকে সরকারের ওপর।
গত জুন মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্য সফরে গেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এয়ারবাসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাউটার ভ্যান ভার্স। এর পর থেকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রেখে চলেন।
গত নভেম্বরের শুরুতে ফ্রান্স দূতাবাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা একযোগে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, উড়োজাহাজ কেনার আলোচনায় যেন এয়ারবাসকে ‘যৌক্তিকভাবে’ বিবেচনা করা হয়।
তারা ইউরোপে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর বাংলাদেশি পণ্যের বাজার, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘ অংশীদারত্বের কথা মনে করিয়ে দেন বারবার।
সর্বশেষ গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত র্যুডিগার লোটৎস এক সভায় বলেন, এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার ‘প্রতিশ্রুতি’ থেকে বাংলাদেশ সরে এলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে ‘প্রভাব পড়বে’।
তিনি বলেন, ইউরোপের বাজারে শুল্কছাড়ের আলোচনার আবহও এয়ারবাস নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের কারণে বদলে যেতে পারে।
বিমানের সিদ্ধান্ত
এতসব টানাহেঁচড়ার মধ্যে অবশ্য বিমানের চাওয়া বা না চাওয়ার কোন আলোচনা ছিল না।
এয়ারলাইন্স ব্যবসায় উড়োজাহাজের প্রয়োজন হলে সেই চাহিদা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তরফ থেকে আসার নিয়ম রয়েছে। এখানে যার জন্য উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে, সেই বিমানকেই রাখা হয়েছিল অন্ধকারে।
তবে শেষ পর্যন্ত বিমানের পরিচালনা পর্ষদ বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত দিল।
বিমান থেকে জানানো হয়েছে, বোয়িং ও এয়ারবাস দুই পক্ষেরই প্রস্তাব বিমানের টেবিলে ছিল। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত ২৪ নভেম্বর বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বিক্রি, অন্যান্য শর্তাবলী ও সেগুলো ডেলিভারির বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠায়।
ওই প্রস্তাব অনুযায়ী বোয়িং থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার সিদ্ধান্ত দেয় বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি সুপরিসর বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ন্যারো বডির বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ।
এখন বিমানের পক্ষ থেকে দরকষাকষির জন্য একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটি প্রতিটি এয়ারক্রাফটের দাম ও অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয়ে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে।
এমকে
খেলাধুলা
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত সকল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়ামোদী জনগণকে উজ্জীবিত করবে।
দেশপ্রেম আর টিম স্পিরিটে উজ্জীবিত আমাদের সাহসী তরুণরা প্রমাণ করেছে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিজয়ের রথ এভাবেই অব্যাহত থাকবে, ইন শা-আল্লাহ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ।
খেলায় নির্ধারিত সময়ের মতো টাইব্রেকারেও অনেক নাটকীয়তা হয়। টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক প্রথমে শট নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শট সেভ করেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।
বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল। এ সময় ভারতের গোলরক্ষক চোটের কারণে সময়ক্ষেপণ করেন। চিকিৎসা নেয়ার পর পোস্টে দাঁড়ালে স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লাগে। তখন চার শট শেষে স্কোরলাইন ৩-৩।
জাতীয়
ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ’র কঠোর নির্দেশনা
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সে উল্লেখিত শ্রেণি বা ক্যাটাগরির বাইরে ভিন্ন ধরনের মোটরযান চালনার বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ ধরনের আইন লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিআরটিএ সদর কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া, কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালাতে বা চালানোর অনুমতি দিতে পারবেন না।
একই আইনের ধারা ৪(২) অনুযায়ী, যে শ্রেণি বা ক্যাটাগরির মোটরযানের জন্য লাইসেন্স নেয়া হয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনো শ্রেণির যান চালানোও নিষিদ্ধ। এছাড়া ধারা ৫(১) অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি গণপরিবহন চালাতে বা চালানোর অনুমতি দিতে পারবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব বিধান লঙ্ঘন করলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড, বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
এছাড়া আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া বা ভুল ক্যাটাগরির যান চালালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এমনকি শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক চালক লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সের নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে যান চালাচ্ছেন। পাশাপাশি বেপরোয়া গতি, বিশৃঙ্খল চালনা এবং অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এতে প্রাণহানি ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের মতো ঘটনা ঘটছে।
এ অবস্থায় সকল চালককে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরির বাইরে কোনো যান না চালানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন মালিকদেরও চালকদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয়
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিস সময় নির্ধারণ, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সময় সীমিতকরণ, সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যমান সংঘাতে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব; পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহীত কর্মকৌশল (স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি) এবং অর্থায়ন কৌশল সংবলিত অর্থ বিভাগের প্রণীত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রণীত সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া, সারের উৎপাদন, মজুদ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব প্রকার আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
সচিব জানান, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণ হ্রাসকল্পে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকুল্যে ২০ শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনসমূহকে ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দকৃত জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম গ্রহণ করবেন।
তিনি আরো জানান, সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ ও ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করা বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া সভায় ‘The Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তা একে অপরকে প্রভাবিত করে এবং পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তোলে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালে সিলেট নগরের তোপখানাস্থ তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যদি আতঙ্কিত হই, আমার পাশে থাকা মানুষও আতঙ্কিত হবেন। এই আতঙ্ক আবার অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে এখনও এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার কারণে আতঙ্কিত হতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক। আপনি পাম্পে গেলে তেল পাচ্ছেন, সুইচ টিপলে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন- তাহলে সমস্যা কোথায়? এখন পর্যন্ত জ্বালানির কারণে কোনো কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।
সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং অতীতেও দ্রব্যমূল্যের চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে। জনগণের সহযোগিতাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ সম্পর্কেও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে কারণ এখানে দাম নির্ধারণের একটি ফর্মুলা আছে। সৌদির আরামকোর সিপি প্রাইসের সাথে একটি প্রিমিয়াম যোগ করে দেশে মার্কেটে দাম আসে। যেখানে উৎস দেশে দাম বেড়ে গেছে, তার প্রভাব এখানে পড়বেই। ক্রুড অয়েলের মূল্য কিছুদিন আগে ৫৫–৬০ ডলার ছিল। এখন তা ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই সরকারের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে দাম আগের মতোই রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত কষ্ট না পায়।
মন্ত্রী সবাইকে সতর্ক এবং সাশ্রয়ী থাকার আহ্বান জানান। যদি আমরা সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করি, আমদানি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে। তাই আসুন, আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকতা বজায় রাখি এবং সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করি।
জাতীয়
তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপান কনসোর্টিয়ামকে দায়িত্ব দিতে চায় সরকার
সরকার আলোচনার মধ্যে দিয়ে দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে জাপান কনসোর্টিয়ামকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ওপেন টেন্ডার ছাড়াই চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে। দীর্ঘ আলোচনার পরই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দুপক্ষের আলোচনা আরও চলবে।
সূত্রে জানা গেছে, এ সিদ্ধান্ত দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্তের পর আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে এবং টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এই টার্মিনালে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বাড়বে ব্যয়ের বোঝা। টিকিটপ্রতি অতিরিক্ত এক হাজার টাকা গুনতে হতে পারে তাদের। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও আসছে কাঠামোগত পরিবর্তন, যেখানে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার একক নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে আংশিক উদ্বোধনের পরের বছরই সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা ছিল দেশের এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের। কিন্তু অপারেটর নিয়োগ ব্যর্থতায় প্রায় তিন বছর ধরে অবহেলায় পরে আছে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি।
১৫ বছরের জন্য টার্মিনালটি জাপানের পরিচালনা করার কথা ধাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই আলোচনা থেমে যায়। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ফের জাপানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়।
আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থার্ড টার্মিনাল নিয়ে ফের দুপক্ষের বৈঠক করার কথা রয়েছে।



