আন্তর্জাতিক
কোরআন হাতে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি
কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ইতিহাস গড়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম মেয়র, যিনি কোরআন শরিফে হাত রেখে শপথ গ্রহণ করলেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র মামদানি শপথ গ্রহণের জন্য ব্যবহার করেন তার দাদার সংরক্ষিত কোরআন এবং নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি (এনওয়াইপিএল) থেকে ধার নেওয়া প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক কোরআন। টাইমস স্কয়ারের নিচে পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে আয়োজিত ব্যক্তিগত শপথ অনুষ্ঠানে এই দুটি কোরআন ব্যবহৃত হয়।
শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি হলে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠানে তিনি তার দাদা ও দাদির সংরক্ষিত দুটি কোরআন ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছেন।
লাইব্রেরি থেকে ধার নেওয়া ঐতিহাসিক কোরআনটি একসময় আফ্রিকান-আমেরিকান ইতিহাসবিদ ও লেখক আরতুরো শমবার্গের সংরক্ষণে ছিল। তিনি ১৯২৬ সালে তার প্রায় ৪ হাজার বইয়ের সংগ্রহ নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির কাছে বিক্রি করেন, যা পরবর্তী সময় বিখ্যাত শমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
শমবার্গ ১৮৭০-এর দশকে পুয়ের্তো রিকোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে নিউইয়র্কে অভিবাসী হয়ে আসেন। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে হার্লেম রেনেসাঁ আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় নিউইয়র্কের কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ঘটে।
নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি জানিয়েছে, মামদানির এই কোরআন বেছে নেওয়া নিউইয়র্কের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদের উত্তরাধিকার এবং অন্তর্ভুক্তির বার্তাকে তুলে ধরে। লাইব্রেরির মতে, ছোট আকার ও সাধারণ নকশার কারণে এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি কোরআন বলে ধারণা করা হয়। এর লেখনশৈলী ও বাঁধাই থেকে অনুমান করা হয় যে, এটি ১৯শ শতকে উসমানি সিরিয়ার অঞ্চলে মুদ্রিত হয়েছিল।
লাইব্রেরির মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামী অধ্যয়ন বিভাগের কিউরেটর হিবা আবিদ বলেন, এই কোরআনের গুরুত্ব শুধু এর সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সাধারণ মানুষের খুব কাছের একটি কোরআন এবং দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক লাইব্রেরি ব্যবস্থার অংশ।
লাইব্রেরির প্রেসিডেন্ট ও সিইও অ্যান্থনি ডব্লিউ মার্ক্স বলেন, শমবার্গের কোরআন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্তি, প্রতিনিধিত্ব ও নাগরিক মূল্যবোধের প্রতীক।
যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম সংখ্যক রাজনীতিবিদই কোরআনে শপথ নিয়েছেন। নিউইয়র্কে মেয়রদের জন্য ধর্মগ্রন্থে শপথ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে অতীতে অনেক মেয়র বাইবেল ব্যবহার করেছেন। সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ একবার তার পরিবারের ১০০ বছরের পুরোনো বাইবেলে শপথ নেন, আর বিল ডি ব্লাসিও ব্যবহার করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের বাইবেল। মামদানির পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসও পারিবারিক বাইবেলে শপথ নিয়েছিলেন।
এমকে
আন্তর্জাতিক
মার্কিন বাহিনীর গতিবিধির তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে চীনা কোম্পানি?
ইরান যুদ্ধে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বহু সংখ্যক ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টার। একই সঙ্গে মার্কিন রণতরীতেও হামলার দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
সর্বশেষ ইরানের আকাশে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও পাইলটকে উদ্ধারে অংশ নেওয়া হেলিকপ্টার ও বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনা কোম্পানি মার্কিন বাহিনীর গতিবিধির তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ভাইরাল পোস্ট- যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম, বিমানবাহী রণতরী বহরের চলাচল এবং তেহরানে হামলার প্রস্তুতিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের মোতায়েন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে।
এই তথ্যগুলোর উৎস হিসেবে উঠে এসেছে চীনের দ্রুত বিকাশমান একটি নতুন মার্কেট- যেখানে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্মুক্ত তথ্য (ওপেন-সোর্স ডেটা) ব্যবহার করে এমন গোয়েন্দা তথ্য তৈরি ও বিক্রি করছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ‘উন্মোচন’ করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে যুক্ত।
যদিও বেইজিং ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবুও গত পাঁচ বছরে সরকারের ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিভক্ত মত পোষণ করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এসব টুল বাস্তব হুমকি হয়ে উঠতে পারে; আবার অন্যরা বলছেন, এগুলোর কার্যকারিতা অতিরঞ্জিত। তবে সবাই একমত—বেসরকারি খাতের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক বলেন, “চীনে ক্রমবর্ধমান বেসরকারি ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণ কোম্পানিগুলো দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা জোরদার করবে।”
হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিজারভিশন, যা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত, পশ্চিমা ও চীনা ডেটা একত্র করে এআই দিয়ে বিশ্লেষণ চালায়। প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির কার্যক্রম, নৌবাহিনীর চলাচল এবং নির্দিষ্ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান শনাক্ত করার দাবি করে।
তাদের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের সমাবেশ, যেমন বড় দুই মার্কিন রণতরী বহরের অগ্রযাত্রা শনাক্ত করা হয়েছিল।
এছাড়া তারা ইসরায়েলের অভদা এয়ার বেস, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এবং কাতারের আল উইদেদ এয়ার বেস-এ মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ধরন নিয়েও বিশদ তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করেছে এবং মার্কিন রণতরীর জ্বালানি সরবরাহের ধরন পর্যন্ত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ধরনের আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠান জিং’আন টেকনোলজি দাবি করেছে, তারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর সময় দু’টি মার্কিন বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের মধ্যে যোগাযোগ রেকর্ড করেছে। যদিও পরে তারা সেই রেকর্ড মুছে ফেলে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের অনেকে এই দাবিগুলো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
ডেনিস ওয়াইল্ডার, যিনি আগে সিআইএ-এর দায়িত্বে ছিলেন, বলেন, “চীনের গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর চাপ রয়েছে। তাই এসব কোম্পানি নিজেদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাতে পারে।”
তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, চীনের প্রযুক্তি খাত বাণিজ্যিক প্রযুক্তিকে সামরিক নজরদারির অস্ত্রে রূপান্তর করছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চীনের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে—যেখানে সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরান চীনের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী হলেও বেইজিং এখনও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
আন্তর্জাতিক
ইরানে নিখোঁজ থাকা ক্রুকে উদ্ধার করল মার্কিন স্পেশাল ফোর্স
মারাত্মক সংঘর্ষের পর ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ই বিমানের ক্রুকে উদ্ধারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, ভয়াবহ সংঘর্ষের পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (০৫ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ‘প্রচণ্ড গোলাগুলির’ পর বিধ্বস্ত এফ-১৫ই বিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। দবে ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া তথ্যে ওই কর্মকর্তা জানান, নিখোঁজ মার্কিন বিমান সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তিনি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নন। উদ্ধারকারী দলকে এখনো সফলভাবে ইরান থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে ফিরতে হবে।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বিমানটি ভূপাতিত করতে পারলেও এর পাইলট নিরাপদ বের হয়েছেন। তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে মার্কিন স্পেপাল ফোর্স। অভিযোগ উঠেছে, ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে হত্যা করতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এক সাক্ষাৎকারে ওই সূত্র জানায়, দুই দিন আগে ইরানি বাহিনী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর পাইলটকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে এখন তাকে হত্যা করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্রটির দাবি, সম্ভাব্য অবস্থান সন্দেহে কোহগিলুয়েহ ও বয়ের-আহমাদ প্রদেশের কোহগিলুয়েহ শহরের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, পাইলট ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরেকজন ফ্লাইট ক্রু সদস্যকেও খুঁজছে বলে দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তিকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
নতুন পথে হরমুজ প্রণালী পার হলো ভারতীয় জাহাজসহ ৪টি জাহাজ
বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের চাপ কিছুটা কমতে পারে- এমন ইঙ্গিত মিলেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য একটি নতুন পথ ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে। এটি প্রচলিত রুট নয়। ইরান সম্প্রতি যে পথ চালু করেছিল, সেটিও নয়।
এনডিটিভি ডেটাফাইয়ের বিশ্লেষণ করা এআইএস (অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ও রিমোট সেন্সিং ডেটায় দেখা গেছে, অন্তত চারটি বড় জাহাজ এই নতুন পথ ব্যবহার করেছে। এসব জাহাজে তেল, এলএনজি ও সাধারণ পণ্য ছিল। নতুন পথটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এড়িয়ে ওমানের জলসীমার ভেতর দিয়ে গেছে। এমনটাই জানা গেছে এনডিটিভির প্রতিবেদনে।
মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী হাবরুত ও ঢালকুট নামক বড় দুটি তেলবাহী জাহাজ এবং পানামার পতাকাবাহী সোহার এলএনজি জাহাজ প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর কাছে ওমানের জলসীমায় প্রবেশ করে। পরে মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে গিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান জানানোর সিগন্যাল বন্ধ করে দেয়। ৩ এপ্রিল এসব জাহাজকে মাস্কাট উপকূল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে দেখা যায়।
সামুদ্রিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স জানিয়েছে, ঢালকুট ও হাবরুত জাহাজে যথাক্রমে ২০ লাখ ব্যারেল সৌদি ও আমিরাতি অপরিশোধিত তেল ছিল।
সোহার জাহাজটি ২১ মার্চ আল হামরিয়াহ বন্দর থেকে ছেড়েছিল। তবে এতে কোনো পণ্য ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। এআইএস তথ্যে দেখা গেছে, জাহাজটি আংশিক বোঝাই ছিল।
এই তিনটি জাহাজের পেছনে ছিল ভারতের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ। এআইএস তথ্যে এর নাম এমএসভি কিউবা এমএনভি ২১৮৩।
এটি ৩১ মার্চ দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করে। সর্বশেষ অবস্থান পাওয়া গেছে ওমানের দিব্বা বন্দর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের খোলা সাগরে। জাহাজটি বোঝাই ছিল কি না বা কোথায় যাচ্ছিল, তা জানা যায়নি।
বাধা ও ইরানের ‘টোল বুথ’
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এই পরিস্থিতিতে ভারতসহ অনেক দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
এরপর তেহরান জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি দীর্ঘ পথ চালু করে। এই পথ ইরানের জলসীমার ভেতর দিয়ে যায়। কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝের সরু পথ ব্যবহার করা হয় এতে। খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) প্রতিটি জাহাজকে আলাদা করে অনুমতি দেয়। তারা দ্বীপের নৌঘাঁটি থেকে জাহাজের পরিচয় সরাসরি দেখে যাচাই করে।
আরও জানা গেছে, একটি জাহাজ যত ব্যারেল তেল বহন করে, প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার করে টোল নেয় তেহরান।
এই জাহাজগুলো চলাচলের সময়ই কেশম দ্বীপে আইআরজিসির প্রধান নৌঘাঁটিতে বড় আগুন লাগে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অন্তত চারটি গুদামে বিমান হামলার কারণেই এই আগুন লাগে।
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কতটি যুদ্ধবিমান হারাল যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রববার যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান। পৃথক দুটি ঘটনায় একটি এফ-১৫ ও একটি এ-১০ বিমান হারায় যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হলো।
গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে তিনটি এফ-১৫ বিমান ভূপাতিত হয়। বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই সপ্তাহে জানান যে, ওই তিন পাইলট ইরানের ওপর চালানো বিমান হামলায় পুনরায় সম্পৃক্ত হয়েছেন।
গত ১২ মার্চ ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ জেট ট্যাংকার বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন বিমান ক্রু নিহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানটি শত্রু বা মিত্রপক্ষের গুলিতে ভূপাতিত হয়নি, বরং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে অংশ নেওয়ার সময় অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। তারা আরো জানায়, দ্বিতীয় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছিল।
এছাড়া ২৭ মার্চ সিএনএনের জিওলোকেশন করা ছবিতে দেখা যায়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় টারম্যাকে থাকা একটি বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে। সিএনএন জানায়, বিমান ঘাঁটিতে এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হন। সূত্র জানায়, মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি ট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও, গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করে। ধারণা করা হচ্ছে বিমানটি ইরানের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাব ফ্রান্সে, বাড়ছে ডিজেল-পেট্রলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিত করার ঘোষণা দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। দেশটি আমদানি নির্ভর হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফ্রান্স -এর বাজারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দেশটিতে ডিজেলের গড় মূল্য প্রতি লিটারে প্রায় ৪০ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে।
৩০ মার্চ নাগাদ তা প্রায় ২.১৮ ইউরো ছাড়িয়ে যায়, যা ফেব্রুয়ারির শেষের তুলনায় প্রায় ৫০ সেন্ট বেশি।
ফ্রান্সের জ্বালানি খুচরা বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে দেশটির শীর্ষ জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিসের মূল্যনীতি। টোটালএনার্জিস সূত্রে জানা যায়, বাজারের অস্থিরতার মধ্যে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে কোম্পানিটি তাদের সার্ভিস স্টেশনগুলোতে পেট্রলের দাম সর্বোচ্চ ১.৯৯ ইউরো এবং ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ২.০৯ ইউরো নির্ধারণ করেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে গড় মূল্য ইতোমধ্যেই এই সীমার ওপরে অবস্থান করছে এবং বাস্তবে অধিকাংশ এলাকায় দাম আরো বেশি রয়েছে।
এদিকে জনজীবন ও অর্থনীতির উপরও চাপ পড়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। বিশেষ করে ডিজেলনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার কারণে ফ্রান্সে এই প্রভাব তুলনামূলক বেশি দৃশ্যমান। অনেক এলাকায় জ্বালানি স্টেশনে চাপ এবং সীমিত সরবরাহের খবরও পাওয়া গেছে, যা বাজারে উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে।
সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সতর্ক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। তিনি হরমুজ প্রণালি সংকটকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইউরোপীয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এদিকে ব্যাংক অব ফ্রান্স এর গভর্নর ফ্রাঁসোয়া ভিলরয় দ্যা গালো সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী সংকট এখন শুধু ভূরাজনৈতিক ইস্যু নয়—এটি সরাসরি ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।
ফ্রান্সে টোটালএনার্জিসের মূল্য নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও, বৈশ্বিক বাজারের চাপের কারণে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।



