রাজনীতি
১৪৩ আসনে এ-ক্যাটাগরিতে ইসলামী আন্দোলন, কি করবে জামায়াত?
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণের জন্য জামায়াতে ইসলামীর শতাধিক আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল বেশ আগে থেকেই। সে অনুযায়ী ১০ দলীয় (প্রক্রিয়াধীন ১২ দলীয় সমঝোতা) নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণার পর বেশ কিছু আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি দলটি। সমঝোতা চুড়ান্ত হলে আরো আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে তাদের। তবে এর মধ্যে সম্ভাবনাময় অনেক আসন ছেড়ে দেওয়ায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন ১৪৩টি আসনে এ-ক্যাটাগরিতে আছে দাবি করেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম।
নির্বাচনি জোটের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা না দিলেও দীর্ঘদিনের গণসংযোগসহ ভোটের মাঠে নানা তৎপরতা নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করছেন। ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থীর জন্য শুভ কামনাও জানাচ্ছেন তারা। সমঝোতার কারণে আরো অনেক আসন ছাড়তে হলেও এক্ষেত্রে মাঠের অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন কেউ কেউ।
চাহিদামতো আসন এখনো নিশ্চিত করতে না পারায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া চলছে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও। তাছাড়া শেষদিনের আগে সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় বিভিন্ন দল বাড়তি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বেশ অস্বস্তি বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দলের অনুসারীরা সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা করছেন। আসন সমঝোতার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলনসহ অনেকে। তবে আলোচনায় বসলে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী।
মনোনয়নপত্র জমার শেষদিনের আগে গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এতে আগে থেকে আন্দোলনরত ৮ দলের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ (আপ পার্টি)।
অন্য দলগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।
ওই সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, এটা আমাদের একটা মজবুত নির্বাচনি সমঝোতা। এটা জোটের চেয়েও মজবুত। আসন সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটা নমিনেশন জমার পরপরই সুন্দরভাবেই সমাধান করা হবে। পরের দিন ওই প্রক্রিয়ায় এবি পার্টিও অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে।
সূত্রমতে, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ১১ দল মিলে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৭০০ শতাধিক প্রার্থী দিয়েছে।
এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন ২৭২, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯০, খেলাফত মজলিস ৬৭, এনসিপি ৪৭, এলডিপি ২৫টির মতো আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সমঝোতা হওয়া কিছু আসনে একক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও অনেক জায়গায় একাধিক দলের প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া সমঝোতার বাইরে থাকা আসনগুলোতে প্রধান দলগুলো মনোননয়নপত্র জমা দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমার পরদিনই আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম। তাদের দল ১৪৩টি আসনে এ-ক্যাটাগরিতে আছে দাবি করে জামায়াতকে নিয়ে নানা সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিশ্লেষকরা বলছেন তার দাবি যদি সত্যি হয়। তাহলে এখন দেখার বিষয় জামায়াত কি করে?
এ বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরতে মঙ্গলবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং ডাকা হলেও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তা স্থগিত করা হয়। তবে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের অনুসারীরা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন।
এ বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, আসন বিষয়ে যে সমাধান হচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। যে কারণে ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা এসব আসনে নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আলোচনার পথ খোলা আছে। সেটি ভাল জায়গায় গেলে একসঙ্গে আর না হলে আমরা আলাদাভাবে নির্বাচন করব।
সূত্রমতে, নিজেদের ব্যাপক চাহিদার কথা প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন অনুসারীদের প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃণমূল পর্যায়ে চাপা অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
একদিকে সম্ভাবনাময় আসন ছেড়ে দেওয়া, অন্যদিকে সমঝোতায় থাকা কিছু দলের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন তারা। ভোটের প্রকৃত অবস্থা বিবেচনা না করে সমঝোতার সুযোগ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল অবাস্তব আসন দাবি করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তবে জামায়াত মিডিয়া সেল নামের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ রাজনীতিতে এক অনন্য ও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জোটের বৃহত্তর স্বার্থে দলীয় এমপি প্রার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের নিশ্চিত আসন ছেড়ে দিয়ে প্রমাণ করেছেন- ক্ষমতা নয়, আদর্শই তাদের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। এ ত্যাগ কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত নয়; এটি আত্মনিবেদন, শৃঙ্খলা ও সংগঠনের প্রতি নিখাদ আনুগত্যের এক গভীর বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার আমাদের নেতাদের বৈঠক হয়েছে। তাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা চাই চলমান ঐক্য অটুট থাকুক। সব দল যেন সম্মানজনক আসন নিয়ে নির্বাচন করতে পারে।
এজন্য জামায়াতকেই উদার ও ছাড়ের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যত দ্রুত সমাধান হবে ততই লাভ। তিনি বলেন, চূড়ান্ত হওয়া অনেক আসনেও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার পর পুরো বিষয়টা এলোমেলো হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল জানান, আসন সমঝোতা এখনো চুড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনা চলমান আছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাকরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ সমঝোতার নির্বাচন খুব জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসন সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর কোন সমস্যা আছে বলে জানি না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য করতে পারেন। তবে এগুলো নিয়ে বসলে সব সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এমকে
রাজনীতি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাথে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাথে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আসাদুজ্জামান আরো বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। যদি কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে তাহলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কালোবাজারি ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে খাল ও নদী খনন এবং দখল উচ্ছেদের বিকল্প নেই। যে যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন খাল-জলাশয় ও নদী দখলমুক্ত করে খনন করা হবে। আগামী ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঝিনাইদহের শৈলকূপায় খান খনন কর্মসূচীতে অংশ নিবেন বলেও তিনি জানান।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মজিদ, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগন ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি: মির্জা ফখরুল
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তেলিয়াপাড়ার বৈঠক থেকেই মূলত মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণ এবং যুদ্ধের সূচনা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর পরিকল্পনা এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর নেতৃত্বে দেশব্যাপী যুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং সেক্টরভিত্তিক সংগঠনের সিদ্ধান্তও এখান থেকেই আসে।
তিনি আরও দাবি করেন, শেখ মুজিবুর রহমান-এর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, সে সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন ।একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং তা বিকৃত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ এবং দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তেলিয়াপাড়ার বৈঠক থেকেই মূলত মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণ এবং যুদ্ধের সূচনা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর পরিকল্পনা এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর নেতৃত্বে দেশব্যাপী যুদ্ধ পরিচালিত হয় এবং সেক্টরভিত্তিক সংগঠনের সিদ্ধান্তও এখান থেকেই আসে।
তিনি আরও দাবি করেন, শেখ মুজিবুর রহমান-এর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, সে সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন ।একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি এবং তা বিকৃত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ এবং দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
রাজনীতি
গণসংহতির পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হলেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
জোনায়েদ সাকি বলেন, রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।
জুলাই জাতীয় সনদ ইস্যুতে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে সেটা নিয়ে বিতর্ক চলমান। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত প্রাধান্য পাবে।
শুক্রবার দলীয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধান সমন্বয়কারীর দলীয় দায়িত্ব বিষয়ে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়া দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দীন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
রাজনীতি
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন আরও এক নেতা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য আরজু আহমাদ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
এ ছাড়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, আরজু আহমাদ এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সেল এবং ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলেরও সদস্য ছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে আরজু আহমাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দল থেকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ থেকে নয়, বরং বর্তমানে দলকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার কারণে পদত্যাগ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, দল এগিয়ে যাক, এটাই আমার প্রত্যাশা। ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত আমি সময় দিতে পারছি না। দলের জন্য সবসময় শুভকামনা থাকবে। তারা সঠিক রাজনীতিটা যেন করতে পারে, সে প্রত্যাশা থাকবে।
রাজনীতি
জামায়াতসহ ১১ দলের বিক্ষোভ আজ
গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ।
তিনি অভিযোগ করেন সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে৷ বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাটছে উল্লেখ করে এই নেতা জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথের আন্দোলন ছাড়া ১১ দলের আর কোনো বিকল্প নেই৷
তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারই করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে সরকার। জনগণের রায় মূল্যায়ন না করলে, রাজপথে আন্দোলনের বিকল্প নেই।’
হামিদুর রহমান বলেন, ১১ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই৷ শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ১১ দল।
এ সময় তিনি সংসদে সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন এবং জ্বালানি সংকট সমাধানে ব্যর্থতার সমালোচনা করেন৷ এই নেতা জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৭ এপ্রিল বৈঠক করে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করবে ১১ দল।



