রাজধানী
বছরের প্রথম দিনে ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর
জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরে মেগাসিটি ঢাকার বাতাসও দূষিত। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে ঢাকার বায়ুমান কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও আজ ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার থেকে এ তথ্য জানা যায়।
৪২২ স্কোর নিয়ে আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে পাকিস্তানের শহর ‘লাহোর’, যা এখানকার বাতাসের মান নাগরিকদের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। একই সময় ২৯৩ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী ‘দিল্লি’।
এদিকে ২৫৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের আরেকটি শহর কলকাতা। আর ১৭২ স্কোর নিয়ে এ তালিকার ১০ম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ‘ঢাকা’, যা এখানকার বাতাসের মান নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’।
আইকিউএয়ার স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা আইকিউএয়ার ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সাধারণত একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে। যেমন—বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)। বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে থাকে। এটা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
বায়ুদূষণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে।
এমকে
রাজধানী
আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ
প্রতিদিনই কেনাকাটা করতে আমরা কোথাও না কোথাও গিয়ে থাকি। অনেক ভোগান্তি শেষে কোথাও গিয়ে দেখলেন, সেখানকার কার্যক্রম বন্ধ, তখন কাজ তো হলোই না বরং সময় নষ্ট।
তাই বাইরে বের হওয়ার আগে দেখে নিন শনিবার (০৪ মার্চ) রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট, দোকান ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ।
যেসব এলাকার দোকানপাট অর্ধদিবস বন্ধ থাকে
বাংলাবাজার, শ্যামবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজার, চাঙ্খারপুল ও লক্ষ্মীবাজার।
যেসব মার্কেট অর্ধদিবস বন্ধ থাকে
গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, আজিমপুর সুপার মার্কেট, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন ও ইসলামপুর কাপড়ের দোকান।
যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে
শুক্র এবং শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বন্ধ থাকে শিশু একাডেমি ও জাদুঘর। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
রাজধানী
রাজধানীর ফুটপাতে ব্যবসা করা যাবে না, বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে : ডিএনসিসি প্রশাসক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘ফুটপাতে বা রাস্তায় আর ব্যবসা করা যাবে না। তবে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবসার ব্যবস্থা করা হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুরে মুকুল ফৌজ মাঠে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, ‘আমরা বিকল্প স্থানে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেব।
ফুটপাতে বা রাস্তায় আর ব্যবসা করা যাবে না—এটাকে মাথায় রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পূর্বে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ফুটপাতে ব্যবসা করতে সহযোগিতা করত, তারা আর সহযোগিতা করতে পারবে না। ব্যবসায়ীদের সমস্যা রয়েছে- সেসব সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।’
তিনি বলেন, ‘মানবিক কারণে আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি।
চাইলে আমরা ফোর্স নিয়ে উচ্ছেদ করতে পারতাম, কিন্তু তা করিনি। আমরা চাই আমাদের এলাকার মানুষ ব্যবসা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করুক।’
সভায় হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের পক্ষে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। তারা পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, পর্যাপ্ত সময় প্রদান এবং এমন স্থানে পুনর্বাসনের দাবি জানান, যেখানে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বহু বছর ধরে তারা ফুটপাতে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সংকটে পড়তে হবে। তারা পুনর্বাসনের আগে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় প্রশাসক বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধান বের করা হবে এবং এ বিষয়ে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন থেকে ব্যবসায়ীদের একটি টোকেন প্রদান করব, যাতে কোনো চাঁদাবাজ আপনাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতে না পারে।
টোকেন দেওয়ার পর কেউ চাঁদা চাইলে আপনারা দেবেন না, আমাদের জানাবেন—আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
মতবিনিময়সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান, ডিএমপি মিরপুর জোনের ডিসি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রাজধানী
দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসে কী কাজ করেছেন জানালেন ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে নগরবাসীর সেবা ও উন্নয়নে নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সীমিত বাজেটের মধ্যেও নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নগর ভবনের অডিটরিয়ামে গত মার্চ মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
প্রশাসক বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তার লক্ষ্য—নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং ঢাকা দক্ষিণকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা।
তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল নগর গঠনের লক্ষ্যে ২০টি পার্ক ও উদ্যান এবং ১৩টি খেলার মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির নিজস্ব নার্সারি স্থাপনের উদ্যোগও চলছে। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে অঞ্চলভিত্তিক ড্রেনেজ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন আউটলেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৩টি জলাবদ্ধ হটস্পট চিহ্নিত করে পাম্প স্টেশন ব্যবহার, জরুরি সাড়া দল গঠন এবং ছয়টি পোর্টেবল পাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নাগরিক সেবা সহজ করতে কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্দিক বাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধন এবং মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশাসক আরও জানান, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে “ঢাকা রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক” নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০০ একর এলাকা থেকে ল্যান্ডফিল গ্যাস আহরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তি ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি ওয়ার্ডে বিশেষ কার্যক্রম, আধুনিক যানবাহন সংগ্রহ, চালক ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণ, নিউমার্কেট এলাকায় আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে শৃঙ্খলা ফেরাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব খাতে জোর দিয়ে তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ, মোবাইল টাওয়ার থেকে রাজস্ব আদায়, ফ্লাইওভার সংক্রান্ত পাওনা আদায় এবং কেবল লাইন আন্ডারগ্রাউন্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়, পাবলিক হিয়ারিং ডে চালু এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এমএন
রাজধানী
উন্নয়ন কাজে সমন্বয়ের অভাব আর থাকবে না: ডিএনসিসি প্রশাসক
একবার একটি সড়কের কাজ শেষ হওয়ার পর অল্প দিনের ব্যবধানে আবার একই সড়ক খুঁড়ে নতুন কাজ করার প্রবণতা বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে ডিএনসিসির আইডিআরএসপি প্রকল্পের আওতায় মিরপুর-১০ থেকে তালতলা পর্যন্ত সড়ক, ড্রেন ও বাইলেন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন কাজে সমন্বয়ের অভাব আর থাকবে না। একবার একটি সড়কের কাজ শেষ হওয়ার পর অল্প দিনের ব্যবধানে আবার একই সড়ক খুঁড়ে নতুন কাজ করার যে প্রবণতা ছিল, তা বন্ধ করা হবে। শুধু অর্থ লুটপাট কিংবা জনগণের অর্থ অপচয় করার সুযোগ আর দেয়া হবে না।
সেইসঙ্গে ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়ভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুর আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় দীর্ঘ ১৮ বছরের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করাই এখন সবার দায়িত্ব। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হবে।
রাজধানী
ঢাকা উত্তর সিটিতে মশা মারতে পুরস্কার ঘোষণা
মশার উপদ্রব কমানোর কাজে ভূমিকা নিলে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
সোমবার (৩০ মার্চ) গুলশান নগর ভবনে স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে সমন্বিত বাহক ব্যবস্থাপনা (আইভিএম) ও মৌলিক কীট নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিষয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রশাসক শফিকুল বলেন, ‘রাস্তায় হাঁটার সময় মানুষ যেন আমাদের দোষারোপ না করতে পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তাত্ত্বিক জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। মশার যন্ত্রণায় নগরবাসী অতিষ্ঠ। আমাদের দৃঢ় কমিটমেন্ট থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা শতভাগ সফল না হলেও আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হবে।’
আগামীতে মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অনেকাংশে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাজের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রশাসক বলেন, ‘মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সাথে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ডিএনসিসি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমও জোরদারভাবে বাস্তবায়ন করছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে নগরবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হবে।’
মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গতি ও পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক শফিকুল বলেন, ‘যাদের পারফরম্যান্স ভালো থাকবে, তাদের সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।’
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মশক নিয়ন্ত্রণ কৌশল সম্পর্কে আরও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। এ প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং মশক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হবে।’
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ৩টি ‘সি’ (কমিটমেন্ট, কোলাবোরেশন এবং কো-অপারেশন) বাস্তবায়ন করা গেলে কার্যকরভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এ প্রশিক্ষণে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের মশক সুপারভাইজারসহ মোট ৮২ জন অংশ নিয়েছেন। দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদরা প্রশিক্ষণ দেন।



