রাজনীতি
খালেদা জিয়া-তারেক রহমান মনোনয়ন জমা দেবেন আগামীকাল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে আগামীকাল সোমবার। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। বেলা ১১টায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এ মনোনয়ন জমা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
এতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
একই দিন দুপুর ১২টায় বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে এবং বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
এছাড়া ফেনী-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু।
এর আগে আজ রোববার দিনাজপুর-৩ সংসদীয় আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
বিএনপি মহাসচিব ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সব প্রার্থী নিজ নিজ সংসদীয় আসনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
রাজনীতি
যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। পরে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজার জেলার তৎকালীন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সিকদার পাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মৌলভী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পিতার নাম মৌলভী ছাঈদুল হক ও মাতার নাম বেগম আয়েশা হক।
পেকুয়াতে প্রাথমিক পর্যায়ের পড়ালেখা শেষ করে কিশোর সালাহ উদ্দিন আহমদ পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় হতে রেকর্ড সংখ্যক নম্বর পেয়ে ১৯৭৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে কৃতিত্বের সাথে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন ১৯৮০ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএলবি (সম্মান) ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে সনদ লাভ করেন। ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় ১৯৮৫ সালে অংশ নিয়ে তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বিসিএস (প্রশাসন) চাকরিতে যোগদান করেন। বগুড়া জেলা প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসাবে দায়িত্বপালনকালে ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসাবে যোগ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতিসহ সফলতার সঙ্গে আরো বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করেন। কিছুদিন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকাকালে স্বৈরাচারী সরকারের রোষানলে পড়ে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন অনেকবার।
বগুড়া জেলা প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসাবে দায়িত্বপালনকালে ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসাবে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে এই সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে নেমে পড়েন। এরপর ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একটানা তিনবার কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেন। সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করেন। অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করলে সালাহ উদ্দিন আহমদ ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার ইনচার্জ মিনিস্টার হিসাবেও দায়িত্বপালন করেন তিনি। ২০০৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ বছর ২ মাস ওয়ান ইলাভেন সরকারের কারাগারে বন্দী থেকে ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ তিনি কারামুক্ত হন। পরে ২০১০ সালে বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলে সালাহ উদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ভারতের মেঘালয়ের সিলং শহরে নির্বাসিত থাকাবস্থায় বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির উত্তাল সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্বপালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকাস্থ উত্তরার একটি বাড়ী থেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে অচেনা মুখোশধারী অপহরনকারীরা সালাহউদ্দিন আহমদকে চোখ বেঁধে গুপ্ত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে ভারতে পাওয়া যায়। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১১ আগস্ট ২০২৪ সালে তিনি দেশে ফেরেন।
রাজনীতি
সংবিধান পরিবর্তন ছাড়া সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার সুযোগ নেই: আমীর খসরু
সংবিধান পরিবর্তনের আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সুযোগ নেই বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণের পর তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটাতো সাংবিধানিকভাবে করতে হবে। সংবিধান পরিবর্তনের আগে সেটা এই মুহূর্তে করার সুযোগ নেই। সাংবিধানিকভাবে সংসদ চলতে হবে তো।
বিএনপি জোট সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াত জোট সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারা শপথ নেবেন কি নেবেন না, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমরা মনে করি, জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে সংসদে শপথ নিতে হবে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল।
সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির নবনির্বাচিতরা সে অনুযায়ী সংসদের শপথ কক্ষে উপস্থিত হন। সাড়ে ১০টায় তাদের সামনে মাইক নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিচ্ছেন না।
হাতে ফর্ম দেখিয়ে তিনি বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এটা এখনও ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে এবং কোনো এরকম ফর্ম—এটা সংবিধানে নেই।
এই ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে, সাদাটা। এই রকম তখন একটা ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত আমরা এসেছি।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সংবিধান মেনে চলছে এবং আগামী দিনেও চলবে।
পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
এরপর দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা সোয়া ১২টা পর্যন্ত তা শুরু হয়নি।
এমএন
রাজনীতি
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না বিএনপির এমপিরা
বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি বা প্লট নেবেন না বলে জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের সংসদীয় দলের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বিএনপির সংসদ সদস্য কেউ ডিউটি ফ্রি গাড়ি নেবেন না, এমনকি সরকারিভাবে কোনো প্লট নেবেন না।
এমএন
রাজনীতি
শপথ নেওয়ার বিষয়ে যা জানাল এনসিপি
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির আপত্তির কারণে আজ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৬ সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করবেন কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেননি। একইসঙ্গে বিএনপিও জানিয়েছে, তাদের নির্বাচিত সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হন।
শপথ শুরুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দলের কেউই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি এবং বর্তমান সংবিধানে এ পরিষদের বিধানও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এমন বক্তব্যের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না হলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন কিনা তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান।
এনসিপির মিডিয়া সেলের এক সদস্য বলেন, ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে বৈঠকে বসবেন কিছুক্ষণের মধ্যে, সেখানে শপথ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
১১ দলীয় জোট ও এনসিপির নির্বাচিত এক প্রার্থীও একই কথা জানান। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না হলে আমরা শপথ নেব কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বলেন, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের সদস্যরা কিছুক্ষণের মধ্যে সভায় বসবেন।
এমএন
রাজনীতি
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার কারণ জানালেন সালাহউদ্দিন
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্যরা আজ শপথ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শপথ গ্রহণের আগে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এ কথা জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম থাকলেও আমরা (বিএনপি) কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। এ ছাড়া সংবিধানে এটা এখনো ধারণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান সংবিধানে নেই। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলছি, সামনের দিনেও চলব। দলীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন বলেও জানান সালাহউদ্দিন।
এর আগে, আজ সকাল পৌনে ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। এদিন তাদের জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করানোর কথা। তবে বিএনপি আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার কথা বলছে বিএনপি।
এর আগে গতকাল ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন জয়লাভ করেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া এনসিপি শাপলা কলি প্রতীকে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা প্রতীকে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
অন্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে আছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯১ আসনে প্রার্থী দেয় সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে তাদের কোনো প্রার্থীকেই জামানত হারাতে হয়নি। অন্যদিকে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রার্থী দেয়। তাদের মধ্যে তিন প্রার্থী নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।
বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবার ১৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে কেবলমাত্র পাঁচজন তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তাদের মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ বাকি দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থীই তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
এমএন



