জাতীয়
হাদি হত্যার বিচারে ‘দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের দাবি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য একটি দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পেশাদার তদন্ত সংস্থার সহায়তা নিতে হবে। কোনো তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নয়—আমরা চাই প্রকাশ্য বিচার।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাকে আড়াল করা যাবে না। তার হত্যার বিচার করতেই হবে।
তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের জনগণ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, গতকাল (২১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে শহীদ ওসমান হাদির নাম বা তার হত্যার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান আমরা পাইনি। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এই ঘটনাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা মনে করেছে, এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়া যাবে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—বাংলাদেশের জনগণ চুপ করে থাকার জাতি নয়।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবের আরও বলেন, গতকালের বিবৃতিতেই স্পষ্ট—এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আপনাদের (সরকার) কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। কখনো বলেন খুনি ভারতে পালিয়েছে, আবার কখনো বলেন খুনি দেশে রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ কী? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তারা কি শুধু সুবিধা ভোগের জন্য বসে আছে?
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তার হত্যাকে যদি এভাবে অবহেলা করা হয়, তাহলে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমাদের দেওয়া দুই দফা দাবির একটিরও বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো খুনির অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি, এমনকি খুনির ড্রাইভারকেও গ্রেফতার করা হয়নি। কখনো খুনির পরিবার, কখনো সহযোগীদের ধরে এনে বলা হচ্ছে তারা পর্যাপ্ত তথ্য দিতে পারেনি। তাহলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা কোথায়?
বাস্তবতা হলো ইনকিলাব মঞ্চ বারবার তথ্য দিয়ে আপনাদের সহযোগিতা করেছে। আমরা না থাকলে আপনারা আজ পর্যন্ত খুনিকে শনাক্তই করতে পারতেন না। তাহলে প্রশ্ন আসে—এই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাখার প্রয়োজন কী? সব কাজ যদি ইনকিলাব মঞ্চকেই করতে হয়, তাহলে দায়িত্ব আমাদের হাতেই দিয়ে দিন।
তিনি বলেন, আমরা দ্বিতীয় যে দাবি জানিয়েছিলাম, সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা—সে বিষয়ে আপনারা একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। কোটি কোটি মানুষের দাবিকে এভাবে উপেক্ষা করা চরম দায়িত্বহীনতা।
জাবের বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নেয়নি। এই সরকার যদি বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
আইন উপদেষ্টার প্রতি আমরা প্রশ্ন রাখি, দায় এড়িয়ে যাওয়াই কি আপনার একমাত্র দায়িত্ব? জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে দায়িত্ব পালনের জন্য, দায় অস্বীকার করার জন্য নয়। কে বাধা দিচ্ছে, কারা এই তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে—সবকিছু স্পষ্ট করে জাতির সামনে বলুন, তারপর পদত্যাগ করুন। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ড. ইউনূসকেও আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—বাংলাদেশের জনগণ আপনাকে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়েছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। জানাজার মাঠে আপনি শহীদ ওসমান হাদির প্রতি সম্মান জানিয়েছেন, কিন্তু একবারের জন্যও বলেননি, এই হত্যার বিচার কীভাবে হবে। আপনার এই নীরবতা আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—নির্বাচনের আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার ছাড়া কোনো নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। কিন্তু যদি বিচারহীনতা চলতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে। অতিদ্রুত ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে। যদি তারা বিদেশে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।
জাতীয়
মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। সে লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে ৭ এপ্রিল, ২০২৬ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ— এই তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য সব প্রাণের সুরক্ষা আজ সময়ের দাবি। এটাই ‘One Health’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণা, যা মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার চারপাশের প্রাণিকূল ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সমান তাগিদ দেয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রান্তিক অঞ্চল ও দরিদ্র বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কিংবা মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো প্রযুক্তির উদ্ভাবন, ব্যবহার ও প্রসারকে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিশ্বাস করে ‘Prevention is Better than Cure’, অর্থাৎ ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। নির্বাচিত এই সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির ভিত্তিতে উন্নত কল্যাণকামী রাষ্ট্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার আলোকে সকলের জন্য সহজ ও সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
তারেক রহমান বলেন, মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী বা হেলথ কেয়ারার নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ হবেন নারী। এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালু করা, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধীরে ধীরে বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পালন করলে আমরা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সক্ষম হব। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয়
মঙ্গলবার থেকে দুই বেলা বসবে সংসদ অধিবেশন
আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দুই বেলা জাতীয় সংসদ অধিবেশন বসবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সংসদে জানান, ১৩৩টি বিল পাসের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন দুই সেশনে অধিবেশন চলবে।
প্রথম সেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।
এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবারের ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ বাতিল করে সরকারি বিল পাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে আগামী শুক্রবারও অধিবেশন চালানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয়
জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের রোল মডেল হবে : মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ‘আমরা সারা বিশ্বের কাছে জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কিভাবে সৌদি আরবে আরো বেশি দক্ষ ও যোগ্য শ্রমিক আমরা পাঠাতে পারি এবং আমাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে কিভাবে যৌথ কোলাবোরেশন বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া আরবি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের কারিগরি উৎকর্ষকে আমরা কিভাবে ব্যবহার করতে পারি, এমন বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষ (আন-স্কিলড) প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনশক্তি রপ্তানি আরো বাড়ানো। এ বিষয়ে আমরা সৌদি সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমাদের যে তরুণ-তরুণী ও যুবসমাজ রয়েছে, তাদের জন্য দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
তাদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় ভাষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন। ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্বের কাছে জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শ্রমবান্ধব নীতিমালার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ আমরা শ্রম অধিকার সুরক্ষিত রাখব। আগামীর বাংলাদেশে শ্রমিক-মালিক সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এ দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
জাতীয়
সব জেলায় জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ
ব্যবসায়ীদের অনুরোধে দোকানপাট খোলা রাখার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে সরকার। আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকান খোলা রাখা যাবে। এর আগে গতকাল রবিবার এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন ব্যাবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিষয়ে সায় দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
এ ছাড়া মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বেলায়ও একই সময়সীমা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টা পর শপিং মল, দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা।
জাতীয়
ভুয়া নিয়োগপত্র নিয়ে সতর্ক করল ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ভুয়া নিয়োগপত্রের মাধ্যমে প্রতারণার ব্যাপারে সাবধান থাকার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগপত্র প্রচার করা হচ্ছে, যা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। প্রচারিত এ নিয়োগপত্র সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।
এ নিয়োগপত্রের সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোনো সম্পর্ক নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে শিক্ষক নিয়োগের জন্য উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে নিয়োগ কমিটি এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিয়োগে কমিটি রয়েছে। এ নিয়োগ কমিটি কর্তৃক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গণশিক্ষা প্রকল্পের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য কোনো উপায়ে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ভুয়া নিয়োগপত্রের মাধ্যমে এক শ্রেণির প্রতারকচক্র নিয়োগের প্রলোভন দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং প্রতারকচক্রের সঙ্গে কোনোরূপ আর্থিক লেনদেন না করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়।



