ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
মেডিকেলেও ছাত্র সংসদ চায় শিবির, সাড়া নেই প্রশাসনের
স্বায়ত্তশাসিত চারটির পর এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সারাদেশের কলেজগুলোতেও এই সংসদ সচল করার দাবি জানিয়ে আসছেন ছাত্র সংগঠন ও চার সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। তবে অতীতে মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলেও বর্তমানে এ নিয়ে কোনো সাড়াশব্দ নেই কারো পক্ষেই। অবশ্য কিছুটা প্রস্তুতি এগি নিয়েছে ছাত্রশিবির।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। তবে এরপরেও মেডিকেল কলেজগুলোতে নির্বাচনের ধারাবাহিকতা ছিল। বিশেষ করে ঢাকার ২টিসহ পুরনো ৯টি মেডিকেল কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ঐতিহ্য ফুরিয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি।
সুস্পষ্ট তথ্য না থাকলেও ছাত্র সংগঠন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সর্বশেষ ২০০৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ এবং ২০০৬ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। ঢাকার তুলনামূলক নতুন মুগদা ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নির্বাচনের পরিবেশ কখনও তৈরি হয়নি। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজে সর্বশেষ ২০১১ সালের দিকে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তথ্য পাওয়া যায়। তবে তুলনামূলক সাম্প্রতিককালে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এই মেডিকেলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়, যদিও প্রায় এক দশক ধরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসছিল তৎকালীন সরকারি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সর্বশেষ ২০১১-২০১২ সালের দিকে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র শিবির ও স্বতন্ত্র একজন চমেকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। ২০১২-২০১৩ সেশনে ছাত্র শিবির নির্বাচনে প্যানেল জমা দিলেও ছাত্রলীগের হুমকির মুখে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে ২০১৯-২০ সেশন পর্যন্ত একক প্যানেল দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চমেকসুতে গঠন করে সংগঠনটি।
ছাত্র সংগঠন ও মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের আধিপত্যের সময়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে নিপীড়নের নির্মমতায় শিক্ষার্থীরা এখনও এক ধরনের ট্রমায় রয়েছেন। ফলে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধে বেশ সরব তারা। কিন্তু রাজনীতি নিষিদ্ধে যতটা সোচ্চার, নিজেদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম ছাত্র সংসদের দাবিতে তেমন একটা উচ্চকণ্ঠ দেখা যায় না তাদের। বেশ কিছু মেডিকেলে ছাত্র রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলোও এ ব্যাপারে কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।
উদাসীন কলেজ প্রশাসন
ছাত্র সংগঠনগুলোর নীরবতায় উদাসীন দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর প্রশাসন। ঢাকা, স্যার সলিমুল্লাহ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি দেড় বছরেও। এমনকি মেডিকেলগুলোতে ব্যাচভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের ঐতিহ্য থাকলেও কোনো কোনো মেডিকেল কলেজে এ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম বলেন, এই মুহূর্তে ছাত্র সংসদ নিয়ে কোন আলোচনা নেই। কোনো পক্ষেই কেউ আমাদেরকে এ নিয়ে প্রস্তাব দেয়নি। ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম বলেন, এরকম চিন্তাভাবনা এখনো আসেনি। সংসদ নির্বাচনও খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। এই অবস্থায় হয়তো আর কোন কার্যক্রম হচ্ছে না।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল শাহীন বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে ছাত্র সংসদের কোন পরিকল্পনা নাই। আর এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল। বিগত একাডেমিক কাউন্সিলগুলোতে এরকম কোনো এজেন্ডা কেউ প্রস্তাব করেনি।
উদাসীন অন্যরা, প্রস্তুতিতে এগিয়ে ছাত্রশিবির
অপরাপর ছাত্র সংগঠনের তুলনায় ছাত্রশিবির মেডিকেল সংসদ নির্বাচন নিয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে খসড়া গঠনতন্ত্র প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করেছে সংগঠনটি। ছাত্রশিবিরের ঢাকার স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত শাখা ‘মেডিকেল জোন’ এর সভাপতি ডা. যায়েদ আহমাদ বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের সংসদ থেকেও জাতীয় নেতৃত্ব উঠে এসেছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ঢাকা মেডিকেলের দু’বারের নির্বাচিত জিএস ছিলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের থেকে ছাত্র সংসদ বাবদ ফি নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছাত্র সংসদগুলো বন্ধ রয়েছে। এমনকি এ নিয়ে আমরা সুস্পষ্টভাবে কোনো গঠনতন্ত্রও পাইনি। সম্প্রতি নিজ উদ্যোগে আমরা একটা গঠনতন্ত্র প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মেডিকেলগুলোতে গিয়ে গিয়ে কলেজ প্রশাসনকে এই প্রস্তাবনা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এই প্রস্তাবনায় ক্যাম্পাস কিভাবে চলবে তার রূপরেখা থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব উদ্দীন রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজেই ছাত্র সংসদ চাই আমরা। তবে এখন পর্যন্ত বড় চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়েছে। আর কয়েকটিতে নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলমান। এসবে হলে পরবর্তীতে আমরা মেডিকেলের ছাত্র সংসদে জোর দিতে পারব।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছে, দ্রুত অধ্যাদেশ দেওয়া উচিত: প্রশাসক
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) অধ্যাদেশ প্রকাশে কালক্ষেপণ না করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।
তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিপাঠদান শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রমও শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) অধ্যাদেশের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের অবরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা জানান।
অধ্যাপক ইলিয়াস বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রণালয় সর্বশেষ গতকাল জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির খসড়া অধ্যাদেশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ (বাবাকো) খসড়া অধ্যাদেশটির সঠিক ও প্রমিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
এই ধাপ শেষ হলে আরও দুই-একটি ধাপের কাজ বাকি থাকবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদে পেশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের সে পর্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে অধ্যাদেশের বাকি প্রক্রিয়াগুলোও দ্রুত শেষ করা দরকার। সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীরা এখন একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অধ্যাদেশ জারি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করলে এই অনিশ্চয়তা কেটে যাবে।
এর আগে, এদিন বেলা ১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করা হয়। অন্যদিকে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করা হয় দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ। একই সময়ে মহাখালীর আমতলী মোড় অবরোধ করেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
এদিকে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেলে সরকারি বাঙলা কলেজ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার এ কর্মসূচি চলবে তাদের।
রাজধানীর গাবতলী টেকনিক্যাল মোড়ে সমন্বিত এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড়ে একযোগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাকার ৩ পয়েন্টে অবরোধের ঘোষণা ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি করে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর দাবিতে এবার রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘোষিত তিন স্থান হলো- সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে এ কর্মসূচি করবেন তারা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, সাত কলেজের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন ২০২৫’র খসড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। খসড়াটি প্রকাশের পর এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভার আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়াটি হালনাগাদ করেছে। সবশেষ গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবন অভিমুখে টানা অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যেই আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ওই সভায়ই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন হালনাগাদকৃত খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হোক এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হোক- শিক্ষার্থীরা এমনটিই প্রত্যাশা করে।
‘এ অবস্থায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর তিনটি স্থানে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে’ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
গুচ্ছ আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, যুক্ত হলো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়
জিএসটি গুচ্ছভুক্ত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় (২০২৫-২০২৬) নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। একই সাথে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা ফের বাড়ানো হয়েছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় ১২ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি (২০২৬) রাত ১২ টা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি কমিটির সচিব ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময়সীমা গত ৩০ ডিসেম্বর (২০২৫) শেষ হয়েছে। সম্প্রতি নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দু’টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন পেয়েছে এবং গত ১০ জানুয়ারি (২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়টি গুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বর্তমানে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যা ২০টি।
এমতাবস্থায়, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় আগামী ১২ জানুয়ারি (২০২৬) তারিখ দুপুর ১২ টা হতে ১৬ জানুয়ারি তারিখ রাত ১২ টা পর্যন্ত শর্ত মোতাবেক গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যাবে। বিস্তারিত www.gstadmission.ac.bd ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
উল্লেখিত শর্ত, প্রথম পর্যায় (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত) এবং দ্বিতীয় পর্যায় (১২ জানুয়ারি ২০২৬ হতে ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত)-এ আবেদনকৃত সকল শিক্ষার্থী জিএসটি গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত সকল (২০টি) বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির জন্য বিবেচিত হবে।
এছাড়া নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে জিএসটি গুচ্ছের পরীক্ষাকেন্দ্র থাকবে না। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনকারীদের পূর্বের নির্ধারিত কেন্দ্রসমূহের যে কোন একটি প্রাপ্যতা সাপেক্ষে নির্বাচন করতে হবে। প্রথম পর্যায় (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত)-এর কোন আবেদনকারীর এই পর্যায়ে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের কোন সুযোগ থাকবে না।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের নাম (জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে নয়): ১. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ২. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল ৩. পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী ৪. নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী ৫. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ ৬. যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর ৭. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা ৮. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ৯. গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ ১০. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল ১১. রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি ১২. রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, সিরাজগঞ্জ ১৩. ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ, গাজীপুর ১৪ নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোণা ১৫. জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর ১৬. চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর ১৭. কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ ১৮. সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ, ১৯. পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর, ২০. নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ।
সম্প্রতি নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির শর্ত প্রকাশিত হয়েছে। এতে এ (বিজ্ঞান), বি (মানবিক) ও সি (বাণিজ্য)-ইউনিটের মাধ্যমে হিসাব বিজ্ঞান (ACC) বিভাগে যথাক্রমে ১২, ৮ ও ২০ জনসহ মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
অর্থসংবাদ/সাকিব/এসএম
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন ড. মিজানুর রহমান আজহারি
আগামী ১৪ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) যাচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও জনপ্রিয় বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারি। রোববার (১১ জানুয়ারি) জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড. মিজানুর রহমান আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘আধুনিক যুগে ইসলামিক লাইফস্টাইল’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ অনেকেই উপস্থিত থাকবেন।
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান আজহারি বাংলাদেশের একজন খ্যাতিনামা ইসলামিক স্কলার এবং তিনি বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কাছে একটি জনপ্রিয় মুখ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনা করে বুদ্ধিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম—পাঠাশালার উদ্যোগে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং তিনি আসবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
সেমিনারটিতে অংশগ্রহণের জন্য আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় শিগগিরই গুগল ফরমের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আজ, মানতে হবে ৫ নির্দেশনা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের সব জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন পরীক্ষার্থী। কেন্দ্রে প্রবেশসহ একাধিক বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
প্রবেশের সময়: পরীক্ষা বিকেল ৩টায় শুরু হলেও পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই অন্তত ১ ঘণ্টা আগে (দুপুর ২টার মধ্যে) কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর আর কোনো প্রার্থীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
কান উন্মুক্ত রাখা: ব্লুটুথ বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্ত করতে এবার পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে। তল্লাশির সময় প্রয়োজনে টর্চলাইট দিয়ে কান পরীক্ষা করা হবে।
নিষিদ্ধ সামগ্রী: কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ঘড়ি, পার্টস বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব সামগ্রী পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রঙিন প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র ও মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে আনা বাধ্যতামূলক। উত্তরপত্র (ওএমআর) পূরণে অবশ্যই কালো কালির বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। নিয়োগের নামে কোনো অসাধু চক্রের সঙ্গে লেনদেন না করার জন্য প্রার্থীদের সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।



