আন্তর্জাতিক
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। সোমবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ওই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, নির্বাসনে থাকা হাসিনার রায় নজরে নিয়েছে ভারত এবং ‘‘বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’’ রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সর্বদা সকল অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে এই লক্ষ্যে কাজ করব।’ তবে বিবৃতিতে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে হস্তান্তরে বাংলাদেশ সরকারের আহ্বানের কোনও জবাব দেয়নি দিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সর্বদা এই লক্ষ্যে সকল অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করব।’
এর আগে, সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেছে। রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবীরা ছাড়াও জুলাই আগস্টে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
রায়ে আদালত বলেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আজকের রায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনও দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্বও বটে।
হাসিনাকে ফেরত দেবে ভারত?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় শুরু হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ভারত ফেরত দেবে কি না, সেই প্রশ্ন করছেন অনেকে।
রায় ঘোষণার পর কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, ‘হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় প্রত্যাশিত ছিল। তবে ভারত বাংলাদেশের এই পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণ করবে না।’
তিনি বলেন, ভারত কোনও অবস্থাতেই তাকে প্রত্যর্পণ করবে না। গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না এবং অনেক সময়ই তা ভঙ্গুর মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ভেতরের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তার বেশ কঠিন বিচার হবে, এটা প্রত্যেকেই আশা করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুসারেই পরিচালিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা একমত হয়েছেন।
‘নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমন প্রমাণও রয়েছে।’
জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি পাল্টা-বয়ান তৈরির চেষ্টা করবে। কিন্তু সার্বিকভাবে বাংলাদেশিরা মনে করেন, হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।’
আন্তর্জাতিক
তেল শোধনাগারের পর কুয়েতে বিদ্যুৎ-পানি প্ল্যান্টে হামলা
তেল শোধনাগারের পর এবার কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগেই প্ল্যান্টটিতে আঘাত হানার কথা জানানো হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগার।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানায়, হামলায় শোধনাগারের একাধিক কার্যকর ইউনিটে আগুন ধরে যায়, তবে কোনো কর্মী আহত হননি। দ্রুত ঘটনাস্থলে জরুরি ও দমকল বাহিনী পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্থাগুলো শোধনাগারের আশপাশের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর গুজবও তারা অস্বীকার করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক মালিক ট্রাইনা কুয়েত সিটি থেকে জানিয়েছেন, তৃতীয়বারের মতো এই শোধনাগারটি হামলার শিকার হলো। ফলে পুরো দেশজুড়ে মানুষ এখন উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার এবং স্থানীয় জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুয়েত ভৌগোলিকভাবে ইরানের খুব কাছাকাছি—মাত্র প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে—যার কারণে ইরানের পক্ষ থেকে এই ধরনের হামলার জন্য দেশটি সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক
কুয়েতের তেল শোধনাগারে আঘাত হানল ইরানি ড্রোন
কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানির একটি পরিশোধনাগারে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের ড্রোন। এতে সেখানে আগুন লেগে গেছে। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কুয়েতি রাষ্ট্রয়াত্ত্ব বার্তাসংস্থা কুনা এ তথ্য জানায়।
বার্তাসংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, মিনা আল-আহমাদি পরিশোধনাগারে ড্রোন দিয়ে আজ শুক্রবার সকালে হামলা চালানো হয়েছে। এতে সেখানকার একাধিক ইউনিটে আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকারীরা সেখানকার আগুন নেভানোর কাজ করছেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক স্টিলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। তারা বলেছে, বিমানটি ইরানের মধ্যাঞ্চলের উড়ার সময় টার্গেট করা হয়।
শুক্রবার ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ তাদের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ তথ্য জানায়।
পোস্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানটি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও বিধ্বস্ত’ হয়েছে। বিমানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় পাইলটের ব্যাপারে কোনো তথ্যই জানা যায়নি।
ইরানের অপর বার্তাসংস্থা মেহের জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানটিতে পাইলট বের হতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বিমানটিতে এতটাই দ্রুত বিধ্বস্ত হয়েছে যে তিনি আর বের হতে পারেননি।
সূত্র: এএফপি
এমএন
আন্তর্জাতিক
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হলেন সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং
মিয়ানমারের সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মিয়ানমারে অং সান সূচির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর মিন অং লাইং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচন আয়োজন করে এক বছরের মধ্যে বেসামরিক শাসনে ফিরে যাবে দেশটি। তবে নির্বাচনের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে তার সময় লেগেছে পাঁচ বছর।
সংবিধান অনুযায়ী, মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধানের পদ ছাড়লেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি নামমাত্র বেসামরিক শাসন। কারণ নতুন সংসদে তার অনুগতদের আধিপত্য রয়েছে এবং সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত আসনও বহাল রয়েছে।
তিনি নতুন একটি পরামর্শদাতা পরিষদও গঠন করেছেন। এই পরিষদের কাছে বেসামরিক ও সামরিক সব বিষয়ে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রয়োগের ক্ষমতা থাকবে। এক কথায় বলা যায়, সামরিক পোশাক খুললেও ক্ষমতা যেন না কমে সে বিষয়ে সচেষ্ট ছিলেন মিন অং হ্লাইং।
মিয়ানমারে গত নির্বাচনে অং সান সূচির দল বড় জয় পাওয়ার পরই ক্ষমতা দখল করেছিলেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকেই বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ব্যবহার করলে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
দেশটিদে গত পাঁচ বছরে সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়াও ভেঙে পড়েছে দেশটির অর্থনীতিও। বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দখলে এখনো দেশের বড় অংশ রয়েছে। তাদের দমনে সেনাবাহিনী বিমান হামলা ও কঠোর অভিযান চালাচ্ছে।
কিয়াও উইনের মতো তরুণ আন্দোলনকর্মীদের জন্য পরিবর্তনের সব আশা শেষ হয়ে গেছে। ছাত্রাবস্থায় ২০২২ সালের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেলে পাঠানোর আগে এক সপ্তাহ ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, তারা লোহার রড দিয়ে আমার পিঠে মেরেছে। সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে, ছুরি দিয়ে আমার উরুতে আঘাত করেছে। তারপর তারা আমার অন্তর্বাস খুলে নিয়ে আমাকে যৌন নির্যাতন করেছে। তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কিন্তু তারা যে আমার কাছ থেকে কী শুনতে চায় তা কখনোই স্পষ্ট ছিল না।
কিয়াও উইন বলেন, বিপ্লবের প্রতি তার অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে, কিন্তু মিয়ানমারের ভেতর থেকে এখন তিনি খুব বেশি কিছু করতে পারছেন না। তিনি দেশের বাইরে কাজ খোঁজার কথা ভাবছেন।
মিন অং হ্লাইং নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে, যা তার সামরিক প্রভাব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসেবে, বর্তমানে দেশটিতে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনে রয়েছে এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন সেনাপ্রধানের পর অ্যার্টনি জেনারেল বরখাস্ত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের মাঝেই পেন্টাগনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্তের খবর আসছে। এরই মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা রয়র্টাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যার্টনি জেনারেল পাম বন্ডির কাজ নিয়ে তিনি হতাশ ছিলেন। সেই সঙ্গে প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের ধীর গতি এবং প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় অ্যার্টনি জেনারেলের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রধান আইন কর্মকর্তার অপসারণের খবর চাউর হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প জানান, বন্ডিকে এখন বেসরকারি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন চাকরি দেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘পাম বন্ডি একজন মহান মার্কিন দেশপ্রেমিক এবং একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, যিনি গত এক বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে আমার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’
পদ হারানোর পর পাম বন্ডি এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে কাজ করতে পারা তার জন্য জীবনের বড় সম্মানের বিষয় ছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে তার মেয়াদে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রথাগত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
বন্ডির জায়গায় ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করবেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ। তিনি এর আগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বৃহত্তম দুই ইস্পাত কারখানা অচল
ইরানের বৃহত্তম দু’টি ইস্পাত কারখানায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ওই দুই কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া দেশটির রাজধানী তেহরানের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সেতুতেও হামলা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আহভাজ শহরের খুজেস্তান ইস্পাত কোম্পানি ও মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশের মোবারকেহ ইস্পাত কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দেশটির বৃহত্তম ওই দুই ইস্পাত কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এক বিবৃতিতে মোবারকেহ ইস্পাত কোম্পানি বলেছে, ব্যাপক হামলার কারণে আমাদের উৎপাদন লাইনগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটগুলো আগামী অন্তত ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় চালু করার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে খুজেস্তান ইস্পাত কোম্পানির অপারেশন বিভাগের উপপ্রধান মেহরান পাকবিন জানিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি বলেছে, রাজধানী তেহরান থেকে কারাজ শহর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ সেতু’ হিসেবে পরিচিত একটি মহাসড়ক সেতুতে হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন।
এছাড়া তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত কারাজ শহরের অন্যান্য এলাকাতেও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।



