খেলাধুলা
বিসিবি নির্বাচন আজ
সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ, একযোগে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, পরে আরও চার প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা, আদালতে পাল্টাপাল্টি রিট–বিতর্কসহ বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলবে।
তফসিল অনুসারে, ভোটগ্রহণ শেষ হলে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পরিচালক পদে বিজয়ী হওয়া প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন।
১, ২ ও ৩ ক্যাটাগরির একটা বড় অংশ নির্বাচনে নেই। সরে দাঁড়িয়েছেন। এক কথায় হেভিওয়েট প্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচন বয়কট করেছেন। সরে দাঁড়িয়ে প্রথমে ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে নির্বাচন বাতিলের আবেদনের পাশাপাশি তিন দফা প্রস্তাবও দিয়েছেন নির্বাচন বয়কটকারীরা। তারপর ২৪ ঘণ্টা আগে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপিও পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পাঠানো এক চিঠির ওপর কোর্টের রিটের শুনানীর দিন ছিল রোববার (৫ অক্টোবর)। এছাড়া দুদকের পর্যবেক্ষণে থাকা ১৫ ক্লাবের ভাগ্য নির্ধারণের শুনানিও ছিল সেদিন। সব মিলিয়ে অনেক কিছুর সম্ভাবনাই ছিল।
নির্বাচন কি আদৌ হবে? নাকি হঠাৎ স্থগিতের ঘোষণা আসবে? এমন প্রশ্নের উদ্রেকও হয়েছিল। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা আর গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ নির্ধারিত সূচিতেই হতে যাচ্ছে বিসিবি নির্বাচন।
এর আগে কোর্টের নির্দেশে ১৫ ক্লাবের নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ আসায় ৭৬ থেকে ১৫ বাদ দিয়ে ৬১ ক্লাবের কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচন হওয়ার মতো পরিস্থিতির উদ্রেক হয়। কিন্তু আবার নতুন করে আদালত ১৫ ক্লাবের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় ৭৬ ক্লাবের কাউন্সিলররাই ভোট দিতে পারবেন। তবে যারা এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বা তুলে নিয়েছেন তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। যদিও তারা ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন।
তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবুসহ মোট ১৫ প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় খুব স্বাভাবিকভাবেই ঢাকার ক্লাব কোটা মানে ক্যাটাগরি-২ এর নির্বাচনের আকর্ষণ, উত্তেজনা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক কমে গেছে।
তারপরও শেষ পর্যন্ত ঢাকার ক্লাব মানে ক্যাটাগরি-২ থেকে ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে ১২ জন নির্বাচিত হবেন। সেদিক থেকে নামমাত্র নির্বাচন হবে ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা ও বিভাগে। সেখানে ৭২ ভোটে নির্বাচিত হবেন ১০ পরিচালক। এরইমধ্যে নির্বাচন ছাড়াই ৯ জন নির্বাচিত হয়ে গেছেন।
মানে, সোমবারের নির্বাচনে ক্যাটাগরি-১ এ শুধু রংপুর বিভাগে নির্বাচন হবে। বাকি ৬ বিভাগ মানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে আর নির্বাচন হবে না।
অন্যদিকে, রংপুর বিভাগে ত্রিমুখী লড়াই হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান, রেহাতুল ইসলাম খোকা ও মোহাম্মদ নুর এ শাহাদাৎ স্বপন।
ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগেও নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ঢাকার তৃতীয় প্রার্থী রেদুয়ান ফুয়াদ আজ শেষ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। একইভাবে রাজশাহীর হাসিবুল আলমও শেষ মুহূর্তে নির্বাচন না করার কথা জানিয়েছেন। কাজেই চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও বরিশালের মত ঢাকা ও রাজশাহীতে নির্বাচন হবে না।
৫ বিভাগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন যারা-
ঢাকা বিভাগ: আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাজমুল আবেদিন ফাহিম।
চট্টগ্রাম: আহসান ইকবাল চৌধুরী ও আসিফ আকবর।
খুলনা বিভাগ: আব্দুর রাজ্জাক, জুলফিকার আলী খান।
সিলেট বিভাগ: রাহাত শামস।
বরিশাল বিভাগ: শাখাওয়াত হোসেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিসিবির নির্বাচনের সময় ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট পার করছে বিতর্কিত সময়।
খেলাধুলা
অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজের সূচি প্রকাশ হলো
দীর্ঘ ২২ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের আগস্টে অনুষ্ঠেয় এই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি ও ভেন্যু বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার ট্রপিক্যাল কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে শীতকালীন এই সফরের আয়োজন করছে তারা।
সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট, ডারউইনের মারানা স্টেডিয়ামে। ২০০৪ সালের পর এই ভেন্যুতে আর কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।
সর্বশেষ ২০০৩ সালে বাংলাদেশ দল যখন অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিল, তখনও তারা এই ডারউইনেই ম্যাচ খেলেছিল।
দীর্ঘ বিরতির পর ডারউইনের ক্রিকেট ভক্তরা আবারও সাদা পোশাকের ক্ল্যাসিক লড়াই দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি শুরু হবে ২২ আগস্ট, কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। এই ম্যাচটির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে ম্যাকের।
সাম্প্রতিক সময়ে এই মাঠে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দল ও নারী দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও টেস্ট ক্রিকেটের আভিজাত্য এবারই প্রথম স্পর্শ করতে যাচ্ছে এই ভেন্যু।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ফেরানো একটি বড় অর্জন।
তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসে এই অঞ্চলের চমৎকার আবহাওয়া ও বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। আমরা বাংলাদেশকে স্বাগত জানাতে মুখিয়ে আছি।’
এক নজরে সিরিজের সূচি:
১ম টেস্ট: ১৩–১৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টা, মারানা স্টেডিয়াম, ডারউইন
২য় টেস্ট: ২২–২৬ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০টা, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা, ম্যাক
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে এই সিরিজটি উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৩ সালের সেই সফরের পর বর্তমানের আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কেমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এমএন
খেলাধুলা
২০২৮ সালের অলিম্পিকে খেলা নিয়ে শঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর সমালোচনার ঝড় বইছে অস্ট্রেলিয়ার শিবিরে। এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে কি দেখা যাবে স্টিভ স্মিথ-ট্র্যাভিস হেডদের?
১২৮ বছর পর অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছয়টি দল অংশ নেবে বলে জানা গেছে। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খেলবে, বাকি পাঁচটি স্থান মহাদেশভিত্তিক বাছাই বা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জনের নিয়ম এখনও ঘোষণা করেনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি।
যদি আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং বা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সকে মানদণ্ড ধরা হয়, তাহলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ায় তাদের র্যাঙ্কিংয়ে অবনমন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপের সুপার এইটে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনালে উঠতে পারলে অলিম্পিকে সরাসরি সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে কিউইদের। সে ক্ষেত্রে র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে গেলে বাছাইপর্ব খেলতে হতে পারে অজিদের।
তাহলে দ্বিতীয় সারির দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হবে স্টিভ স্মিথ, ট্র্যাভিস হেডদের।
এমএন
খেলাধুলা
বিসিবির যেসব শর্ত মেনে নিল আইসিসি
নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের ছিটকে যাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক ও নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটাল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উত্থাপিত সব শর্ত মেনে নেয়ার পাশাপাশি সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই ঘটনায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেয়া হবে না।
নির্ধারিত ভেন্যুতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের বাইরে রেখে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না বাংলাদেশ যা বিশ্ব ক্রিকেটে বড় আলোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের প্রতি এই আচরণকে শুরু থেকেই ‘অবিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরব ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান ঘোষণা দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে নিজেদের নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। এতে করে আইসিসির সামনে তৈরি হয় বড় ধরনের আর্থিক শঙ্কা। ধারণা করা হচ্ছিল, বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে আইসিসির ক্ষতির অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে ৬ হাজার কোটি টাকা।
এই সম্ভাব্য লোকসানের বিষয়টি মাথায় রেখেই আইসিসি পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় এবং পরে বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসে। আলোচনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একাধিক শর্ত উত্থাপন করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করা যাবে না এবং ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে।
দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত আইসিসি সব শর্ত মেনে নেয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটি জানায়, আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির মধ্যে একটি উন্মুক্ত, গঠনমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইসিসির বিবৃতিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে পূর্ণ সদস্য হিসেবে বিসিবির অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের রয়েছে ক্রিকেটের গর্বের ইতিহাস এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির বিকাশে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রায় ২০ কোটির বেশি আবেগী ক্রিকেটভক্ত নিয়ে বাংলাদেশ যে ক্রিকেটের অন্যতম প্রাণবন্ত বাজার সে কথাও স্বীকার করে নিয়েছে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আইসিসি আরও আশ্বাস দেয়, এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করতে পারার কারণে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে তারা অব্যাহত সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি বিসিবিকে চাইলে ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে যাওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা আসে ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে।
এমএন
খেলাধুলা
আইসিসি ও পিসিবির জরুরি সভায় যোগ দিতে লাহোরে বুলবুল
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের পর্দা উঠলেও মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের নাটকীয়তা এখন তুঙ্গে। বাংলাদেশ ও ভারতের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপস্থিতি এবং পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় টালমাটাল বিশ্ব ক্রিকেট। এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তান গিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
ওই বৈঠকে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে কথা হবে বলে জানা গেছে। এখন দেখা বিষয় কি সিদ্ধান্ত আসে।
ভারতের মাটিতে না খেলার ব্যাপারে অনড় ছিল তারা, বিপরীতে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা সরিয়ে নেওয়ার আহবান জানালেও মানেনি আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে যুক্ত করে।
এরপর অবশ্য ঘটনার জল অনেকদূর গড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। সেই ইস্যুতে আইসিসি ও পিসিবির মাঝে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। যাতে পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ খেলার জন্য রাজি করাতে পারে।
কারণ, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্যায্য দাবি করে শুরুতেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি। তখনই তিনি বিশ্বকাপ বয়কটেরও হুমকি দেন।
যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পাকিস্তান সরকার জানায়, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে খেলবে না ভারত ম্যাচ। ওই ম্যাচের ওপর আইসিসি–সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষেরই বিরাট অঙ্কের আর্থিক লাভ-ক্ষতি নির্ভর করছে। তাই বিষয়টি সমাধানে মরিয়া ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এমএন
খেলাধুলা
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বিকেলে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ
নেপালের পোখারায় আজ দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। লিগ পর্বে ভারতের বিপক্ষে জয় তুলে নেয়ায় শিরোপা জিততে আত্মবিশ্বাসী পিটার বাটলারের দল।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৩টায় শুরু হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোল করেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে ভুটান দুর্বল হলেও শক্তিশালী ভারত আর নেপালকে গুনে গুনে দিয়েছে ৬ গোল। টুর্নামেন্টে নিজেদের স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফাইনালের মঞ্চে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ আবারো পেয়েছে ভারতকে।
দলকে চাপমুক্ত রাখতে ফাইনালের আগের দিনটায় ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করেছেন বাফুফে নারী উইং চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। নানাভাবে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করেছেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। তার বিশ্বাস ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়শিপের শিরোপা ধরে রাখবে বাংলাদেশ।
ম্যাচ নিয়ে গণমাধ্যমকে কিরণ বলেন, আমাদের বয়সভিত্তিক ফল কিন্তু নতুন না। আমাদের ধারাবাহিকতা আছে। আমরা ২০২২ ও ২০২৪-এ পরপর দুবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এবং আমাদের মেয়েরা ফুটসালেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমার বিশ্বাস এবারের ফাইনালেও মেয়েরা ভালো খেলবে এবং ভারতের বিপক্ষে ভালোভাবে জিতে আসবে।
পোখারার বাজে মাঠে ব্যাপকভাবে ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। অনুশীলন করতে গিয়ে চোটে পড়েছেন বেশ কয়েকজন ফুটবলার। ফাইনালে তাদের মাঠে নামা নিয়েও রয়েছে সংশয়। ফুটবলারদের বিশ্রামে রাখতে গেল ম্যাচে ৭-৮ট পরিবর্তন আনেন কোচ। তবে আরও একটা শিরোপা জয়ের আগে কোনো অজুহাতই দাঁড় করাতে চান না ব্রিটিশ জেন্টেলম্যান।
গণমাধ্যমকে পিটার বাটলার বলেন, ভারত কীভাবে খেলবে সে বিষয়ে আমার বেশ ভালো ধারণা আছে। তাদের দলে বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে এবং প্রস্তুত থাকতে হবে। যা হয়ে গেছে তা তো হয়েই গেছে, ওসব পেছনে ফেলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আমাদের এই ম্যাচে নামতে হবে। তবে এটাও খেলায় রাখতে হবে যাতে আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী না হই।
সাফের এই আসরে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ভারত-বাংলাদেশ। পারফরম্যান্স দিয়ে এবার ফাইনালের মঞ্চে দু’দল। শিরোপা নিয়ে দুই অধিনায়ক এমন হাস্যোজ্জল ফটোসেশনে অংশ নিলেও এবার আর শিরোপা ভাগ করতে চায় না কেউই।
এমএন



