আন্তর্জাতিক
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ৬০
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সেবু দ্বীপ। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯। এতে দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে। খবর রয়টার্স।
দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে সেবু দ্বীপের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত বোগো শহরের কাছে। শহরটিতে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের বসবাস। এখানেই চার শিশুসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ভূমিধসে চাপা পড়েছে।
বোগো শহরের কাছাকাছি সান রেমিগিও পৌর এলাকায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তাবুয়েলানে এলাকায়ও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সান রেমিগিও এলাকার একটি খেলাধুলার স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের সদস্য। একই এলাকার আরেক স্থানে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এক শিশু মারা গেছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তা উইলসন রামোস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে। তবে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। রাতের অন্ধকার এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী একাধিক পরাঘাতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভূমিকম্পের প্রভাবে বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় ব্যাপক ধ্বংস সাধিত হয়েছে। এতে সেবু শহরসহ আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে মধ্যরাতের পর ফিলিপাইনের ন্যাশনাল গ্রিড করপোরেশন জানিয়েছে, সেবুসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছে অবস্থিত বানতাইয়ান শহরের ২৫ বছর বয়সী বাসিন্দা মারথাম প্যাসিলান বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ক্ষতিগ্রস্ত গির্জার কাছে ছিলেন। হঠাৎ তিনি গির্জার দিক থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান এবং দেখতে পান পাথর ভেঙে পড়ছে। তবে সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি।
মারথাম বলেন, ‘আমি একই সঙ্গে হতবাক ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। শরীর নাড়াতে পারছিলাম না। কেবল কম্পন থামার অপেক্ষায় ছিলাম।’
আন্তর্জাতিক
অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
একই দিন বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি কোম্পানির স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ এটিকে ইরানি হামলা বলে উল্লেখ করেছে। তবে কোন কোম্পানির স্থাপনায় এই ঘটনা ঘটেছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি মন্ত্রণালয়।
এই হামলার খবর প্রকাশের একদিন আগেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়। এর মধ্যে মাইক্রোসফট, গুগল ও অ্যাপেলের নামও উল্লেখ করা হয়। ইরানের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
হামলার বিষয়ে জানতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি অ্যামাজন কর্তৃপক্ষ।
গত সপ্তাহে অ্যামাজন জানিয়েছিল, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বাহরাইনে তাদের ক্লাউড সেবা অঞ্চলে বিঘ্ন ঘটেছে। এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার ঘটল যে, যুদ্ধের প্রভাবে তাদের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হলো।
প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড কম্পিউটিং ইউনিটটি বহু পরিচিত ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি কোম্পানিটির প্রধান মুনাফার উৎস হিসেবেও বিবেচিত।
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের ভাষণের পর ইসরাইলে আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তাদের যুদ্ধাভিযানের লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর পরই ইসরাইলের দিকে আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। আল জাজিরা।
স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ট্রাম্প। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলো’ প্রায় সবগুলো অর্জিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের ওপর ‘দ্রুত, নির্ণায়ক ও ব্যাপক’ আঘাত হানা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ‘এই অভিযানে এমন ধরনের বিজয় অর্জিত হয়েছে, যা খুব কম মানুষ আগে কখনও দেখেছে।’ যুদ্ধ আর দুই তিন সপ্তাহ চলবে জানিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, এই সময়টাতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা আরও জোরদার করবে এবং তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেয়া’ হতে পারে।
এদিকে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানে হামলা অব্যাহত রাখে। এতে দেশটির লরেস্তান ও মিয়ানেহতে নয়জন নিহত হন এবং বিমানবন্দর ও জেটির ক্ষতি হয়। পাল্টা হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনীও।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা বুধবার ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও জায়নবাদী অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে ১০০টিরও বেশি ভারি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাশাপাশি ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে।
এই সমন্বিত অভিযানগুলো ইরানের অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলোর সাথে যৌথভাবে চালানো হয়। আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুসারে, এই হামলাগুলো ইসরাইলের এইলাত, তেল আবিব ও বেনি ব্রাকে জায়নবাদী সরকারের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে নিশানা করে চালানো হয় এবং এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
শত্রু আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে: ইরানের সেনাবাহিনীর হুঁশিয়ারি
ইরানের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারণা অসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর খতম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ড সদরদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, শত্রুরা আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এরপরই কঠোর ভাষায় বার্তা দিলো দেশটির সেনাবাহিনী।
সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, “আমাদের সামরিক শক্তি ও সরঞ্জাম সম্পর্কে আপনাদের ধারণা একেবারেই অপূর্ণ। আমাদের বিশাল এবং কৌশলগত সক্ষমতা সম্পর্কে আপনাদের বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই।”
“এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে, আপনারা আমাদের মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র, দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ড্রোন, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম কিংবা বিশেষ সরঞ্জামগুলো ধ্বংস করে দিয়েছেন।”
সেন্ট্রাল কমান্ড আরও বলেছে, “আমাদের কৌশলগত সামরিক উৎপাদন এমন সব জায়গায় সচল রয়েছে, যা সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নেই এবং যেখানে পৌঁছানো আপনাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত হামলা চলবে উল্লেখ করে ইরানি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড আরও বলেছে, “আরও বিচূর্ণকারী, বিস্তৃত এবং ধ্বংসাত্মক হামলা হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনারা স্থায়ী, চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ না করবেন।”
সূত্র: আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের টারনেট উপকূলের কাছে নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আশপাশের দ্বীপগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের ফলে স্থানীয় অনেক বাসাবাড়ি ধসে পড়েছে। দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
টারনেটের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বুদি নুরগিয়ান্তো জানান, তিনি ঘরের ভেতরে ছিলেন যখন হঠাৎ দেয়াল কাঁপতে শুরু করে। কম্পনটি এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনুভূত হয়।
তিনি বলেন, আমি বাইরে বেরিয়ে দেখি অনেক মানুষ রাস্তায়। সবাই আতঙ্কিত ছিল… এমনকি কেউ কেউ গোসল শেষ না করেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা সাইফুল স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, শুরুতে কম্পন হালকা ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে তা তীব্র হয়ে ওঠে। আমার ঘরটা খুব জোরে কাঁপতে থাকে, তখন আমরা সবাই দ্রুত বাইরে চলে যাই।
অন্যদিকে মানাদো শহরে ফানলি নামের এক চালক জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে দেন, যাতে গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে গাড়ির ওপর না লাগে।
মানাদোতে অবস্থানরত এক সাংবাদিক জানান, ভূমিকম্পের কারণে তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং দ্রুত বাইরে চলে আসেন। তার মতে, কম্পন বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল, তবে তিনি বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৭ দশমিক ৮ হিসেবে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ নির্ধারণ করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার নর্থ মালুকু প্রদেশের কাছে টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টারনেট ও তিদোরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কিছু ভবনের ক্ষতির ছবিও প্রচার করা হয়েছে।
মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক সুনামি আঘাত হানতে পারে।
প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের উচ্চতার চেয়ে ০ দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এছাড়া গুয়াম, জাপান, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের উপকূলে ০ দশমিক ৩ মিটারের কম উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২ মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে এ অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
আন্তর্জাতিক
ন্যাটো হরমুজ প্রণালিতে অভিযানের জন্য নয়: ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
আন্তর্জাতিক সামরিক জোট ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মধ্যে ফ্রান্স নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির কনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যালিস রুফো বলেছেন, ন্যাটোর মূল লক্ষ্য ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা নয়।
তিনি বলেন, ন্যাটো একটি আঞ্চলিক সামরিক জোট, যার কাজ নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নিরাপত্তা রক্ষা করা।
এটি হরমুজ প্রণালিতে অভিযান চালানোর জন্য গঠিত হয়নি। সেখানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর পরপরই ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয়।
ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোকে হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইউরোপীয় অংশীদারদের প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যাটো সদস্যদের এই অনাগ্রহের কারণে জোটটির প্রতি কটাক্ষও করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। এর আগেও তিনি ন্যাটো মিত্রদের ‘ভীরু’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।



