অর্থনীতি
প্রবাসী আয় বাড়াতে অ-আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব

সরকারের দেওয়া স্বল্প সুদে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা প্রবাসীদের কাছে পৌঁছাতে প্রচার বাড়ানোর সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে অ-আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা করেছে কমিটি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের অ-আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী স্থায়ীভাবে স্বদেশে ফিরে এলে দেশে তাঁর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা প্রদানকারী অফিসে অগ্রাধিকার দেওয়া। দেশে অবতরণকালে বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স প্রেরণকারীর যথাযথ অভ্যর্থনা নিশ্চিত করা এবং ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশেষ ডেস্ক স্থাপন। রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশের যে কোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া।
প্রতিবেদনে আরও কিছু সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়। যেমন– রেমিট্যান্স প্রেরণকারীর সন্তানদের জন্য সরকারি, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা ব্যবস্থা প্রচলন, তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের ফি কমানো, পাসপোর্টসহ দূতাবাসে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া।
কমিটির সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, এম এ মান্নান, এ কে আব্দুল মোমেন, আহমেদ ফিরোজ কবির, আবুল কালাম আজাদ ও রুনু রেজা।
অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রায় তিন দশক ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকারের ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে গড়ে প্রতিবছর প্রবাসী আয় এসেছে ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এতে বলা হয়, রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে সরকারের নীতি-সহায়তার ফলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি সরকারের গৃহীত নীতি-সহায়তার কার্যকারিতার প্রমাণ। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়া প্রবাসী আয়ের গতি বৃদ্ধি করতে নতুন নীতি-সহায়তা প্রদান করলে তা ফলপ্রসূ হতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি কিছু অ-আর্থিক বা নন-ফাইন্যান্সিয়াল সুবিধা দেওয়া হলে তা রেমিট্যান্স প্রেরণকারী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এটি ভবিষ্যতে তাদের অধিক হারে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহিত করতে পারে।
এসএম

অর্থনীতি
বিদেশি সফটওয়্যার ছাড়াই কার্ড ইস্যু করতে পারবে দেশের ব্যাংকগুলো

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র জন্য কোনা কার্ড পারসোনালাইজেশন সিস্টেম (কোনা-সিপিএস) সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে পেমেন্ট ও সিকিউরিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কোনা সফটওয়্যার ল্যাব লিমিটেড।
কোনা-সিপিএস-এর প্রথম গ্রাহক হিসেবে বিশ্বমানসম্পন্ন ইএমভি কার্ড পারসোনালাইজেশন সিস্টেমের মাধ্যমে স্থানীয় ন্যাশনাল কার্ড স্কিম ‘টাকা পে’সহ ভিসা, মাস্টারকার্ড ও ইউনিয়নপে ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক স্কিমে ইএমভি ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ইস্যু করতে পারবে ইসলামী ব্যাংক।
দেশের পেমেন্ট ও ফিনটেক খাতের এ সাফল্য উদযাপনে সম্প্রতি দ্য ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের প্রতিনিধিরাসহ শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা।
কোনা সফটওয়্যার ল্যাবের বাংলাদেশি সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো এমন একটি আধুনিক ও সম্ভাবনাময় কার্ড পারসোনালাইজেশন সিস্টেম চালু হয়েছে। এ অর্জনের ফলে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমবে, সময় বাঁচবে এবং সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রার।
এ বিষয়ে কোনার চিফ বিজনেস অফিসার সিরাজ সিদ্দিকী বলেন, কোনা-সিপিএস-এর মাধ্যমে কোনা সফটওয়্যার ল্যাব প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ আর কেবল বিদেশি প্রযুক্তির ভোক্তা নয়। আমরা এখন দেশীয় উদ্ভাবন ও সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বমানের সমাধান তৈরি করছি। এ অর্জন নিয়ে আমরা আশাবাদী। মনে করি, এ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল পেমেন্টের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের প্রথম সিপিএস বাস্তবায়নে কোনা, ইসলামী ব্যাংক ও অন্যান্য অংশীদারদের অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, এ অর্জন আমাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পাশাপাশি নগদ অর্থবিহীন (ক্যাশলেস) বাংলাদেশ গড়ার পথে শক্তিশালী ভিত্তিস্থাপনে ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ডিজিটাল ব্যাংকিং উইং মোশাররফ হোসেন কোনা এসএল-এর সমাধান তাদের অভিজ্ঞতায় কেমন প্রভাব ফেলেছে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় কার্ড উৎপাদন কারখানা ও পারসোনালাইজেশন ব্যুরো স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে কোনা সফটওয়্যার ল্যাব। এর পাশাপাশি তারা নিজস্ব কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্মত টোকেনাইজেশন সেবা চালু করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।
কোনা সফটওয়্যার ল্যাব বিশ্বাস করে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে, সুরক্ষিত উপায়ে ডিজিটাল কার্ড ইস্যু নিশ্চিত করবে এবং ব্যাংকগুলোকে আধুনিক পেমেন্ট সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
কোনা সফটওয়্যার ল্যাব বাংলাদেশের নেক্সাসপে, নগদ ও রেইনবোসহ আরও কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত সমাধান সরবরাহে কাজ করছে।
অর্থনীতি
বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন ৪ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের চার কর্মকর্তা পরিচালক পদ থেকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- গভর্নর অফিসের পরিচালক মো. সরোয়ার হোসেন, ব্যাংক পরিদর্শন-৩ বিভাগের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক মো. জবদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক অভ্যন্তরীণ আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পদোন্নতি নীতিমালা-২০২২ এর বিধান অনুসারে এই পদোন্নতি কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন নির্বাহী পরিচালক পদে উন্নীত কর্মকর্তাদের দপ্তর পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে বণ্টন করা হবে।
অর্থনীতি
আগস্টের ৩০ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৭ হাজার কোটি টাকা

চলতি আগস্ট মাসের ৩০ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২২ কোটি ৯০ লাখ (২.২৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো এ রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরিয়েছে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলেই রেমিট্যান্সে এ ধারাবাহিকতা এসেছে।
সব শেষ জুলাই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অংক এক অর্থবছরে দেশে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। প্রবাসী আয়ের এমন ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও ডলারের জোগানে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
অর্থনীতি
চড়া সবজির বাজার, বাড়লো আটা-ময়দা ও ডালের দাম

বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম বেশ চড়া। এরমধ্যে বেড়েছে মুরগি, ডিম ও পেঁয়াজের দাম। নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে মুদি পণ্যের দামে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে মসুর ডাল ও আটা-ময়দার। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভোক্তাপর্যায়ে আলুর দামও বাড়তে পারে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে তিন-চারদিন আগেও প্যাকেটজাত এক কেজি আটা কোম্পানিভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতো। এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে, খোলা আটার দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে কোম্পানিভেদে ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।
বাজারে ভালো মানের মসুর ডালের দাম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হলেও এখন দাম উঠেছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। একইভাবে বড় দানার মসুর ডালের দাম বেড়ে ১২৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, চড়া দামে আটকে থাকা সবজির দামে গত সপ্তাহের ব্যবধানে খুব একটা হেরফের নেই। এক কেজি বেগুন এখনো ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০-৮০ টাকা, কচুর মুখি ৮০-৯০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, চিচিংগা-ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। কাঁচামরিচ ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
পেঁয়াজ আমদানি বাড়লেও বাজারে দাম তেমন কমেনি। এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে।
তালতলা বাজারের বিক্রেতা বুলু মিয়া বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেশি। এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজের সমান দামে। ফলে আমদানি থাকলেও তা দাম কমার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারছে না।
কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে দেশি পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকায়।
এছাড়া উচ্চমূল্যে আটকে রয়েছে ডিম ও মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকার মধ্যে। যেখানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৩০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহেও একই দামে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা দরে।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ার ফলে গত কয়েকমাস ধরে লোকসানে আলু বিক্রি করছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে ন্যূনতম মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবে এখনো আলুর দাম সেভাবে বাড়েনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
তারা বলছেন, এতদিন ১২-১৫ টাকা কেজি দরে হিমাগারে আলু বিক্রি হয়ে আসছিল। এখন হিমাগার পর্যায়ে ৭-১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। বর্তমানে খুচরায় যেখানে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে সেই দামে হয়তো ভোক্তারা আর আলু কিনতে পারবেন না।
গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে আলুর হিমাগার গেটে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে খুচরায় সর্বোচ্চ কত টাকা দরে আলু বিক্রি হবে সেটা ঠিক করে দেয়নি সরকার। ফলে বাজারেই আসলে নির্ধারণ হবে আলুর দাম।
কারওয়ান বাজারের আলুর আড়তদার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সরকার দাম নির্ধারণের পরও সামান্য একটু বেড়েছে। আমরা এখন সাড়ে ১৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছি। যখন হিমাগার গেটে ২২ টাকায় আলু বিক্রি হবে তখন আমাদের এটা পাইকারি থেকে কিনতে হবে কমপক্ষে ২৪ টাকায়। অন্যসব খরচ মিলিয়ে এটি আমাদের তখন বিক্রি করতে হবে ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে। এর প্রভাব খুচরায় পড়বে এবং দাম কিছুটা বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুচরায় ৩৫-৪০ টাকা উঠে যেতে পারে আলুর দাম। তবে সরকার যদি সরবরাহ চেইনে ঠিকঠাক মনিটরিং করে তবে খুচরা পর্যায়ে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আলুর দাম এখনো সেভাবে বাড়েনি। এখনো আগের দাম ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অর্থনীতি
জুলাইয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে আসল ও সুদের প্রায় ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
গত অর্থবছরের (অর্থবছর-২৫) জুলাই মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৩৮৫.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার আসল বাবদ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের পরিশোধ করেছে ৩২৭.৭২ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ২৬৪.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে ১১৮.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ১২০.৭৯ মার্কিন ডলার।
তবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পেয়েছে ২০২.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে নতুন প্রতিশ্রুতি এসেছে ৮৩.৪৬ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ১৬.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে ৪.০৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছিল।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ৮.৩২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের ১০.৭৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম।
একইভাবে ঋণ বিতরণও কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১০.২৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সর্বাধিক ঋণ বিতরণ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭৭.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক ৫৯.০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া জাপান ১৭.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারত ১৩.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা ৩৫.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ বিতরণ করেছে।