Connect with us

মত দ্বিমত

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন ব্যাংকস

Published

on

বিনিয়োগকারী

২০২৩ সাল ছিলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জয়জয়কার। চ্যাট জিপিটি আসার পর আমরা বুঝতে পেরেছি ভবিষ্যৎ দুনিয়া কোথায় যাচ্ছে।

যেমনটি আমরা বুঝতে পেরেছিলাম কোভিড-১৯ আসার পরে। অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগের চেয়ে কয়েকগুন বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যাংক গুলো ট্রাডিশনাল মুড্ থেকে ডিজিটাল ব্যাংকিং এর দিকে আগাচ্ছে।

উন্নত বিশ্বে ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে এআই কার্যকরী করা শুরু করে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কি করা যেতে পারে ব্যাংকগুলোতে এই এআই দিয়ে।

ভবিষ্যত দুনিয়া সব ধরণের সিদ্বান্ত হবে ডাটা দিয়ে। ব্যাংকগুলো এআই দিয়ে ডাটা এনালাইসিসের একটা বড় অংশ করে ফেলতে পারবে এই এআই দিয়ে। আপনি এআই দিয়ে ডাটা এনালাইসিস করে খুব সহজেই কাস্টমাইজড মেসেজ দিতে পারবেন। ধরুন আপনার ব্যাংকে কারও সেলারি একাউন্ট আছে এবং প্রতি মাসে তার খরচের পরে কিছু টাকা জমা থাকছে। আপনি চাইলে এই ধরণের কাস্টমার গুলোকে খুব সহজে ডিপএস করার জন্য নোটিফাই করতে পারেন। এখন কথা হচ্ছে এই লোক গুলোকে কিভাবে আলাদা করবো। আপনি এআই দিয়ে খুব সহজে এই ডাটা গুলোকে আলাদা করতে পারবেন এবং তার সাহায্যে ওদেরকে কাস্টমাইজড প্রমোশন করতে পারবেন।

মানি লন্ডারিং একটিভিটি ট্রাক করতে পারবেন এআই দিয়ে। আমরা জানি প্রতিটি একাউন্টের একটি ট্রান্সাকশন প্রোফাইল থাকে , তাতে আপনি উল্লেখ করে দেন আপনার লেনদেনের পরিধি কি হবে।

আপনি এআই দিয়ে প্রতিটি একাউন্টের ট্রান্সাকশন প্রোফাইল অনুযায়ী ডিটেক্টর বাসাতে পারেন যেন যেকোন একাউন্টের লেনদেন তার প্রোফাইলে দেয়া এমাউন্টের বাইরে গেলে সাথে সাথে ডিটেক্ট করে এলার্ট দিবে।

চ্যাট জিপিটি , গুগল বার্ড আসার পর আমরা বুঝতেই পারছি ভবিষ্যতে কাস্টমার সার্ভিস সম্পূর্ণ চলে যাবে এআই চ্যাটবটের হাতে। এআই চ্যাট বট ব্যবহার করে আপনি জেনারেল ইনফরমেশন প্রদানের কাজটি খুব সহজে করে ফেলতে পারবেন। বর্তমানে আমরা যে ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপস ব্যবহার করি আপনি এআই ব্যবহার করে সবার জন্য আলাদা আলাদা ইউজার প্রিফারেন্স অনুযায়ী কাস্টমাইজড ড্যাশবোর্ড বানাতে পারবেন।

২০৩০ সাল নাগাদ সাইবার সিকিউরিটির একটা বড় অংশের কাজ চলে যাবে এআই এর হাতে। এছাড়া আপনি চাইলে এআই প্রোএক্টিভ চ্যাট বট দিয়ে কাস্টমারকে ফাইনান্সিয়াল এডভাইস দিতে পারবেন।

সবচেয়ে ইন্সটারেস্টিং বিষয় যেটা তা হচ্ছে চ্যাট বট কাস্টমার বিহেভিয়ার এমন ভাবে এনালাইসিস করবে কাস্টমার তার ভবিষ্যতে কি চাইবে সেটি বলে দিতে পারবে।

লেখক: মো. আরিফুর রহমান, ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট, উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

মত দ্বিমত

চীনের সঙ্গে সংস্কৃতি বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা

Published

on

বিনিয়োগকারী

সংস্কৃতি বিনিময় বিশ্বায়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিনিময় বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটতে পারে। যেমন- বাণিজ্য, অভিবাসন, পর্যটন, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। চীনের সাথে আমাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো। চীনের সাথে আমাদের সংস্কৃতি বিনিময় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। আমরা আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চীনের হিউয়েন সাং এবং ফা-হিয়েনের লেখনী থেকে অনেক কিছু জেনেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫০ এর দশকে চীন ভ্রমণ করেছেন। সেই সময় তার লেখা “আমার দেখা নয়া চীন” বই থেকে আমরা চীনের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছি।

বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং ছাত্র-ছাত্রী চীনে বসবাস করছেন। যার ফলে তারা চীনা ভাষা, সংস্কৃতি, চীনের প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং আমাদের সংস্কৃতি সেখানে তুলে ধরতে পেরেছে। ঠিক তেমনি অনেক চীনা নাগরিক বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসছে। যার মাধ্যমে তারা আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পেরেছে। ফলে উভয় দেশের মধ্যে আমাদের সংস্কৃতি বিনিময় হচ্ছে। এছাড়া তাদের প্রযুক্তি দিয়ে তারা আমাদের সহযোগিতা করছে। এই বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে।

বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বর্তমানে বাংলাদেশর সাথে চীনের অনেক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। যার মনোহর এবং দূরদর্শিতা পূর্ণ নেতৃত্বের মাধ্যমে চীন তথা সারা বিশ্বের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে চীনের সহযোগিতায় আমাদের ১৪ টি মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। আরো অনেক প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমরা যদি চীনের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে পারি তাহলে তা আমাদের অর্থনীতিতে খুব ভালো একটি প্রভাব ফেলতে পারে। এতে দুই দেশ একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারবে এবং নির্বিঘ্নে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

উদাহরণ হিসেবে আমরা আফ্রিকার দেশ মরিশাস এবং কম্বোডিয়াকে দেখতে পারি। চীনের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর মরিশাসের প্রায় ১৫ শতাংশ বাণিজ্য ঘাটতি কমে গিয়েছে এবং চীনে কম্বোডিয়ার রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। চীনে আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার হতে পারে আম পাট-পাটজাত পণ্য এবং চামড়া জাত পণ্য। ১৪০ কোটি মানুষের এই বড় বাজারে আমাদের দেশীয় পণ্যের অনেক বড় সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের সাথে যদি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা যায়, তবে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় বিপ্লব ঘটবে।

সৈয়দ রাকিবুল ইসলাম (রাকিব)
সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চীন শাখা।
চীন বাংলাদেশ বিনিয়োগ পরামর্শক।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

কেন বেসিস এফিলিয়েট সদস্যদের হয়ে কাজ করতে চাই?

Published

on

বিনিয়োগকারী

বাংলাদেশ ডিজিটাল থেকে স্মার্ট হচ্ছে, এই স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের আইসিটি ইকোসিস্টেমের স্বনির্ভরতা ও বলিষ্ঠ ভূমিকা সব থেকে বেশি জরুরী এখন। আমাদের দরকার দেশীয় সফটওয়্যার নির্ভরতা, যার শুরু আমরা দেশীয় ইকমার্স, লজিস্টিক, ফিন্টেক, ইন্টারনেট, ইন্স্যুরেন্স, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি, পেমেন্ট গেটওয়ে, এডুটেক, ই-মিডিয়ায় আমাদের দেশীয় সফটওয়্যার এস্টাব্লিশমেন্টে মাধ্যমে করতে পারি।

বিগত এক যুগের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি পদচারনায় কাছে থেকে দেখেছি একটি ডিজিটাল বাংলাদেশের গড়ে উঠায় বেসিস সদস্য তথা আপনাদের অবদান, নতুন নতুন উদ্ভাবনে বাংলাদেশের একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া দেখেছি, নিজে চেষ্টা করেছি এনালগ কুরিয়ার টু ডিজিটাল লজিস্টিক ইকোস্টিম নিয়ে কাজ করার। আপনাদের সকলের দোয়ায় ইকুরিয়ার দেশের অন্যতম ই-লজিস্টিক কোম্পানি হিসেবে কাজ করছে।

এই যে দৈনিক ৫০ হাজার সমগ্র দেশের ই-পার্সেল এখন ১০ লাখের উপরে চলে আসছে তা আমাদের ই-লজিস্টিক পরিবারের কারণেই সম্ভব হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের অন্যতম সেরা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ডটলাইন্সের কন্সার্ন কার্নিভাল এসিউরের ডিরেক্টর হিসেবে ইন্সিউরেন্সকে মানুষের জন্য সহজ লভ্য করতে কাজ করছি। আমি আশা করি বাংলাদেশের সমগ্র ব্যবসা পরিস্থিতি একদিন স্মার্ট হবে, সব ধরনের ব্যবসা একসময় সফটওয়্যার অটোমেশনের মধ্য দিয়ে যাবে, তাই এখনি সেরা সময় কিভাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কোলাবরেশনের মাধ্যমে আমরা ১০০% দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমেই এই চাহিদাগুলি পূরণ করতে পারব।

আমরা দেখেছি এনালগ টাকা লেনদেনকে মোবাইল মানি ট্রান্সফার এ রূপান্তর হতে, ১৭ কোটি মানুষের দেশে ২২ কোটি মোবাইল ফাইনান্স একাউণ্ট হতে, দৈনিক ১ হজার ৩৪ কোটির উপরে লেনদেন হতে, ৯০ কোটির উপরে ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট হতে।

আমরা দেখছি খাতা কলম ছাড়ায় ডিজিটাল বিলিংয়ে ইন্টারনেট কানেকশন চলতে, আমরা দেখছি ওয়্যারলেস ইন্টারনেট এরিয়া গড়ে উঠতে, প্রায় দেড় কোটির ইউজার বেজ নিয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে রেভুলেশন হতে।

দেশীয় উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের শুরুতেই বৈদেশিক সফটওয়্যারে বিনিয়োগ যেমন অনেক খরচের, তেমনি দেশের জাতীয় রাজস্বের জন্য ক্ষতিকর, দেশীয় উদ্যোগ গুলির জন্য বিশেষ সুবিধায় এন্ট্রারপ্রাইজ লেভেল সলিউশন ব্যবহার করতে পারা হবে আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী যা আমাদের অতিরিক্ত খরচ বাঁচাবার পাশাপাশি লোকালাইজড কাস্টোমার এক্সপেরিয়েন্স পেতে সহায়তা করবে।

এছাড়া এফিলিয়েট ক্যাটেগরির সদস্যদের ব্যবসার ধরন নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞায়ণ ও আমাদের ব্যবসা বান্ধব ভ্যাট ট্যাক্স পলিসি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। পলিসি মেকিং ও পরামর্শ পর্যায়ে ব্যবসায়িক কমিউনিটি গুলির ঐক্যবদ্ধ থাকার উদ্যোগ ও এ সময়ে জরুরী বলে মনে করি।

পরিশেষে বিশ্বাস করি দেশের এই সুবিশাল সক্ষম সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর সাথে- ই-কমার্স, লজিস্টিক, ফিন্টেক, ইন্টারনেট, ইন্স্যুরেন্স, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি, পেমেন্ট গেটওয়ে, এডুটেক, ই-মিডিয়ার ব্রিজিংয়ের মাধ্যমে দেশের সফটওয়্যার ও আইসিটি পলিসি প্রণয়ন ও দেশীয় সফটওয়্যার বাজারের ক্রমানুপাতিক উন্নয়নে বেসিস এফিলিয়েট সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে এক সাথে পথ চলা জরুরী।

বিপ্লব ঘোষ রাহুল, পরিচালক, কার্নিভাল অ্যাসিউর লিমিটেড।

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

মেঘনার চরে ব্যাংকিং ভাবনা

Published

on

বিনিয়োগকারী

ভৌগলিক কারণে চাঁদপুর জেলায় বেশ কিছু চর রয়েছে। আয়তনে সদর উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন রাজরাজেশ্বরে এই চরের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। পদ্মা ও মেঘনা চাঁদপুরের কাছে একত্রিত হয়ে সবচেয়ে পরিচিত যে মোহনা তৈরি করেছে তা রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের অন্তর্গত। এ মোহনার চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন আকারের অসংখ্য চর। এসবের মধ্যে বোরো চর, বাহের চর, খুনের চর, সুপরিচিত বালুর চর- যা ‘মিনি কক্সবাজার’ নামেও পরিচিত। এর চারদিকে নদী হওয়ায় এবং কিছুটা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো দেখায় বলে পর্যটকরা এর নাম দিয়েছেন মেঘনার চর। স্থানীয়ভাবে বালু চর, পদ্মার চর ও মেঘনার চর নামেও এর পরিচিতি রয়েছে। চরগুলো নিরাপদ নৌযানে সহজেই বিচরণযোগ্য এবং বেশিরভাগই জনবসতিপূর্ণ। তাই এক ঝলকেই চরের জীবনধারার সঙ্গে প্রাকৃতিক উৎপাদন, পর্যটন ব্যবস্থাপনার সৌন্দর্য বিলানো মনে রাখার মতোই অনন্য অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা জাগাতে পারে।

সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলীয় মেঘনায় নতুন নতুন চর জাগছে। ইতোমধ্যে জেগে ওঠা অন্তত এক হাজার বর্গকিলোমিটার চরাঞ্চলে মানববসতি গড়ে উঠেছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও বিশাল চর জেগে ওঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, যে হারে চর জাগছে তাতে এই চরের আয়তন হবে আরেকটি জেলার সমান। এতে একদিকে দেশের হাজার হাজার নদীভাঙ্গা অসহায় ভূমিহীন মানুষ চর আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। অন্যদিকে এসব চরে পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ, বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য প্রকল্পসহ বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হলে জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির দ্বার উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত সরকারি নীতিমালা ও গাইড লাইন প্রাপ্তি ঘটলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মেঘনার পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত বহেরারচর মৌজার সাহেবগঞ্জ বাজারে ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের জন্যে ব্যাংকগুলোকে আহ্বান জানান চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। জেলা প্রশাসকের মিলনায়তনে জেলার সরকারি ও বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকের কৃষি বিনিয়োগ বা ঋণ বিতরণ ও আদায় অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় চাঁদপুরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরত ব্যাংকসমূহের শাখা প্রধান এবং প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিনে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবি ইউনিয়নের ইমামগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চাঁদপুর শাখার কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সাথে লেখকও ছিলেন।

দুগর্ম চরাঞ্চলের পর্যবেক্ষনে যাত্রার শুরুতেই হোঁচট খায় লেখক ও তার সহচরগণ। ইমামগঞ্জ বাজারে গমনের উদ্দেশ্যে আলীনগর ঘাট থেকে সকাল এগারটায় ট্রলার ভাড়া করতে গেলেও মাঝি জানান এ ট্রলারটি আজ আর ফেরত আসবে না। কারণ আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ট্রলার চালকগণ নির্দিষ্ট সময়ে যাতায়াত করেন। আবহাওয়া বিরূপ হলে যাত্রা ক্ষেত্রবিশেষে স্থগিত বা অন্য কিছু হতে পারে। মেঘনার মেজাজ কড়া হলে ট্রলার মাঝির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গন্য হয়ে থাকে। কারণ, এখানে মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত। পরবর্তীতে আরেকটি ট্রলার ভাড়া করে গেলেও বাতাসের গতি আর মেঘনার ঢেউয়ের ছেলেখেলায় ভীতগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন পুরো দল। এই মেঘনার স্রোতের হুগলি ঘূর্ণিতে কত দক্ষ মাঝি আর সাহসী যাত্রী তলিয়ে গেছে তার হিসেব নেই।

মেঘনার এ অংশটুকু লোয়ার মেঘনা নামে পারিচিত। নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষরস্রোতা মেঘনার এ অংশের গড় গভীরতা প্রায় ৫০০ মিটারের ওপর। সুরমা-কুশিয়ারা মিলন স্থল কিশোরগঞ্জের মাদনা পর্যন্ত আপার, মাদনা, ভৈরব, ষাটনলের পর পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল পর্যন্ত সাধারণত মিডল মেঘনা নামে পরিচিত। ইসলামী ব্যাংকের প্রতিনিধি দল মেঘনার প্রবল বাতাস ছাপিয়ে যখন ইমামগঞ্জ বাজারে পৌঁছেছে, তখন ঘড়ির কাঁটায় সময় বেড়েছে এক ঘন্টা ৪০ মিনিট।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সফরকালে পুরো চরাঞ্চলে কোন পাকা দালানের দেখা মিলেনি। জানা যায়নি, ভাঙা গড়ার এ নবগঠিত বিশাল চরাঞ্চলটি প্রকৃত আয়তন। তবে অধিকাংশ চরাঞ্চল হাইমচর এবং চরভৈরবি ইউনিয়নের অন্তর্গত। উঁচু ও পূর্বাংশে চাঁদপুর, উত্তর-পশ্চিমাংশে শরীয়তপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ বরিশাল জেলার লোকজনের বসতি। সময়ের দ্রুতগতি সবুজ সমারোহের ফসলী হাব দৃষ্টি নন্দন বিশুদ্ধ বায়ুর এ চরে ঘুরাফেরা সেদিন সংক্ষিপ্ত করে দেয়। তাছাড়া এ চরগুলোতে আগন্তুক বা দর্শণার্থীদের জন্যে ক্ষুন্নিবৃত্তির তেমন ব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠেনি। যাতায়াত ব্যবস্থাও বেশ সংকটাপন্ন। রবি শস্যের আচ্ছাদনে সবুজ মাঠ চিরে প্রায় ৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা মাড়িয়ে সেদিন পর্যবেক্ষণ শেষে গন্তব্যে ফিরে প্রতিনিধি দল।

চরাঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রতিনিধি দল চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সাথে একমত পোষণ করেছে। তাদের মতে, সরকারের ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং নীতিমালা অনুসারে অভ্যন্তরীন কৃষিজ উৎপাদনের বিশাল এ হাব ও জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা জরুরি। মাঝে মাঝে চরাঞ্চল পরিদর্শন করে ব্যাংকারগন ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা ব্যাংকিং সেবা জ্ঞান, হিসাব খোলা বা তথ্যাবলী সেই এলাকার মানুষকে ব্যাংকিং সেবার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে। সঞ্চয়ে আগ্রহ বাড়ানো, প্রবাসী সেবা, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর উপকারিতা, সরকারি বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপের ধারণাগত জ্ঞান দানে ব্যাংকারগণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ক্রমান্বয়ে এজেন্ট, ডিজিটাল বা মোবাইল ব্যাংকিং এ অভ্যস্ত করে কৃষি ঋণ বা বিনিয়োগ গ্রহন যোগ্যতা এবং রিপেমেন্ট ক্রাইটেরিয়া, ক্যাপাসিটি জ্ঞান প্রদান করা যেতে পারে। এভাবে এলাকার জনগনকে একটি ব্যাংকিং জেনারেশন হিসাবে গড়ে তোলা যেতে পারে। তবে ব্যাংক হিসাবে দুর্গম, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রত্যন্ত এ অঞ্চলে জনগনের রক্ষিত আমানত-বিনিয়োগ, ঋণ প্রদান, স্থানীয় খরচের সীমিত সিলিং, মনিটরিং, বিনিয়োগ বা ঋণ আদায়ে বেসরকারি ব্যাংকের জনবল ও লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি কোন বিশেষ গাইডলাইন, ব্যাংকারদেরদের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম এ চরাঞ্চলের জন্যে অতিরিক্ত সুবিধা সম্বলিত কোন পরিপত্র জারি করে, তবে বিশাল এ চরাঞ্চল সম্ভাবনাময় উৎপাদন হাব হিসেবে ফুলে ফলে সুশোভিত হবে এবং দেশ অভ্যন্তরীন উৎপাদনে নতুন দিগন্ত খুঁজে পাবে।

মো. নূরুজ্জামান
ভিপি এন্ড শাখা প্রধান, চাঁদপুর শাখা
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রায় প্রশাসনের সাথে জনসচেতনতা জরুরী

Published

on

বিনিয়োগকারী

ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে ঘরমুখো মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে নগর ছাড়ছে। নিরাপদে বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা সবার।

এদিকে ঈদযাত্রায় একই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পরিবহনগুলোর। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হয়। তবে প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় যাত্রীদের সচেতনতার অভাবে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে সামান্য ভুলের কারণে দুর্ঘটনাবশত সঙ্গে থাকা মূল্যবান মালামাল হারানোসহ হতাহতের মতো ঘটনা ঘটছে। তাই কেবল সরকারের তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, যাত্রাকালে সাধারণ মানুষ যথাযথ নিয়ম মেনে চললে, তা তাদের নিজের ও অপরের জন্য স্বস্তি এনে দিতে পারে।

আবার ঈদের সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। ভিড়ের মধ্যে কিছু অসাধু চক্র মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে থাকে। তাদের দ্বারা চাঁদাবাজি, চুরি ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে যাত্রীরা বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়েন। এছাড়া বাস, ট্রেন বা অন্যান্য ছোট যানবাহনে অনেক সময় যাত্রীরা অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ভিড়ের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা প্রায়শই ঘটতে দেখা যায়। তাই যাত্রা নিরাপদ করতে এ বিষয়ে মাইকিংসহ পোস্টার বা লিফলেটের মাধ্যমে যাত্রীদের সর্তক করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

অন্যান্যবারের মতো এবারও সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা ভোগান্তিমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করতে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ। সড়কে যানজট নিরসন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানামুখী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ঈদের আগে ও পরে ৩ দিন করে মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখা; যানজটের স্পটগুলো আগে থেকে চিহ্নিত করে সেসব স্থান নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা এবং সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ইদের ৭ দিন আগে শেষ করা ইত্যাদি। সেই সঙ্গে ইদযাত্রায় সড়কে কোনো আনফিট বা লক্কর-ঝক্কর গাড়ি সড়কে না চালাতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

ঈদ উদযাপনের জন্য কর্মজীবী মানুষের বাড়ি ফেরাকে ঘিরে অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল বেড়ে যায় বহুগুণে। সেক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যেমন- যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানো, আগাম টিকিট বিক্রি ইত্যাদি। তবে অনেক সময় দেখা যায়, অসাধু ব্যক্তিদের অতিরিক্ত উপার্জনের মানসিকতা, অনুমোদনহীন ও আনফিট গাড়ি সামান্য জোড়াতালি দিয়ে দ্রুত মেরামত করে চলাচল শুরু করা এবং অনভিজ্ঞ চালক নিযুক্ত করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এবার ঈদে সড়কপথে ঢাকা ছাড়ছে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ। ঈদের আনন্দ শুরুই হয় যেন ভোগান্তি দিয়ে। ঈদের আগে তীব্র যানজটের কারণে যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কে আটকে থাকা যেন চিরায়ত ঘটনা। এ সময় ঘরমুখী মানুষ বহন করা গাড়ি যেন সড়কে স্থবির হয়ে পড়ে।

যানজটসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগ নিয়ে এক ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ অবস্থা। ঈদযাত্রা যেন কে কার আগে যেতে পারবে, সেই প্রতিযোগিতা।এসব দুর্ভোগের মধ্যে যে যেভাবে পারছে, বাড়তি মূল্য হাঁকিয়ে বসছে; বাস, সিএনজি থেকে শুরু করে রিক্সা, অটোর মতো ছোট ছোট যানবাহনগুলোও। এমন পরিস্থিতি যাত্রীদের জন্য বেশ বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে। তবে সম্প্রতি সড়কপথে সরকারের নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচির ফলে যানজট পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কমে আসছে। এর মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে চার লেনের সড়ক ব্যবহার, পদ্মাসেতু তৈরি, রাজধানীতে মেট্রোরেল ও এক্সপ্রেসওয়েগুলো যানজট কমাতে ভূমিকা রাখছে।

ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সরকার রেলখাতেও নানামুখী ব্যবস্থা নিয়েছে। ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে ৮টি বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষও আগাম টিকিট বিক্রিসহ স্টেশনে নানা ধরনের সেবা বাড়িয়েছে। তবে এতো কিছুর পরেও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ঈদে ঘুরমুখো মানুষের দুর্ভোগ যেন অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। কখনো কখনো টিকিট কালোবাজারির মতো ঘটনায় যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। তখন বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে তাদের টিকিট কিনতে হচ্ছে। আবার যাত্রীদের বিভিন্ন অসচেতনা ও বেপরোয়া আচরণের ফলে রেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঈদের সময়ে ভিড়ের কারণে প্রায়শই স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ করা মাত্রই বহু মানুষ ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন। অনেকে আবার ট্রেনের ইঞ্জিন বা দুই বগির সংযোগস্থলে অবস্থান নেন। দুর্ঘটনা এড়াতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল থেকে যাত্রীদের বিরত রাখতে কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যান্য মাধ্যমের পাশাপাশি দ্রুত ও নিরাপদ ভ্রমণে মানুষ আকাশপথেও ভিড় জমাচ্ছে। তাই যাত্রীদের সেবা দিতে ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ারলাইন্সগুলো। আকাশপথে দুর্ঘটনা তুলনামূলক কম হলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এ পথে যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিমান কর্তৃপক্ষকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের করে যাত্রা করতে হবে।

নৌপথে এক আতংকের নাম বাল্কহেড। প্রায়শই দেখা যায়, বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌযান ডুবে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্কহেড চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও নির্দেশনা অমান্য করে অনেক সময় লুকিয়ে লুকিয়েই এগুলোও চলাচল অব্যাহত রাখা হয়। তাই ঈদযাত্রায় নদীপথে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে টহল বাড়ানোসহ দুর্ঘটনা রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হওয়ার কারণে প্রতিবছরই লঞ্চ ডুবে বিপুল পরিমাণ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রিয়জনের সাথে ঈদ উদযাপন করতে মানুষ অনেক সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করেন। এতে নানা দুর্ঘটনার সম্মুখীনও হন। তাই ঈদযাত্রায় ভিড়ের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে। যাতে এই যাত্রাই শেষ বাড়ি ফেরা না হয়।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেকোনো নিয়ম বহির্ভূত ঘটনা রোধের পাশাপাশি সারাদেশের নৌযোগাযোগ খাতে সার্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নেয়াসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার, সবই করতে হবে। চলতি মাসে ঈদের এ সময়ে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঝড়-বৃষ্টি ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া দু্র্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটার মাত্রা বাড়ে। ঝড়-বৃষ্টি নৌপথে যাত্রার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। আবার ঝড়ের কারণে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় যাত্রার সময়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও আবহাওয়ার কারণে যাত্রায় বিলম্ব হতে পারে। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কর্তৃপক্ষকে যাত্রী পরিবহন করতে হবে এবং যাত্রীদের বিষয়টি আগে থেকেই অবগত করতে হবে। অপরদিকে বিরূপ আবহাওয়ায় নৌপথে সতর্কতা হিসেবে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট এবং বয় রাখতে হবে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের যথাযথ তদারকি থাকলে নৌপথে যাত্রা নিরাপদ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

গতবছর ঈদুল আজহার আগে ও পরে ১৫ দিনে দেশে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৮ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৫৬৫ জন আহত হন। সেবার ঈদুল ফিতর উদযাপনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২১.৬ জন নিহত হন। আর সারাবছরই সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হন মোটরসাইকেল আরোহীরা। ঈদের সময়ও তার ব্যতিক্রম নয়। মোটরসাইকেলে যাত্রা যথেষ্ট অনিরাপদ হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়। এমনকি নানা শাস্তির আওয়তাও আনা হয় তাদের। তবুও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমছে না। তাই নিজের নিরাপত্তার জন্যই এ বাহনটির চালককে আরও সতর্ক থাকতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের ট্রাফিক নির্দেশনা যথাযথভাবে মানতে হবে।

ঈদযাত্রায় অনেক সময় দেখা গেছে, যাত্রীদের প্ররোচনায় গাড়ি দ্রুত চালাতে উদ্বুদ্ধ হন চালকরা। দূরের পথে বাসে যাত্রার ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রায়শই চোখে পড়ে। এমন পরিস্থিতি একসঙ্গে অনেক মানুষ জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাই কেবল প্রশাসন একাই নয়, যাত্রীদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনা সৃষ্টিতে বহুলাংশে দায়ী।

মূলত স্বজনদের সাথে ঈদ উদযাপন করার লক্ষ্যে এ সময় সবাই স্বস্তি ও আনন্দের সাথে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে চান। ঈদের সাথে সবারই তীব্র আবেগ জাড়িয়ে থাকে। সবাই চান নিরাপদে বাড়ি ফিরে আপনজনদের সাথে আনন্দঘন সময় কাটাতে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ যাত্রা আরও নিরাপদ ও ভোগান্তিমুক্ত করা সম্ভব হবে।

লেখক: নুসরাত জাহান ঐশী, গণমাধ্যমকর্মী

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুইডেন প্রবাসীর খোলা চিঠি

Published

on

বিনিয়োগকারী

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কেমন আছেন? আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, অনুপ্রেরণা ও চেতনায় গড়ে উঠা ১৯৭১-এর এক শিশু মুক্তিযোদ্ধা যে তার বাবা এবং বড় তিন ভাইয়ের অবর্তমানে মার দিক-নির্দেশনায় ছোট পাঁচ ভাইবোন নিয়ে দীর্ঘ নয় মাস নিজ দেশে শরণার্থী হয়ে জীবন-মরণের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে দেশ স্বাধীনের ফেরিওয়ালা হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের, বাপ-চাচাদের বার্তাবাহক হয়ে কাজ করেছি ও সাহায্য করেছি।

চোখের সামনে দেশ স্বাধীন হতে দেখেছি, বহু আত্মীয়-স্বজনের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশ পেয়েছি সাথে হারিয়েছিও অনেক কিছু। আমরা বর্তমান ৯ ভাইবোন, সবাই দেশের বাইরে শুধু একজন ছাড়া। অল্প বয়সেই দেশ ছেড়েছি নিজেকে, পরিবার এবং দেশকে সোনার বাংলা করে গড়ে তুলব বলে। বাবা-মার নির্দেশনা এবং অনুপ্ররণায় দেশের জন্য সব করতে প্রস্তুত এমনটি মনমানসিকতায় এখনও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। চল্লিশ বছর দূরপরবাসে বসবাস হলেও দেশের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর হয়ে কাজ করে চলছি। আমার দেশের বাড়ি মাগুরা জেলার (মাগুরা ২ আসন) নহাটা গ্রামে।

আমরা অতি সহজেই পরনিন্দা এবং পরচর্চা করে থাকি অথচ নিজেদের মধ্যে যে একই সমস্যা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাও যে অপরিহার্য সেটা ভুলে যাই।

আমরা বাংলাদেশে ধর্ষণ, ঘুস, মাদক, দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে সব সময় লিখি, কথা বলি, সংগ্রাম করি। কিন্তু আমরা কখনো বলি না বা বলতে চাই না যে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তারা আর কেউ নয়, আমাদের সমাজেরই পরিচিত মুখ।

আজ আমি আমার পারিবারিক সমস্যা তুলে ধরতে চাই সরাসরি আপনার কাছে আমার এই খোলা চিঠির মাধ্যমে। আমার পরিবার শিক্ষা এবং অর্থে দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে চললেও আমার পরিবারে রয়েছে ভাই-বোনদের বঞ্চনাকারী এক বা একাধিক সদস্য। আমার পারিবারিক সমস্যা আমি দুঃখের সঙ্গে তুলে ধরছি শুধুমাত্র পরিবর্তনের জন্য। কারণ যদি এমনভাবে চলতে থাকে তবে পুরো দেশ এক সময় অচল হয়ে যাবে এসব কুৎসিত চরিত্রের মানুষের জন্য। আর এ ধরনের কুৎসিত চরিত্রের মানুষ বর্তমানে বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল।

বাংলাদেশের যৌথ পরিবারের সংখ্যা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। পরিবারে বড় ভাই-বোনদের সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও বাবা-মা এবং ছোটদের ছেড়ে আলাদা হয়ে যাওয়া, খোঁজখবর না রাখা, এখন এসব ঘটনা সর্বত্র দেখা যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

দেখা যায় যে ভাইয়ের ওপর ছিল ভালোবাসা এবং মধুর স্মৃতি যখন সে বিয়ে করেনি। পরবর্তীতে সে মস্ত বড় অফিসার হয়ে সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে। সে পরিবার ছেড়ে নিজেকে লোভী করে ফেলেছে আর গড়েছে তার চারপাশে এক আত্মকেন্দ্রিক প্রাচীর। যে প্রাচীর বন্ধ করে রেখেছে তার মনুষ্যত্বকে, দিনের পর দিন আর বছরের পর বছর।

ছোট ভাই-বোনদের জন্য কিছু করে যদি কোনো বড় ভাই-বোন তা সুদে-আসলে তুলে নেয় এবং সারাক্ষণ কঠিনভাবে মানসিক অশান্তিতে রাখে তখন ভালোবাসার সম্পর্ক ঘৃণায় পরিণত হয়। অর্থনৈতিকভাবে ঋণগ্রস্ত ছোট ভাই-বোনের ওপর বড়দের জুলুমের পরিমাণ যখন সীমা লঙ্ঘন করে এবং তারা যখন ছোটদের প্রতি অত্যাচার এবং অবিচার করতে শুরু করে, তখন ঘৃণা ছাড়া ছোটদের আর কিছু করার থাকে না। সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় ভালোবাসা, সেইসঙ্গে সম্পর্কেরও অবনতি হয়। তখন সম্পর্ক আর ভাই-বোনের থাকে না।

সে সামান্যতম ত্রুটি-বিচ্যুতি বড় করে তুলে ধরে সবাইকে নিচু করতে দ্বিধা করে না। আবার অনেকে পরিবারের সবকিছু ভোগ-দখল করে আসছে বছরের পর বছর, তারপরও খুশি নয়। এরা সেই বর্ণচোরা মুখোশধারী মানুষ নামের দানব যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো ফ্যামিলিকে ঠকিয়ে চলছে বহু বছর ধরে। এরা যখন সবে চাকরিতে ঢুকেছে কিন্তু বিয়ে করেনি তখন যা করেছে, শুধু সেই ইতিহাস বলে বেড়ায়। অথচ অনেক বছর পার হয়ে যায়, কারো খোঁজখবর নেয় না।

বাংলাদেশের লাখ লাখ পরিবারে প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর একটা বিহিত করা প্রয়োজন। তবে পাছে লোকে কিছু বলে এই ভয়ে কেউ কিছু করছে না। সরাসরি কিছু করতে বা বলতে গেলে পরিবারের গুডউইল নষ্ট হবে।

আমরা সবাই দানবের নয়; মানবের সমাজ ফিরে পেতে চাই। কিন্তু এই দানবদের আলোর পথে না আনতে পারলে সমাজ এবং দেশে এদের সংখ্যা এত বাড়তে থাকবে যে, শেষ পর্যন্ত সৎ মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে।

যে চরিত্রহীন, অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত তাকে লজ্জা দেওয়া যায় না। যে উলঙ্গ তাকে কে লজ্জা দেবে? কী করে সে দাবি করে সবার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা? একজন শিক্ষিত এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি যে শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, এমন স্বার্থপর আপনজন কেউ চায় না। সবাই সু-শিক্ষায় গড়া ভালোবাসার সমন্বয়ে ভরা সাধারণ পরিবার চায়।

দুর্নীতি হয় না এমন দেশ সারাবিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন প্রশ্ন কীভাবে দুর্নীতিবাজদের সৎ চরিত্রে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? যদিও পরিবারের মধ্যে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। তাহলে কীভাবে পরিবারে এ ধরনের মানুষদের চরিত্রের পরিবর্তন করা সম্ভব? পারবে কি এরা নতুন করে প্রমাণ করতে যে তারা পরিবার ও সমাজের সত্যিকার আপনজন? তাহলে তাদের প্রমাণ করে দেখাতে হবে, যে অন্যায় তারা করছে, তার জন্য তারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত।

আমি সবকিছু বিচার বিবেচনা করে আজ আপনার কাছে আমার এই বার্তাটি তুলে ধরছি। কারণ বাংলাকে সোনার বাংলা করতে হলে আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে এবং সে পরিবর্তন নিজ এবং নিজের পরিবারকে দিয়ে শুরু করতে হবে। সেক্ষেত্রে এগুলো পারিবারিকভাবে বসে মীমাংসা করতে চেষ্টা করার উদ্যোগ নিতে হবে এটাই সবাই বলবে।

এতে সীমিত সময়ের জন্য হয়তো পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটা পরিবারের তথা সমাজের জন্য সুফল বয়ে আনবে। সুশিক্ষা এবং মানবতার ধ্বংস নয়, ধ্বংস হোক তার নিজের কুশিক্ষা।

জীবনে চলার পথে কিছু লক্ষ্য থাকা দরকার যা শিক্ষণীয় এবং যা সোনার বাংলায় আদর্শ মানুষ হতে সাহায্য করবে। আমি গত চল্লিশ বছর ধরে চেষ্টা করেছি একটি সুন্দর পরিবার তৈরি করতে। চল্লিশ বছর প্র্যাক্টিস করেছি সৎ পথে চলতে, সত্য কথা বলতে, অন্যায় না করতে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। আমি পরিবারের ভালো-মন্দ সব কিছু জানি, জেনে শুনেও অনেক সময় চেষ্টা করেছি চুপ থাকতে, অনেক সময় সমাধানে ঢুকেছি, সমাধান করেছি।

অনেকবার আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি পারিবারিক সমস্যাগুলোর পুরো সমাধান করতে। শেষে সবার সঙ্গে কথা বলে এবার ভেবেছিলাম বাবা-মা মারা গেছেন হয়তো আমরা পারব সব মেটাতে। কথা ছিল সবাই দরকারে একটু ছাড় দেবে। আমরা সকল ভাই-বোন যা কিছু করেছি দেশে তার সমস্ত দায়ভার আমাদের একমাত্র ভাই লে. কর্নেল (অব.) হান্নান মৃধার ওপর ন্যস্ত করি। কারণ সেই শুধু দেশে থাকে। আমরা তার ছেলেকে পর্যন্ত বিদেশে এনে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে।

তারপরও সে আমাদের বিশ্বস্ততাকে ভঙ্গ করে আমাদের দেশের প্রায় সকল সম্পদ ভোগদখল করে চলছে। বয়স এবং সময়ের সাথে যখন আমরা সবাই দেশে ফিরে নিজেদের সম্পদের অংশবিশেষ ফেরত পেতে তাকে অনুরোধ করি ঠিক তখনই সে তার ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে আমাদের সকল ভাই-বোনকে সবধরনের সুযোগ সুবিধা খেকে বঞ্চিত এবং ভয় দেখিয়ে সব কিছু ভোগ দখল করে চলছে।

আমরা নানাভাবে বোঝাতে এবং তার পাওনার চেয়ে বহুগুণ বেশি দিয়েও তাকে সৎপথে আনতে ব্যর্থ হয়েছি। শেষে তাকে এও বলেছি দরকারে আপনার সাহায্য নেব তবুও দুর্নীতিকে পরিবার থেকে আজীবনের জন্য দূর করবো। লে. কর্নেল (অব.) হান্নান মৃধা কথা দিয়েও শেষে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে, এটাই আমাকে কষ্ট দিয়েছে। সে তার চাকরি জীবনে ডিজিএফআই, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ নানা দায়িত্বে কাজ করেছে।

সে নিজেই যখন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, আমার প্রশ্ন কোথায় আমরা সাধারণ মানুষ যাব? শেষে অন্য কোনো উপায় না পেয়ে আপনার এবং সমস্ত দেশবাসীর কাছে আমার এই লেখা। আশা করি আপনি আমাদের একটি ন্যায্যবিচার এবং অনীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতিমুক্ত পরিবার দরকার, আশা করি আপনি সেটা করতে পারবেন। আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
অর্থসংবাদে প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পুরো সংবাদটি পড়ুন

শেয়ারবাজারের সর্বশেষ

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার7 hours ago

লোকসানে ১৪ খাতের বিনিয়োগকারীরা

বিদায়ী সপ্তাহে (০৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক রিটার্নে দর কমেছে ১৪ খাতে। ফলে সাপ্তাহিক রিটার্নে...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার7 hours ago

সাপ্তাহিক রিটার্নে মুনাফায় ৬ খাতের বিনিয়োগকারীরা

বিদায়ী সপ্তাহে (০৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক রিটার্নে দর বেড়েছে ৬ খাতে। ফলে এই ৬...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার8 hours ago

খাতভিত্তিক লেনদেনের শীর্ষে ফার্মা খাত

বিদায়ী সপ্তাহে (০৭ জুলাই-১১ জুলাই) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) খাতভিত্তিক লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ফার্মা ও রসায়ন খাত।...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার11 hours ago

ব্লকে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৪৮ কোটি টাকার লেনদেন

বিদায়ী সপ্তাহে (০৭ জুলাই-১১ জুলাই) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে লেনদেন হওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকা...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার12 hours ago

ডিএসইতে কমেছে পিই রেশিও

বিদায়ী সপ্তাহে (০৭ জুলাই-১১ জুলাই) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। আলোচ্য...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার12 hours ago

আইবিবিএল পারপেচুয়াল বন্ডের সর্বোচ্চ দরপতন

বিদায়ী সপ্তাহে (০৭ জুলাই- ১১ জুলাই) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া ৩৯৬ কোম্পানির মধ্যে ১৫৪টির শেয়ারদর...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার13 hours ago

দেশবন্ধু পলিমারের শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ

বিদায়ী সপ্তাহে (০৭ জুলাই-১১ জুলাই) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া ৩৯৬ কোম্পানির মধ্যে ২২০টির শেয়ার ও...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার13 hours ago

সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে সি পার্ল বিচ

বিদায়ী সপ্তাহে (০৭ জুলাই-১১ জুলাই) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৯৬ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে লেনদেনের...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার1 day ago

শেয়ারবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই) গড় লেনদেন ৪৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার1 day ago

লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিল বিআইসিএম

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) কর্তৃক ৪ দিন ব্যাপী পুঁজিবাজার বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালায় বিআইসিএম কর্তৃক লংকাবাংলা...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার1 day ago

উত্তরা ফাইন্যান্সের এমডির পদত্যাগ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মিনহাজ আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে,...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার2 days ago

ব্লকে ৩৫ কোটি টাকার লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লকে মোট ৪৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। তাতে কোম্পানিগুলোর মোট লেনদেন...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার2 days ago

টেকনো ড্রাগসের লেনদেন শুরু ১৪ জুলাই

পুঁজিবাজারে মূল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া নতুন কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের শেয়ারের লেনদেন আগামী রোববার (১৪ জুলাই) থেকে শুরু হবে।...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার2 days ago

প্রিমিয়ার ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর,২০২৩ সমাপ্ত হিসাববছরে জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার2 days ago

সিটি ইন্স্যুরেন্সের নাম সংশোধনে ডিএসইর সম্মতি

পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের নাম সংশোধনে সম্মতি দিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার2 days ago

বিবিএস ক্যাবলসের সর্বোচ্চ দরপতন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৭টি কোম্পানির মধ্যে ৩৪৩ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে।...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার2 days ago

দরবৃদ্ধির শীর্ষে গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৭ কোম্পানির মধ্যে ৩৬টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার2 days ago

লেনদেনের শীর্ষে সি পার্ল

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৯৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এদিন লেনদেনের শীর্ষে...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার2 days ago

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ৬১ পয়েন্ট হারালো ডিএসই

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকের নিম্নগতিতে লেনদেন শেষ হয়েছে। একইসাথে আগের কার্যদিবসের তুলনায় এদিন...

বিনিয়োগকারী বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার3 days ago

দুই ঘন্টায় লেনদেন ৩২৬ কোটি টাকা

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন চলছে। এদিন প্রথম দুই ঘন্টায়...

Advertisement

ফেসবুকে অর্থসংবাদ

বিনিয়োগকারী
জাতীয়57 mins ago

প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় থাই প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বিনিয়োগকারী
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার1 hour ago

বিশ্ববিদ্যালয় সচল করতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান উপাচার্যরা

বিনিয়োগকারী
খেলাধুলা2 hours ago

কোপার ফাইনালে যেমন হতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশ

বিনিয়োগকারী
কর্পোরেট সংবাদ2 hours ago

শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন ইসলামী ব্যাংক

বিনিয়োগকারী
জাতীয়2 hours ago

মাদক নিরাময়ে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছে ওয়েসিস

বিনিয়োগকারী
টেলিকম ও প্রযুক্তি3 hours ago

আইটি সেক্টরে পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান হবে: পলক

বিনিয়োগকারী
বিনোদন3 hours ago

পাঁচ নায়িকাকে নিয়ে ‘আপনজন’র ঘোষণা শাকিব খানের

বিনিয়োগকারী
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার3 hours ago

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাঁচজন বহিষ্কার

বিনিয়োগকারী
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার4 hours ago

এক লাখ ৩৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেবে টিআইবি

বিনিয়োগকারী
টেলিকম ও প্রযুক্তি4 hours ago

আইসিটি খাতে বছরে রপ্তানি আয় ২ বিলিয়ন ডলার

বিনিয়োগকারী
জাতীয়4 hours ago

দেশে অতিদারিদ্র্যের হার ৫.৬ ভাগে নামিয়ে এনেছি: প্রধানমন্ত্রী

বিনিয়োগকারী
জাতীয়5 hours ago

ইইউ আইনের জন্য আগাম প্রস্তুতির আহ্বান রাষ্ট্রদূতের

বিনিয়োগকারী
টেলিকম ও প্রযুক্তি5 hours ago

সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ শেষ, ব্যান্ডউইথ সরবরাহ শুরু

বিনিয়োগকারী
জাতীয়6 hours ago

কোটা আন্দোলনকারীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

বিনিয়োগকারী
অর্থনীতি6 hours ago

জাতীয় রপ্তানি পদক পাচ্ছে ৭৭ প্রতিষ্ঠান

বিনিয়োগকারী
রাজধানী6 hours ago

গবাদি পশুর অবৈধ খামার অপসারণ করতে ডিএনসিসির চিঠি

বিনিয়োগকারী
জাতীয়6 hours ago

শিশুশ্রম নিরসনে সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই: প্রতিমন্ত্রী

বিনিয়োগকারী
জাতীয়7 hours ago

সপ্তাহজুড়ে প্রচণ্ড চাপ থাকবে রাজধানীর সড়কে

বিনিয়োগকারী
অর্থনীতি7 hours ago

সোনার আউন্স দুই হাজার ৪০০ ডলার ছাড়ালো

বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার7 hours ago

লোকসানে ১৪ খাতের বিনিয়োগকারীরা

বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার7 hours ago

সাপ্তাহিক রিটার্নে মুনাফায় ৬ খাতের বিনিয়োগকারীরা

বিনিয়োগকারী
লাইফস্টাইল8 hours ago

যেভাবে পেঁয়াজ কাটলে চোখে পানি আসবে না

বিনিয়োগকারী
পুঁজিবাজার8 hours ago

খাতভিত্তিক লেনদেনের শীর্ষে ফার্মা খাত

বিনিয়োগকারী
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার8 hours ago

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৯৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

বিনিয়োগকারী
কর্পোরেট সংবাদ8 hours ago

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন

২০১৮ সাল থেকে ২০২৩

অর্থসংবাদ আর্কাইভ

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১