পুঁজিবাজার
খান ব্রাদার্স-খুলনা প্রিন্টিংসহ ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাচ্ছে ৪৯ কোম্পানি

বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছিলো দেশের পুঁজিবাজারে। তখন দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছোট-বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারখানা ও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বেশকিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির ক্যাটাগরি বহাল রাখতে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা জারি করেছিলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোনো কোম্পানি হিসাববছরে লভ্যাংশ ঘোষণা বা বিতরণে ব্যর্থ হলে সে কোম্পানির ক্যাটাগরি অপরিবর্তীত থাকবে বলে জানানো হয় বিএসইসির ঐ নির্দেশনায়। তবে কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ সুবিধা পাচ্ছে আর মাত্র কয়েকদিন। যেসব কোম্পানি সর্বশেষ বছরের লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয় সেসব কোম্পানি আবারও সে সুযোগ পাবে না। সেই হিসাবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির জারি করা এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এটি নেতিবাচক সংবাদ। এর মধ্যে যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান করেছে সেগুলোর ক্যাটাগরি পরিবর্তন হবে। আর যেসব কোম্পানি এখনো লভ্যাংশ প্রদান করেনি বা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ন করতে ব্যর্থ হবে সেসব কোম্পানিগুলো ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে যাবে। লভ্যাংশ না দিয়েও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে এমন কোম্পানি রয়েছে ৪৯টি। অর্থাৎ এসব কোম্পানিগুলো চলতি মাসের ২৮ তারিখের পরে ‘জেড’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, যেসব দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলছে সেগুলোকে বিএসইসির সার্ভেইলেন্স টিম নজরে রেখেছে। যেসব ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে সেল (বিক্রয়) বাই (ক্রয়) আদেশ দেখে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুসন্ধান করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি খান ব্রাদার্সের শেয়ার দরের কারসাজির আলামত পেয়েছে ডিএসই। একই সঙ্গে খুলনা প্রিন্টিংয়ের কারখানাও বন্ধ পেয়েছে সংস্থাটি। এছাড়াও সম্পতি দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর নিয়ে কারসাজির প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে পাঠিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।
সূত্র মতে, বেশকিছু আলোচিত-সমালোচিত কোম্পানি লভ্যাংশ না দিয়েও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। এমন কোম্পানির সংখ্যা ৩৯টি। কোম্পানিগুলো হচ্ছে আলোচিত-সমালোচিত- খান ব্রাদার্স, খুলনা প্রিন্টিং, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনটেক লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস, এক্টিভ ফাইন, এএফসি এগ্রো বায়োটিক লিমিটেড, আলহাজ টেক্সটাইল, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং, আরামিট সিমেন্ট, এটলার্স্ট বাংলাদেশ, আজিজ পাইপস, বঙ্গজ, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস), বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ঢাকা ডাইং, ডেল্টা স্পিনিং, ফার কেমিক্যাল, ফাস ফাইন্যান্স, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মেট্রো স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল ফিড মিল, ন্যাশনাল টি, ন্যাশনাল টিউবস, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, পেনিনসুলা চিটাগং, প্রাইম টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস, রিজেন্ট টেক্সটাই, সাফকো স্পিনিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপিয়ার্ড এবং জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
এদিকে লভ্যাংশ না দিয়েও ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ১০টি। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- কাট্টলী টেক্সটাইল, ম্যাকসন স্পিনিং, মালেক স্পিনিং, নিউ লাইন ক্লোথিংস, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, রিং সাইন টেক্সটাইল, রানার অটোমোবাইলস পিএলসি, সাইফ পাওয়ারটেক, সায়হাম কটন মিলস এবং সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।
‘জেড’ ক্যাটাগরি সংক্রান্ত বিএসইসির ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশে বলা হয়েছিল, পরপর দুই বছর নগদ লভ্যাংশ প্রদান কিংবা বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হলে কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘জেড’ গ্রুপে স্থানান্তর করা যাবে। তাছাড়া ৬ মাস বা তার বেশি সময় কোম্পানির উৎপাদন বা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে, পরপর দুই বছর নিট পরিচালন লোকসান অথবা পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক থাকলে অথবা কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান তার পরিশোধিত মূলধনের বেশি হলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হবে।
এতে আরও বলা হয়, আইনি কারণে এজিএম করতে না পারলে কিংবা সংস্কার, বিএমআরই ও দৈব দুর্ঘটনাজনিত কারণে ছয় মাসের বেশি উৎপাদন বন্ধ থাকলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবে না। এছাড়া সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের কারণে কমিশনের অনুমতিক্রমে স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে পারবে। স্টক এক্সচেঞ্জ এসব বিধান পরিপালন করা হচ্ছে কিনা সেটি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করবে এবং বিএসইসির পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে কোনো কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর বা সমন্বয় করতে পারবে।
এ বিষয়ে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম অর্থসংবাদকে বলেন, করোনার কারণে নতুন নোটিফিকেশন দিয়ে কোম্পানিগুলোকে যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো, সেটা এখন বাতিল করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে লিস্টিং রেগুলেসন অনুযায়ী ক্যাটাগরিতে থাকবে। ফলে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের আগে যে নিয়মে শেয়ারের ক্যাটেগরির উন্নতি বা অবনমন হতো, সেই নিয়ম চলতি মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফেরত আসবে। দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর নিয়ে কেউ কারসাজি করে থাকলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে। এর আগে কোনো কোম্পানি ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করলে পরদিনই ওই কোম্পানির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হতো। একইভাবে ঘোষিত লভ্যাংশ এজিএমের এক মাসের মধ্যে না পাঠানো হলেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
সূত্র মতে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর আগের এ নির্দেশনা রদ করে আরেকটা নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিফিকেশনে জেড ক্যাটাগরির বিষয়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সেটলমেন্ট অব ট্রানজেকশন্স বিধিমালা অনুসারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে সাথে সাথে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে পারবে। ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসির জারি করা আদেশের কারণে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ যেসব কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে পারেনি, সেগুলোকেও এখন স্থানান্তর করা যাবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা বা পরিচালকেরা বিএসইসির পূর্বানুমোদন ছাড়া শেয়ার কেনাবেচা কিংবা স্থানান্তর করতে পারবেন না। তবে ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) উদ্যোক্তা বা পরিচালকেরা এক্ষেত্রে ছাড় পাবেন। ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হবে।
অর্থসংবাদ/এসএম

পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে এফএএস ফাইন্যান্স

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর পতনের শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি দর কমেছে এফএএস ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর কমেছে ৩৩.৩৩ শতাংশ।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
সপ্তাহের পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স। আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ২ টাকা ৯০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ২ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির দর কমেছে ৯০ পয়সা বা ৩১.০৩ শতাংশ।
তালিকার তৃতীয় স্থানে ২৮ শতাংশ পতন নিয়ে অবস্থান করছে প্রিমিয়ার লিজিং। আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ২ টাকা ৫০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে যার ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮০ পয়সায়। সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির দর কমেছে ৭০ পয়সা।
এছাড়া, সাপ্তাহিক পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ২৬.৯২ শতাংশ, প্রাইম ফাইন্যান্সের ২৬.৩২ শতাংশ, বিআইএফসির ২৫.৪৫ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের ২১.০৫ শতাংশ, জিএসপি ফাইন্যান্সের ১৮.৬০ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৪.৮১ এবং সুহ্নদ ইন্ডাষ্ট্রিজের ১৪.৪৯ শতাংশ দর কমেছে।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে ইনফরমেশন সার্ভিসেস

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন)।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে আইএসএনের দর বেড়েছে ৪৫.৫৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে কোম্পানিটির দর ছিল ৭২ টাকা ৬০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে যার ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ১০৫ টাকা ৭০ পয়সায়।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ৬২ টাকা ৭০ পয়সা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ৮৩ টাকা ২০ পয়সায়। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির দর বেড়েছে ২০ টাকা ৫০ পয়সা বা ৩২.৭০ শতাংশ।
তালিকার তৃতীয় স্থানে ৩২.৩৫ শতাংশ দর বৃদ্ধি নিয়ে অবস্থান করছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার। আগের সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে কোম্পানিটির দর ছিল ১৭ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে যার ক্লোজিং দর দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৫০ পয়সায়। সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৫ টাকা ৫০ পয়সা।
এছাড়া, সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৯.১৩ শতাংশ, মুন্নু ফেব্রিকের ২৩.৯০ শতাংশ, সোনালী পেপারের ২২.৩৬ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল-পিটিএলের ২১.১০ শতাংশ, সিনোবাংলার ১৮.৮১ শতাংশ, শাহাজীবাজার পাওয়ারের ১৮.৭৮ শতাংশ, এবং জাহিন টেক্সটাইলের ১৮ শতাংশ।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে সিটি ব্যাংক

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট-২৮ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ তালিকার শীর্ষে উঠেছে সিটি ব্যাংক। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে ২৪ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ছিল ডিএসইর লেনদেনের ২.১০ শতাংশ।
লেনদেনের তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন গড়ে কোম্পানিটির ২২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ছিল ডিএসইর লেনদেনের ২.০১ শতাংশ।
এছাড়া, সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে সোনালী পেপারের ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মার ২১ কোটি ১৮ লাখ টাকা, বিচ হ্যাচারির ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বিকন ফার্মার ২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, আলিফ ইন্ডাষ্ট্রিজের ১৯ কোটি টাকা, ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং সী পার্ল রিসোর্টের ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকার।
কাফি
পুঁজিবাজার
ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো ১০ হাজার কোটি টাকা

বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়েছে। এতে এতে সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সমাপ্ত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এ মূলধন ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১০ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
চলতি সপ্তাহে বেড়েছে ডিএসইর সব কয়টি সূচকও। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৪২.৯৯ পয়েন্ট বা ২.৬৬ শতাংশ। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৬৭.৫৫ পয়েন্ট বা ৩.২৩ শতাংশ। আর ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ২৬.৮৬ পয়েন্ট বা ২.২৮ শতাংশ।
সূচকের উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৭২৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ২৩৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বা ২৬.৩২ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৪৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৯০৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৬৮টি কোম্পানির, কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এসএম
পুঁজিবাজার
ডিএসইর ফিক্স সার্টিফিকেশন পেলো ১৩ ব্রোকারেজ হাউজ

এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ওএমএস চালু করণের লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি আরও ১৩টি ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ট্রেনিং একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রোকারহাউজগুলোর কর্মকর্তাদের কাছে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, আজ যে ১৩টি ব্রোকারেজ হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন গ্রহণ করেছে, তাদের প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর যে সকল ব্রোকারেজ হাউজগুলো তাদের বিভিন্ন সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত ফিক্স সার্টিফিকেশনের আওতায় আসতে পারছে না, তাদেরকে কিভাবে ডিএসইর পক্ষ থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে ফিক্স সার্টিফিকেশনের আওতায় আনা যায় তার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যার ইতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। আমরা আশা করি, চলমান পরিবর্তনের ধারা পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়ন বয়ে আনবে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আমাদের সকলকেই সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
১৩টি ব্রোকারেজ হাউজের পক্ষে ফিক্স সার্টিফিকেশন গ্রহণ করেন- এপেক্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এন্ড হেড অব আইটি মো. আবু বকর সিদ্দিক, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস, ইবিএল সিকিউরিটিজ পিএলসির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. শাহরিয়ার ফায়েজ, গ্রীনডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের হেড অব বিজনেজ ফকরুদ্দিন আলী আহমেদ রাজিব, আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান, ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান, এফসিএ, সিআইপিএ, এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. শাহেদ ইমরান, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম, ওয়ান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, এসবিএসি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম নাছির উদ্দিন, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ কুন্ডু, স্মার্ট শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহমত পাশা।
তার আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন- ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাহমাত পাশা। পরিশেষে, অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রধান করেন ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আসিফুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, আইসিটি ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক এএনএম হাসানুল করিম, প্রোডাক্ট এন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের সহ ডিএসই ও ব্রোকারেজ হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেস) ভিত্তিক BHOMS চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন ২০২০ সাল থেকে। এরই প্রেক্ষিতে ৬৫টি ব্রোকারেজ হাউজ নাসডাক ম্যাচিং ইঞ্জিনে এপিআই সংযোগ নিয়ে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য ডিএসইতে আবেদন করেন। আজকে ১৩টি সহ মোট ৩৯টি ব্রোকার হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি ব্রোকার হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর তারা এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ওএমএস চালু করেছে।