আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানে ‘অত্যাধুনিক অস্ত্র’ পাঠাচ্ছে চীন
যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে নতুন করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক সূত্রের বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সরঞ্জাম পাঠানো হতে পারে।
এই খবর সামনে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
কারণ, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতার ভূমিকায় থাকার কথা বলেছিল বেইজিং। সেই অবস্থান ধরে রেখেই যদি গোপনে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়, তবে তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, চীন যে অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা হলো কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ‘ম্যানপ্যাডস’ নামে পরিচিত।
এ ধরনের অস্ত্র, বিশেষ করে নিচুতে ওড়া যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের জন্য বড় হুমকি।
সূত্রগুলোর মধ্যে দুজন জানিয়েছেন, এই অস্ত্র সরাসরি চীন থেকে ইরানে পাঠানো হবে না। বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সরবরাহের চেষ্টা চলছে, যাতে এর প্রকৃত উৎস গোপন রাখা যায়।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস।
তাদের দাবি, চীন কখনোই সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষকে অস্ত্র দেয় না এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীলতা বজায় রেখেই চলেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন, ইরানের আকাশে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ‘তাপ-অনুসন্ধানী ক্ষেপণাস্ত্র’ দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। অন্যদিকে ইরানও বিমান ভূপাতিত করতে একটি ‘নতুন’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। তবে সেটি কোথা থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না।
তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে এবং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরোক্ষভাবে সহায়তা দিতে পারে। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরপেক্ষ অবস্থানও ধরে রাখতে চাইছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে তেহরান।
আগামী মাসে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে পাতা মাইন নিজেই খুঁজে পাচ্ছে না ইরান!
নিজেদের পাতা নৌ-মাইনের অবস্থান বের করতে না পারায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে পারছে না ইরান। একই সঙ্গে পাতা মাইনগুলো দ্রুত অপসারণের সক্ষমতাও দেশটির নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
নিউ ইউর্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রণালিপথ দিয়ে বেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পারছে না তেহরান। একই বিষয়টি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনাতেও সামনে আসতে পারে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরুর পরপরই ছোট নৌযান ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে দেয় ইরান। এসব মাইনের পাশাপাশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্যান্য জাহাজের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং যুদ্ধের সময় এটি ইরানের জন্য বড় কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
তবে পুরো প্রণালি বন্ধ না করে ইরান একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রেখেছে, যেখানে নির্ধারিত ফি দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো সময় জাহাজ নৌমাইনের সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে। এমনকি আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো নিরাপদ নৌপথের মানচিত্রও প্রকাশ করেছে।
কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান এলোমেলোভাবে মাইন বসানোয় নিরাপদ পথ খুব সীমিত হয়ে গেছে। কোথায় কোন মাইন বসানো হয়েছে, তার সঠিক রেকর্ড ইরানের কাছে নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এমনকি যেগুলোর অবস্থান জানা ছিল, সেগুলোর কিছু পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে স্থান পরিবর্তন করেছে।
স্থলমাইনের মতোই নৌমাইন অপসারণ করা অত্যন্ত জটিল কাজ। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছেও উন্নত মাইন অপসারণ সক্ষমতা নেই; তারা মূলত মাইনসুইপিং প্রযুক্তিসম্পন্ন লিটোরাল কমব্যাট জাহাজের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের ক্ষেত্রেও একই সীমাবদ্ধতা রয়েছে—তারা নিজেদের পাতা মাইন নিজেরাই দ্রুত সরাতে পারছে না।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ‘সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে’ খুলে দিতে হবে।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে’ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা’ বলতে মূলত মাইন খুঁজে বের করা ও অপসারণের অক্ষমতাকেই বোঝানো হয়েছে।
বর্তমানে আরাগচি ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন, সেখানে আজ শনিবার তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে প্রণালিপথ কত দ্রুত নিরাপদ করা যাবে, সেটিই আলোচনার প্রধান ইস্যু হতে পারে।
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীকে দুর্বল করতে একাধিক জাহাজ ডুবিয়ে দেয় এবং নৌঘাঁটিতে হামলা চালায়। তবে ইরানের শত শত ছোট নৌযান রয়েছে, যেগুলো দিয়ে তারা সহজেই জাহাজ আটকানো বা মাইন পাতা চালিয়ে যেতে পারে। এসব ছোট নৌযান পুরোপুরি ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাইন পাতা শুরুর আগেই ইরানের নেতাদের হুমকিতে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ে এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। গত ২ মার্চ বিপ্লবী গার্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং কোনো জাহাজ ঢুকলে তা ‘আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে।’
এর পরপরই ইরান মাইন পাতা শুরু করে, যদিও তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ সক্ষমতার ওপর হামলা জোরদার করেছিল। সেই সময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরান খুব দ্রুত বা দক্ষতার সঙ্গে মাইন বসাতে পারছে না।
ছোট নৌযান দিয়ে এসব মাইন বসানোয় সেগুলোর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রণালিতে মোট কতটি মাইন রয়েছে বা সেগুলো কোথায় রয়েছে—তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক
চ্যাটজিপিটির সিইও স্যাম অল্টম্যানের বাসভবনে হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেন এআই-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যানের বাসভবনে মলোটভ ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর আলজাজিরার।
পুলিশ জানায়, এক হামলাকারী বাড়ির বাইরে একটি মলোটভ ককটেল ছুড়ে মারলে গেটের একটি অংশে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি হেঁটে পালিয়ে যায়। তবে প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে সানফ্রান্সিসকো পুলিশ (এসএফপিডি) গ্রেফতার করে। আটক যুবকের বয়স ২০ বছর বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি শহরের নর্থ বিচ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ঘটে। এখনো হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ওপেন এআই-এর এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাস্থলটি স্যাম অল্টম্যানের বাসভবন। তিনি বলেন, সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ঘিরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও বিক্ষোভ বেড়েছে। এর আগেও হুমকির কারণে ওপেন এআই -এর সদর দপ্তরে সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, ওপেন এআই দ্রুত সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন প্রায় ৮৫২ বিলিয়ন ডলার এবং চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ৯০ কোটিরও বেশি।
আন্তর্জাতিক
চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী
চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী।
শনিবার সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
গত ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা। তারা ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ১০ দিনের যাত্রায় মহাকাশে পাড়ি জমান। মিশন চলাকালে নভোচারীরা চাঁদের অদৃশ্য পাশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করেন। এটি যা ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭-এর পর প্রথম মানবচালিত চন্দ্র অভিযান। এই যাত্রায় তারা মানব ইতিহাসে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করেন।
সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’
নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একটি নৌযানে নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিক্যাল বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই জাহাজে হেলিকপ্টার প্যাড, চিকিৎসার সরঞ্জাম রয়েছে। চিকিৎসকেরা নভোচারীদের নাড়ির গতি, রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। পরে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।
সমুদ্রে অবতরণের কিছু সময় পর নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একটি নৌযানে নেওয়া হয়। এটিকে বলা হয় ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাঁদের নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হয়।
চার নভোচারী বের হয়ে নৌযানে ওঠার পর হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে উপস্থিত থাকা সবাই হাততালি দেন। এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১০ দিনের সময়সীমা থাকলেও নাসা বলছে, ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই এই অভিযান শেষ হলো।
মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।
এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা এই চন্দ্রাভিযানে বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। তাঁরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।
আর্টেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার নাসা-পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
আন্তর্জাতিক
প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউতে রাষ্ট্রদূত করল ভারত
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘শ্রী প্রণয় ভার্মা (আইএফএস: ১৯৯৪) বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি শিগগিরই এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।’
প্রণয় ভার্মা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে পালন করে আসছেন। তাকে ব্রাসেলসে নেওয়ার উদ্যোগের কথা সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বলা হচ্ছিল।
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে ইউক্রেনের সঙ্গে ৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন।ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মস্কো সময় বিকেল ৪টা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়ে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। এই সময় উভয় দেশ ইস্টার উদযাপন করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনও এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনও একই পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করছে। এতে আরো বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ সেনাবাহিনী প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভকে ওই সময় সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের জবাব দিতে রুশ বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন আগেই অনুরূপ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘আমরাও ইস্টারের সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলাম এবং সেই অনুযায়ী কাজ করব।’
তিনি আরো বলেন, মানুষের প্রয়োজন কোনো ধরনের হুমকি ছাড়া একটি ইস্টার। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাশিয়া ইস্টারের পর যেনো আবার হামলা শুরু না করে। তবে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর জানান, রুশ কামান ও বিমান হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, রুশ বাহিনী ড্রোন ও কামান দিয়ে তিনটি জেলায় প্রায় ৩০ বার হামলা চালিয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি এমন এক সময়ে হলো, যখন যুদ্ধ শেষ করার বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে আছে এবং ওয়াশিংটনের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দিকে সরে গেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইস্টার প্রস্তাবটি নিয়ে আগে থেকে কোনো আলোচনা করেনি এবং এটি ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা অবিলম্বে পুনরায় শুরু করার কোনো ইঙ্গিতও দেয়নি। এই সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে মানবিক সহায়তা চ্যানেলগুলো সক্রিয় রয়েছে।
মস্কো থেকে আল জাজিরার ইউলিয়া শাপোভালোভা জানান, সম্প্রতি ৪১ জন রুশ সেনার মরদেহের বিনিময়ে মস্কো এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনার দেহাবশেষ কিয়েভের কাছে হস্তান্তর করেছে। চলতি বছর ৫০০ জনেরও বেশি রুশ সেনার মরদেহ এবং ১৯ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ কিয়েভে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
জেলেনস্কি জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করাসহ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য বারবার চাপ দিলও মস্কো মূলত প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আগামী মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিয়েভকে একদিকে রাশিয়ার চলমান হামলা মোকাবেলা করতে হবে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের চাপও সামলাতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের জন্য সময়টা খুব কঠিন হবে।’



