পুঁজিবাজার
ন্যাশনাল টিউবসের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচিত প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।
কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ১ টাকা ০২ পয়সা লোকসান হয়েছে। গত বছরও একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৬৪ পয়সা লোকসান হয়েছিল।
চলতি হিসাববছরের ৯ মাসে (জুলাই’২৫-মার্চ’২৬) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৪০ পয়সা লোকসান হয়েছে। গত বছরও একই সময়ে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৬৩ পয়সা লোকসান হয়েছিল।
গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৮ টাকা ৯২ পয়সা।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে বিডি অটোকারস
বিদায়ী সপ্তাহে (০৫–০৯ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বিডি অটোকারস লিমিটেড। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ২২.৫৮ শতাংশ।
সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারটির দর ছিল ১৮১ টাকা ১০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২২ টাকায়। ফলে ব্যবধানে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ টাকা ৯০ পয়সা।
দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কেডিএস এক্সেসরিজ লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৪১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছে, যা ২১.৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর ২১ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ টাকায় পৌঁছেছে, যা ১৯.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এছাড়া সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ল্যাম্পস লিমিটেড, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস লিমিটেড, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি, সেনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেড এবং অ্যাপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড।
এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও সপ্তাহজুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন বন্ড
বিদায়ী সপ্তাহে (০৫–০৯ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ দরপতনের শীর্ষে উঠে এসেছে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের বন্ড। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, সপ্তাহজুড়ে বন্ডটির দর কমেছে ১৫.৫৬ শতাংশ।
সপ্তাহের শুরুতে বন্ডটির দর ছিল ১ হাজার ৩২০ টাকা ৫০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে নেমে আসে ১ হাজার ১১৫ টাকায়। ফলে ব্যবধানে দর কমেছে ২০৫ টাকা ৫০ পয়সা।
দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির দর ৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে ৩ টাকা ৯০ পয়সায় নেমেছে, যা ১১.৩৬ শতাংশ হ্রাস।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারের দর ৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে ৪ টাকা ১০ পয়সায় নেমে এসেছে, যা ১০.৮৭ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।
এছাড়া সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইয়াকিন পলিমার লিমিটেড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, বিআইএফসি এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড।
এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরও সপ্তাহজুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা সামগ্রিক বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতার প্রতিফলন।
পুঁজিবাজার
সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে খান ব্রাদার্স
বিদায়ী সপ্তাহে (০৫–০৯ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্স পিপি ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪.০৩ শতাংশ।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, লেনদেনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড। কোম্পানিটির গড় দৈনিক লেনদেন ছিল ২৩ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩.৪৪ শতাংশ।
তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে লাভেলো আইসক্রিম। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ২.৯৯ শতাংশ।
এছাড়া সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, সিটি ব্যাংক পিএলসি, ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এবং জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
এসব কোম্পানির প্রতিটিরই সপ্তাহজুড়ে উল্লেখযোগ্য গড় দৈনিক লেনদেন হয়েছে, যা সম্মিলিতভাবে বাজারের মোট লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
পুঁজিবাজার
সিটি ব্যাংকের রেকর্ড মুনাফা ১,৩২৪ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ৩১%
চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৫ সালে সিটি ব্যাংক পিএলসি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। বছর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১,৩২৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ১,০১৪ কোটি টাকার তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। এককভাবে ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ১,৩০৬ কোটি টাকা, আর সহযোগী চারটি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে যোগ করেছে আরও ১৮ কোটি টাকা।
এই প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আয়ের শক্তিশালী বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। ২০২৫ সালে ঋণ থেকে সুদ আয় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৪,৪০৩ কোটি টাকা থেকে ৫,৪৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদের গুণগত মানও উন্নত হয়েছে—শ্রেণীকৃত ঋণের হার (এনপিএল) কমে দাঁড়িয়েছে ২.৫ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ৩.৭ শতাংশ।
মুদ্রাস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকটি আমানতের খরচ ৫.৫ শতাংশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তহবিল ব্যয় বাড়লেও সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে সেই চাপ সামাল দেওয়া হয়েছে। ফলে মোট ৪,৮৮৮ কোটি টাকার পরিচালন আয়ের মধ্যে ২৬ শতাংশ এসেছে এসব বিনিয়োগ থেকে। তহবিল ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট বিনিয়োগ আয় দাঁড়িয়েছে ১,২৭৪ কোটি টাকা।
২০২৫ সালে দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেড পরিচালনা করে ব্যাংকটি। এর ফলে ট্রেড সার্ভিস থেকে কমিশন ও ফি আয় হয়েছে ৫২৬ কোটি টাকা এবং রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা থেকে এসেছে ৪৭১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ফি ও কমিশন আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ কোটি টাকা, যা মোট পরিচালন আয়ের ২১ শতাংশ।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও সাফল্য দেখিয়েছে ব্যাংকটি। নতুন বেতন কাঠামো ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব থাকা সত্ত্বেও কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪৪ শতাংশে সীমিত রাখা হয়েছে। ৪,৮৮৮ কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে মোট ব্যয় হয়েছে ২,১৬০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ব্যয় বাড়িয়ে ৮১৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে ব্যাংকটি, যা আগের বছর ছিল ৬২৮ কোটি টাকা। এর ফলে প্রভিশন কভারেজ অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ শতাংশে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, অতিরিক্ত প্রভিশন ব্যয়ের কারণে নিট মুনাফা ১,৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়নি। তবে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ব্যাংকের সব মূল খাত থেকেই শক্তিশালী আয় আসছে। বিশেষ করে রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা কর্পোরেট ব্যাংকিংকে ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে আয় বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, স্মল বিজনেস, ন্যানো লোন, রিটেইল ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড পোর্টফোলিওর মান অত্যন্ত ভালো। এলসি ব্যবসায় নেতৃত্ব এবং আমানতের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা ব্যাংকের বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে সামষ্টিক অর্থনীতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণে কর্পোরেট ও মাঝারি খাতের ঋণ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
উপসংহারে তিনি বলেন, প্রায় ৮ হাজার কর্মীর একটি বড় ব্যাংক হিসেবে কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪৫ শতাংশের নিচে ধরে রাখতে পারা ব্যাংকের অন্যতম বড় অর্জন।
পুঁজিবাজার
সিটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি সিটি ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১৫ শতাংশ বোনাস। আগের বছর ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল, এর মধ্যে ছিল ১২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১২.৫০ শতাংশ বোনাস।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বিদায়ী বছরে সিটি ব্যাংকের নীট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয়ে বড় ধরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৭১ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৭ পয়সা আয় হয়েছিল। তার আগের বছর ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা।
বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
সর্বশেষ বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪৭ টাকা, যা আগের বছর ৫৮ টাকা ৮৪ পয়সা ছিল।
গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪০ টাকা ৬৭ পয়সা।
আগামী ৭ জুন, রোববার বিকাল ৩ টায় ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৩ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।



