লাইফস্টাইল
প্রতিদিন লেবু পানি খেলে যেসব উপকার হয়
সব ধরনের চিকিৎসা শাস্ত্রেই রোজ নিয়ম করে লেবু পানি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ভিটামিন সি-এর কথাই যদি বলি তাহলে একটি লেবুতে রয়েছে ৩০.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। যদিও আমাদের শরীরে ভিটামিন সি-এর দৈনিক চাহিদা পরিমাণ পুরুষদের ৯০ মিলিগ্রাম এবং নারীদের ৭৫ মিলিগ্রাম। যার অনেকটাই পাওয়া যেতে পারে এই লেবু থেকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
লেবুর মধ্যে রয়েছে ভরপুর ভিটামিন সি। যে কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
এনার্জি জোগায়
লেবুর শরবত খান, ইনস্ট্যান্ট এনার্জি পাবেন। রোজ সকালে যদি লেবুর পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, মেজাজ ভালো থাকবে। কাজে এনার্জি পাবেন।
ওজন কমাতে
ওজন কমাতে বা মেদ ঝরাতে লেবুর তুলনা নেই। দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ দেয়। হালকা গরম পানিতে, লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আরও ভালো ফল পাবেন।
অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল
হ্যাঁ, এই দুটি গুণও লেবুর মধ্যে রয়েছে। ফলে ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ এড়াতে লেবুর পানি খেতে পারেন। বিশেষত, ফ্লু, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথা হলে।
মস্তিষ্ক সতেজ রাখে
লেবুর মধ্যে রয়েছে অতিমাত্রায় পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। যা শুধু মস্তিষ্ক নয়, স্নায়ুকেও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। চিন্তাশক্তি বাড়ায়। শারীরিক ধকল ও বিষণ্ণতা কাটাতেও পাতিলেবুর তুলনা নেই।
ক্যানসার প্রতিরোধক
লেবুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
লাইফস্টাইল
ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করে মিষ্টি কুমড়া
মিষ্টি কুমড়া একটি অতিপরিচিত দেশীয় সবজি। ভিটামিনে ভরপুর এই সবজি সহজলভ্য। শীতকালীন এ সবজিতে ভিটামিন ‘এ’ ছাড়াও যে অন্যান্য পুষ্টিগুণে ভরপুর তা অনেকেই হয়তো জানি না।
পুষ্টি উপাদান: যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিকালচার’স ফুড ডেটা সেন্ট্রাল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এক কাপ বা ২৪৫ গ্রাম রান্না বা সেদ্ধ করা (লবণ ছাড়া) মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে- ১.৭৬ প্রোটিন, ২.৭ গ্রাম আঁশ, ৪৯ ক্যালরি, ০.১৭ গ্রাম ফ্যাট, ১২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। এতে কোলেস্টেরল নেই।
এছাড়াও এতে রয়েছে- ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, রিবোফ্লোবিন, পটাশিয়াম, কপার, ম্যাংগানিজ, থায়ামিন, ভিটামিন বি৬, ফলিত, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, নিয়াসিন, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস।
মিষ্টি কুমড়ার রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা-
১. আগেই বলেছি মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। বিটাক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজি চোখের জন্য খুবই ভালো। ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত অন্যান্য রোগেও মিষ্টি কুমড়া উপকারী।
২. মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে ৩৩ মিলিগ্রাম বিটাক্যারোটিন। বিটাক্যারোটিন এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ত্বকের ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতি প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। আর্টারির দেয়ালে চর্বির স্তর জমতে বাধা দেয়। ফলে মিষ্টি কুমড়া নিয়মিত খেলে হৃদরোগও প্রতিরোধ করা যায়।
৪. মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৫. মিষ্টি কুমড়াতে থাকা প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম হাইপারটেনশন এবং হৃদরোগ দূরে রাখে।
৬.মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।
লাইফস্টাইল
জিন্স দীর্ঘদিন নতুন রাখতে সঠিক যত্নের সহজ টিপস
জিন্স এমন একটি পোশাক, যা ছোট-বড় প্রায় সবারই খুব প্রিয় এবং নিয়মিত ব্যবহারের তালিকায় থাকে। তবে সঠিক যত্ন না নিলে খুব দ্রুত এর রং ফিকে হয়ে যায়, কাপড় ঢিলে হয়ে পড়ে এবং নতুনের মতো লুক হারিয়ে ফেলে। অনেকেই মনে করেন, বারবার ধুলে জিন্স বেশি পরিষ্কার থাকে, কিন্তু আসলে অতিরিক্ত ধোয়াই এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ। জিন্সের টেকসই ভাব ও রং ঠিক রাখতে হলে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
চলুন, জেনে নিই।
প্রথমত, জিন্স খুব ঘন ঘন ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণত ৪-৫ বার পরার পর একবার ধুলেই যথেষ্ট। অযথা বেশি ধুলে রং দ্রুত উঠে যায় এবং কাপড় দুর্বল হয়ে পড়ে।
হালকা দাগ হলে পুরোটা না ধুয়ে শুধু সেই জায়গাটা পরিষ্কার করাই ভালো।
দ্বিতীয়ত, ধোয়ার আগে জিন্স উল্টে নেওয়ার অভ্যাস করুন। এতে ডিটারজেন্ট ও জলের সরাসরি প্রভাব বাইরের অংশে কম পড়ে, ফলে রং দীর্ঘদিন উজ্জ্বল থাকে।
তৃতীয়ত, সব সময় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে জিন্স ধোয়া উচিত।
গরম পানি কাপড় সঙ্কুচিত করতে পারে এবং রং নষ্ট করে দেয়। সঙ্গে হালকা বা মাইল্ড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে ফ্যাব্রিকের ক্ষতি কম হয়।
সবশেষে, জিন্স শুকানোর সময় অতিরিক্ত কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। সরাসরি রোদে রাখলে রং দ্রুত ফিকে হয়ে যায়। তাই ছায়াযুক্ত জায়গা বা হালকা রোদে শুকালে জিন্সের রং ও গঠন দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
সামান্য যত্ন আর সঠিক পদ্ধতি মেনে চললেই আপনার প্রিয় জিন্স অনেক দিন পর্যন্ত নতুনের মতোই থাকবে।
লাইফস্টাইল
জাপানের নতুন প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ডায়াবেটিস চিকিৎসা
জাপানে নতুন এক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইনসুলিন নেওয়ার জন্য আর ইনজেকশনের প্রয়োজন নাও হতে পারে—এর পরিবর্তে আসতে পারে ইনসুলিন ট্যাবলেট।
দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা ইনসুলিনকে ট্যাবলেট আকারে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। তবে মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকস্থলীর এনজাইম ইনসুলিনকে ভেঙে ফেলে, ফলে এটি রক্তে পৌঁছাতে পারে না। একই সঙ্গে অন্ত্রেও ইনসুলিন শোষণের জন্য স্বাভাবিক কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই।
কুমামতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় আশার আলো
জাপানের কুমামতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করেছেন, তারা এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি বিশেষ সাইক্লিক পেপটাইড, যার নাম ‘ডিএনপি পেপটাইড’। এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্য দিয়ে নিরাপদে প্রবেশ করে ইনসুলিনকে রক্তপ্রবাহে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
দুটি পদ্ধতিতে পরীক্ষা
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দুটি ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। একটিতে ইনসুলিনের সঙ্গে পেপটাইডটি মিশিয়ে দেওয়া হয়। অন্যটিতে ইনসুলিন ও পেপটাইডকে রাসায়নিকভাবে যুক্ত করা হয়।
উভয় পদ্ধতিতেই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরীক্ষাগারে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ইঁদুরের রক্তে শর্করার মাত্রা সফলভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে এই নতুন প্রযুক্তি।
শোষণ ক্ষমতায় বড় উন্নতি
গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো ইনসুলিনের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি। নতুন পদ্ধতিতে প্রায় ৩৩ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত শোষণ নিশ্চিত হয়েছে, যা আগের প্রচেষ্টাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। আগে যেখানে অনেক বেশি মাত্রায় ইনসুলিন প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন তুলনামূলক কম মাত্রাতেই কার্যকারিতা পাওয়া যাচ্ছে।
মানবদেহে পরীক্ষার অপেক্ষা
এই গবেষণার ফলাফল মলিক্যুলার ফার্মাসিউটিকালসের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, গবেষকরা ইতোমধ্যে বড় প্রাণীর ওপর পরীক্ষা শুরু করেছেন। সফল হলে পরবর্তী ধাপে মানবদেহে পরীক্ষা চালানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি সফল হলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসা আরও সহজ, আরামদায়ক এবং কম কষ্টদায়ক হয়ে উঠবে।
লাইফস্টাইল
যে ৫ খাবার আর্থ্রাইটিস বাড়িয়ে দেয়
আমাদের শরীরের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে আমাদের প্রতিদিনের খাবারের ওপরে। আপনি যদি খাবারের ক্ষেত্রে বেখেয়ালি কিংবা স্বেচ্ছাচারী হন, তবে আপনার শরীরও ঠিক একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। আধুনিক চিকিৎসা গবেষণায় নিয়মিতভাবে নতুন নতুন তথ্য ঘাঁটলেও এমনটাই দেখতে পাবেন।
আমরা যা খাই তা আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে – ভালো এবং খারাপ উভয়ই। আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জানা জরুরি যেগুলো তাদের অবস্থা আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উত্তম-
ভাজা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার
ভাজা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে পুষ্টির পরিমাণ থাকে না বললেই চলে। এগুলো কেবল আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যই ক্ষতিকর, এমন নয়। বরং সবার জন্যই ক্ষতিকর। তবে এটি আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আপনি কি এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই এ ধরনের খাবার খাওয়া বজায় রাখবেন না কি এড়িয়ে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য আপনার।
চিনি এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট
মিষ্টি স্বাদের চিনি এমন কোনও ক্ষতিকারক খাবার নয় যা আমরা একসময় বিশ্বাস করতাম। স্বাস্থ্যের উপর এর অন্যান্য ক্ষতিকারক প্রভাবের পাশাপাশি, চিনি আপনার AGE মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে প্রদাহ হতে পারে যা আর্থ্রাইটিসের মতো অবস্থাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। চিনি কমানো আপনার আর্থ্রাইটিসে সাহায্য করতে পারে এবং প্রায় নিশ্চিতভাবেই আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অন্যান্য সুবিধা প্রদান করবে।
দুগ্ধজাত দ্রব্য
দুগ্ধজাত দ্রব্য খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এটি বাদ দেওয়া বা কমানোর চিন্তা করা অসম্ভব বলে মনে হতে পারে। দুগ্ধজাত দ্রব্যে প্রোটিন থাকে যা জয়েন্টগুলোকে ঘিরে থাকা টিস্যুকে জ্বালাতন করতে পারে, যার ফলে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। যারা দুগ্ধজাত দ্রব্য কমিয়ে দিলে তাদের ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন না পাওয়ার বিষয়ে চিন্তিত তাদের কাছে বাদাম, ডাল এবং পালং শাকের মতো আরও অনেক বিকল্প রয়েছে।
লবণ
উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সম্ভবত খুব ভালো করেই জানেন যে লবণ এমন একটি জিনিস যা তাদের কমাতে হবে। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের লবণ গ্রহণ কমিয়েও উপকৃত হতে পারেন কারণ কারও কারও ক্ষেত্রে লবণ জয়েন্টের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। যদি আপনার আর্থ্রাইটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ উভয়ই থাকে, তাহলে লবণ গ্রহণ কমিয়ে দিলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
অ্যালকোহল
যদিও এটি খাদ্য নয়, তবুও অ্যালকোহল সেবন আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য একটি সম্ভাব্য সমস্যা তৈরি করে। এটি গাউটের বিকাশেও অবদান রাখতে পারে, যা রক্তে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমা হওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা। তাই শুধু এই সমস্যার কারণে নয়, বরং সব রকম পরিস্থিতিতেই অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা উচিত।
লাইফস্টাইল
ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না যে কারণে
পুরো রাতের ঘুমের পর অলস বোধ করা কেবল ঘুমের অভাবের চেয়েও বেশি কিছু নির্দেশ করতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা থাইরয়েডের কর্মহীনতা, ভিটামিনের ঘাটতি, স্লিপ অ্যাপনিয়া, বর্ধিত চাপের মাত্রা এবং রক্তে শর্করা ভারসাম্যহীনতার মতো কারণকে এই চলমান ক্লান্তির প্রধান কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সেইসঙ্গে আপনার ঘুমের মান এবং দৈনন্দিন রুটিনও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমকে আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। অনেকেই এই পরামর্শটি সাবধানে অনুসরণ করেন। তবুও অনেকে ক্লান্ত হয়ে ঘুম থেকে ওঠে। অ্যালার্ম বাজে, শরীর জেগে ওঠে, কিন্তু মন ভারী এবং ধীর বোধ করে। মনে হয় যেন রাতটি সত্যিই শরীরকে পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ঘুমের মান এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য সমানভাবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। ঘুমের পরে ক্লান্তি কখনও কখনও আরও গভীর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যাটি শোবার ঘরের বাইরে থাকে। ক্রমাগত ক্লান্তি কখনও কখনও শরীরের অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার সংকেত হতে পারে।
অনেকে ধরে নেন যে সাত বা আট ঘণ্টা ঘুমানোর অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরীর ভালভাবে বিশ্রাম নিয়েছে। ক্লিনিক্যাল অনুশীলনে, এটি সবসময় হয় না। রোগীরা প্রায়শই ক্লান্ত হয়ে ঘুম থেকে ওঠার কথা জানান। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন ঘুমের পরেও আপনার ক্লান্তি কাটে না-
থাইরয়েড ভারসাম্যহীনতা
থাইরয়েড গ্রন্থি, ঘাড়ে অবস্থিত একটি ছোট প্রজাপতি আকৃতির অঙ্গ, এটি শরীরের শক্তি ব্যবহার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন থাইরয়েড অকার্যকর হয়ে যায়, যা হাইপোথাইরয়েডিজম নামে পরিচিত, তখন শরীরের বিপাক ধীর হয়ে যায়। এই ধীরগতি একসাথে বেশ কয়েকটি সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। তখন ক্লান্তি দেখা দেয়।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা একটি সাধারণ কারণ হতে পারে। অকার্যকর থাইরয়েড কখনও কখনও সারাদিন অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত এবং শক্তির অভাব বোধের কারণ হতে পারে এবং এটি ওজন পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। মার্কিন জাতীয় ডায়াবেটিস এবং ডাইজেস্টিভ এবং কিডনি ডিজিজেস (NIDDK) অনুসারে, হাইপোথাইরয়েডিজম শরীরের প্রক্রিয়াগুলোকে ধীর করে দিতে পারে এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
ভিটামিনের ঘাটতি
শরীরের অভ্যন্তরে শক্তি উৎপাদন ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। যখন এই পুষ্টি উপাদানের অভাব হয়, তখন শরীর খাদ্যকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করতে লড়াই করে। ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং আয়রনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে ক্লান্তি ভর করে। এগুলো পরিমাণে না থাকলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যেতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া
কখনও কখনও সমস্যাটি ঘুমের কাঠামোতেই থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো এমন একটি ব্যাধি যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং শুরু হয়। এই বিরতিগুলো মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে, কিন্তু এগুলো শরীরকে গভীর পুনরুদ্ধারমূলক ঘুমে পৌঁছাতে বাধা দেয়। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত অনেকেই এই অবস্থা সম্পর্কে অবগত নন।
চাপ এবং উদ্বেগ
মন একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। যখন কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ থাকে, তখন মস্তিষ্ক ঘুমের সময়ও সজাগ থাকে। শরীর শারীরিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে, কিন্তু মন উদ্বেগ এবং উত্তেজনা প্রক্রিয়াকরণ চালিয়ে যায়। এর ফলে বেশিরভাগ সময় হালকা, খণ্ডিত ঘুম হয়। মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা সকালের শক্তিকেও প্রভাবিত করে।



