জাতীয়
ফুয়েল পাস চালু, নিবন্ধন করবেন যেভাবে
জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর দুটি ফিলিং স্টেশনে এই সেবা চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে কিউআর কোডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্যোগে তৈরি এই অ্যাপটি প্রথম পর্যায়ে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এতে জানানো হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশনে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণের কারণে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, এতে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট। বর্তমান এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাটি চালু করা হয়েছে।
ডিজিটাল এই ব্যবস্থায় প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য একটি কিউআর কোড তৈরি হবে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় কোড স্ক্যান করলেই নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী নেওয়া যাবে জ্বালানি।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানির বরাদ্দ নথিভুক্ত করবেন। চালকরা কিউআর কোড স্ক্যান করে জ্বালানি গ্রহণ ও নিজেদের বরাদ্দ দেখতে পারবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে পুরো দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
এ ছাড়া যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন এই ব্যবস্থাটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এ ব্যবস্থার ফলে যানবাহনভিত্তিক তথ্য যাচাই সহজ হবে এবং জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবেদন প্রক্রিয়া
গুগল প্লে স্টোর থেকে ফুয়েল পাস নামের অ্যাপটি মুঠোফোনে ইন্সটল করে নিতে হবে। এর পর অ্যাপে প্রবেশ করে ফোন নম্বর ভেরিফাই করে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য প্রদান করে পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশনপ্রকিয়া শেষ করতে হবে।
জাতীয়
হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে পাঠানো হচ্ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। তবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ইরান সরকারের কাছে অনুমতি চাওয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।
জাতীয়
কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পেলেন ৮৮৪৩ আনসার-ভিডিপি সদস্য
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘোষিত কৃষিঋণ মওকুফ সুবিধার আওতায় এসেছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)’র ৮৮৪৩ জন সদস্য। সরাসরি কৃষিকাজে নিয়োজিত এই বিপুলসংখ্যক সদস্যের ঋণের দায়ভার লাঘব হওয়ায় বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ে স্বস্তি ফিরেছে।
রাজধানীর রাজারবাগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মোফাজ্জল হোসেন।
তিনি জানান, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রাম পর্যায়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম সরকার গঠনের পাশাপাশি ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ভিডিপি) বা গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন।’
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সারা দেশে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে অল্পসংখ্যক সদস্য সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। তাদের প্রায় ৯৮ শতাংশই সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধায় আনসার-ভিডিপির ৮ হাজার ৮৪৩ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ জন্য সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
তিনি বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী। এ বাহিনীর বেশির ভাগ সদস্য সরকারি কর্মে নিয়োজিত নন। কেবল কিছু সদস্য যেমন-বিসিএস আনসার ক্যাডার, ব্যাটালিয়ন আনসার ও সাধারণ আনসার সরকারি চাকরি করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু আনসার সদস্য সরকারি চাকরি করেন এবং বেতন-ভাতা পান। তবে ভিডিপির সদস্যরা মূলত স্বেচ্ছাসেবী (ভলান্টিয়ারি) হিসেবে কাজ করেন। তারা নির্বাচন, ঈদ বা পূজার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন। তারা শুধু সেই সময়ের জন্যই দৈনিক ভাতা পান। বছরের বাকি সময় তাদের কোনো বেতন-ভাতা নেই। ফলে জীবনধারণের জন্য তারা হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন।’
মীর মোফাজ্জল হোসেন জানান, আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬১ লাখ সদস্য সমাজের নিম্ন আয়ের স্তরে বাস করেন।
তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তাকারী দরিদ্র আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কল্যাণে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘এই ব্যাংকের মাধ্যমে সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঋণ বিনা জামানতে দেওয়া হয়।’
তিনি জানান, এ পর্যন্ত সারা দেশে আনসার-ভিডিপির প্রায় সাড়ে ৬ লাখ সদস্যকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঋণ আদায়ের হার সন্তোষজনক, খেলাপি নেই বললেই চলে।
তিনি বলেন, ‘সদস্যদের এক, দুই ও সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। সদস্যরা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছেন।’
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সারা দেশে ২৬৩টি শাখার মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এতে ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮শ’র বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উন্নয়নে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের শাখা বৃদ্ধি এবং মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার শিগগিরই এ প্রস্তাব অনুমোদন করবে।
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তিনি দেশে ফেরেন।
সফরে তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে তাকে একটি বিশেষ রেজ্যুলেশন প্রদান করা হয়।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয়
আওয়ামী আমলের অর্থনীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বিগত ১৬ বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, লাগামহীন লুটপাট এবং ভ্রান্ত নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোকে অকার্যকর করে দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির প্রতিটি শক্তিশালী সূচককে ধূলিস্যাৎ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ৩০০ বিধিতে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
বিবৃতিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক দর্শনের ফলে অর্থনীতির মূল সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ছিল এবং প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকার সেই অর্জনগুলোকে নষ্ট করে দিয়েছে।
তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.১৭ শতাংশের মতো নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে দুর্বৃত্তায়নের কারণে সেই প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪.২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে ৯.৭৩ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে শিল্প ও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
শ্রমবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত এক দশকে শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণ সমাজ বাধ্য হয়ে কৃষিতে নিয়োজিত হচ্ছে। এতে কৃষি খাতে ছদ্ম-বেকারত্ব বাড়ছে এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি একে ‘কর্মসৃজনবিহীন প্রবৃদ্ধি’ বা জব-লেস গ্রোথ হিসেবে অভিহিত করেন।
এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও টাকার মান নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ২০০৫-০৬ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল যেখানে ৬৭.২ টাকা, তা বর্তমানে ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাপক অবচিতির ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে কর-জিডিপি অনুপাত না বাড়লেও ব্যয়ের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অতিমূল্যায়িত প্রকল্প এবং সঠিক সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই নেওয়া ‘জম্বি’ প্রকল্পগুলোর কারণে বাজেট ঘাটতি এখন জিডিপির ৪.০৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে তীব্র তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। এই লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকার একটি নতুন ‘সামাজিক চুক্তি’র মাধ্যমে রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে করদাতার অর্থের বিনিময়ে সুশাসন ও উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা থাকবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে জনগুরুত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো বাতিল করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলার তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল মাত্র ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে ১৩ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অধিক নির্ভরতা বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য ঋণ প্রাপ্তি কঠিন করে তুলেছে, যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়।
২০০৫-০৬ সালে রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকলেও ২০২৩-২৪ সালে তা নেতিবাচক ছিল। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, হুন্ডি এবং অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
জাতীয়
ছুটির দিনেও দূষণের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা
বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা (আইকিউএয়ার) সূচকে বিশ্বের ১১৭টি দেশের মধ্যে বায়ুদূষণে শীর্ষে উঠে এসেছে ভিয়েতনামের হ্যানয়। এদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারও তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকার বায়ুর মান ১৬৫, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ মানদণ্ডে পড়ে।
শুক্রবার সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থাটির সূচক অনুযায়ী, শীর্ষে উঠে আসা হ্যানয়ের বায়ুর মান ১৭৬, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ মানদণ্ডে পড়ে।
এছাড়া ১৭০ স্কোরে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি।
তালিকায় চতুর্থ স্কোরে থাকা পাকিস্তানের করাচির স্কোর হচ্ছে ১৬২। এসব শহরের বাতাসও আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদ ১৫১ স্কোরে পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।



