আন্তর্জাতিক
মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়ে ভারতকেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছে সে সম্পর্কে কোনো উল্লেখ করেনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে পাকিস্তানের নামও নেই।
বিশ্বের বিভিন্ন নেতারা যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার করার জন্য পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টাকে শুধু উপেক্ষাই করেনি, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়েও নীরব থেকেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি এটা পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবে। যেমনটা আমরা আগেও বলেছি, যুদ্ধবিরতি, সংলাপ এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ এই যুদ্ধ অবসানের জন্য অপরিহার্য। এই যুদ্ধের যে ধ্বংসাত্মক রূপ দেখা গিয়েছে, সে বিষয়েও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি বলা হয়েছে, এটা বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। আমরা আশা করি বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলো এবার স্বাধীনভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসতে পারবে।
এর আগে পাকিস্তান যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, সেই সময় থেকেই দেশের ভেতরে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এটাকে ভারতের জন্য এক জাতীয় ‘কূটনৈতিক আঘাত’ বলে আখ্যাও দিয়েছিল।
অন্যদিকে, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন ভারত ‘ব্রোকার নেশন’ (দালালি করে এমন দেশ বোঝাতে) বা মিডলম্যান হতে চায় না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ না থাকলেও ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের অনেকেই এই বিষয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করছেন এবং নরেন্দ্র মোদির সরকারের কূটনীতির সমালোচনা করছেন।
কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেছেন, পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছে, তা আসলে ভারতের করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন ইসরায়েলকে ‘পিতৃভূমি’ বলে অভিহিত করেন, তখন তিনি যুদ্ধবিরতির কথা কীভাবে বলবেন?
যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটা দীর্ঘ পোস্ট করেছেন।
সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘(এক্ষেত্রে) পাকিস্তানের ভূমিকা আর্কিটেক্ট হিসেবে নয়, বরং মাধ্যম ও অনুঘটক হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে। তারা এমন এক পথ তৈরি করে দিয়েছে যার মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, ডেডলাইন (সময়সীমা) শিথিল করা হয়েছে এবং একটা সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা ঠিক চিরাচরিত অর্থে মধ্যস্থতা নয়, কিন্তু একে রসিকতা করে উড়িয়েও দেওয়া যায় না।’’
তিনি লিখেছেন, ‘‘আমরা এখন যা দেখছি সেটা সংঘাতের সমাধান নয়, বরং অবস্থানের পুনর্বিন্যাস। যুদ্ধ শেষ হয়নি। সেটা একটা ভিন্ন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে মাত্র, যেখানে এখন বলপ্রয়োগ এবং আলোচনা একসঙ্গে চলছে।’’
এই প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা নিয়েও মত প্রকাশ করেছেন তিনি। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, এর অন্তর্নিহিত অর্থ স্পষ্ট।
‘‘একে শুধু উত্তেজনা প্রশমন হিসেবে দেখলে হবে না। বিষয়টাকে চাপের পরিস্থিতিতে থাকা একটা ব্যবস্থা হিসেবে দেখতে হবে, যেখানে ফলাফল এখনো পরিবর্তনশীল’’, লিখেছেন নিরুপমা মেনন রাও। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ভারতের নিজের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার।
‘‘ভারতের উচিত সুস্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানানো। উত্তেজনা প্রশমনকে সমর্থন করা, সমুদ্রপথে নেভিগেশনকে রক্ষা করা এবং এই সংঘাতের কোনো একটা পক্ষের বয়ানের সঙ্গে একাত্ম হওয়া থেকে বিরত থাকা দরকার। এটা নীরব থাকার মুহূর্ত নয়। এটা পরিমিত কণ্ঠস্বর ব্যবহারের মুহূর্ত’’, লিখেছেন তিনি।
বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন ‘পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট’ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের বিজয় এবং পাকিস্তানের জন্য সম্মানের বলে বর্ণনা করেছেন।
তার মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের সফল আলোচনা প্রমাণ করে যে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আস্থাভাজন নয়, তাদের প্রতি চীনেরও আস্থা রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উল্টে তিনি ভারতকেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন।
এই প্রসঙ্গে অতীতেও পাকিস্তানের ভূমিকার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার কথায়, স্নায়ু যুদ্ধের সময় পাকিস্তানই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শান্তির পথ প্রশস্ত করেছিল এবং এখন স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী যুগে পাকিস্তানই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কাজ করছে। জয়শঙ্কর যাই বলুন না কেন, এমন রেকর্ড কারো নেই।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, উপসাগরীয় দেশ এবং ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষক অভিনব সিং।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, বর্তমানে পাকিস্তানই একমাত্র রাষ্ট্র যার তিন পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া এবং আঞ্চলিক শক্তি উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইরান এই সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
‘‘সেই তুলনায় মোদির কাছে রয়েছে নেতানিয়াহুর কাছ থেকে পাওয়া পদক ও আলিঙ্গন এবং তাকে অধীন একজন হিসেবে মনে করেন ট্রাম্প’’।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্করও পাকিস্তানের ভূমিকার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, আমি বুঝতে পারছি না কেন কিছু মানুষ মধ্যস্থতা করার জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিতে চান না। যুদ্ধ চরম অবস্থায় থাকাকালীনও পাকিস্তান কূটনৈতিক পথ বন্ধ হতে দেয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসলামাবাদ আলোচনার জন্য দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মধ্যস্থতা করতে সফল হয়। এই যুদ্ধ যেভাবে বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছিল সেদিক থেকে এটা একটা বড় সাফল্য।
অমিত ভেরে নামে একজন লেখেন, ‘‘আপনারা বুঝতে পারছেন যে ভারতের এলপিজি ও পেট্রোল সমস্যার সমাধান আমাদের নেতা (মোদি) করেননি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এর সমাধান করেছেন? এটা অবিশ্বাস্য শোনালেও বিষয়টা চমকে দেওয়ার মতো। শাহবাজ শরিফ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছেন।’’
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের উপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরানের তেল ভারতে আসছে। চলতি সপ্তাহেই এসে পৌঁছাবে তেলের সেই ট্যাংক।
ক্যাপ্টেন নরেশ সিং নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘মোদিজির ব্যর্থ কূটনীতির ফলস্বরূপ পাকিস্তান বিশ্বগুরু হয়ে উঠেছে।’’
সাংবাদিক অঙ্কুর ভারদ্বাজের মতে, তুচ্ছ চিন্তাভাবনা ও তিক্ততা দেখানোর বদলে আমাদের স্বীকার করা উচিত যে এই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছে এবং কূটনীতিতে আমরা কোথায় ভুল করেছি আর কেন ভুল করেছি তা নিয়ে গভীরভাবে আত্মসমীক্ষা করা এবং ভাবা উচিত।
সূত্র : বিবিসি বাংলা।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালিতে ‘এখনই চাঁদা আদায় বন্ধ করতে হবে’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, যদি তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ থেকে চাঁদা আদায় করে, তবে তা ‘এখনই বন্ধ করতে হবে’।
বৃহস্পতিবার সিএনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শোনা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী ট্যাংকার থেকে ইরান ফি নিচ্ছে। যদি তারা নিয়ে থাকে, তবে এখনই তা বন্ধ করা উচিত।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরান যদি ‘সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক এবং নিরাপদভাবে’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখতে রাজি থাকবে।
তবে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি এখনও স্বাভাবিকভাবে চালু হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে।
এদিকে, ইরান নাকি প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ফি নেয়ার পরিকল্পনা করছে বলে ফিনান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ট্রাম্প আরও এক পোস্টে বলেন, আমার কারণে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। খুব দ্রুতই আপনি দেখবেন তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। ইরানের সহায়তায় হোক বা ছাড়াই, এটা আমার কাছে কোনো পার্থক্য তৈরি করে না।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি নিয়ে মোজতবা খামেনির নতুন বার্তা
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নতুন বার্তা প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিবৃতিটি ছিল লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যুদ্ধের শুরুতে তার বাবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি।
তার বার্তায় তিনি বলেন, এই যুদ্ধে ইরানের জনগণই ‘বিজয়ী পক্ষ এবং ইরানই এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী জাতি’।
তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করবে এবং এই যুদ্ধে আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে—তবে সেটি কিভাবে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ইরানপন্থীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত চত্বরে আপনাদের কণ্ঠ আলোচনা ও দর-কষাকষির পরিণতিতে প্রভাব ফেলে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং এখনো চাচ্ছে না, তবে নিজেদের বৈধ অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কোনোভাবেই পিছু হটবে না।’
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধে ইরানের জনগণই ‘বিজয়ী পক্ষ’ এবং ইরানই ‘বিজয়ী জাতি’: মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন এই যুদ্ধে ইরানের জনগণই ‘বিজয়ী পক্ষ’ এবং ইরানই এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী জাতি’।
বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে প্রকাশিত লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
তিনি বলেন, সরকার ‘প্রতিটি ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করবে’ এবং ‘এই যুদ্ধে আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করবে’।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার ‘হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে’—তবে সেটি কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ইরানপন্থিদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত চত্বরে আপনাদের কণ্ঠ আলোচনা ও দরকষাকষির পরিণতিতে প্রভাব ফেলে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং এখনো চাচ্ছে না, তবে নিজেদের বৈধ অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কোনোভাবেই পিছু হটবে না। ইরানের মিত্র ও আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোও এই অবস্থানের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
যুদ্ধের শুরুতে তার বাবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। সূত্র: বিবিসি বাংলা
আন্তর্জাতিক
হরমুজে জ্বালানির্বাহী জাহাজে মাশুল আদায়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ‘খুবই দুর্বল’ ভূমিকার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, ইরান তা ঠিকভাবে মানছে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অভিযোগ করেছেন, ‘শুনেছি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরান তেলবাহী ট্যাংকার থেকে টোল (ফি) আদায় করছে। তারা যেন এমনটা না করে। আর যদি করে থাকে, তবে এখনই তা বন্ধ করতে হবে।’
যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ব্যবস্থাপনার কথা বলে আসছে ইরান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তেহরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বসানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
ট্রাম্প তার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান কিছুটা কমাবে, যাতে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি হামলা কমিয়ে আনতে রাজি হয়েছেন।’
এদিকে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে তার সরকার। আলোচনার মূল বিষয় হবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। লেবাননের কর্মকর্তারা আলোচনার আগে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।’
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল। হিজবুল্লাহর রকেট উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে রাতের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে দেখা যায়।
ইসরায়েলি হামলার ফলে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে নতুন করে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, এই এলাকায় দুটি বড় হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৫০ রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের সরিয়ে নেওয়া বর্তমানে সম্ভব নয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের ব্যাপক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং ১,১৫০ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবানন সরকার রাজধানী বৈরুতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে হিজবুল্লাহর ওপর লেবানন সরকারের প্রভাব কতটা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও সরকার মার্চ মাসে সংগঠনটির সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, তবুও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৮০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১৩০ শিশু রয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ।
পরিস্থিতির এই অনিশ্চয়তার মধ্যে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আবারও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘এটাই একমাত্র সমাধান।’
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালীতে মাইন ঝুঁকি এড়াতে নতুন রুট ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালীতে মাইন ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন রুট প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নৌ-মাইন এড়িয়ে চলার জন্য বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করতে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকাশিত মানচিত্রে একটি বৃত্তাকার এলাকা ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, নৌ-মাইন ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলোকে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে।
আইআরজিসি আরও জানায়, যেসব তেলবাহী জাহাজ আগে প্রণালীর দক্ষিণে ওমান উপকূলের কাছ দিয়ে যাতায়াত করত, সেগুলোকে এখন আরও উত্তরের দিকে, ইরানের উপকূলের কাছাকাছি পথ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল (জাহাজের) নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। ‘টুডে’ নামের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত এই প্রণালী ‘হাজার হাজার বছর ধরে খোলা ছিল’।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘বাস্তবে এই আগ্রাসন থেকে সরে না এলে’ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ‘আগ্রাসন’ বন্ধ করলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
খাতিবজাদেহ বলেন, ইরান ‘আন্তর্জাতিক রীতি ও আন্তর্জাতিক আইন’ মেনে চলবে। তবে তিনি এটিও বলেন যে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে নিরাপদ চলাচল ইরান ও ওমানের ‘সদিচ্ছার’ ওপর নির্ভর করে।



