আন্তর্জাতিক
লেবাননে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন আরাগচি
লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ আগ্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অথবা ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ— যুক্তরাষ্ট্রকে এই দুই-এর মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় আরাগচি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার এবং স্পষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রকে এখন অবশ্যই বেছে নিতে হবে যে তারা যুদ্ধবিরতি চায়, না-কি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করতে চায়। কারণ, এই দু’টো একসঙ্গে চলতে পারবে না।”
“লেবাননে যে বিধ্বংসী হামলা, বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড চলছে— পুরো পৃথিবী তার সাক্ষী। বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে কিনা— তা বিশ্ব দেখছে।”
গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ীভাবে যুদ্ধাবসানের দিকে পরিচালনা করা নিয়ে আলোচনা ও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই গতকাল বুধবার লেবাননজুড়ে শতাধিক বিমান হামলা পরিচালনা করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত হয়েছেন মোট ২৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি। নিহত এবং আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে লেবাননের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী বাহিনী।
মাত্র ১০ মিনিট চলেছে ইসরায়েলের বিমান অভিযান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ অভিযানে অংশ নিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ৫০টি যুদ্ধবিমান এবং ১০ মিনিটে পুরো লেবাননে ১০০ বারেরও বেশি বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
অধিকাংশ বোমা ফেলা করা হয়েছে লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে। ফলে ধ্বংস ও প্রাণহানি মাত্রা অনেক বেশি। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, নিহত-আহত এবং তাদের স্বজনদের ভিড়ে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে বৈরুত ও লেবাননের অন্যান্য শহর-গ্রামের হাসপাতালগুলো। ধ্বংসস্তূপ আটকা পড়া নিহত এবং আহতদের উদ্ধারে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যদেরও।
ইরানের সমর্থন ও মদতপুষ্ট বিশ্বের বৃহত্তম সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হিজবুল্লা। লেবাননভিত্তিক এই গোষ্ঠীটির প্রতিষ্ঠা গত শতকের আশির দশকে এবং জন্মলগ্ন থেকেই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের চরম শত্রু।
হিজবুল্লাকে পুরোপুরি দমন করতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মাসে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে লেবাননের সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইরান- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই যুদ্ধ বাঁধার দু’দিন পর অর্থাৎ ২ মার্চ থেকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে মার্চের মাঝামাঝি বিমান অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয় স্থল অভিযানও।
লেবাইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে— তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে ইরান।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলের হামলা
যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দেশটিতে কয়েক ধাপে হামলা চালানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের হারুফ শহরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর একই অঞ্চলের আরেকটি শহর আল-দুওয়াইর (খেরবেত এল-দুওয়াইর নামেও পরিচিত)-এ নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে দক্ষিণ লেবাননের হাব্বুশ শহরেও হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই বৈরুতসহ লেবাননের জনবহুল বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে এই তণ্ডবলীলা চালানো হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই হামলায় ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কাতার ভিত্তিক গণ্যমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এই পরিস্থিতিকে একটি ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরায়েল দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। বৈরুতের আকাশ বর্তমানে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং শহরজুড়ে আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।
লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স নিরবচ্ছিন্নভাবে হতাহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিকতার তোয়াক্কা না করে সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই অভিযানকে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে চালানো ‘সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত আঘাত’ হিসেবে দাবি করেছেন। তার মতে, ‘অপারেশন বিপার্স’-এর পর এটিই হিজবুল্লাহর ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করছে, যদিও অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
আন্তর্জাতিক
চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান ঘিরে সেনা মোতায়েন থাকবে : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান এবং দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা স্থায়ীভাবে প্রশমনের জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ। আসন্ন এই সংলাপ নিয়ে ইরানকে নতুন হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, সংলাপ চলাকালেও ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বহাল থাকবে এবং ইরান যদি সমঝোতা চুক্তিতে না পৌঁছায়— তাহলে ফের সামরিক অভিযান শুরু করা হবে দেশটিতে।
গতকাল বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “সব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, সেনাসদস্য, গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র…সবকিছু বর্তমানে যে জায়গায় আছে, সেখানেই থাকবে; অর্থাৎ ইরানকে ঘিরে থাকবে। যতদিন পর্যন্ত ইরান একটি সত্যিকার সমঝোতা চুক্তিতে না পৌঁছাচ্ছে— ততদিন এই অবস্থা থাকবে।”
“আর যদি কোনো কারণে ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, যে সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ— তাহলে ফের হামলা শুরু হবে এবং সেই হামলা এত ব্যাপক, শক্তিশালী এবং তীব্র হবে যা কেউ কোনোদিন দেখেনি।”
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের ১৫ পয়েন্ট বিশিষ্ট যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং ইরানের ১০ দফা দাবি সম্বলিত আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে সংলাপে বসতে যাচ্ছে মার্কিনি ও ইরানি প্রতিনিধি দল। এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, আর ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম জানিয়েছেন, আজ রাতেই ইসলামবাদের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন ইরানি প্রতিনিধি দল।
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৫৪ জন নিহত, আহত অন্তত ১১০০
লেবাননে গত মাসে ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর বুধবার সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে।
মৃতের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল বৈরুতে, যেখানে ৯১ জন নিহত হয়েছেন। তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন বলে জানিয়েছে এবং বলেছে যে এটি চূড়ান্ত সংখ্যা নয়। রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার বিকেলে রাজধানী বৈরুতে পরপর অন্তত ৫টি হামলা চালানো হয়, যার ফলে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলাটি চালিয়েছে। ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুত, বেকা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তারা মানারা নামের ছোট কিবুতজটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
গত ২ মার্চ শুরু হওয়া যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন ছিল বুধবার। এর দুই দিন আগে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েলে গুলি চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল একটি পুরোদস্তুর বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।
রয়টার্সের সাংবাদিকরা দেখেছেন, বৈরুতের পশ্চিমাঞ্চলের একটি ভবন থেকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা একজন বয়স্ক নারীকে ক্রেনে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি হামলায় ভবনটির অর্ধেক অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় ওপরের তলার বাসিন্দারা আটকা পড়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় লোকজন মোটরসাইকেলে করে আহতদের তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ‘লেবাননে আজ যে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তার মাত্রা ভয়াবহ ছাড়া আর কিছুই নয়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হত্যাকাণ্ড অবিশ্বাস্য।’
রয়টার্সের সরাসরি সম্প্রচার অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে একটি ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অংশ নয় এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর শক্তি প্রয়োগ করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বুধবার বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনার সৃষ্টি। আমার ধারণা, ইরানিরা ভেবেছিল যে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আসলে তা ছিল না।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছিলেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এদিকে হিজবুল্লাহ বুধবার ভোরেই ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ করে দিয়েছে বলে দলটির ঘনিষ্ঠ তিনটি লেবানিজ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আল-মুসাউই রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে এটি যুদ্ধবিরতির অংশ—তাই আমরা তা মেনে চলেছি, কিন্তু ইসরায়েল বরাবরের মতোই তা লঙ্ঘন করেছে এবং সারা লেবানন জুড়ে গণহত্যা চালিয়েছে।’
আন্তর্জাতিক
ডলারের বিকল্প গড়ে তুলতে হরমুজ ঘিরে চীন-ইরানের মহাপরিকল্পনা
ইরানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে অস্থির করে তুলেছে। এমন সময়ে এসে আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার একটি পুরোনো বিতর্ককে সামনে এনে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও চীন।
ইরান ও চীনের অভিযোগ, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের আধিপত্য বা ‘ডলার হেজেমনি’ শেষ হওয়া উচিত।
এ ছাড়া মার্কিনিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের প্রাধান্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
২০২৩ সালে জেপি মর্গান চেজের একটি অনুমান অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন এখনো ডলারে নিষ্পত্তি হয়, যা এই মুদ্রার বৈশ্বিক আধিপত্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
হরমুজ প্রণালি ও ‘ইউয়ান’ ব্যবহারের উদ্যোগ
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের অবস্থান কাজে লাগিয়ে চীনা মুদ্রা ইউয়ানকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনতে চাইছে ইরান ও চীন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখন কার্যত একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইউয়ানে ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে। যদিও কতগুলো জাহাজ ইতিমধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করেছে তা স্পষ্ট নয়, তবে অন্তত দুটি জাহাজ ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে লয়েডস লিস্ট।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্যের ইঙ্গিতপূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছে।
এদিকে ইরানের জিম্বাবুয়ের দূতাবাস এক পোস্টে জানিয়েছে, বৈশ্বিক তেল বাজারে ‘পেট্রোইউয়ান’ যুক্ত করার সময় এসেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে বুধবার থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কথা বলেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে চীন বা ইরান কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক আইএমএফ প্রধান অর্থনীতিবিদ কেনেথ রোগফ বলেন, ‘একদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইউয়ান ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে এটি নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার কৌশল।’
‘বহু মেরুকেন্দ্রিক’ আর্থিক ব্যবস্থার ধারণা
ইরান ও চীনের মতে, ইউয়ানের ব্যবহার উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা-নির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটানো সহজ হয় এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের খরচও কমে।
২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারি চুক্তির পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাজ্যের কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বোলেন্ট গোকেই বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার গুরুত্ব বোঝে এবং ইউয়ানের ব্যবহার সেই কৌশলের অংশ।
তিনি আরো বলেন, চীনের লক্ষ্য হলো একটি ‘মাল্টিপোলার বা বহুমেরুকেন্দ্রিক আর্থিক বিশ্ব’ গঠন করা, যেখানে ডলারের একক আধিপত্যের পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা প্রভাব বিস্তার করবে।
বর্তমানে ইরানের রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনে নেয় চীন। ইউয়ানের মাধ্যমে অনেক সময় ছাড় দেওয়া মূল্যে তা কিনে নেয় দেশটি। বিনিময়ে ইরান চীন থেকে যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স ও শিল্পপণ্য আমদানি করে।
ডলারের আধিপত্য কতটা শক্তিশালী
বিশ্লেষকদের মতে, ইউয়ানের ব্যবহার বাড়লেও বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে ডলারের বিকল্প হওয়া এখনো অনেক দূরের বিষয়।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ২০২৪ সালে এক বক্তব্যে ইউয়ানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাধারণ মুদ্রা ও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে দেখতে চান বলে আশা প্রকাশ করেন।
তবে বাস্তবতা হলো, চীনের কঠোর পুঁজি নিয়ন্ত্রণের কারণে ইউয়ান এখনো সম্পূর্ণভাবে বিনিময়যোগ্য নয়। ফলে বৈশ্বিক পর্যায়ে এর গ্রহণযোগ্যতা সীমিত।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বৈশ্বিক রিজার্ভের ৫৭ শতাংশ ছিল ডলারে, ২০ শতাংশ ইউরোতে এবং মাত্র ২ শতাংশ ইউয়ানে। এছাড়া ২০২৪ সালে আন্ত সীমান্ত বাণিজ্যের মাত্র ৩.৭ শতাংশ ইউয়ানে নিষ্পত্তি হয়েছে, যা ২০১২ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি (১ শতাংশেরও কম) হলেও এখনো সীমিত।
ন্যাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া হিরেরো বলেন, ইউয়ানের ব্যবহার বৃদ্ধি ডলারের আধিপত্যকে কিছুটা চাপ দিলেও এটি ‘ডি-ডলারাইজেশন’ ঘটানোর মতো নয়।
ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল ইকোনমির পরিচালক হসুক লি মাকিয়ামা মনে করেন, ইরান-চীন বাণিজ্য ডলারের বিকল্প গড়ে তুলতে পারে না, তবে এটি নির্দিষ্ট খাতে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ডিফারেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ড্যান স্টেইনকব বলেন, ডলারের আধিপত্য দ্রুত শেষ না হলেও ইউয়ানের ব্যবহার ধীরে ধীরে সেই আধিপত্যকে ‘ক্ষয়’ করতে পারে।
অর্থনীতিবিদ কেনেথ রগোফ আরো বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নির্ভর করবে এই সংঘাতের ফলাফলের ওপর। যদি ইরান ও চীন কৌশলগতভাবে সফল হয়, তবে অনেক দেশ নিজেদেরকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা করতে ডলার নির্ভরতা কমাবে।
বিশ্লেষকদের মতে সার্বিক চিত্র
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটি তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে ধীরে ধীরে ডলারের প্রভাব কমার একটি প্রক্রিয়া।
চীনের সঙ্গে ইরানের এই আর্থিক সমন্বয়কে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি ‘সামান্য কিন্তু ধারাবাহিক চাপ’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, যা ডলারের একক আধিপত্যকে সম্পূর্ণ ভাঙার চেয়ে ধীরে ধীরে বিকল্প ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।
বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ডলারের এই অবস্থান পরিবর্তন আদৌ কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে আগামী বছরগুলোর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শক্তির ভারসাম্যের ওপর।
আন্তর্জাতিক
এক দিনের ছুটি ইউরোপের অর্থনীতির কতটা ক্ষতি করে?
বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়জুড়ে ইস্টার মানডে, লেবার ডে ও হুইট মানডের মতো একাধিক সরকারি ছুটি ইউরোপের অর্থনীতির গতি অনেকটা ধীর করে দেয়। সাধারণ মানুষের জন্য এসব দিন আনন্দ ও বিশ্রামের উপলক্ষ হলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে এই বেতনভুক্ত ছুটিগুলোর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা।
ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিতর্কের মধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ডেনমার্ক।
২০২৪ সালে দেশটি শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় ছুটি গ্রেট প্রেয়ার ডে বাতিল করে। প্রায় ৩৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ ছুটি বাতিলের পেছনে মূল কারণ ছিল প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি ব্যয় জোগাড় করা।
কোপেনহেগেনের হিসাব বলছে, একটি ছুটি কমালে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডেনিশ ক্রোনার, অর্থাৎ প্রায় ৪০ কোটি ইউরো অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন সম্ভব। সরকার জানিয়েছে, ন্যাটো নির্ধারিত জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয় নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
ডেনমার্কের এই উদ্যোগ নতুন নয়। এর আগে ২০১২ সালে পর্তুগাল অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় চারটি সরকারি ছুটি বাতিল করেছিল। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০১৬ সালে সেগুলো পুনর্বহাল করা হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি কোষাগারে চাপ তৈরি হলে ছুটির মতো বিষয়গুলোই আগে কাটছাঁটের তালিকায় আসে।
গবেষক লুকাস রোসো ও রদ্রিগো ওয়াগনার-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রতিটি সরকারি ছুটি বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ০.০৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সব খাতে এর প্রভাব সমান নয়। উৎপাদন শিল্পে ছুটির প্রভাব বেশি পড়লেও কৃষি বা খনির মতো খাতে কাজ অনেক সময় চলমান থাকায় ক্ষতি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ছুটির দিনে মানুষের ভ্রমণ ও বিনোদনমূলক খরচ বাড়ায় পর্যটন ও সেবা খাতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যায়।
বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ক্ষেত্রে একদিনের ছুটিও বড় অঙ্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন জার্মানির ২০২৪ সালের জিডিপি ৪.৩ ট্রিলিয়ন ইউরোর বেশি। সে হিসেবে দেশটিতে একটি কর্মদিবস কমে যাওয়া মানে প্রায় ৩৪০ কোটি ইউরো সমমূল্যের উৎপাদন হারানো।



