জাতীয়
অন্তর্বর্তী সরকারের ৫ অধ্যাদেশের বিল সংসদে পাস
‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা পাঁচটি অধ্যাদেশ বিলে রূপান্তর করে জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১১ মে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। যেখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিনের কার্যক্রমে কণ্ঠভোটে উল্লিখিত পাঁচটি বিল পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
পাস হওয়া অন্য চারটি বিল হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।
এর মধ্যে ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) বিল’ পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে ‘শেখ হাসিনা’র নাম বিলুপ্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বিলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা উত্থাপন করেন। বিশেষ কমিটির কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো সরাসরি পাসের প্রক্রিয়ায় যায়।
জাতীয়
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে সাক্ষাৎ শেষে ফেসবুক পোস্টে জয়শঙ্কর জানান, দুই দেশ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
পোস্টে তিনি বলেন, আজ বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দিতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছি।
এর আগে, ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক শুরুর অংশ হিসেবে খলিলুর রহমানকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পরই বৈঠকে বসেন তারা।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, এই সফরকে পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারেক রহমান সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখছে ভারত।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক (খলিলুর রহমান) ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর করেছেন। তার প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
জাতীয়
স্বাদ-মান অক্ষুণ্ন রেখে ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর গবেষণা করতে হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞানীদের আরো সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত হতে হবে। কিভাবে জাটকার উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া যায় এবং ইলিশ মাছের ডিমের সঠিক পরিস্ফুটন ঘটিয়ে জাটকার সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব—এসব বিষয় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা জরুরি।’
‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উদযাপিত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটরিয়ামে ‘ইলিশ গবেষণা : অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণী ‘ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন আরো বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা করতে হবে।
’ তিনি বলেন, ‘এমন কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবন করা প্রয়োজন, যাতে ইলিশের স্বাভাবিক স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য নষ্ট না হয়, কিন্তু উৎপাদন বাড়ে এবং দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।’
জেলেদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘জাল ও নদী আপনাদের। তাই জাটকা ধরা বন্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আপনারাই সরকারকে কার্যকর প্রস্তাবনা দিতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘ইলিশ না পাওয়ার সমস্যা এখন পুরো দেশের, তাই উৎপাদন বাড়িয়ে এই মূল্যবান মাছকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, ‘ইলিশ বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য এবং বিশ্বে মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়ে থাকে।’ তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয়
সারা দেশে ইন্টারনেট নিয়ে দুঃসংবাদ দিল বিএসসিসিএল
দেশে তিন দিন ইন্টারসেবা বিঘ্নিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিসিএল)। দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল (SEA-ME-WE-5) রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কারণে সেবা বিঘ্নিত হকে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিসিএল)। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেমের ‘শাট ফল্ট’ মেরামতের কাজ শুরু হবে বৃহস্পতিবার। ওই দিন রাত ১০টা থেকে শুরু হয় মেরামতকাজ চলবে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোর ৬টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, মোট ৩ দিন ৮ ঘণ্টা চলবে এই রক্ষণাবেক্ষণকাজ।
ফলে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত থেকে পরবর্তী তিন দিন সারা দেশে বিঘ্নিত হতে পারে ইন্টারনেট সেবা।
এই সময়ে ইন্টারনেট সেবায় থাকতে পারে ধীরগতি।
বিএসসিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) মোহাম্মদ জাকিরুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে দ্রুতই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে মেরামতকাজ। সঠিকভাবে মেরামত শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফের নিশ্চিত করা হবে স্বাভাবিক সেবা।
জাতীয়
প্রথম সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে। সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দিল্লি। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
ঢাকার ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়তে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার। সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকেও বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সফর স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া আতিথেয়তার মতো তারেক রহমান ও পরিবারকে বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।
দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নানাভাবে তিক্ত হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তও নেয় দুই দেশ। সেই বরফ গলিয়ে এবার ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক গভীর করতে তারেক রহমানের প্রতি বন্ধুত্বের অনন্য নজির দেখাতে চায় ভারত। তাই তাদের সফরকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে চায় ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সময়কার মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরে। সফরকালে ট্রাম্প তার পরিবার নিয়ে দিল্লির বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল ‘আইটিসি মৌর্য’তে উঠেছিলেন। তারেক রহমান ও তার পরিবারেরও থাকার ব্যবস্থা হচ্ছে সেখানে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দিতে চায় দিল্লি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম নেপালে ও পরে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার আলোচনা ছিলা। সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। শুরুতে চলতি মাসেই (এপ্রিল) তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতি নেয় দিল্লী। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনের কারণে সময় পেছানো হয়। ১০ মের আগে যে কোনো দিন চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।
আলোচনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি
সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর এবং সফরকালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যদিও চুক্তিগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সহায়তা প্যাকেজের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।
এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে চলতি ইরি মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পরদিন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রথম আনুষ্ঠানিক ভারত সফরে গেছেন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ভারত সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠকের পর তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কারা ভারতে যাবেন সে তালিকাও চূড়ান্তের কাজ করছে বলে ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সফরসঙ্গী হিসেবে তালিকায় নাম রয়েছে—অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ ছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিও সফরসঙ্গী হতে পারেন বলে জানা গেছে।
জাতীয়
বাংলাদেশ ও ইতালি অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে অঙ্গীকার নবায়ন
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীকে সদ্য দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে ইতালির আস্থা ব্যক্ত করেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সময় তাাদের মধ্যে বৈঠক হয়। উভয় পক্ষ সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেন যে, দৃঢ় জনসম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, চামড়া ও সিরামিক শিল্প, উৎপাদন খাত, দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ অগ্রাধিকার খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ইতালির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ইতালির সমর্থন কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এজেন্ডা বিষয়ে ইতালির অবস্থান তুলে ধরেন।
আলোচনায় অভিবাসন ও চলাচল বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী কার্যকর অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইতালি ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং ইতালীয় সমাজে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতি দেন।
উভয় পক্ষ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষ করে বৈধ পথ সম্প্রসারণ, দক্ষতা অংশীদারিত্ব এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী শ্রম চলাচল জোরদারের মাধ্যমে।



