আন্তর্জাতিক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে: রাশিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘একমুখী, আগ্রাসী ও বিনা উসকানিতে আক্রমণ’-এর পন্থাটি ‘চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, আরও আগ্রাসী হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় থাকা এবং ‘জয়’ খুব কাছেই- এই ধরনের যেসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল, সেই অবস্থান আবারও চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে এমন একমুখী, আক্রমণাত্মক ও উসকানিহীন হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।’
জাখারোভা আরও বলেন, শুরু থেকেই রাশিয়া ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং একটি ‘বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান’ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। পাশাপাশি, এই পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও মনে করে মস্কো।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। প্রতিবেদন অনুসারে, এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
এর জবাবে, ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করে তেহরান।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিরতিকে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান দেখাবে এবং এই সুযোগকে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করে একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য কাজ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হয় বিবৃতিতে।
যুদ্ধবিরতি সুবিধাজনক করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণকারী সব পক্ষকে সাধুবাদ জানানো হয়। সব বিবাদই শান্তিপূর্ণভাবে সংলাপ ও কূটনীতি মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এবং করা উচিত বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতের পর বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এতে সম্মত হয়েছে তেহরানও।
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলা বন্ধ হলেও লেবাননে অভিযান চালাবে ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তবে দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানে হামলা বন্ধ হলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে ইরানে সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখলেও লেবাননে স্থল ও আকাশ অভিযান জারি রেখেছে ইসরায়েল। আইডিএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ইরানি অভিযানে যুদ্ধবিরতি পালন করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন মোকাবিলায় সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।” তবে একই সাথে তারা জানায়, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননের লড়াই ও স্থল অভিযান চলমান থাকবে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছিলেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব জায়গায় কার্যকর হবে। কিন্তু ইসরায়েল সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে নিজেদের সামরিক অবস্থান পরিষ্কার করল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনায় আত্মরক্ষামূলক জবাব দিতে তারা ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ রয়েছে। এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আজ সকালেও ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধ থামাতে ১০ দফা প্রস্তাব দিল ইরান, থাকছে ইউরেনিয়াম ইস্যু
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রস্তাবিত ১০ দফা শর্তে নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির স্বীকৃতির পাশাপাশি সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)- এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ১০ দফা শর্ত বাস্তবায়নে ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অব্যাহত নিয়ন্ত্রণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্বীকৃতি এবং সব প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’ প্রয়োজন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে দেওয়া এই প্রস্তাবে আরও রয়েছে—মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যে কোনো চুক্তিকে বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব গ্রহণ।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সব চুক্তিকে বাধ্যতামূলক করবে এবং এটি ইরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই ঘোষণার আগে ইরানের ওপর সম্ভাব্য বড় ধরনের মার্কিন হামলা ঠেকাতে মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) একটি সমঝোতা প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কোনো সমঝোতা না হলে ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতিতে ‘সমর্থন’ দিয়েও ইরানে ইসরাইলের হামলা
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরাইলি বিমান বাহিনী ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, সেই সময়ের পর থেকে ইরান ইসরাইলকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তবে ইসলাইল এখন পর্যন্ত হিহজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করেছে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীই এটি সম্ভব করেছে বলে দাবি তার। খবর আল জাজিরা’র।
প্রতিবেদন অনুসারে, লেভিট বলেছেন, শুরু থেকেই ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন যে এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ চলবে এবং ৩৮ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন ও অতিক্রম করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি লিখেছেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনীর সাফল্য সর্বোচ্চ দর কষাকষির সুযোগ তৈরি করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দলকে কঠিন আলোচনায় বসতে সক্ষম করেছে এবং এটি এখন একটি কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ খুলে দিয়েছে।’
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লেভিটের এই বক্তব্যের আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে কারণ ‘যুদ্ধের প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে’ এবং তারা ইসলামাবাদে আলোচনা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তাদের ‘যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়’ রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আরও সুসংহত করা যায়।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কমলো প্রায় ১৪ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাতে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এক এক্সবার্তায় জানান, যুদ্ধবিরতির এই ১৫ দিন হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে হরমুজ পেরোনোর আগে অবশ্যই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমোদন নিতে হবে।
এই দুই ঘোষণা পর পর পরই কমতে শুরু করে তেলের দাম। বাজার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজে অবরোধ শিথিলের খবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৪ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ কম। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডে দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৮৪ ডলার।
আর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অপর বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)- এর দাম কমেছে ১৬ দশমিক ১৩ ডলার। শতকরা হিসেবে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই অবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তেলের বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষক টনি সাইক্যামোর রয়টার্সকে বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অবসানের ঘটনা বাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক। উত্তেজনা নিরসনের এই প্রাথমিক পর্যায়টি খুবই চমৎকার। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে বাজার এখনও স্থিতিশীল হয়নি। বৈশ্বিক তেলের বাজারকে স্থিতিশীল করতে আরও অনেক কাজ এখনও বাকি আছে।”
সূত্র : রয়টার্স



