রাজধানী
পথচারীর নিরাপত্তার জন্য ফুটপাত দখলমুক্তের কাজ শুরু হয়েছে : ডিএনসিসি প্রশাসক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি পথচারী। তাই পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুত সময়ে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
আজ মঙ্গলবার গুলশানে ডিএনসিসির সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কারিগরি সহায়তায় ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঢাকা শহরের সড়কে সংঘটিত রোড ক্র্যাশে মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত সাধারণ ডায়েরি ও মামলা বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিএনসিসি ও ডিএমপি’র যৌথ উদ্যোগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
অনুষ্ঠানে ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিআইজিআরএস-ঢাকার সার্ভিল্যান্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী।
তিনি জানান, ডিএমপির রেকর্ড অনুযায়ী ২০২২-২০২৩ সালে ঢাকা শহরের সড়কে রোড ক্র্যাশে মোট ৫৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ (৩০৩ জন) পথচারী, ২৪ শতাংশ (১২৮ জন) মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮ শতাংশ (৪১ জন) রিকশা ব্যবহারকারী। লিঙ্গভেদে নিহতদের ৮০ শতাংশ পুরুষ এবং বয়সভেদে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার বেশি। অর্থাৎ, সড়কে যারা প্রাণ হারাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই কর্মক্ষম বয়সের মানুষ।
তিনি আরো জানান, দিনের তুলনায় রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি।
এসব দুর্ঘটনার পেছনে প্রধানত বেপরোয়া বাস ও ট্রাক দায়ী। প্রতিবেদনে ঢাকার বিভিন্ন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড় চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখিত সময়ে যাত্রাবাড়ী মোড় ও বিমানবন্দর মোড়ে সর্বোচ্চ ১২ জন করে এবং আব্দুল্লাহপুর মোড়ে ১০ জন মারা গেছেন। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আর্মি গলফ ক্লাব বাস স্ট্যান্ড থেকে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে ৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যা প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ৮ জনেরও বেশি মৃত্যুর সমান। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারী, বিশেষ করে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পথচারী, যাত্রী ও চালকসহ সড়ক ব্যবহারকারী যদি সচেতন হন এবং আইন মেনে চলেন, তবে সড়ক অনেকাংশে নিরাপদ হয়ে উঠবে।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেদনে চিহ্নিত ডিএনসিসির আওতাধীন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড়সমূহ পুনঃনকশা করা হবে, যাতে সড়কে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো যায়। বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা, উন্নত ও প্রশস্ত ফুটপাত এবং জেব্রা ক্রসিং স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিআইজিআরএস’র সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত পরিবর্তন এবং যথাযথভাবে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিএমপি ও ডিএনসিসির যৌথ উদ্যোগে ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল উপযোগী করা হচ্ছে।
ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস’র টেকনিক্যাল এডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, মৃত্যু কেবল একটি সংখ্যা নয়; বরং এটি স্বজন হারানো পরিবারের জন্য আজীবনের বেদনা। তাই রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিরাপদ সড়ক ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রিত গতিতে যানবাহন চালানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)-এর সিনিয়র রোড সেফটি স্পেশালিস্ট মো. মামুনুর রহমান, বিআরটিসি’র মহাব্যবস্থাপক (পরিচালনা) মেজর মো. নিজাম উদ্দিন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর সহসভাপতি এসএম আজাদ হোসেন, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট-এর কনসালটেন্ট ফারজানা ইসলাম তমা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান এবং সেন্টার ফর ইনজ্যুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন।
বিআইজিআরএস সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. ওয়াতিন আলম এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়ালি নোমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
রাজধানী
মশক নিধনে ডিএনসিসির কারিগরি কমিটির জরুরি সভা
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু মোকাবেলায় চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে মশক নিয়ন্ত্রণে গঠিত কারিগরি কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে গুলশান নগর ভবনে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মশক নিধনে ভিন্ন ভিন্ন কীটনাশকের সমন্বিত ব্যবহার (কম্বিনেশন) একাধিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হবে।’
সভায় মশক নিধনে নতুন এবং অধিক কার্যকর কীটনাশক নির্ধারণকে মূল এজেন্ডা হিসেবে আলোচনা করা হয়।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই এখনই কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমে টেমিফস ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিশ্বের কিছু দেশে যেমন ব্রাজিল ও ফিলিপাইনে টেমিফসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ (রেজিস্টেন্স) তৈরি হয়েছে।
নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ না হলে এই প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত তৈরি হতে পারে। তিনি বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অন্তত পাঁচটি ভিন্ন স্থানে পরীক্ষা পরিচালনা করে ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেন।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার সভায় জানান, নোভালিয়ন, ম্যালাথিয়ন ও টেমিফস—এই তিনটি কীটনাশকের সেমি-ফিল্ড, ফিল্ড ও ল্যাব পর্যায়ে পরীক্ষা করে ম্যালাথিয়ন তুলনামূলকভাবে অধিক কার্যকর ফল প্রদান করেছে। বিকল্প হিসেবে বিটিআই ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মতামত প্রদান করেন।
এ সময় ফগিং কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না এবং এ পদ্ধতির কার্যকারিতা সীমিত হওয়ায় ধীরে ধীরে ফগিং নির্ভরতা কমিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে সোর্স রিডাকশন বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরো জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিশেষজ্ঞ কমিটি (ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধকল্প)-এর সদস্য অধ্যাপক ড. গোলাম সারোয়ার ও ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ড. রাজিব চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ ।
রাজধানী
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জেই উধাও ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ, বছরে ক্ষতি ৪ হাজার কোটি
দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে বিপুল বিদ্যুৎ অপচয় থামানো যাচ্ছে না। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশই খরচ হয়ে যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জে, যার বেশিরভাগই হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। সিপিডি’র তথ্য বলছে- প্রতিদিন অন্তত জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতেই। এতে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, বর্তমানে সারা দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই ১২ থেকে ১৫ লাখ অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এসব অটোরিকশার কোনোটিতে ৪টি, কোনোটিতে আবার ৬টি করে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে। এসব ব্যাটারি সাধারণত ১২ ভোল্টের হয়ে থাকে। দিনে যা চার্জ হতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
প্রতিটি রিকশার ব্যাটারি চার্জের জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিদিন শুধু ঢাকা শহরেই ১২ থেকে ১৫ লাখ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যাচ্ছে। আর এসব অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য খোদ মন্ত্রণালয় থেকেই ৩ হাজার ৩০০ চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিপিডিসি’রই ২ হাজার ২০১টি বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ডিপিডিসি’র মোট চাহিদার প্রায় ২৬ দশমিক ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। তবে মন্ত্রাণলয়ের এই বৈধ চার্জিং স্টেশনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রয়েছে অবৈধ রিকশার ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১০টি অপরাধ বিভাগের ৮টিতে ব্যাটারিচালিত বৈধ চার্জিং স্টেশন থাকলেও প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে।
এর মধ্যে মিরপুর ডিভিশনের ৭ থানায় আছে ৩ হাজার ৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজ। ওয়ারী ডিভিশনে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬ চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ। গুলশান ডিভিশনে রয়েছে ২ হাজার ৬৪৩ চার্জিং পয়েন্ট ও ১২৮টি গ্যারেজ। উত্তরা ডিভিশনে ১ হাজার ৩০৫ চার্জিং পয়েন্ট ও ৭২টি গ্যারেজ। মতিঝিল ডিভিশনে ১ হাজার ৩৯০ চার্জিং পয়েন্ট ও ৬০টি গ্যারেজ। লালবাগ ডিভিশনে ১৯৯ চার্জিং পয়েন্ট ও ৭৭টি গ্যারেজ। তেজগাঁও ডিভিশনে মোট ২৩৪ এবং রমনা ডিভিশনে অন্তত ২৬টি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজের প্রতিটিতে দিনে অন্তত ৮০ থেকে ১৫০টি রিকশা রাখা হয়। আর নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজেই রয়েছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সুবিধা। কোনো গ্যারেজ মালিক প্রতিদিন জমার টাকার সঙ্গেই চার্জের টাকা নেন, কেউ আবার গ্যারেজ না থাকায় ব্যক্তিগত অটোরিকশাগুলো টাকার বিনিময়ে অন্যের গ্যারেজে চার্জ করাচ্ছেন।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার বিএসটিআই মূল সড়কের দুই পাশের ফুটপাথ জুড়ে গড়ে উঠেছে রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের একাধিক স্টেশন। বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে হুক বাঁধিয়ে সরাসরি লাইন টেনে শত শত রিকশার ব্যাটারি দিনে-রাতে চার্জ করা হয়। শুধু বিএসটিআই রোড নয় আশেপাশের প্রায় প্রতিটি গলি রোডেরই একই অবস্থা। রিকশার এসব অবৈধ চার্জিং ব্যবসার কাজে জড়িত সাইফুল নামে এক যুবক বলেন, আমরা তো বৈধ উপায়ে ব্যবসা করতে চাই কিন্তু ফুটপাথে এক একটি মিটার নিতেই ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই অবৈধভাবে চার্জ করাচ্ছি। তিনি বলেন, মাঝে মধ্যেই আমাদের এখানে অভিযান চলে। ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশনের লোকজন সব নিয়ে চলে যায়। কিন্তু কি করবো, বাধ্য হয়ে আবারো চলে আসি। তিনি বলেন, শুধু আমি না এই এলাকার প্রতিটি রাস্তার পাশেই এভাবে তার টেনে ফুটপাথে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয়।
রাজধানীর পশ্চিম ধানমণ্ডির রায়ের বাজার এলাকার এক রিকশা গ্যারেজে গিয়েও দেখা মেলে একই চিত্র। রাস্তার পাশেই সুকৌশলে বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে হুক বাঁধিয়ে মোটা তার নামিয়ে দেদারছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। গ্যারেজটির মালিক বলেন, বৈধভাবে মিটার নিলে খরচ পোষানো সম্ভব নয়। তাই এই পথ নিয়েছি। তিনি বলেন, আমার এখানে দিন-রাত মিলিয়ে অন্তত ১৮০টি রিকশা চার্জ করা হয়। এক-একটি রিকশার ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। আমরা জমার টাকার সঙ্গেই নিয়ে নিই। ৪০০ টাকা জমা। ওর মধ্যেই সব।
তিনি বলেন, হাজারীবাগ, বেড়িবাঁধ, বালুরমাঠ, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, লাগবাগসহ আশপাশের সব এলাকাতেই একইভাবে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয়। মো. আমিনুল নামে খিলগাঁও এলাকার এক অটোরিকশার মালিক বলেন, আমার ১৫টি রিকশা আছে। কিন্তু জায়গা না থাকায় কোনো গ্যারেজ নেই। আরেক জনের গ্যারেজে চার্জ করায়। প্রতিমাসে আমার ৩৬শ’ টাকা গ্যারেজ ভাড়া দেয়া লাগে।
মো. সাগর নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, প্রতিদিনই রাজধানীর সড়কে অটোরিকশা যোগ হচ্ছে। এ ছাড়াও হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, কমলাপুর, সবুজবাগ, মাণ্ডা, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, টঙ্গীতে অন্তত ১ হাজার অটোরিকশা কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন এসব কারখানাগুলোতে শত শত রিকশা তৈরি হচ্ছে। ধার-কর্য করে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হলেই মানুষ রিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। চার্জেরও সমস্যা নেই। কারোর গ্যারেজে দিনপ্রতি টাকা দিলেই ব্যাটারি চার্জ করানো যায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আমরা যতটুকু জানি ঢাকা শহরে দৈনিক ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ থেকে ৭০০ ওয়াট বিদ্যুৎ যদি অটোরিকশা খেয়ে ফেলে তাহলে সামনের গরমে লোডশেডিং ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় থাকবে না। একইসঙ্গে যেসব হাজার হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট থেকে এগুলো চার্জ করা হচ্ছে তা আমাদের জাতীয় গ্রিডের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সরকারের নজর দেয়া উচিত।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, রাজধানীর ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। এ ক্যান্সার এখন সর্বশেষ স্টেজে রয়েছে। যেকোনো সময় বিপদ ঘটাতে পারে। এটা নিয়ে সরকারকে দ্রুত কাজ করতে হবে। না হলে ঢাকাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। এ রিকশা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি হওয়া কারখানা ও চার্জিং স্টেশনগুলো বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটারি আমদানি নিয়ন্ত্রণ, কারখানা এবং চার্জিং স্টেশনগুলো বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বন্ধ করে দেয়াসহ সরকারকে কঠোর হতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. রবিউল হাসান বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং স্টেশনে বিদ্যুৎ দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু বৈধ সংযোগ না দিলে তারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে চার্জ করে। তাই আমাদের নর্থ জোনে ২৫৯টি, সেন্ট্রাল জোনে ৩৫১টি এবং সাউথ জোনে ১৫৯১টি বৈধ অটোরিকশা চার্জিং স্টেশনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেখানে যেখানে আমরা খবর পাচ্ছি অবৈধভাবে রিকশার ব্যাটারি চার্জিং করা হচ্ছে, সেসব জায়গায় আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। অ্যারিয়াল ক্যাবল দিয়ে পুরনো ক্যাবল পরিবর্তন করে দিচ্ছি। যেন আর হুকিং করতে না পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএ’র পরিচালক (রোড সেফটি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, একটি বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তিন চাকার যানবাহনের জন্য পৃথক নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।
রাজধানী
তেজগাঁও লিংক রোড অবরোধে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন
রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোড অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে ওই এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে অবরোধ তুলে নেওয়ায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার (০৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগরীর গুলশান জোনের ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ১০টার পর মহাখালী-নাবিস্কোর মাঝামাঝি তেজগাঁও লিংক রোডের মুখে নাসা গ্রুপের আনুমানিক ৭০০/৮০০ পোশাককর্মী বেতনের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করা শুরু করেন। এতে তেজগাঁও টু মহাখালী- উত্তরা রুটে এবং উত্তরা টু মহাখালী- তেজগাঁও রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
অবরোধের সময় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে ভোগান্তি এড়াতে ডাইভারশন অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। তখন তারা জানায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে উত্তরা- মহাখালী রুটে চলাচল করা যাবে। মহাখালী ফ্লাইওভার ব্যবহার করে উত্তরা/গুলশান/বনানী থেকে তেজগাঁওয়ের দিকে চলাচল করা যাবে।
এ ছাড়া কাকলী বামে মোড়-কামাল আতাতুর্ক সড়ক-গুলশান-২ হয়ে নতুন বাজার/ গুলশান-১ হয়ে রামপুরা, হাতির ঝিলগামী গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে। অনুরুপভাবে বিপরীত দিক থেকে চলাচল করা যাবে।
রাজধানী
কদমতলীতে কারখানায় আগুন: ৫ মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলীর গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা পৌনে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এ লাশ উদ্ধার করেন। এছাড়া এ ঘটনায় একজন পুরুষকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এর আগে দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, আজ দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় একে একে মোট ৭টি ইউনিট কাজে যোগ দেয়।
রাজধানী
আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ
প্রতিদিনই কেনাকাটা করতে আমরা কোথাও না কোথাও গিয়ে থাকি। অনেক ভোগান্তি শেষে কোথাও গিয়ে দেখলেন, সেখানকার কার্যক্রম বন্ধ, তখন কাজ তো হলোই না বরং সময় নষ্ট।
তাই বাইরে বের হওয়ার আগে দেখে নিন শনিবার (০৪ মার্চ) রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট, দোকান ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ।
যেসব এলাকার দোকানপাট অর্ধদিবস বন্ধ থাকে
বাংলাবাজার, শ্যামবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজার, চাঙ্খারপুল ও লক্ষ্মীবাজার।
যেসব মার্কেট অর্ধদিবস বন্ধ থাকে
গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, আজিমপুর সুপার মার্কেট, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন ও ইসলামপুর কাপড়ের দোকান।
যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে
শুক্র এবং শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বন্ধ থাকে শিশু একাডেমি ও জাদুঘর। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।



