গণমাধ্যম
শায়খ আহমাদুল্লাহর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিলের নেপথ্যে কী?
ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির পর আরেকজন বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আহমাদুল্লাহ, যিনি শায়খ আহমাদুল্লাহ নামেই বেশি পরিচিত-তার ভিসাও অস্ট্রেলিয়া বাতিল করেছে। এনিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে ও অস্ট্রেলিয়ায় তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণে আহমাদুল্লাহ গত ৩০ মার্চ অস্ট্রেলিয়া যান। তার অস্ট্রেলিয়া সফরের উদ্দেশ্য ছিল কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ও বক্তব্য দেওয়া। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত চারটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন আহমাদুল্লাহ।
তবে আহমাদুল্লাহ একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, গত সপ্তাহে অষ্ট্রলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি আমি। এরপর একটি জরুরি কাজে দেশে ফিরেছি।
ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে আহমাদুল্লাহ জানান, ৬ এপ্রিল, সোমবার সকালে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল হয়েছে মর্মে একটা মেইল পেয়েছেন তিনি। এর কয়েকদিন আগেই এপ্রিল মাসের শুরুতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আরেকজন ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া।
কী কারণে বাতিল হয়েছে? শায়খ আহমাদুল্লাহকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আইনজীবীর ভিসা বাতিল সংক্রান্ত মেইল আসে এবং ওই আইনজীবী তাকে মেইলটি ফরোয়ার্ড করেছেন।
তবে আহমাদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, তার ভিসা বাতিল সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় যেভাবে প্রচার হয়েছে, সেরকম সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ সেই লেটারে দেখতে পাইনি আমি।
এদিকে সিডনিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’ শায়খ আহমাদুল্লাহ’র অস্ট্রেলিয়া সফর ও ভিসা বাতিল নিয়ে সম্প্রতি দুইটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উভয় প্রতিবেদনেই তাকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদানকারী ইসলামি প্রচারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার আগের কিছু ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। সেখানে শায়খ আহমাদুল্লাহ ইহুদিদের বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার নেপথ্যের কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন এবং তাদের নিকৃষ্ট বলেও অভিহিত করেছেন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসা জটিলতায় ও বিতর্কের মুখে আগে থেকে নির্ধারিত কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করেই তিনি অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন।
অন্যান্য
চুরিতেও ছ্যাঁচড়ামি করেছেন মাহবুব মোর্শেদ : আরিফ জেবতিক
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বলেছেন, লোকটা ঝোলায় ভরে আসিফ নজরুলের বাসায় মদের বোতল সরবরাহ করা ছাড়া আর কোনো কাজেরই যোগ্য নয়, এই কথাটি যারা বলেছিলেন, আপনারা সঠিকই বলেছিলেন। চুরিটাও কী পরিমাণ ছ্যাঁচড়ামি আর ছন্নছাড়া ভাবে করেছে, দেখেন।
শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রথম আলোর ‘নিজের গাড়ি রেন্ট-এ কারের মাধ্যমে বাসসকে ভাড়া দিয়েছিলেন মাহবুব মোর্শেদ’ শিরোনামের একটি নিউজের স্ক্রিনশট শেয়ার করে একথা লেখেন তিনি।
তিনি ফেসবুক পোস্টে আরো লেখেন, ইউনূস আর আসিফ নজরুল তাদের সকল পার্সোনাল স্টাফ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম থেকে শিশি সাপ্লায়ার মামো, এদেরকে দুটো খুদকুঁড়ো দেওয়ার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের পাইন মেরে দিয়েছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের মালিকানাধীন একটি গাড়ি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি করেছিলেন মাহবুব মোর্শেদ, যখন তিনি সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে ছিলেন। ওই গাড়ি ভাড়া বাবদ মাসে নেওয়া হতো দেড় লাখ টাকা। মাহবুব মোর্শেদ সম্প্রতি বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাসস সূত্রের দাবি, মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিজের গাড়ি বাসসকে ভাড়া দেওয়া, নিজের বেতন ও ভাতা নিজেই নির্ধারণ, পদ না থাকলেও নিয়োগ এবং কর্মীদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
নথিপত্র থেকে জানা গেছে, মাহবুব মোর্শেদের মালিকানাধীন টয়োটা এলিয়ন মডেলের একটি গাড়ি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাসিক দেড় লাখ টাকা ভাড়ায় বাসসের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এটি স্বার্থের দ্বন্দ্ব ঘটায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।
বাসস সূত্র বলছে, গাড়িটি মাহবুব মোর্শেদ নিজে ব্যবহার করতেন। তবে এমডির ব্যবহারের জন্য আগে থেকেই বাসসের নিজস্ব একটি গাড়ি রয়েছে। সেটা মাঝেমধ্যে ব্যবহার করতেন মাহবুব মোর্শেদ।
নথিপত্র বলছে, মাহবুব মোর্শেদের ব্যক্তিগত গাড়িটির জন্য দেড় লাখ টাকা ভাড়া (জ্বালানি, চালক, অন্যান্য ব্যয়সহ) নির্ধারণ করা হয়। এটা সপ্তাহে ৭ দিন ও দিনের পুরো ২৪ ঘণ্টা সময়ের জন্য।
একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি গাড়িও বাসসে ভাড়ায় চলছে, সেই গাড়ির ভাড়া মাসে ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এই গাড়ির ভাড়া অর্ধেকের কম। দ্বিতীয় গাড়ির চুক্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ও ২৪ ঘণ্টার কথা উল্লেখ নেই।
এ বিষয়ে মাহবুব মোর্শেদের বক্তব্য জানতে গত ১৬ মার্চ তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে কথা বলার মতো মানসিকতা নাই আমার।…রিপোর্ট করেন আপনি। শুভেচ্ছা থাকল।’
গণমাধ্যম
আনিস আলমগীরসহ তিন সাংবাদিককে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গতকাল জ্যেষ্ঠ তিন সাংবাদিককে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এই তিন সাংবাদিক হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শফিক রেহমান, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মো. মোকাররম হোসেন এবং আনিস আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তিন সাংবাদিককে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. মোকাররম হোসেন বলেন, ঈদের দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ফোন করে স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ফোন পাওয়া ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তিনি আমার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’
মোকাররম হোসেন আরও বলেন, উৎসবের দিনে সরকার প্রধানের এমন সৌজন্যতায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
এ ছাড়া আনিস আলমগীর জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোন করে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
গণমাধ্যম
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর জেল সুপার মো. আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল শুক্রবার তার জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়।
পরে যাচাই-বাছাই শেষে আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এ সময়ে তার স্ত্রীসহ স্বজনরা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যম
নতুন সরকারপ্রধান কিছু অসাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন : মাসুদ কামাল
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘আমাদের নতুন সরকারপ্রধান কিছু অসাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমার কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে এই সিদ্ধান্তগুলো তিনি প্রথমে নিজের ওপর প্রয়োগ করছেন। যেমন—উনি যখন পথে চলাফেরা করেন, ওনার বাসা থেকে যখন অফিসে আসবেন, সেসময় কোনো সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন।
সেই গাড়ির যে জ্বালানি সেটাও নিজের টাকায় কিনছেন।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল বলেন, আগে আমরা দেখতাম প্রধানমন্ত্রী যখন যাতায়াত করতেন তখন ১৪ থেকে ১৫টা গাড়ির একটা বহর থাকতো। আগে পিছে নিরাপত্তা অনেক রকম ব্যাপার ছিল।
উনি বলেছেন যে, এত গাড়ি আমার সঙ্গে যাওয়ার দরকার নেই। সব মিলিয়ে বহর কমিয়ে এখন চারটায় নামিয়ে আনা হয়েছে। উনি আরো বলেছেন যে, ওনার গাড়িতে সব সময় জাতীয় পতাকা থাকারও দরকার নেই। যখন রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে যাবেন কেবল তখনই জাতীয় পতাকা থাকবে।
মাসুদ বলেন, ‘উনি যখন ক্যাবিনেট মিটিং করেন তখন এই মিটিংগুলো আগে হতো ওনার কার্যালয়ে। সব মন্ত্রীরা ওনার ওখানে আসতেন। এখন এতগুলো মন্ত্রী আসতে গেলে ভিআইপি চলাচল হতো। ভিআইপি চলাচলের কারণে যানজট হতে পারে। এই জন্য উনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, এখন থেকে ক্যাবিনেট মিটিংটা সচিবালয়ে যেয়েই করবেন। উনি একাই যাবেন। আর কারো আসার দরকার নেই।
মাসুদ কামাল আরো বলেন, এগুলো করলে বিশাল কিছু হয়ে যাবে, দেশের খুব উন্নতি হয়ে যাবে, অর্থনীতিতে উন্নতি হবে—বিষয়গুলো এমন না। কিন্তু এর সিম্বলিক একটা প্রভাব আছে। একটা প্রতিকী প্রভাব আছে। দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তি যিনি আছেন—সরকারপ্রধান তিনি ইচ্ছা করলে অনেক কিছুই করতে পারেন। তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষমতার প্রয়োগের পরিবর্তে উনি যেগুলো করছেন সেগুলো একটা উদাহরণ তৈরি করছে।
এমএন
গণমাধ্যম
নতুন সরকারের প্ল্যানের বাস্তবায়ন ধীরে ধীরে দেখতে চাই : মাসুদ কামাল
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, নতুন সরকারের প্ল্যানের বাস্তবায়ন ধীরে ধীরে দেখতে চাই। নতুন সরকার যে যাত্রা শুরু করলো কেমন হলো তাদের যাত্রাটা? তাদের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং হলো সেখানে ৫০ জন মন্ত্রী বসেছিলেন তারেক রহমান সহ। আরো ১০ জন উপদেষ্টা ছিলেন, একসঙ্গে সবাই মিলে একটা মিটিং করেছেন।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ আরো বলেন, এই তিনটাই যে পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে এটাকে সামনে রেখে করা হয়েছে। রোজার সময় আমরা সবসময় দেখেছি জিনিপত্রের দাম বেড়ে যায়। এইজন্য এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছেন। কিছু কিছু জিনিস আছে প্রতি রমজানে দেখি যে, টাকা দিলেও পাওয়া যায় না। তাদের সরবরাহ যেন ঠিক থাকে সেদিকেও এই সরকার নজর দেবে।
এমএন



