আইন-আদালত
দুপুরে আদালতে তোলা হবে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে
রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে আটক জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দুপুরে আদালতে তোলা হবে। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এর আগে আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমণ্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসা থেকে শিরীন শারমিনকে চৌধুরীকে আটক করে ডিবি। এরপর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে উত্তরা ও বনানী থানায় দুটি মামলা আছে। এর যেকোনো একটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এরপর দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হবে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এরপর থেকে টানা তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বিদেশে পালিয়ে গেলেও অনেকে দেশেই আত্মগোপনে থাকেন। এর মধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হন। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হলেন শিরীন শারমিন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। শিরীন শারমিন চৌধুরী রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।
আইন-আদালত
ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তুলে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। একইসঙ্গে নোটিশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
আইনি নোটিশের বিষয়টি নিজে ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছেন আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হামের মতো টিকাকরণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছি।’
আইন-আদালত
অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোর আদালত ও অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
নতুন সূচি অনুযায়ী সপ্তাহের রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কোর্ট চলবে। আর আদালত সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এর মধ্যে দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য বিরতি থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি পূর্বের মতো শুক্র ও শনিবার থাকছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন-আদালত
কারাগারে ডিভিশন চাইলেন শাহরিয়ার কবির
শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞ-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
রবিবার (৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হয়।
শাহরিয়ারের কবিরের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিএম মেহদী হাসান। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তার মক্কেল এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন।
তিনি (শাহরিয়ার কবির) বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত ও মর্যাদাপূর্ণ একজন ব্যক্তি। এ জন্য কারাগারে ডিভিশন পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘আমাদের এ মামলায় দুই মাস আগে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট হয়েছে। তবে তিনি ডিভিশন পেলে অন্যরা কেন পাবেন না।
এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আগে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাক। সেখানে না পেলে আদালতে আসুক। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আজ এ নিয়ে কোনো নির্দেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল।’
এ প্রসঙ্গে আইনজীবী মেহদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কবি-সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবিরের ডিভিশন চেয়ে আমরা আজ একটি আবেদন করেছি।
এ নিয়ে শুনানিও হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আমাদের কথা শুনেছেন।’
তিনি বলেন, ‘কারাবিধি অনুযায়ী বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে এ সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন শাহরিয়ার কবির। শুনানি শেষে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পরে আদেশ দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।
’
এদিকে, এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১। এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার কবিরসহ ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আইন-আদালত
ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা: প্রধান আসামি কারাগারে, বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার বাকি তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ৪ মার্চ সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর আহত অবস্থায় ফজলু কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং পরে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারী ফজলু শারীরিকভাবে সুস্থ তবে শ্বাসনালী সামান্য কর্তনের কারণে ঢাকা মেডিকেলে সার্জারি জন্য রেফার করা হয়েছিল। এই সার্জারি হলে সে ভালোভাবে কথা বলতে পারবে বলে জানিয়েছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইমাম হোসাইন।
তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুকে জেলে পাঠানো হইছে। গত ৪ মার্চ সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশি পাহারায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ফজলুর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় ওর চিকিৎসা আর প্রয়োজন নাই। সেজন্য ফজলুকে কুষ্টিয়া কোর্টে পাঠাইছে। কুষ্টিয়া কোর্টের আদেশে তাকে কুষ্টিয়া জেলখানায় রাখা হয়েছে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, কথা বলতে না পারায় ফজলুর কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত তথ্যাদি পাওয়া যায়নি। তবে ফজলুর আহত অবস্থায় ডাক্তারের সামনে একটা লিখিত স্টেটমেন্ট দিয়েছিল। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন আছে।
বাকি তিন আসামির ব্যাপারে ওসি মাসুদ রানা বলেন, মামলার অন্য আসামিরা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন স্থানে চিঠি পাঠিয়েছি। তাদের সম্পর্কেও আমাদের মামলাটির তদন্ত চলমান আছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় তার স্বামী ফজলুকে প্রধান আসামিসহ আরও তিনজনকে (দুইজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তা) মোট চারজনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বাকি তিন আসামিকে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে৷ এছাড়াও তাদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে তারা।
এমএন
আইন-আদালত
হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ
দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো তার পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ করা হয়। দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক এ আবেদন করেন।
আবেদনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধের পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংবিধানের আওতায় এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ চাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ‘বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। এক মামলায় সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও রায়ে তার নামে যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়, যা পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়। অন্য মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষ না করেই তার ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল হয়, যা আবেদনকারীর দৃষ্টিতে ন্যায়বিচারের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।’



