জাতীয়
ঈদযাত্রা সহজ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বাড়বে না ভাড়া : পরিবহনমন্ত্রী
নৌপথে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ, রেল, সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিতকরণার্থে প্রস্তুতিমূলক সভায় এই কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নৌপথে ঈদে যাত্রা নিরাপদ করতে ২৬টির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে।
চাঁদা ও চাঁদাবাজি এক নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি অপরাধ, সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। নৌপথে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ভাড়া বাড়বে না।
শেখ রবিউল বলেন, চাঁদাবাজি হচ্ছে সেটা জোর করে আদায় করা হয়। চাঁদাবাজি থাকবে না সড়কে। শ্রমিক মালিকের সমঝোতায় আদায়কৃত অর্থ চাঁদাবাজি নয়। এটা শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় হয়।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় নতুনত্ব সফলভাবে করতে পারার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের কার্যক্রম নিয়ম মেনেই হয়েছে। আমি নিজে থেকে কিছু করিনি। কেবিনেট ডিভিশনের নির্দেশ মেনে করা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
স্পিকারের সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তৈরি হয়। ভারত সরকার সর্বতোভাবে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী দেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি পদে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের সমর্থন প্রতিবেশীর সাথে সহযোগী ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটিয়েছে।
স্পিকার বলেন, বর্তমান সংসদ অত্যন্ত প্রাণবন্ত। সংসদে বিরোধী দল সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারকরণে আমাদের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে হবে।
হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেতু বন্ধনে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংসদীয় প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় সফর বিনিময়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।
বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সংযোগ বৃদ্ধি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ সময় হাইকমিশনার ‘স্পিকার’ পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান ও শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
৯ খাতে ব্যয় কমাতে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা
চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশ করা হয়। এতে সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া সেই পরিপত্রে নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মূলত গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ বিভাগের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল এবং অর্থায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে বেশকিছু ব্যয় সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার।
বৈঠকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো এবং দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়াসহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত—
১. সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
২. সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
৩. প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৪. সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হাস করতে হবে।
৫. ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৬. সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ হ্রাস করতে হবে।
৭. সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৮. আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৯. ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করতে হবে।
জাতীয়
আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো হবে : হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা বলতে বাংলাদেশে কিছু নেই। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী হবে।’
বর্তমান সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে নিতে হলে উভয়পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভালো শুরু চাই। শেখ হাসিনার মতো পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী সেখানে থাকাটা চ্যালেঞ্জিং।’
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি তাদের (পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তিনি নিজে) ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপি যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত, সেহেতু ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে কোনো সমস্যা হবে না, যে সমস্যাটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হয়েছিল।
এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থ স্বার্থরক্ষা করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মেডিক্যাল ও ব্যবসায়িক ভিসা চালুর বিষয় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশকে বিক্রি করে বিএনপি কখনোই কোনো চুক্তি করবে না।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর দক্ষিণ এশিয়ার কেনো একটি দেশ দিয়েই শুরু হবে, সেটি কোন দেশ সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর গ্রুপ প্রধানের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ এবং টেলিনর গ্রুপের বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে টেলিনরের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
টেলিনর সিইও বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, টেলিনর গ্রুপ বাংলাদেশে তাদের সেবার মান আরও উন্নত করতে এবং নতুন প্রযুক্তি (৫জি) বিস্তারে কাজ করতে আগ্রহী।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং টেলিনর গ্রুপের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার : তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি অপতথ্য (মিসইনফরমেশন) ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের (ডিসইনফরমেশন) বিস্তার রোধ করে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘তথ্য অধিকার ফোরামে’র কোর গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তথ্যের অবাধ প্রবাহের কারণে অপতথ্যের প্রচারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টিও আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
শুধু তথ্যের প্রবাহ বাড়ালেই চলবে না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে একটি কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে। মোর ইনফরমেশন, মোর ট্রুথ– এ জন্য তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে তথ্য কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র কীভাবে রক্ষা করা যায়, সেটিও আমাদের ঠিক করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন এ সময় তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের লক্ষ্যে উপস্থিত অংশীজনদের কাছ থেকে গঠনমূলক সুপারিশ প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি তথ্যের ফ্যাক্ট চেকিং ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



