কর্পোরেট সংবাদ
অর্থনীতির সবুজ রূপান্তর এগিয়ে নিচ্ছে বিকাশ
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ বা এসডিজি-তে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গ্রিনহাউজ গ্যাস বিশেষত কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ কমানো। ‘নেট জিরো’ বা ‘শুন্য কার্বন’ একটি বৈশ্বিক এজেন্ডা, যা বাংলাদেশও বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ বেশি মাত্রায় কার্বন নির্গমন হলে তা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়িয়ে নানা ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মাঝে অন্যতম।
এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক চর্চা অনেক আগেই শুরু হয়েছে, আর এই সবুজ রূপান্তরের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশে বিকাশ–এর মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠান ক্যাশবিহীন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা নিত্যনতুন উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা আনছে, যা পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়তা করছে।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই শীর্ষ এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ দেশের ব্যাংক লেনেদেন সম্পৃক্ত না থাকা এবং পর্যাপ্ত ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে মনোনিবেশ করেছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা খুব সহজে পেতে পারেন। এমনকি খুব সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই আর্থিক সেবা নেওয়ার সুবিধা এনে বিকাশ কার্যকরভাবে ক্যাশ টাকা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে এনেছে, যা দৈনন্দিন লেনদেনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হয়েছে।
গত কয়েক বছরে বিকাশ–এর মতো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের মধ্যে ‘ক্যাশলেস’ জীবনের দিকে একটি আচরণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। তারা নিরাপদ, সুবিধাজনক এবং ব্যবহারবান্ধব পণ্য ও সেবা এনেছে। ঘরে বসে সহজেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক সেবা নেওয়ার সুযোগের কারণে মানুষের যাতায়াত অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে। কেননা মানুষের ‘মোবিলিটি’ চলাচল জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায়। এমএফএস-এ লেনদেন কাগজের ব্যবহার কমাতেও সহায়ক হয়েছে। সার্বিকভাবে তাদের সেবার পদ্ধতি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে এনেছে।
ডিজিটাল লেনদেনে এমএফএস খাতের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান থেকে এর পরিবেশবান্ধব প্রভাবের একটি ধারণা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫-এর আগষ্ট মাসে ‘ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি’ পর্যায়ে এমএফএসের মাধ্যমে ১০ কোটিরও বেশি লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। একই মাসে প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ব্যবসায়িক লেনদেন (মার্চেন্ট পেমেন্ট) হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত টাকার পরিমাণ ৬ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। একই মাসে এমএফএস-এর মাধ্যমে ৬০ লাখ মানুষের বেতন দেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিশোধ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। ওই মাসে ২ কোটি ৪০ লাখ সংখ্যক বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির মতো ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয় এমএফএসের মাধ্যমে, যাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের জন্য এমএফএস মাধ্যমে ১২ লাখের বেশি লেনদেন হয়েছে একই সময়ে। আর এখানে টাকার পরিমাণ ১১০০ কোটি টাকা। এসব লেনদেনের উল্লেখযোগ্য অংশ হয়েছে বিকাশ–এর মাধ্যমে।
বিশ্বব্যাপী ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখছে। ইউরোপিয়ান ডিজিটাল পেমেন্ট ইন্ডাষ্ট্রি অ্যালায়েন্সের পক্ষে ‘অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স’ পরিবেশের ওপর ডিজিটাল পেমেন্টের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে গত জুন মাসে। এতে দেখা যায়, ইউরোপে ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ক্যাশবিহীন পেমেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং এই অগ্রগতি বিভিন্ন দেশে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে দেশ যত বেশি ডিজিটাল অবকাঠামোতে এগিয়ে যাবে, সেই দেশ পরিবেশের জন্য তত বেশি উপকার বয়ে আনতে পারবে।
যেভাবে ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে ভূমিকা রাখছে বিকাশ
‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ বলতে কোনো ব্যক্তি, ব্যবসা অথবা পণ্যের মাধ্যমে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হয়, তার পরিমাণকে বুঝায়। বিকাশ–এর মতো শীর্ষস্থানীয় ফিনটেক প্রতিষ্ঠান তিন ক্ষেত্রেই ডিজিটাল সমাধান দিচ্ছে। ফলে এর ব্যবসার ধরণই ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে ভূমিকা রাখছে। গ্রাহকরাও সবুজ প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। দিন যত যাচ্ছে, ততই সবুজ এবং টেকসই পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছে বিকাশ।
সবুজ রূপান্তর বলতে এমন নীতি ও কৌশল প্রয়োগকে বোঝানো হয়, যা পরিবেশ, সমাজ এবং অর্থনীতিকে টেকসই অগ্রগতির দিকে নিয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ে, কার্বন নির্গমন কমে, সম্পদের সংরক্ষণ হয় এবং একই সাথে সার্বিকভাবে পরিবেশের অবক্ষয় কমে ও সমাজে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বিকাশ বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম অপারেটরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেম তৈরি করছে। এই ইকোসিস্টেম দেশের আর্থিক খাতের সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করছে। কারণ বিকাশ–এর বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য ভ্রমণ এবং কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়না।
বিকাশ নিজস্ব পণ্য ও সেবা ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সেবাদাতার আর্থিক পণ্য ও সেবা এক প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত করে গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত করেছে। বৈশ্বিক ‘নেট জিরো’ এজেন্ডার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিকাশের পুরো কার্যক্রমে ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে সহায়ক। বিকাশ অ্যাপে ডিজিটাল ঋণ, পে লেটার এবং সাপ্তাহিক ও মাসিক ডিপিএস–এর মতো আর্থিক পণ্য চালু করেছে, যে সেবা নিতে কোনো কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। ক্যাশ টাকা পরিবহণের কোনো ঝামেলা নেই। এ ধরণের লেনদেন দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং স্বচ্ছ, যা গ্রাহকদের পরিবেশ সংরক্ষণে অংশ নিতে সক্ষম করে। প্রতি লেনদেনের জন্য গ্রাহকরা কাগজের রসিদের পরিবর্তে ডিজিটাল রসিদ পেয়ে যাচ্ছেন।
ডিজিটাল পেমেন্ট ধারণাকে টেকসই করার জন্য বিকাশ দেশজুড়ে প্রায় ১০ লাখ ব্যবসায়িক স্থানে কিউআর কোড স্ক্যান ও এনএফসি ট্যাপ-এর মাধ্যমে কাগজবিহীন এবং যোগাযোগহীন (কন্ট্যাক্টলেস) পেমেন্ট গ্রহণের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের সবুজ রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে। একই সাথে বিকাশ-এর আছে দেশজুড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার এজেন্টের বিশাল নেটওয়ার্ক। ক্যাশ টাকার দরকার হলে বা বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা নিতে হলে খুব সহজেই হাঁটা দুরত্বে অবস্থিত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে গ্রাহকরা ‘ক্যাশ ইন’ বা ‘ক্যাশ আউট’ করতে পারছেন।
একই সাথে, বাংলাদেশে ইস্যু করা ভিসা, অ্যামেক্স বা মাস্টারকার্ড থেকে বিকাশ-এর ৮ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক কোনো চার্জ ছাড়াই তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যেকোনো সময় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে টাকা আনতে পারছেন ‘অ্যাড মানি’ সেবার মাধ্যমে। কার্ড থেকে বিকাশে তাৎক্ষণিক টাকা এনে সেন্ড মানি, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল, কেনাকাটার পেমেন্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি দেওয়া, বাস-ট্রেন-বিমান-এর টিকেট কাটা, বিভিন্ন ধরণের সরকারি ফি পরিশোধ, সঞ্চয়, বীমাসহ বহু সেবা খুব সহজেই নেয়া যাচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, বিকাশ–এর মতো ফিনটেক প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন কার্যক্রমে সবুজ ও টেকসই পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বৈশ্বিক লক্ষ্যে সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উদ্ভাবনী আর্থিক সমাধান প্রদান, টেকসই ব্যবহার উৎসাহিত করা, এবং উন্নত দক্ষতার মাধ্যমে এধরণের প্রতিষ্ঠান একটি টেকসই এবং পরিবেশ-বান্ধব ভবিষ্যত নির্মাণে আরও অবদান রাখতে পারে।
কর্পোরেট সংবাদ
বিমানের নতুন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এভিয়েশন শিল্পে অভিজ্ঞ সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদ। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আজ ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিমানে কাজে যোগদান করেছেন।
সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে ২২ বছরের এবং একাউন্টস, ম্যানেজমেন্ট ও কাস্টমার সাপোর্ট-এ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতীতে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফেব্রুয়ারী ২০০৪ থেকে জুলাই ২০০৭ পর্যন্ত তিনি বিমানের লন্ডন স্টেশনে কান্ট্রি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিমানে ম্যানেজার (কার্গো সেলস) এবং অর্গানাইজেশন অ্যান্ড মেথড (O&M) অফিসার ও সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিমানের কর্মরত অবস্থায় তিনি বিমানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিকল্পনা, বিক্রয় বৃদ্ধি, স্টেশন কার্যক্রম সমন্বয়, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দেন। পরবর্তী পেশাগত জীবনে যুক্তরাজ্যে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেসরকারি ট্রাভেল ও এভিয়েশন খাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সাইকোলজি ও এডভান্স স্ট্যাটেস্টিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিপ্লোমা ও বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদ-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো যাচ্ছে। তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রত্যাশা করে।
কর্পোরেট সংবাদ
প্রাইম ব্যাংকের এএমডি হলেন জিয়াউর রহমান
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড সভায় তাকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ব্যাংকিং খাতে ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মো. জিয়াউর রহমান বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বৈচিত্রময় কর্ম জীবনে তিনি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, হেড অব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, হেড অব সিন্ডিকেট অ্যান্ড স্ট্রাকচারড ফাইন্যান্সিং ও হেড অব করপোরেট বিজনেস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স বিষয়ে তিনি অত্যন্ত অভিজ্ঞ। প্রাইম ব্যাংকে ডিএমডি হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি ঢাকা ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় পদে কর্মরত ছিলেন।
পদোন্নতির আগে তিনি ২০২১ সাল থেকে ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রাইম ব্যাংকের চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার এবং চিফ রিস্ক অফিসার (সিআরও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
কর্পোরেট সংবাদ
উইকিস্কলার রাজশাহী অঞ্চলে চ্যাম্পিয়ন শরীফ-জুবাইর
উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে রাজশাহী বিভাগের ‘উইকিস্কলার ২০২৬’ কুইজ প্রতিযোগিতা। এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্ত জ্ঞান শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের চিন্তা ও জানার আগ্রহকে আরও শক্তিশালী করা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস্ কমপ্লেক্সে এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এখানে রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলার ৬টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
দুই গ্রুপে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘ক’ গ্রুপে (৬ষ্ঠ–৮ম শ্রেণি): চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শরীফ ইবনে সালেক সুসা।
‘খ’ গ্রুপে (৯ম–১০ম শ্রেণি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জুবাইর হক।
প্রথম রানার্সআপ ও দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে যথাক্রমে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সৌরভ রুদ্র দাস এবং পাবনা জিলা স্কুলের কাজী জাইন উর রহমান।

উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর মাসুম আল হাসানের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় কৃষি পুরষ্কার বিজয়ী ও শাহ্ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম শাহ্, রাজশাহী সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউর রহমান খান ও উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে উইকিপিডিয়ার ওপর কর্মশালা পরিচালনা করেন, বাংলা উইকিপিডিয়ার অ্যাডমিন মো. সাদমান ছাকিব।
রাজশাহী উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ শাকিল হোসেন, উইকিমিডয়া স্টুয়ার্ড ইয়াহিয়া, রাজশাহী উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের তাহমিদ হোসেন, মানিক দাস, খন্দকার রাবিবা ইয়াসমিন, মোস্তাফিজুর রহমান সাফি ও নাহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকবৃন্দ।
কর্পোরেট সংবাদ
নগদে কেনাকাটা করে হেলিকপ্টার ভ্রমণ জিতলেন ইমন ও আফজাল
পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ‘হেলিকপ্টার ভ্রমণ’-এ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ঢাকার কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন। এই ক্যাম্পেইন চলাকালে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেটের মাধ্যমে পেমেন্ট করে সম্প্রতি তারা এই পুরস্কার জিতেছেন।
ক্যাম্পেইনের প্রথম বিজয়ী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কাজী ইমন, যিনি একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বিভাগে কর্মরত। এই পুরস্কারের আওতায় কাপল হিসেবে ভ্রমণের সুযোগ থাকায় তিনি তার স্ত্রী সাদিয়া ও মেয়েকে নিয়ে হেলিকপ্টার ভ্রমণ করেন।
জীবনে প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করেন ইমনের স্ত্রী সাদিয়া। তিনি তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলছিলেন, নিজেকে পাখির মতো লেগেছে। আমি খুবই আনন্দিত। কাজী ইমন বলেন, ‘বিমানে যাতায়াত করেছি, তবে হেলিকপ্টারে কখনো ওঠা হয়নি। এবার যখন সুযোগ হলো, স্ত্রীসহ একটি দারুণ অভিজ্ঞতা পেলাম নগদের সৌজন্যে। আমি এই উপহার বিজয়ী হবো, এটা কল্পনাও করিনি। নগদকে এরকম দারুণ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ।’
হেলিকপ্টার ভ্রমণের অপর বিজয়ী হলেন ঢাকার মিরপুরের আফজাল হোসেন। তিনি স্থানীয় একটি সুপারশপে চাকরি করেন। তিনি তার সহকর্মী ও বন্ধু মাসুদ রানাকে নিয়ে হেলিকপ্টার ভ্রমণ করেন।
হেলিকপ্টার ভ্রমণ শেষে আফজাল হোসেন অনেকটা ঘোরের মধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, আসলে এই অভিজ্ঞতাটা বলে বুঝাতে পারছি না। এমন উপহার জিতবো, এটা চিন্তাও করিনি কখনো। এই উপহারের জন্য নগদ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
মূল পুরস্কারের পাশাপাশি নগদ গ্রাহকেরা বিভিন্ন মার্চেন্ট পেমেন্টে দুই হাজার টাকারও বেশি ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পেরেছেন। শীর্ষস্থানীয় জুতার ব্র্যান্ড, পোশাক ও অনলাইন মার্চেন্টগুলোয় কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেটের মাধ্যমে পেমেন্ট করে পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে নগদের চিফ মার্কেটিং অফিসার সাইমন ইমরান হায়দার বলেন, এই ক্যাম্পেইনে আমরা গ্রাহকের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছি। পুরস্কার দেওয়ার পর বিজয়ীদের মধ্যে অন্যরকম ভালোলাগাও আমরা দেখেছি। এরকম ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের সাথে আরেকটু ভালোভাবে জানাবোঝা তৈরি করতে পারি জন্য নগদ শুরু থেকে সৃষ্টিশীল সব প্রোডাক্ট ও ক্যাম্পেইন নিয়ে কাজ করছে।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নগদে নিযুক্ত প্রশাসকের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি
দেশের অন্যতম সেরা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বরত মো. মোতাছিম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ নিয়মিত পদ নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাকে এ পদে পদোন্নতি প্রদান করে দাপ্তরিক নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মোতাছিম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নগদের প্রশাসক পদে নিয়োগ পান।
মো. মোতাছিম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৯৯৯ সালে সহকারি পরিচালক পদে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট, ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট, ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন ও পেমেন্ট সিস্টেমস্ ডিপার্টমেন্টে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম দেশীয় কার্ড স্কিম টাকাপে, এনপিএসবি মাইগ্রেশন, ক্যাশলেস বাংলাদেশ কার্যক্রম, বাংলা কিউআর প্রবর্তনসহ পেমেন্ট সিস্টেম আধুনিকায়নে তিনি নেতৃত্ব প্রদান করেন।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে গঠিত সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্টের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিজনেস প্রসেস রিইন্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য আধুনিকরণ কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
নগদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে বহু ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত এক বছরে সেবার ক্ষেত্রে নগদ-এর কলেবর ও গুণগতমান বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও অভ‚ তপূর্ব সাফল্য পেয়েছে নগদ। মাত্র এক বছরের মধ্যে নগদ-এর লেনদেনকে প্রায় দ্বিগুণ করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনেও বড় অর্জন এসেছে এই সময়ে।
শিক্ষা জীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাংক রেগুলেশন, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বিষয়ে অসংখ্য আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।



