জাতীয়
পে স্কেল বাস্তবায়নে আল্টিমেটাম, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সে অনুযায়ী, স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করবে তারা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মূখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ১৫ মার্চের মধ্যে দাবি না মানলে ২৮ মার্চ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে দেওয়া ৮ম পে-স্কেলে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ করার পর থেকেই ১ম পর্যায়ে পে-স্কেলের বৈষম্য নিরসনের জন্য আবেদন নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও তৎকালীন সরকারের কাছ কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বিগত কোনও সরকার উক্ত সংগঠনের সাথে আলোচনাও করেননি। অথচ বিগত বিএনপির সরকার ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে সুন্দর দুইটি পে-স্কেল দিয়েছিলেন।
বিগত ১১ বছর কর্মচারীরা পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত উল্লেখ করে এতে বলা হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির দরুণ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬ সদস্য পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা নিয়ে কর্মচারীরা দিশেহারা। পরবর্তীতে ২০১৯ সাল থেকে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আবেদন নিবেদনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি।
এর ধারাবহিকতায় অর্ন্তবর্তী সরকারের কাছেও আবেদন নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে ৮ম পে-কমিশন গঠন করে, যার রিপোর্ট ইতোমধ্যে সরকারের কাছে প্রদান করেছেন। কিন্তু অর্ন্তবর্তী সরকার পে-স্কেল দ্রেয়ার আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবান করেননি।
তারা বলেন, বর্তমান সদাসয় সরকারের কাছে প্রত্যাশা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পে-স্কেল না হওয়া ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির দরুণ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয় বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবেন। বর্ণিত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মচারীদের বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল প্রাপ্তির বিষয় অবহিতকরণের লক্ষ্যে সংগঠনের ২০ ফেব্রুয়ারির
সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে
১. ২২ ফেব্রুয়ারী থেকে ৫ মার্চের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান (জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ উক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন)।
২. একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করে তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
৩. পবিত্র মাহে রমজানে মাসব্যাপী বিভাগীয় শহরগুলোয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি চলমান থাকবে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন পরবর্তী ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জাতীয়
ঢাকা সিটিকে বিভক্ত করা হয়েছিল শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে: ড. আসাদুজ্জামান রিপন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ঢাকা শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই সিটি করপোরেশনে বিভক্ত করার পেছনে কোনো জনকল্যাণমূলক চিন্তা ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত। প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে ঢাকার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিভাজন করা হয়েছিল।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘আলাপন’-এ একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা, বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন।
ঢাকা সিটির বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. রিপন বলেন, নিউইয়র্ক সিটির আয়তন গোটা বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের সমান। সেই শহরটি ম্যানেজ হয় মাত্র একজন মেয়র দিয়ে। সেখানে অসংখ্য মিউনিসিপাল হসপিটাল আছে ,যা সিটির অধীনে চলে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট সব সিটির অধীনে। অথচ ঢাকা সিটিতে উত্তর-দক্ষিণ করার কী দরকার ছিল? আমার নতুন দাবি হবে—‘ওয়ান সিটি, ওয়ান ঢাকা, ওয়ান মেয়র’। শেখ হাসিনা ঢাকাকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করেছিলেন শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং সাদেক হোসেন খোকাকে বিদায় করার জন্য। খোকা ভাই এই বিভক্তির প্রতিবাদে হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন। বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতায় গেলে ঢাকাকে পুনরায় একত্রীকরণ করবে। দুইটা সিটি হওয়ার কারণে নাগরিকরা শুধু বেশি বেশি মশা ছাড়া আর কিছুই পায়নি।
একটি আদর্শ সিটি করপোরেশনের প্রকৃত দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজ কেবল মার্কেট বানানো নয়। মেয়রের কাজ হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। ঢাকা সিটিতে কিছু স্কুল আছে যেখানে সিটি করপোরেশনের সুইপারদের ছেলে-মেয়েরাও পড়তে যায় না, এত বেহাল দশা। আমি দায়িত্ব পেলে পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুল করব। মার্কেট বানানোর ধান্দা করলে হবে না।
ঢাকা শহরের জরাজীর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অসহনীয় যানজট নিরসনে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে ড. আসাদুজ্জামান রিপন জানান, পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুল করার মাধ্যমে আমি একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই, যেখানে বিত্তবানদের সন্তানরাও পড়তে চাইবে। রাস্তা আর ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে, না হলে ১৫-২০ বছরের মধ্যে এই শহর পরিত্যক্ত করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে এক পয়সা হারাম খাই না, আর কাউকে হারাম খেতেও দেব না। আমি দায়িত্ব পেলে পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুলে রূপান্তর করব এবং চাঁদাবাজ-দুর্বৃত্তদের হাত থেকে ঢাকাকে মুক্ত করব।
অর্থনীতি
অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৫’ বাতিলের দাবি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আড়ালে ক্ষুদ্রঋণ খাতকে ধ্বংস করার সুস্পষ্ট নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায় আনার নামে কোনো ধরনের করপোরেট আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। তাই অবিলম্বে এই অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপান্তরের ঝুঁকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বিদ্যমান ৬৭টি ব্যাংক পরিচালনায় যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংককেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়, সেখানে শত শত এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হলে তা কিভাবে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঝুঁকি সৃষ্টি না করে বরং সঞ্চয়ের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে, পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-এর আওতায় সার্টিফিকেট মামলা দায়েরের সুযোগ প্রদান করতে হবে, যাতে অর্থ আত্মসাৎ প্রতিরোধ করা যায়। ক্ষুদ্রঋণ খাতের তদারকির দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে না দিয়ে বরং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এনজিও ব্যুরোর মতো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে এবং তাদের নিজস্ব কাঠামোর মধ্যেই তাদের কাজ করতে দিতে হবে।
কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি এবং বিডিসিএস্ও প্রসেস কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক ও ইক্যুইটিবিডি-এর প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রকৃত উন্নয়ন হলো মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এনজিওগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জন্য বিদেশ থেকে যে ফান্ড আনার সুযোগ পায়, ব্যাংকগুলো কি সুযোগ পাবে? তা ছাড়া যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এনপিএল প্রায় ৩৫ শতাংশ, সেখানে ক্ষুদ্রঋণ এনপিএল গড়ে ৮-৯ শতাংশ ওপরে নয়, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এমন নজির বাংলাদেশে নেই। তাই ব্যাংকগুলোও এখন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছে।
ক্ষুদ্রঋণ সেক্টর লাখো মানুষের আত্মনির্ভরতা ও নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। এই সেক্টরকে করপোরেট আগ্রাসনের ঝুঁকিতে ফেলতে দিতে পারি না। তাই আমরা দাবি করছি, এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডিসিএসও প্রসেস-এর মোস্তফা কামাল আকন্দ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫’ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রথমত, ক্ষুদ্রঋণের মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন, যা ব্যাংকিং কাঠামোয় মুনাফা-চালিত হয়ে প্রান্তিক মানুষদের সেবার বাইরে ঠেলে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং নিয়ম ও জটিলতা দ্রুত ও সহজলভ্য সেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তৃতীয়ত, এনজিওদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার কাজ ব্যাংকিং মডেলে গুরুত্ব হারাবে, যা গ্রামীণ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক, ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী ওমর ফারুক ভুইয়া, বিডিসিএসও-প্রসেসের এম. এ. হাসান প্রমুখ।
জাতীয়
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার তদন্ত করবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই করবে। আপনারা জানেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো পুনর্গঠিত হয়নি। কমিশন পুনর্গঠিত হলে এসব কাজ তাদের মাধ্যমেই শুরু হবে।
দুর্নীতি মানেই কে করেছে, শুধু সেই বিষয় নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, সেটিও দেখা হবে।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং এ যান নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়; সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান সড়কেও চলাচল করছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
জাতীয়
৯ তারিখ নয়, স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হবে ১৬ এপ্রিল
রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের সময় এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৯ এপ্রিল এর পরিবর্তে আগামী ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানটি অনিবার্য কারণবশত ৯ এপ্রিলের (বৃহস্পতিবার) পরিবর্তে আগামী ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
পুনর্নির্ধারিত তারিখের জন্য নতুন করে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে না। ৯ এপ্রিলের (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানের জন্য পাঠানো আমন্ত্রণপত্র নিয়ে পুনর্নির্ধারিত তারিখের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যাবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (মরণোত্তর), সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর), সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন। গত ৫ মার্চ মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত হয়।
জাতীয়
গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অন্তর্ভুক্ত করে সংসদে বিল পাস
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারের পথ প্রশস্ত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বিল পাসের আগে এর উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিলের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুমকে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার চাচ্ছি না, তাদের বলবো-এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন।
গুম আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় ছিল না। আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের ব্যাপারে আমাদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বাইরে গুমের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছাকে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। এই সরকার গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তা এই বিলের মাধ্যমে পুরো সংসদ ও দেশবাসীকে অবহিত করলাম।
বিলটি পাসের পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব। এখানে এই ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’
আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মন্ত্রী, বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনা ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন এখানে সংসদীয় আইনে নেই। বিধি অনুযায়ী যেটুকু করতে হবে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।’
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট-এর অধিকতর সংশোধন কল্পে এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



