আন্তর্জাতিক
বিশ্ব ব্যবস্থা ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র বড় ভূমিকা রাখছে: জার্মান প্রেসিডেন্ট
জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভল্টার স্টাইনমাইয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশ নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব ব্যবস্থা ধ্বংসে বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে অত্যাচারীরা যা খুশি তা ছিনিয়ে নিতে পারে-এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্ব ব্যবস্থা ‘ডাকাতদের আস্তানায়’ পরিণত হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্বব্যবস্থা রক্ষায় বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান স্টাইনমাইয়ার।
কয়েকদিন আগে ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণকাণ্ডে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দিকেই ইঙ্গিত করে জার্মান প্রেসিডেন্ট এমন নজিরবিহীন কড়া মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টাইনমাইয়ার বলেন, ‘বৈশ্বিক গণতন্ত্র বর্তমানে যেভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছে, অতীতে এমন পরিস্থিতি কখনো দেখা যায়নি। যদিও জার্মান শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা অনেকটাই অলঙ্কারিক, তবে তার বক্তব্যের গুরুত্ব রয়েছে। দেশটিতে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টরা রাজনীতিকদের চেয়েও বেশি স্বাধীনতা ভোগ করেন।’
রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল এবং ইউক্রেইনে পুরোদস্তুর সামরিক আগ্রাসনের ঘটনাকে ‘সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করে স্টাইনমাইয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আচরণ দ্বিতীয় এক ঐতিহাসিক ধ্বসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পতন ঘটছে, যে দেশটি এই বিশ্ব ব্যবস্থা গড়তে সহায়তা করেছিল।”
এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জার্মান প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “এটা এমন একটি বিশ্বকে ডাকাতদের আস্তানায় পরিণত হওয়া থেকে আটকানোর প্রশ্ন, যেখানে সবচেয়ে বড় অত্যাচারী তার ইচ্ছামতো যা খুশি তা নিয়ে নেয়, আর অঞ্চল বা দেশগুলো বিবেচিত হয় সামান্য কয়েকজন শক্তিধরের সম্পদ হিসেবে।”
হুমকিতে পরিপূর্ণ এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সক্রিয় হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মন্তব্য করেন স্টাইনমাইয়ার। তিনি বলেন, ‘এজন্য ভারত ও ব্রাজিলের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোকে বিশ্বব্যবস্থা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।’
এমকে
আন্তর্জাতিক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ঠাসা ইসলামাদের শান্তি আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দেওয়ার পর ইরান তা গ্রহণ না করায় কয়েক দশকের বৈরিতা অবসানের যে ক্ষীণ আশা দেখা দিয়েছিল, তা আপাতত স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
আলোচনার প্রেক্ষাপট ও ওয়াশিংটনের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করার আগে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তেহরানের প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, এটিই আমাদের শেষ এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব ছিল। আমরা আলোচনার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু ইরান পক্ষ থেকে গঠনমূলক সাড়া পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটনের এই ‘টেক ইট অর লিভ ইট’ (গ্রহণ করো অথবা ছাড়ো) নীতি আলোচনার টেবিলে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, তারা ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইরানের কাছে এই শর্তগুলো ছিল একতরফা এবং সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া: ‘অত্যধিক চাহিদা’ ও আস্থার সংকট
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের “অত্যধিক দাবি” বা অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ না হওয়াকে দায়ী করেছে। তেহরানের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান যে, আলোচনাটি শুরু থেকেই ‘অবিশ্বাস, সন্দেহ এবং দ্বিধাদ্বন্দ্বের‘মধ্যে আচ্ছন্ন ছিল।
ইরানের দাবি ছিল, যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তেহরানের ওপর আরোপিত সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রশাসন যাতে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে না যায়, তার গ্যারান্টি দিতে হবে।
কিন্তু জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়। ইরানের মতে, ওয়াশিংটন কূটনীতির চেয়ে চাপ প্রয়োগের কৌশলকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।
পাকিস্তানের ভূমিকা ও ইসলামাবাদের বর্তমান চিত্র‘
শান্তি আলোচনার আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান একটি নিরপেক্ষ সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেছিল। দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে চলা এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইসলামাবাদের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভ। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো ব্যানার এবং বিলবোর্ডগুলো শ্রমিকদের সরিয়ে ফেলতে দেখা যায়। যে সাজসাজ রব এবং আশার আলো নিয়ে এই বৈঠকের সূচনা হয়েছিল, তার সমাপ্তি ঘটল এক বিষণ্ণ পরিবেশে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন কী পথ খোলা?
বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতার মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়া খুব একটা আশ্চর্যজনক ছিল না। তবে এই ব্যর্থতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এখন তার সামনে দুটি পথ খোলা আছে।
১. সংঘাত বাড়ানো (Escalation): যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি আরও কঠোর করতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
২. পুনরায় আলোচনা (Negotiation): আপাতদৃষ্টিতে আলোচনা শেষ মনে হলেও, পর্দার আড়ালে বা অন্য কোনো মাধ্যমে আবারও আলোচনার সুযোগ খোঁজা। তবে জেডি ভ্যান্সের ‘চূড়ান্ত অফার’ মন্তব্যের পর সেই সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বরাবরই অনিশ্চয়তায় ঘেরা। তিনি হয়তো আরও কঠোর অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য করতে চাইবেন।
লেবানন ও ইসরায়েল: অন্য এক ফ্রন্টে উত্তেজনা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ব্যর্থতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের একটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালিয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, যা ওই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার প্রমাণ দেয়।
মজার বিষয় হলো, একদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনীতিকে আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ করে তুলেছে।
আগামীর সংকট: কী ঘটতে যাচ্ছে?
বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা এখন ‘পরবর্তী পদক্ষেপ কী?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচলে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যদি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এগিয়ে চলে, তবে ইসরায়েল সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিতে পারে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চীন, উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আহ্বান কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যর্থ সংলাপ মূলত দীর্ঘদিনের লালিত অবিশ্বাসেরই ফল। জেডি ভ্যান্সের বিদায় এবং তেহরানের কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, কেবল টেবিলের বৈঠকে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর যে স্বপ্ন বিশ্ববাসী দেখেছিল, তা আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন নির্ধারণ করবে পৃথিবী একটি নতুন যুদ্ধের মুখোমুখি হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদী স্নায়ুযুদ্ধের পথে হাঁটবে। আপাতত, ইসলামাবাদের আকাশ থেকে শান্তির পায়রা উড়ে গিয়ে সেখানে জমাট বেঁধেছে ঘন কালচে মেঘ।
সূত্র: বিবিসি
আন্তর্জাতিক
আলোচনা ব্যর্থ, ট্রাম্পের সামনে কঠিন ৩ পথ
যুদ্ধবিরতি নিযে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই কোনো চুক্তিতে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হতে পারেনি। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন পথ খোলা আছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, প্রথমত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ আবার শুরু করা, যা ইতোমধ্যে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। তিনি সাপ্তাহিক ছুটিতে ফ্লোরিডায় গেছেন।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমরা আমাদের রেড লাইন স্পষ্ট করে দিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি আছি সেটাও বলেছি। তারা আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।’
বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ভাষায়, ইরানের উচিত সহজভাবে ‘আত্মসমর্পণ’ করা। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। ওবামা আমলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শেষ বড় চুক্তি হতে দুই বছর লেগেছিল। সেই চুক্তিতেও ইরানকে অল্প পরিমাণ পারমাণবিক মজুদ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে। এ বিষয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে ইরান বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির স্বাক্ষরকারী হিসেবে নিজের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের অধিকার।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটাই প্রমাণ করে ইরান সবসময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ রাখতে চায়। ৪০ দিনের যুদ্ধ এই অবস্থানকে নরম করেনি, বরং আরও শক্ত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের প্রিয়জনদের ক্ষতি আমাদের জাতির স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার সংকল্পকে আগের চেয়ে আরও দৃঢ় করেছে।’
শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই মনে করছে প্রথম দফায় তারা জিতেছে। সে কারণে কেউই এখন সমঝোতার মেজাজে নেই। তবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে ২১ এপ্রিল। তবে যুদ্ধ আবার শুরুর হুমকি ট্রাম্পের হাতে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরির হাতিয়ার। কিন্তু এই পথে রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। কারণ বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। যুদ্ধ আবারও শুরু হলে বাজার পড়বে, সংকট বাড়বে, মূল্যস্ফীতি আরও চাপে পড়বে, যা এখনই ৩.৩ শতাংশে আছে।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের বার্তা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, দুপক্ষের জন্যই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
রোববার (১২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসহাক দার বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবে। আমরা আশা করি, তারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগোবে। এটি শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য।
তিনি জানান, ভবিষ্যতেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও সম্পৃক্ততা সহজ করতে পাকিস্তান তার ভূমিকা পালন করে যাবে। ইসহাক দার উভয় পক্ষকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া উভয় পক্ষ ‘ইতিবাচক মনোভাব’ বজায় রেখে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার (১২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স প্রথমেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তাদের ‘অসাধারণ আতিথেয়তা’র জন্য প্রশংসা করে বলেন, আলোচনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, গত ২১ ঘণ্টা ধরে আমরা ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এই মুহূর্তে এটাই ভালো খবর। তবে তিনি স্বীকার করেন, খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি। আর এটা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং কোন বিষয়ে নয়, তা পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি বলেই চুক্তি হয়নি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৪৭ বছর পর তারা সরাসরি বৈঠকে বসেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা লেবানন সংকট, ইরানের জব্দ অর্থছাড় নিয়ে আলোচনা করেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠককে সংকট সমাধানের পথে অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা একে সংঘাত ছেড়ে কূটনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান এখনও শেষ হয়নি: নেতানিয়াহু
ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক চলার সময় এক ভিডিও বার্তায় এই হুমকি দেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি, আমরা এখনও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করিছ। আমাদের এখনও অনেক কিছু করার আছে।’
ইরানে অভিযানে ইসরাইলের সফলতার কথা তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছি। এ অর্জন এখনও শেষ হয়নি। ইরানে এখনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, এটি নির্মূল করা প্রয়োজন। হয় এটি চুক্তির মাধ্যমে অপসারণ করা হবে, অথবা অন্য কোনো উপায়ে তা বের করে আনা হবে।’
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আয়াতুল্লাহ খামেনি চেয়েছিলেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও পরমাণু বোমা কর্মসূচিকে তৈরির প্রকল্পকে মাটির নিচে একদম গভীরে স্থানান্তর করতে; যেন যুক্তরাষ্ট্রের বি ২ বোমারু বিমান এই দুই প্রকল্পের নাগাল না পায়। এই অবস্থায় আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারতাম না।’
ভিডিও বার্তায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়েও কঠোর শর্ত আরোপ করেছে ইসরাইল। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার মাধ্যমে বৈরুতের সঙ্গে একটি সত্যিকারের শান্তি চুক্তি চায় তেল আবিব বলেও উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।
আন্তর্জাতিক
বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র শনিবার জানিয়েছে, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটক থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।
ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান।
সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত, যা আলোচনার একটি প্রধান ইস্যু হতে যাচ্ছে।
এই সম্পদের মোট পরিমাণ সম্পর্কে প্রথম সূত্রটি কিছু জানায়নি।
তবে আরেকটি ইরানি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে রাখা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
আট বছর আগে জব্দ করা অর্থ
প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থ প্রথমে ২০১৮ সালে জব্দ করা হয়।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তা ছাড় দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন আবারও এই অর্থ স্থগিত করে।
সেসময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরান এই অর্থ ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে পুরো অর্থ আবারও পুরোপুরি জব্দ করার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।
অর্থের উৎস
এই অর্থ এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রি থেকে।
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করেন।
বন্দি বিনিময় ও শর্ত
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।
এই চুক্তির আওতায় ইরানে আটক পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয় এবং অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।
তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ কেবল মানবিক কাজে ব্যবহার করা যাবে। যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য এবং তা মার্কিন ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।



