রাজনীতি
১৬ লাখ টাকা আয় কীভাবে হলো, ব্যাখ্যা করলেন নাহিদ
নির্বাচনি হলফনামায় নিজের বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ টাকা দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। হলফনামার এ তথ্য সামনে আসার পর থেকেই তার এই আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে ওই পোস্টে ‘অপপ্রচারের’ জবাবও দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুকের ওই এডমিন পোস্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনি হলফনামায় নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক প্রয়াস।
এতে বলা হয়, প্রথমত, বাৎসরিক আয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হলফনামায় যে ১৬ লক্ষ টাকার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ করে অর্জিত অর্থ নয়; এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থবছরের বড় একটি সময় (সাত মাস) নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই দায়িত্বের বিপরীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন–ভাতা পেয়েছেন।
বাস্তবতা হলো, এই ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ টাকাই উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট (পরামর্শক) হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে।
মোট সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩২ লক্ষ টাকা। মোট সম্পদ কোনো এক বছরের আয় নয়, এটি একজন মানুষের পুরো জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি।
নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে এই সম্পদ তার প্রায় ২৭ বছরের জীবনের জমাকৃত সঞ্চয়। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের বিপরীতে প্রাপ্ত বেতন থেকে সেভিংস, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকারের মূল্য, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যের সমষ্টি। পাশাপাশি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত ইনকামও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট সম্পদ যেটা একেবারেই সত্য ও একুরেট সেই তথ্যই দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘিরে যে অপপ্রচার চলছে, সেটিও তথ্যের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।
উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের ব্যাংক একাউন্টে যে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, সেটি ছিল উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন মোট আয়ের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থ—তার মোট সম্পদের প্রতিফলন নয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মাত্র দুটি—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। এর বাইরে তার আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। একই সঙ্গে এটিও পরিষ্কার যে উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় যেমন তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না, পদত্যাগের পরেও তা হয়নি—এই তথ্য হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
পেশা সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা হিসেবে কনসালট্যান্সি উল্লেখ আছে, যা একটি স্বীকৃত ও বৈধ পেশা। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেন—যে প্রতিষ্ঠানের নাম ইলেকশন কমিশনে দাখিল করা নথিতেই উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং নাহিদ ইসলামের যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন—এতে অস্বাভাবিক বা গোপন কিছু নেই।
নাহিসের ওই ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনি হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন আয়, পদত্যাগের পর পেশাগত আয় এবং জীবনের সামগ্রিক সম্পদ—সবকিছু আলাদা করে, স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করেছেন। অথচ এই স্পষ্ট ও পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বাস্তবে, সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা এই কথাই প্রমাণ করে যে নাহিদ ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন—আর সেটিই এই অপপ্রচারের মূল অস্বস্তির জায়গা। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। অথচ যেসব রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর দেশে-বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন, যাদের হলফনামার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না—তাদের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা থাকলে প্রশ্ন ওঠে না।
এমকে
রাজনীতি
৫ মামলায় জামিন পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের করা চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ৫টি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলায় গত বছরের ৯ মে সাবেক মেয়র আইভীকে শহরের পশ্চিম দেওভোগে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। পরে আরও চারটি মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখায় পুলিশ।
মামলাগুলো হলো—বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা মামলা, আব্দুর রহমান হত্যা মামলা, মো. ইয়াছিন হত্যা মামলা, পারভেজ হত্যা মামলা এবং পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলা।
এর মধ্যে প্রথম চারটি মামলায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা বাদী এবং ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কে এবং ভুঁইগড়, দেলপাড়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন বিভিন্ন বয়সী এ চারজন।
অপর মামলাটি সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। আইভীর বাসভবন ‘চুনকা কুটির’-এ গত ৮ মে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় পুলিশের গাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ কারণে পুলিশ গত ১২ মে এই মামলাটি করেছে। আইভীর সমর্থক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও এ মামলায় আসামি করা হয়।
এমএন
রাজনীতি
ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগে জামায়াতের উদ্বেগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ‘মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়। এটি একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি, যার ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সর্বোপরি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা গড়ে তোলা।
জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর যখন মানুষ কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তখন যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। কোটা আন্দোলন কেবলই কোটার প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল মূলত মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
কিন্তু নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের নিয়োগ সেই প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো হলো, যার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল নিয়োগের অল্প সময় আগে। তিনি আবার বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যও ছিলেন। ইতোমধ্যে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের আসনে বসানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক।
শক্তিশালী, স্বাধীন এবং দক্ষ নেতৃত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয় । রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ, মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত – দেশীয় আস্থা যেমন নষ্ট করে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও আস্থার সংকট তৈরি করে। একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে একটি পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন; এই প্রশ্ন আজ স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।
যখন দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব, এমন এক সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসানের সংকেত দিতে পারে এই সিদ্ধান্ত।
এমএন
রাজনীতি
ফোন করে জামায়াত আমিরের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অসুস্থতার খবর শুনে ফোনকলে তার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাময়িক অসুস্থতার খবর শুনে কুশল জিজ্ঞেস করেন। এরপর তিনি ফোনে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি জামায়াত আমিরের কাছে ফোন দেই। পরে তিনি ফোনকলে আমিরে জামায়াতের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জামায়াত আমির ইফতারের দাওয়াত দেন বলেও উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘আমাদের আমির তাকে (প্রধানমন্ত্রীকে) সপরিবারে, তার স্ত্রী ও কন্যাকে সেখানে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। উভয়কেই আমরা দাওয়াতপত্র দিয়েছি। তিনি সেটা গ্রহণ করেছেন।’
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার কথা ছিল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের। যাত্রাপথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তবে আজ তার স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি ভালো আছে। দুপুরে তিনি বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন।
এমএন
রাজনীতি
দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার চাঁদাবাজির বৈধতা দিচ্ছে: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলে চাঁদাবাজির বৈধতা দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলছেন সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদা নিলে সেটি চাঁদাবাজি হবে না! এর অর্থ সরকার চাঁদাবাজদের উৎসাহ দিচ্ছে। কিসের সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদা দেওয়া যাবে, তা জাতিকে স্পষ্ট করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহজাহানপুর পূর্ব থানা জামায়াত ইসলামীর উদ্যোগে ইফতার ও সেহরির ফুড প্যাকেট বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, রমজান মাস হচ্ছে তাকওয়া অর্জন এবং আত্মশুদ্ধির মাস। নিজের ভুলত্রুটির জন্য তাওবা করে সংশোধন হয়ে দ্বীনের মতে ফিরে আসার এক সুবর্ণ সুযোগ রমজান মাস। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। তিনি সরকারদলীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি জানান এবং প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু জনগণ হ্যাঁ ভোট দেওয়ার পর বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। খুনি হাসিনা যেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে সেই একই সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে ভন্ডামি শুরু করেছে। জাতি কোনো প্রতারণা আর ভন্ডামি মেনে নেয় না, নেবে না।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, সংবাদপত্র হাতে নিলেই দেখা যায় সারাদেশে চাঁদার জন্য মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ঐ ঘটনার ৪দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে ‘‘চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাবে”! যখন ব্যবসায়ীদের একটি বৃহৎ সংগঠন এই ঘোষণা দেয় তখন বুঝার বাকি থাকে না চাঁদাবাজি কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছিয়েছে। তিনি সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ দমনে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি দলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারেন তবে দেশ ছেড়ে আবারও পালিয়ে যেতে হতে পারে।
মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমীর মুহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মো. আনোয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন চঞ্চল এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল আলীম সুজন। আরও বক্তব্য রাখেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল খালেক ও ওয়ার্ড সভাপতি নাছির উদ্দিন রুমেল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শাহজাহানপুর পূর্ব থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
রাজনীতি
নতুন দায়িত্ব পেলেন সারজিস আলম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নবগঠিত এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। দায়িত্ব পেয়েই দ্রুত কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনারের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা।
এছাড়া কমিটিতে সকল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড যারা প্রার্থী হতে চান, প্রস্তুতি নিন। আমরা আসছি আপনার খোঁজে…।
এমএন



