অর্থনীতি
এলপি গ্যাসের দাম বাড়লো
জানুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ৫৩ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, যা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে দুই টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ডিসেম্বর মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দাম এক টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
তবে সরকার নির্ধারিত দামে বাজারে মিলছে না এলপিজি। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অনেক এলাকায় এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে আভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার এই বাড়তি দামেও অনেক এলাকায় সিলিন্ডার মিলছে না বলে জানা গেছে।
অর্থনীতি
এক সপ্তাহে রেমিট্যান্স এসেছে ৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্সপ্রবাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই সাত দিনের মধ্যে ৮২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সে হিসেবে দৈনিক গড়ে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে।’
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৭০৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে যেকোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
অর্থনীতি
জরিমানা ছাড়াই বিদেশে নিয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনা যাবে: এনবিআর চেয়ারম্যান
যারা ভুলে হোক বা যে কোনো কারণে হোক দেশের টাকা বাইরে নিয়ে গেছেন তারা চাইলে জরিমানা ছাড়াই নিয়মিত কর দিয়ে সে টাকা দেশে ফেরত আনতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, অনেকে বলছেন আমরা দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে গেছি এ টাকাটা কিভাবে আনবো? আমরা বলেছি আমাদের রাস্তা খুবই ওপেন, একেবারে ওপেন। যে কেউ চাইলে আমাদের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তিনি সে টাকা নিয়ে আসতে পারেন। ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটে, তিনি রিটার্ন সাবমিট করেছেন কিন্তু বিদেশে নিয়ে যাওয়া অর্থ রিটার্নে দেখাননি। তিনি আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে রিভাইজড রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। ওনি রিভাইজড রিটার্ন জমা দিয়ে কর দিয়ে দিক। ওনাকে মোস্ট ওয়েলকাম ওনি বাংলাদেশের টাকা বাংলাদেশে নিয়ে আসুক। ওনাকে কোনো জরিমানা করা হবে না।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত রাজস্ব ভবনে বিভিন্ন ব্যবসায়ি ও উদ্যোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পক্ষ থেকে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা চাওয়া হয়। এ জন্য তারা আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ১৯ বিধিধারার পুনঃপ্রবর্তনের দাবি জানান।
জবাবে এনিবআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে যারা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে তাদেরকে উৎসাহিত করে অ্যামনেস্টি (সাধারণ ক্ষমা) দিয়ে এসেছি। আমরা সে সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে চাই। এখন অন্ততপক্ষে নিয়মিত হারে কর দিতে হবে। সারাজীবন ফাঁকি দিয়েছেন আবার টেক্স সিস্টেমকে ডিসটরশন (বিকৃতি) করেছেন এখন আবার কম টেক্স দিবেন, এ কালচারটা আমরা চিরতরে বন্ধ করতে চাই। আমরা ৫৫ বছর ধেরে এ কালচারে ছিলাম, এখন আর থাকবো না। গতবছর কালোটাকা সাদা করার যতগুলো উপায় ছিল আমরা বন্ধ করে দিয়েছি, বিশেষ করে কম টেক্স দিয়ে যে সুবিধাগুলো ছিল।
তিনি আরও বলেন, এখন বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো খুবই সহজ। ব্যাংকের মাধ্যমে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম, পেপলসহ আরও কিছু সিস্টেমেও টাকা পাঠানো যায়। শুধু তাই নয়, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানো হলে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। ফ্ল্যাটের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আয়কর ও ভ্যাট মিলিয়ে পাঁচ খাত থেকে রাজস্ব আদায় করা হয়। এসব খাতে বিদ্যমান কর-কাঠামো কমিয়ে আনার প্রস্তাব করে রিহ্যাব।
এর প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ফ্ল্যাট বা জমি রেজিস্ট্রেশনে প্রকৃত মূল্য দেখানো হয় না। এ কারণে এখন ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই বিপদে আছে। বিক্রেতা বিপদে পড়ছেন কারণ তিনি সেটা রিটার্নে দেখাতে পারছেন না। ক্রেতা বিপদে পড়ছেন কারণ আইনে বলা হয়েছে প্রকৃত ক্রয় মূল্যে সেটা দেখাতে হবে। ব্যাকিং চ্যানেলে কিংবা বড় বড় যেসব ডিল হয় সেগুলোতে আমাদের গোয়েন্দা অফিসাররা নড়াচড়া করছেন। ফলে দেখা যায়, করদাতা ফ্ল্যাট কিনেছেন ২০ কোটি টাকায় কিন্তু দেখিয়েছেন ২ কোটি টাকা। এখন ওনাকে ১৮ কোটি টাকার উপর টেক্স দিতে হচ্ছে এবং লোকজন দিচ্ছেও। ফ্ল্যাট বা জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গেইনটেক্স বিক্রেতার দেওয়ার কথা থাকলেও এটা ক্রেতারা দিয়ে আসছেন। আইনে যা বলা হয়েছে তার একদম উল্টো। এভাবে চলতে পারে না। একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে। আপনারা (রিহ্যাব) যেটা রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বলছেন আসলে সেটা রেজিস্ট্রেশন ব্যয় নয়। আমরা এনবিআর রাজী, রেজিস্ট্রেশনের সময় কোনো টেক্স নিব না। রিটার্নের সময় আমরা তা নিয়ে নেব। যদি পাঁচ বছরের মধ্যে কেনা-বেচা হয় তাহলে নিয়মিত হারে কর দিতে হবে, আর যদি পাঁচ বছরের বেশি সময় হয় তাহলে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। গেইনটেক্স বিক্রেতাকে দিতে হবে, ক্রেতাকে নয়-এ বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য রিহ্যাবকে পরামর্শ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
আজকের বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বিএপিআই), বাংলাদেশ সিরমিক ম্যানুফ্যাকচারর্স এসোসিয়েশন (বিসিএমইএ), বাংলাদেশ ফিসিসড লেদার, লেদারগুডস অন্ড ফুটওয়্যার এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুডস্টাফ ইমপোর্টাস অ্যান্ড সাপ্লা্ইয়ার্স এসোসিয়েশনসহ আরও বেশ কয়েকটি এসোসিয়েশন অংশ নেয়।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানো আমাদের লক্ষ্য। আমাদের রাজস্বের প্রয়োজন। আমাদের সামস্টিক অর্থনীতি যদি আমরা স্থিতিশীল করতে চাই তাহলে আমাদের রাজস্ব বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের জিডিপির তুলনায় রাজস্বের হার খুবই কম। আমাদের সরকার, গণতান্ত্রিক সরকার যেসব জনকল্যানমূলক কর্মসূচি নিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং এগুলো ধীরে ধীরে আরও বাড়বে। পাশাপাশি সরকারের পরিচালন ব্যয়, উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে সেখানে অর্থায়ন করতে হবে।
অর্থনীতি
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও স্থিতিশীল রয়েছে ডলার-টাকার বিনিময় হার
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, টাকার বিনিময় হারের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক চাপ নেই এবং বাজারে স্বাভাবিক ধারা বজায় রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ। টাকার বিনিময় হারের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক অবমূল্যায়নের চাপ নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা তারল্য রয়েছে। এটি ২৬ ফেব্রুয়ারি ছিল ২.৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসে বেড়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া, ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকগুলোর নগদ বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ছিল ৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার, যা ৬ এপ্রিল বেড়ে ৪৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ব্যাংকগুলোর হিসাব, নগদ মুদ্রা এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে এই পর্যাপ্ত তারল্য দৈনন্দিন আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক লেনদেন নির্বিঘ্নে সম্পাদনে সহায়ক হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পাদনে একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করছে।
ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) আনুমানিক ৬০০-৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেলে সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করে থাকে। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন আনুমানিক ১ বিলিয়ন হলেও বাজার থেকে কোনো ডলার কেনা হয়নি। গত এক মাসেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করেনি। বাজারে স্বাভাবিক তারল্য বজায় রেখে ডলার ক্রয় করা হলে রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়নের কাছাকাছি দাঁড়াতো।
রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গেল মার্চ মাসে ৩.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা পূর্ববর্তী যে কোনো মাসের তুলনায় বেশি। চলতি মাসের ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৬০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৫ শতাংশ বেশি। এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধও স্বাভাবিক ধারায় চলছে। গত মাসে ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার আকু বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। এতদসত্ত্বেও ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৪.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে স্থিত রয়েছে।
সার্বিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদা বর্তমানে ভারসাম্যপূর্ণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী এবং বাজারে আস্থা ও শৃঙ্খলা বিদ্যমান। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকার বিনিময় হারে অবমূল্যায়নের কোনো চাপ নেই এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে কিছু সংবাদমাধ্যমে ডলারের অবমূল্যায়ন হবে—এমন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, যা মোটেও সমীচীন নয় বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনীতি
দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৬৫৯০ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা।
এর আগে, সবশেষ গত ৬ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩১ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২২ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
অর্থনীতি
শরিয়াহ বোর্ডকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ ও পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে: গভর্নর
ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ বোর্ডের সদস্যদের স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, শরিয়াহ বোর্ডের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা থাকা উচিত নয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে শীর্ষস্থানীয় শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (আইবিআরপিডি)।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নবগঠিত শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, দেশের প্রায় সব ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এবং খ্যাতিমান আলেম-উলামা, দাঈ ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
গভর্নর বলেন, অতীতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার অন্যতম কারণ ছিল যথাযথ তদারকির অভাব। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংকিং মূলত পণ্যভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হওয়ার কথা। সঠিকভাবে এটি বাস্তবায়িত হলে এ ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে ক্ষতি হয়েছে—যা গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, শরিয়াহ বোর্ডকে সর্বোচ্চভাবে ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এর মাধ্যমেই কার্যকর তদারকি পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা প্রদানের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ও আস্থাশীল করতে এর মৌলিক ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তারা সুদমুক্ত ব্যবস্থা, ধোঁকামুক্ত লেনদেন এবং লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি ভাগাভাগির নীতির কঠোর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, খাতের সংকট নিরসনে ব্যাংকগুলোর শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, শরীয়াহ সেক্রেটারিয়েট ও শরীয়াহ অডিট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। এসব কমিটিকে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি বড় বিনিয়োগ অনুমোদনে তাদের মতামত বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তারা বলেন, শরীয়াহ সুপারভাইজার বা মুরাকিবদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো চাপ ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে অডিট রিপোর্ট দিতে পারেন। একই সঙ্গে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকিং তদারকির জন্য পৃথক উচ্চপর্যায়ের পদ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়।
বক্তারা ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পরিচালনা পর্ষদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ন্যূনতম শরীয়াহ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যাংকে কার্যকর শরীয়াহ কমপ্লায়েন্স, রিসার্চ ও অডিট বিভাগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
স্বচ্ছতা বাড়াতে বছরে অন্তত একবার বহিঃস্থ শরীয়াহ নিরীক্ষা চালু, শরীয়াহ কমপ্লায়েন্স রেটিং প্রবর্তন এবং পৃথক কোর ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আলেমদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গবেষণা ও কমপ্লায়েন্স খাতে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া অর্থপাচার ও বড় ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয় এবং সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে তারল্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। বক্তারা বলেন, তাত্ত্বিক নীতিমালার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে পারলেই জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, মুফতী শাহেদ রহমানী, ড. মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ড. মুফতী ইউসুফ সুলতান এবং মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ্।



