টেলিকম ও প্রযুক্তি
১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হচ্ছে যেসব সিম কার্ড
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিম ব্যবহারে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। এক ব্যক্তির নামে থাকা মোবাইল সিম কার্ডের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ পাঁচটি নতুন সিম নিবন্ধন করতে পারবেন। বর্তমানে যাদের নামে ছয় থেকে ১০টি সিম রয়েছে, সেগুলোর সংখ্যাও ধাপে ধাপে কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে আনা হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে আগের মতোই আপত্তি জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। তবে অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এদিকে সিম ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন নবম। এ তালিকায় বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ।
বিটিআরসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে সিম কেনার সময় কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় আরও উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক এক দিনেই দুইটির বেশি সিম কিনছেন, যা স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে মোবাইল সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫৯ লাখ, রবির ৫ কোটি ৭৫ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৯ লাখ এবং টেলিটকের গ্রাহক ৬৬ লাখ ৭০ হাজার।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ছিল ১৮ কোটি ৯৬ লাখ, ২০২২ সালে ১৮ কোটি ১৬ লাখ এবং ২০২১ সালে ১৮ কোটি ১৩ লাখ। গত এক দশকে দেশে সিম ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। ২০১৫ সালে যেখানে ব্যবহারকারী ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ, তা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটিতে।
সিম ব্যবহারের অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত আগস্টে এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে অতিরিক্ত সিম ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাতিল বা মালিকানা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। সংস্থার তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে মোট নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি সিম সক্রিয় এবং বাকি সিমগুলো নিবন্ধিত হলেও নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
গত আগস্ট পর্যন্ত এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল প্রায় ৬৭ লাখ। গত তিন মাসে এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ সিম গ্রাহক স্বেচ্ছায় বাতিল করেছেন। তবে এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৫৩ লাখ সিম বাতিল হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সিম বাতিল না করায় সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, তিন মাস সময় দেওয়ার পরও যারা ডি-রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাদের সক্রিয় সিম পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হবে।
অন্যদিকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এমদাদ উল বারী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পয়লা জানুয়ারি থেকে নতুন করে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহকের নামে পাঁচটির বেশি সিম রাখার সুযোগ আর থাকবে না।
এমকে
টেলিকম ও প্রযুক্তি
রাজধানীতে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক পডকাষ্ট স্টুডিও
বর্তমান যুগ ডিজিটাল কন্টেন্টের। এখন ভিডিও প্রোডাকশন ও পডকাস্ট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ব্যবসা, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং যোগাযোগের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র নয়াপল্টনে যাত্রা শুরু করেছে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ভিডিও প্রোডাকশন সুবিধাসম্পন্ন ‘দেশ সমাচার স্টুডিও’ ।
নয়াপল্টনের চায়না টাউনে অবস্থিত এই স্টুডিওটি অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং মিডিয়া পেশাজীবীদের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। যারা ঢাকায় একটি মানসম্মত এবং প্রফেশনাল পডকাস্ট স্টুডিও খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি এখন প্রথম পছন্দ।
স্টুডিওর সুযোগ-সুবিধা
দেশ সমাচার স্টুডিওতে রয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। এখানে মাল্টি-ক্যামেরা সেটআপের মাধ্যমে একই সাথে কয়েক জন মিলে পডকাস্ট বা টক-শো রেকর্ড করা যায়। এছাড়া ব্রডকাস্ট মানের অডিও সিস্টেম এবং সিনেমাটিক লাইটিং সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা প্রতিটি ভিডিওকে দেয় প্রিমিয়াম লুক। শুধু পডকাস্ট নয়, এখানে ইউটিউব কন্টেন্ট, ফেসবুক লাইভ এবং করপোরেট ইন্টারভিউয়ের জন্য রয়েছে আলাদা সেটআপ।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ভিডিও কন্টেন্টের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ইউটিউব ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে টিকে থাকতে হলে এখন কোয়ালিটির ওপর জোর দিতেই হবে। এই বাস্তবতায় দেশ সমাচার স্টুডিওর মতো আধুনিক স্পেসগুলো নতুন উদ্যোক্তা ও ক্রিয়েটরদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। এখানে রেডি-টু-শুট সেটআপ থাকায় ক্লায়েন্টরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই খুব দ্রুত শুটিং সম্পন্ন করতে পারেন।
দেশ সমাচার স্টুডিওর কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সাশ্রয়ী খরচে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের এখানে ভিডিও এডিটিং, কালার গ্রেডিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের সুবিধাও রয়েছে। অর্থাৎ, আইডিয়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভিডিও আউটপুট পর্যন্ত সব সেবা মিলছে এক ছাদের নিচে।
যোগাযোগের ঠিকানা: আপনার যেকোনো প্রোডাকশন বা বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করুন।
- ফোন নম্বর: 01720210657
- ওয়েবসাইট: https://studio.deshshamachar.com
- ফেসবুক পেইজ: https://www.facebook.com/deshshamacharstudio
টেলিকম ও প্রযুক্তি
শিশুদের সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি: মেটা-গুগলকে ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা ও গুগলকে ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত এক তরুণীর দায়ের করা মামলার রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মেটার ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ এবং গুগলের ইউটিউব এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের—বিশেষ করে তরুণদের—আসক্ত করে তোলে এবং এতে ওই তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কেলি’ নামে পরিচিত ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন একই ধরনের শত শত মামলার ক্ষেত্রে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে মেটা ও গুগল। মেটা বলেছে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি জটিল বিষয়, যা কোনো একটি অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায় না। অন্যদিকে গুগলের দাবি, এই মামলায় ইউটিউবকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটি একটি দায়িত্বশীল ভিডিওভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম।
জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেলিকে ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আরও ৩০ লাখ ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মোট জরিমানার ৭০ শতাংশ বহন করবে মেটা এবং বাকি ৩০ শতাংশ গুগল। আদালতের মতে, প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান দুটি ‘বিদ্বেষ, দমনমূলক মনোভাব বা জালিয়াতি’র আশ্রয় নিয়েছে।
পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারের শেষ দিনে আদালতের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। রায় ঘোষণার পর অনেক অভিভাবক উল্লাস প্রকাশ করেন।
এর এক দিন আগে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালতও মেটাকে দোষী সাব্যস্ত করে জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট ও যৌন শিকারিদের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের গবেষণা পরিচালক মাইক প্রুলক্স বলেন, ধারাবাহিক এসব রায় প্রমাণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর প্রতি জনগণের সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্যও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছে।
শুনানিতে মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী ১৩ বছরের কম বয়সীদের এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সীরাও এসব অ্যাপ ব্যবহার করছে। তিনি দাবি করেন, বয়স শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
এই মামলায় শুরুতে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকও আসামি ছিল, তবে বিচারের আগেই তারা সমঝোতায় পৌঁছায়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এসব প্ল্যাটফর্ম আসক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং শিশুদের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কেলি জানান, তিনি অল্প বয়স থেকেই এসব ব্যবহার শুরু করেন, যা তার মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আইনজীবীদের মতে, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা—শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। আগামী জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে একই ধরনের আরেকটি মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
কনটেন্ট নজরদারিতে এআই বাড়াচ্ছে মেটা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট মডারেশন বা নজরদারি পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এখন থেকে সন্ত্রাসবাদ, শিশু নির্যাতন কিংবা প্রতারণামূলক কনটেন্ট শনাক্তে মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে বেশি প্রধান্য দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করতে উন্নত এআই সিস্টেম ধাপে ধাপে চালু করা হবে। যখনই এই এআই বিদ্যমান পদ্ধতির চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখাবে, তখনই তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হবে।
মেটার দাবি, গ্রাফিক কনটেন্ট বা বীভৎস দৃশ্য এবং প্রতারকদের প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া কৌশলগুলো শনাক্ত করা মানুষের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ। এসব কাজে এআই ব্যবহার করলে নির্ভুলতা বাড়বে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, মেটার নতুন এআই সিস্টেম মানুষের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ যৌন প্রস্তাবসংক্রান্ত কনটেন্ট শনাক্ত করতে পেরেছে। একই সঙ্গে ভুলের হার কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার প্রতারণার চেষ্টা রুখে দিচ্ছে মেটার এই নতুন প্রযুক্তি। বিশেষ করে সেলিব্রিটিদের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকের উদ্দেশ্যে নতুন লোকেশন থেকে লগইন করা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের চেষ্টাগুলো এআই আগেভাগেই ধরে ফেলছে। এতে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেক কমেছে।
পুরোপুরি নয়। মেটা স্পষ্ট করেছে যে, বিশেষজ্ঞরা এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও তদারকির কাজ করবেন। বিশেষ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো তথ্য দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে মানুষের অংশগ্রহণই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
গত এক বছরে মেটা তাদের কনটেন্ট নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থার্ড-পার্টি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রাম বন্ধ করে ‘কমিউনিটি নোটস’ মডেল চালু করেছে মেটা। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক কনটেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব পছন্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে ২৪ ঘণ্টা সচল একটি ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা সহকারী চালু করছে মেটা। এটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাপের পাশাপাশি ডেস্কটপের হেল্প সেন্টারেও পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে মামলা ও চাপের মুখে থাকা মেটার এই নতুন পদক্ষেপ প্ল্যাটফর্মটিকে কতটা নিরাপদ করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
এআই চ্যাটবটের সামাজিক মাধ্যম ‘মোল্টবুক’ কিনে নিল মেটা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর চ্যাটবটদের জন্য তৈরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘মোল্টবুক’ কিনে নিয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এ অধিগ্রহণের ফলে মোল্টবুকের পুরো দল এখন থেকে মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবে কাজ করবে। খবর বিবিসি।
মেটা জানিয়েছে, এআই এজেন্ট বা স্বয়ংক্রিয় বট যেন মানুষ ও ব্যবসার জন্য আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এমন সময়ে মোল্টবুকের কাজের ধরনকে তারা নতুন ও আধুনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। তবে এ চুক্তির আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই কিছু জানায়নি।
মোল্টবুক মূলত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতোই একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
মোল্টবুকের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো এটি তার ব্যবহারকারীদের নিয়ে আলোচনা বা গল্পগুজব করতে সক্ষম। প্রযুক্তি বিশ্বে এআই-চালিত এ নতুন ধরনের কথোপকথন বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করলেও এর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকের মনে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
মোল্টবুক তৈরি করা হয়েছে ওপেনক্ল নামে একটি প্রযুক্তি সরঞ্জামের মাধ্যমে। এটি একটি ডিজিটাল ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করে। ইমেইল লেখা থেকে শুরু করে নতুন অ্যাপ তৈরি করা পর্যন্ত নানা ধরনের জটিল কাজ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে করা সম্ভব।
ব্যবহারকারীরা ওপেনক্ল ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। একই সঙ্গে মোল্টবুকের মাধ্যমে তারা দেখতে পারেন তাদের এআই এজেন্ট অন্য বটের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করছে।
ওপেনক্ল-এর নির্মাতা পিটার স্টেইনবার্গার সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে যোগ দিয়েছেন। ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান মনে করেন, স্টেইনবার্গারের দক্ষতা মানুষের কাজে উপযোগী এআই এজেন্ট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০১৫ সালের শেষের দিকে ওপেন সোর্স হিসেবে উন্মুক্ত হওয়ার পর অনেক ডেভেলপার এ প্রযুক্তির দিকে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ডিভাইসের সঙ্গে এআই সরঞ্জাম যুক্ত করার ঝুঁকি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এরই মধ্যে চীনের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ওপেনক্ল ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছে। তবু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই এজেন্ট বা স্বয়ংক্রিয় বটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
টেলিকম ও প্রযুক্তি
ঈদে অনলাইন কেনাকাটায় সাবধান থাকবেন যেসব বিষয়ে
পবিত্র রমজান মাস এলেই সিয়াম সাধনার পাশাপাশি ঈদের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ব্যস্ততায় বাজারগুলো ধীরে ধীরে জমজমাট হয়ে ওঠে। তবে সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ভিড় ঠেলে বাজার করা অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন কেনাকাটার প্রতি মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অনলাইনে কেনাকাটা সময় ও পরিশ্রম বাঁচালেও এর সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও জড়িত। অনেক সময় প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে কেউ কেউ নকল পণ্য পাওয়া, অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য হারানোর মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। ঈদকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনাও বাড়তে দেখা যায়। তাই অনলাইন শপিং করার সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা জরুরি।
ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাই করুন
কোনো ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করার আগে ঠিকানার শুরুতে https আছে কি না এবং ব্রাউজারে লক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করুন। সাধারণত নিরাপদ ওয়েবসাইটে এই নিরাপত্তা চিহ্ন থাকে।
বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন
অপরিচিত বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে অর্ডার দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। পরিচিত ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সাইট বা নির্ভরযোগ্য মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করাই নিরাপদ। পাশাপাশি ক্রেতাদের রিভিউ ও রেটিং দেখেও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত ছাড়ের প্রলোভনে সতর্ক থাকুন
অনেক সময় ‘৫০ শতাংশ ছাড়’ বা ‘সীমিত সময়ের অফার’–এর মতো বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়। কিন্তু এসব অফারের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদও থাকতে পারে। তাই অফারের সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য সুরক্ষিত রাখুন
ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার আগে নিশ্চিত হোন যে ওয়েবসাইটটি নিরাপদ। অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
ডেলিভারি ও রিটার্ন নীতি জেনে নিন
পণ্য অর্ডার করার আগে ডেলিভারি সময়, রিটার্ন বা রিফান্ড নীতিমালা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া উচিত। অনেক সময় প্রতারক সাইটগুলো পণ্য ঠিকমতো সরবরাহ করে না বা ফেরত নেওয়ার সুযোগ দেয় না।
অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না
এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা ই-মেইলে পাঠানো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সরাসরি ব্রাউজারে গিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেই কেনাকাটা করা নিরাপদ।
এ ছাড়া নিয়মিত ই-মেইলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা, ডেবিট কার্ডের মোবাইল পিন আপডেট রাখা এবং লেনদেনের সময় ওটিপি যাচাই করা নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক।
সচেতনতা ও সতর্কতার সঙ্গে অনলাইন কেনাকাটা করলে ঈদের কেনাকাটা যেমন সহজ হবে, তেমনি প্রতারণার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যাবে।



