অর্থনীতি
রোজায় কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে তেল-ডাল কিনবে সরকার
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ লিটার এবং স্থানীয়ভাবে এক কোটি লিটার ভোজ্যতেল কিনবে সরকার। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হবে। ভোজ্যতেল কিনতে ৬৪২ কোটি ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয় হবে। ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা। এসব তেল-ডাল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নাইজেরিয়া থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট নিরসনে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জরুরি বিবেচনায় আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। এ লক্ষ্যে নাইজেরিয়ার ভিডক ফার্মস অ্যান্ড এক্সপোর্টস লিমিটেডের কাছে দরপ্রস্তাব চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি দরপ্রস্তাব দাখিল করে।
টিইসি দরপ্রস্তাবটি পরীক্ষা করে এবং রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশ করা ভিডক ফার্মস অ্যান্ড এক্সপোর্টস লিমিটেড, নাইজেরিয়া (উৎস: ব্রাজিল)-এর কাছে থেকে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ২৪২ কোটি ৬৪ লাখ ৩২ হাজার টাকায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কিনতে বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা অনুমোদ করেছে।
জানা গেছে, ২ লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১২১ টাকা ৩২ পয়সা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য খরচসহ প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫০ টাকা ৩৪ পয়সা।
এই তেল খোলা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে এবং ক্রয় করা মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকরি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিকে জানানো হয়। এতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির স্টুয়ার্ট ক্লোবানু গেরহার্ড থেকে কেনার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এই তেলও খোলা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে এবং ক্রয় করা মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হবে। এতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট নিরসনে বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জরুরি বিবেচনায় আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্রতিষ্ঠান স্টুয়ার্ট ক্লোবানু গেরহার্ডের কাছে দরপ্রস্তাব চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি দরপ্রস্তাব দাখিল করে।
টিইসি দরপ্রস্তাবটি পরীক্ষা করে এবং রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশ করা স্টুয়ার্ট ক্লোবানু গেরহার্ড (উৎস: তানজানিয়া)-এর কাছ থেকে এক কোটি ২৫ লাখ লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ১৬৫ কোটি ৮৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৩২ টাকা ৬৯ পয়সা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য খরচসহ প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪ টাকা ১১ পয়সা।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল মালয়েশিয়ার সি মিলেনিয়াম ট্রেড এসডিএন ডট বিহাড থেকে কেনার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এই তেলও ক্রয় করা মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হবে। এতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না।
ভোজ্যতেলের বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জরুরি বিবেচনায় আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার জন্য মালয়েশিয়ার সি মিলেনিয়াম ট্রেড এসডিএন ডট বিহাডের কাছে দরপ্রস্তাব চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি দরপ্রস্তাব দাখিল করে। টিইসি দরপ্রস্তাবটি পরীক্ষা করে এবং রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সকল প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫০ লাখ লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ৬৬ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৩২ টাকা ৮ পয়সা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য খরচসহ প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৬৩ টাকা ৩৭ পয়সা।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনার জন্য অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৩টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। ৩টি দরপ্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।
দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান গাইবান্ধার প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড থেকে ২৫ লাখ লিটার, ঢাকার গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ২৫ লাখ লিটার এবং ঢাকার মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে ৫০ লাখ লিটারসহ মোট এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ১৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি লিটার রাইস ব্রান তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৬৭ টাকা ৯০ পয়সা।
এছাড়া বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। প্রতি কেজি মসুর ডালের ক্রয় মূল্য ধরা হয়েছে ৭২ টাকা ২০ পয়সা। টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৩টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। ৩টি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।
দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তায়) ৭২ কোটি ২০ লাখ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এমকে
অর্থনীতি
তেলের দাম বাড়বে কি না, জানালেন জ্বালানিমন্ত্র
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় নিয়ে প্রতি মাসে পর্যালোচনা করা হয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আগামী মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না-সে বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বর্তমানে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সম্ভাব্য সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে। অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংসদে দেয়া তথ্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। এছাড়া এপ্রিলের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ডিজেল, ৭১ হাজার ৪৪৩ টন অকটেন এবং ৩৬ হাজার টন পেট্রোল আমদানি করা হবে।
অর্থনীতি
টানা ৪ দফা বাড়ার পর ফের কমলো স্বর্ণের দাম
টানা ৪ দফা বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫১ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৩০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২১ দফা।
এর আগে, সবশেষ ১ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে গেল বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর শীর্ষ অবস্থান থেকে ছিটকে গেছে দেশটি।
শনিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা চীন এখন তৃতীয়।
অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অবশ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এই রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে তাদের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করতে পেরেছে।
সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য দুই মাসে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।
অর্থনীতি
মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ
২০২৬ সালের মার্চে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ৯.১৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি থেকে কমে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য থেকে মূল্যস্ফীতি কমার বিষয়টি জানা গেছে। গত বছরের মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৩৫ শতাংশ।
বিবিএস তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে এ বছরের মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.০১ শতাংশ।
অর্থনীতি
বিনিয়োগে গতি ফেরাতে বিডার ১৮০ দিনের পরিকল্পনা
দেশে বিনিয়োগপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন করে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার তালিকায় এনে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
বিডা জানিয়েছে, নতুন করে বিনিয়োগ আকর্ষণে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী, কৃষিপণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অচল ও রুগ্ন কারখানা পুনরায় সচল করা এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নেও নজর দিচ্ছে সরকার।
তবে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, প্রথমেই প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার।
অনেক কথা বলা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রত্যাশিত বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, স্বল্পমেয়াদি সরকারব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগ নেমে আসে জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশে। যেখানে ভিয়েতনামে এ হার প্রায় ৪ শতাংশ এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে।
তবে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিভিন্ন বিদেশি কম্পানি। এ প্রেক্ষাপটে সঠিক খাত নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থ সরবরাহ—যদি বলি যে ফাইনান্সিয়াল মার্কেটস-এর এই তিনটা জায়গাতেই আসলে স্টেবিলিটি দরকার, সাপ্লাই চেইন ফোকাস দরকার—এটা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের সবকটি খাতকেই সাহায্য করবে।’
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএর দ্রুত কাজ করা এটার ওপরে।
আর এনবিআর এর বেশ কিছু জায়গায় রিফর্মের প্রয়োজন আছে।’
এদিকে, গত সাত মাস ধরে রপ্তানি খাতে কিছুটা মন্দাভাব চলছে। এ অবস্থায় প্রচলিত খাতের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, ‘আমাদের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি প্রোডাক্টস ও ফার্মাসিউটিক্যাল—এরা কিন্তু আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে এবং রপ্তানি বৈচিত্রায়নে সামনের দিনে আরো সহায়তা করবে।’
১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় সব খাতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা হবে বলে জানিয়েছে বিডা।
আন্তর্জাতিকভাবে বিনিয়োগের হিট ম্যাপও তৈরি করেছে তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট, অচল ও রুগ্ন কারখানা ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানায় তারা।
বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, ‘চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান—এই হটস্পটটা আমাদের জন্য অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। আইসিটি বা অ্যাগ্রো প্রসেসিং এবং এখানকার অন্যান্য যে ইন্ডাস্ট্রিগুলো আছে, মেডিক্যাল ডিভাইস ফার্মাসিউটিক্যালস—এগুলোই মূলত তাদের জন্য অগ্রাধিকার খাত।’
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে বিনিয়োগ কিছুদিন ধীরগতিতে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চীন, তুরস্ক ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো থেকে বড় বিনিয়োগ আসার আশা করছে বিডা।



